জাতীয়

শবেবরাত কবে জানা যাবে সন্ধ্যায়

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ১৯, ২০২৬

পবিত্র শবেবরাত কবে পালিত হবে—তা জানা যাবে আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায়। শাবান মাসের চাঁদ দেখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সন্ধ্যা ৬টায় (বাদ মাগরিব) বৈঠকে বসছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।


রোববার (১৮ জানুয়ারি) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেনের সভাপতিত্বে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশের আকাশে কোথাও শাবান মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা ০২-৪১০৫৩২৯৪, ০২-২২৬৬৪০৫১০ ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ নম্বরে জানাতে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) কিংবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-কে অবহিত করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
সাধারণত শবেবরাতের প্রায় ১৫ দিন পর পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়, যা রমজান মাসের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। আজ শাবান মাসের চাঁদ দেখা গেলে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) থেকে শাবান মাস গণনা শুরু হবে এবং শবেবরাত পালিত হবে ২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে। আর চাঁদ দেখা না গেলে মঙ্গলবার রজব মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে, শাবান মাস শুরু হবে বুধবার (২১ জানুয়ারি)। সে ক্ষেত্রে শবেবরাত পালিত হবে ৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে।
শবেবরাত ইসলামে এক মহিমান্বিত ও বরকতময় রাত হিসেবে বিবেচিত। এ রাতের একাধিক নাম রয়েছে, যা এর মাহাত্ম্যকে তুলে ধরে। ‘বারাআত’ থেকে ‘বরাত’ শব্দটির উৎপত্তি—যার অর্থ মুক্তি। বিশ্বাস করা হয়, এ রাতে আল্লাহ তায়ালা ইমানদার বান্দাদের গুনাহ থেকে মুক্ত করেন। এ রাতকে দুআর রাত, ভাগ্য রজনী, বরকতময় রাত, নিসুফু শাবান, শাফাআতের রাত, ক্ষমার রাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির রাতসহ আরও নানা নামে অভিহিত করা হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি : সংগৃহীত
ভ্রমণ বিল নিয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য কঠোর নির্দেশনা

সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের সরকারি কাজে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ভ্রমণ বিল এবং অগ্রিম অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। নতুন এই নিয়মে ভ্রমণ বিল পরিশোধ এবং অগ্রিম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় এবং যথাযথ প্রমাণপত্র ছাড়া এখন থেকে ভ্রমণ বিলের অর্থ ছাড় করা সম্ভব হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ পরিপত্র জারি করা হয়। পরিপত্রে বলা হয়, সরকারি প্রয়োজনে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা দেশের ভেতরে এবং বাইরে ভ্রমণ করে থাকেন। তাদের এই ভ্রমণ ব্যয়ের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মন্ত্রিগণ বিষয়ক ইউনিটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে সফরের আগে অগ্রিম বরাদ্দ অথবা সফর শেষে প্রকৃত খরচ পরিশোধের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বিল পাঠানো হয়। তবে প্রায়ই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথভাবে দাখিল না করার কারণে বিল ছাড়করণে জটিলতা তৈরি হয়। এই জটিলতা দূর করতে এবং আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে নতুন পরিপত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ভ্রমণকারী মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর স্বাক্ষর ও সিলসহ প্রস্তুতকৃত বিলের সঙ্গে বেশ কিছু নির্দিষ্ট প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। সেগুলো হলো:   বৈদেশিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে অবশ্যই সরকার প্রধান কর্তৃক অনুমোদিত সারসংক্ষেপের কপি।   দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে জারি করা অফিস আদেশের কপি সংযুক্ত করতে হবে।   যাতায়াত খরচের ক্ষেত্রে যানবাহনের ভাড়ার প্রকৃত পরিমাণ উল্লেখ থাকা টিকিট।   আকাশপথের ভ্রমণের ক্ষেত্রে টিকিটের সঙ্গে বিমানের বোর্ডিং পাস।   অনুমোদিত ভ্রমণ বিবরণী ও ভ্রমণসূচি।   আবাসিক হোটেলের প্রকৃত পরিশোধিত বিলের মূল কপি বা প্রমাণক।   বৈদেশিক মুদ্রায় কোনো বিল পরিশোধ করা হলে টাকার সঙ্গে বিনিময় হারের বিবরণী   অন্য সব আনুষঙ্গিক ব্যয়ের ভাউচার বা প্রমাণপত্র। অনেক সময় অনুমোদিত সময়ের বাইরেও সফরের মেয়াদ বাড়াতে হয়। এ বিষয়ে নতুন পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকার প্রধানের অনুমোদিত সারসংক্ষেপে উল্লিখিত ভ্রমণকালের চেয়ে অতিরিক্ত সময় ভ্রমণ করা হলে তার জন্য পুনরায় অনুমোদন নিতে হবে। এছাড়া অগ্রিম অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের সর্বশেষ জারিকৃত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করে ভ্রমণ শেষ করার পর এক মাসের মধ্যে সেই অগ্রিমের সমন্বয় বিল দাখিল করতে হবে। যদি পূর্ববর্তী কোনো ভ্রমণের অগ্রিম বিল যথাসময়ে সমন্বয় করা না হয়, তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর পরবর্তী ভ্রমণের জন্য কোনো নতুন অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে নথি ব্যবস্থাপনা এবং অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া সহজ করতে পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে বিল দাখিল করতে বলা হয়েছে। বিল দাখিলের সময় মূল কপিসহ মোট তিন সেট বিল জমা দিতে হবে এবং সব ফটোকপি অবশ্যই সত্যায়িত হতে হবে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই নতুন পরিপত্রটি জারি করেছে। এর মাধ্যমে গত বছরের ৪ মের পরিপত্রটি প্রতিস্থাপিত হবে, যা এত দিন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের ভ্রমণ বিলের ক্ষেত্রে কার্যকর ছিল। নতুন পরিপত্রটি অবিলম্বে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে ভারত-বাংলাদেশ ইতিবাচক: সড়কমন্ত্রী

হারানো সরকারি অস্ত্রের তথ্য দিলেই মিলবে পুরস্কার

প্রধানমন্ত্রীর সাদামাটা জীবনের প্রশংসা বিরোধীদলীয় নেতার, জবাবে তাকে ১৫০ টাকার লাঞ্চের দাওয়াত দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকিতে স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান চায় জাতিসংঘ

বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর কাজের তদারকি ও নজরদারির জন্য একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কমিশন। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের ৬৩তম অধিবেশনে বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া হালনাগাদ বক্তব্যে এই কথা জানান।   অধিবেশনে ভলকার তুর্ক বলেন, বাংলাদেশে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর নজরদারির জন্য আমরা একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠানের আহ্বান জানিয়ে আসছি।   তিনি জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সামরিক ভাবধারা বা মনোভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে তার সংস্থা বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে। জাতীয় নিরাপত্তার নামে যা করা হয়, তা নিয়ে অনেক দেশই অস্বস্তিতে থাকে উল্লেখ করে তুর্ক বলেন, এই ধরনের পুরোনো পদ্ধতি সরকারের জন্য গলায় ঝুলে থাকা বোঝা হয়ে উঠতে পারে।   উল্লেখ্য ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর ভলকার তুর্ক বাংলাদেশ সফর করেন। সে সময় তিনি নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং অতীতে দমন-পীড়নের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের বিচারিক ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন।   সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার সেই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তুর্ক বলেছিলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও নিরাময়ের পথে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে তার দফতর অঙ্গীকারবদ্ধ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬

থার্ড টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু ১৬ ডিসেম্বর: বিমানমন্ত্রী

আ. লীগ কোন রাজনৈতিক দল নয়, এটা মাফিয়া দল: জাহেদ উর রহমান

ছবি: সংগৃহীত

কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও ভারতে রপ্তানি বেড়েছে

জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে খলিলুর রহমানের সাক্ষাৎ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশন উদ্বোধনের আগে সংস্থার মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।   নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি-নির্বাচিত খলিলুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।   সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন খলিলুর রহমানকে ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছে।   মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। এ অধিবেশনে খলিলুর রহমানের নেতৃত্বকে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ ফোরামের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে তিনি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।   প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ থেকে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো কূটনীতিক জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন। এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে ৪১তম অধিবেশনে প্রথম কোনো বাংলাদেশি হিসেবে এই দায়িত্ব পালন করেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। ছবি: সংগৃহীত

নতুন দুই দায়িত্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে ডিএমপির সাঁড়াশি অভিযান, গ্রেপ্তার ৫০২

শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দর থেকে ফাঁসির কাষ্ঠে নিতে জুলাই শহীদদের পরিবারই যথেষ্ট: সারজিস

0 Comments