জাতীয়

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিমানবাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন আজ ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা উত্তরে আসিফ, দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন এনসিপি মেয়র প্রার্থী

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির প্রাথমিক ঘোষণায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আরিফুল ইসলাম আদীব এবং দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম থাকলেও এখন সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পরিকল্পনা করছে দলটি।   নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মেয়র প্রার্থী করার বিষয়ে দলীয়ভাবে প্রায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।   এরই মধ্যে দুই নেতাই সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটার হিসেবে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আসিফ মাহমুদ দক্ষিণ সিটি থেকে উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উত্তর সিটি থেকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেছেন।   এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার জানান, প্রার্থী পরিবর্তনের বিষয়ে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।   দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিনও বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এ ধরনের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বিষয়টি চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।   ছয় মাস আগের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন: চলতি বছরের ২৯ মার্চ স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ঢাকাসহ পাঁচ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছিল এনসিপি। দলের আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ওই ঘোষণা দেন।   সেসময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা উত্তরে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে প্রার্থী করার কথা জানানো হয়েছিল।   তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রায় ছয় মাস পর সেই অবস্থানে পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। দলের শীর্ষ পর্যায়ের দুই নেতা আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঢাকার দুই সিটিতে প্রার্থী করার বিষয়টি বর্তমানে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।   এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও আন্তর্জাতিক সেলের ইনচার্জ আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে দল প্রাথমিকভাবে যে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল, সময়ের প্রয়োজনে সেখানে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।   তিনি বলেন, দলের নেতৃত্বে থাকা কয়েকজন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় নিজেদের ভোটার করছেন। বিষয়টি একটি ইঙ্গিত বহন করলেও এটিকে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   তার ভাষ্য, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা বা চূড়ান্ত মনোনয়ন দাখিলের আগ পর্যন্ত প্রার্থী পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে।   বদলেছে দুই নেতার ভোটার এলাকা: এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারের তথ্য অনুযায়ী, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উত্তরা এলাকার ভোটার ছিলেন। সম্প্রতি তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন।   অন্যদিকে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন। সম্প্রতি তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আফতাবনগর এলাকার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।   দুই নেতাই নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম-১৩-এর মাধ্যমে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করেন। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও দাপ্তরিক নথিপত্র পর্যালোচনার পর নির্বাচন কমিশন তাদের আবেদন অনুমোদন করেছে বলে জানা গেছে।   নির্বাচনই একমাত্র লক্ষ্য নয়: এনসিপির রাজনীতি শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক নয় উল্লেখ করে আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।   তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল দিয়ে এনসিপির রাজনীতির পুরো বিষয়টি নির্ধারিত হবে না। বরং নির্বাচনকে সংগঠন বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখছে দলটি।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬

ব্লু-ইকোনমির টেকসই ব্যবহারে জোর: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনা

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-৮ আসনে ভোটার হলেন এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনার ডিসেম্বরের দেশে ফেরা নিয়ে ‘হাইপ’ সেপ্টেম্বরেই শেষ: আসিফ মাহমুদ

ছবি: সংগৃহীত
পদ্মার পানি বাড়ায় চরখিদিরপুরে দুর্ভোগ, পানিবন্দি শতাধিক পরিবার

পদ্মা নদীর পানি বাড়তে থাকায় রাজশাহীর পবা উপজেলার চরখিদিরপুরে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন শতাধিক পরিবারের মানুষ। চরের চারপাশে পানি উঠে যাওয়ার পাশাপাশি অনেক বাড়িঘরেও পানি প্রবেশ করেছে। এতে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। পানির কারণে বন্ধ রয়েছে চরের একমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও।   পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় এরই মধ্যে অনেক পরিবার চর এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। যারা এখনো সেখানে অবস্থান করছেন, তাদের দৈনন্দিন জীবন চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে কাটছে।   রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার এনামুল হক জানান, গত তিন দিন ধরে রাজশাহী সীমান্ত এলাকায় পদ্মার পানি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় রাজশাহীর বড়কুঠি পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা ১৬ দশমিক ৫২ মিটার রেকর্ড করা হয়। চলতি মৌসুমে এটিই এ পয়েন্টে পানির সর্বোচ্চ উচ্চতা বলে জানান তিনি। সেখানে বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার।   পানি বৃদ্ধির ফলে চরখিদিরপুরের চারণভূমিও পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে গবাদিপশুর খাবারের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পশু রাখার নিরাপদ জায়গার অভাব দেখা দিয়েছে। অনেকে গবাদিপশু নিয়ে লোকালয়ে চলে এসেছেন। চরে থাকা পশুগুলোর মধ্যেও বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে।   স্থানীয়দের দাবি, গত দুই সপ্তাহে অসুস্থ হয়ে ১৮ থেকে ২০টি গরু মারা গেছে। মৃত গরুগুলোর বড় একটি অংশ ছিল কম বয়সী।   চরখিদিরপুরের বাসিন্দা মনসুর আলী বলেন, ‘নদীর পানি এলাকায় ঢুকে যাওয়ায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রান্না করে খাওয়াও কঠিন হয়ে গেছে। গবাদিপশু নিয়ে আমরা সবচেয়ে বেশি বিপদে আছি। খাবারের তীব্র সংকট চলছে।’   হরিয়ান ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, চরখিদিরপুরে প্রায় ২০০ পরিবারের ৭০০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুর খাবার নিয়েও সংকট দেখা দিয়েছে। এলাকায় গরু-মহিষ মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার গবাদিপশু রয়েছে।   তিনি বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহে অসুস্থ হয়ে ১৮ থেকে ২০টি গরু মারা গেছে। মানুষজন চর ছেড়ে চলে যাচ্ছে। আবার অনেক পরিবার এখনো সেখানে রয়েছে। পানির কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও বন্ধ হয়ে গেছে।’   স্থানীয় এই জনপ্রতিনিধি আরও জানান, দীর্ঘ সময় পানির মধ্যে থাকতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। বৃষ্টিতে ভিজেও অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। গিয়াস উদ্দিনের একটি গরু মারা গেছে এবং আরও তিনটি অসুস্থ। দাউদ আলীর দুটি গরু মারা গেছে। এমনকি তার নিজেরও একটি গরু মারা গেছে বলে জানান তিনি।   পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে উল্লেখ করে শহিদুল ইসলাম বলেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশা করছেন তারা।   এ বিষয়ে পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, চরখিদিরপুরে পানি ওঠার বিষয়টি তিনি সোমবার জানতে পেরেছেন। বিষয়টি জানতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি চরবাসীর জন্য দ্রুত শুকনো খাবার পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতে স্বাধীন নজরদারি সংস্থার তাগিদ ফলকার তুর্কের

ছবি: সংগৃহীত

সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে আপত্তি হেফাজতের, কুরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি

ছবি: সংগৃহীত

সম্পর্কের আঘাতে ভেঙে পড়েছিলেন শ্রাবন্তী, এসেছিল জীবন শেষ করার চিন্তাও

পে স্কেলের গেজেট জারির সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহেই নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ হতে পারে।     এ ক্ষেত্রে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।     জানা গেছে, ইতিমধ্যে নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপনের খসড়া বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে খসড়াটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসবে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন করে এসআরও নম্বর দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হবে।     অর্থ মন্ত্রণালয়ের পে স্কেল-সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নতুন পে স্কেলের রেজুলেশন বুধবার বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। সেখানে কাজ শেষে এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসবে। পরে খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। ভেটিং শেষ হলে এসআরও নম্বর দিয়ে গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।     নতুন পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অপেক্ষা রয়েছে। গেজেট প্রকাশের পর নতুন বেতন কাঠামো কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা কমিটির নতুন সভাপতি মাহমুদা হাবিবা

ছবি: সংগৃহীত

চলতি সপ্তাহেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল

ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনার নামে দেশে সম্পদের হিসাব

0 Comments