অর্থনীতি

সব রেকর্ড ছাপিয়ে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১৯, ২০২৬

সামান্য পতনের পর আবারও বড় এক লাফ দিয়েছে স্বর্ণের দাম। এবারের লাফে পুরোনো সব রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে মূল্যবান ধাতুটির দাম। একইসঙ্গে রুপার দামও ছুঁয়েছে নতুন রেকর্ড।  


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপের কয়েকটি শীর্ষ দেশকে শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ার পর এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বিশ্ববাজারে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) মার্কিন স্পট মার্কেটে লেনদেনের একপর্যায়ে প্রতি স্বর্ণের দাম বেড়ে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬৯০ দশমিক ৫৯ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে রুপার দাম উঠে যায় আউন্স (১ আউন্স= প্রায় ২ দশমিক ৪৩ ভরি) প্রতি ৯৪ দশমিক ১২ ডলারে, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। 

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে নেওয়ার পরিকল্পনার বিরোধিতা করায় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এসব দেশ থেকে আমদানি করা সব ধরনের পণ্যের ওপর আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে বলে জানান তিনি।

পোস্টে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ড কেনার অনুমতি দেওয়া হবে ততক্ষণ ইউরোপের মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপ ক্রমবর্ধমান হারে অব্যাহত রাখা হবে। 

এমন উদ্বেগের মধ্যে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ ও রুপার দিকে ঝুঁকেছেন বিনিয়োগকারীরা। এশিয়ার বাজারেও দিনের শুরুতেই সেই প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। 
বিশ্লেষকদের মতে, শুল্ক আরোপ ও সম্ভাব্য বাণিজ্য উত্তেজনা ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ স্বর্ণ ও রুপার মতো নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। 

এদিকে দেশের বাজারে ইতোমধ্যে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ। গত ১৫ জানুয়ারি থেকে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকায়। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ২৪ হাজার ৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বর্তমানে।  

অন্যদিকে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৬৭৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে ফের স্বর্ণ-রুপার দামে যে লাফ দেখা গেছে, তার প্রভাব পড়তে পারে দেশের বাজারেও। ফলে, বাংলাদেশেও নতুন আরেক রেকর্ড সৃষ্টি হতে পারে স্বর্ণ-রুপার দামে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
গ্যাস সংকট মোকাবিলায় চিরাচরিত ধারার বাইরে হাঁটছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের চলমান গ্যাস সংকট কাটিয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে সিলেটে একটি কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে জ্বালানি সংকটের চ্যালেঞ্জ এখন স্পষ্ট। এ পরিস্থিতি থেকে স্থায়ীভাবে উত্তরণে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে যে সময় প্রয়োজন, তা দিতে হবে। সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রচলিত চিন্তাধারার বাইরে গিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। তিনি বলেন, আপৎকালীন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এ কারণে গ্যাস সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগবে। এদিকে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মালয়েশিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির চেষ্টা চলছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক, চালু হলো হবিগঞ্জের ৮১ শিল্পকারখানা

সামিট এফএসআরইউ থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু, বাড়ছে চাপ

তেলের দাম ফের বাড়ল

ছবি: সংগৃহীত
করপোরেট সুশাসন জোরদারে উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে : বিএসইসি চেয়ারম্যান

দেশের করপোরেট খাতে সুশাসন আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান মাসুদ খান।   বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সিকিউরিটিজ কমিশন ভবনে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশের (আইসিএসবি) নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।   সাক্ষাৎকালে আইসিএসবির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহজাহান সংগঠনের সদস্যদের পেশাগত উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিএসইসি চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন।   বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, কোম্পানি সেক্রেটারি পেশার উন্নয়নে আইসিএসবির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমিশনের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের করপোরেট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি করবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।   তিনি আরও বলেন, আইসিএসবি যাতে পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং করপোরেট সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।   সাক্ষাৎকালে আইসিএসবি প্রতিনিধি দল সংগঠনের কার্যক্রম, পেশাগত চ্যালেঞ্জ এবং করপোরেট সুশাসন সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।   এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইসিএসবির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. রফিকুল ইসলাম এফসিএস, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. শরীফ হাসান এফসিএস, ট্রেজারার মো. মিজানুর রহমান এফসিএস এবং সেক্রেটারি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাব্বিরুল আলম চৌধুরী।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আবারও বাড়ল স্বর্ণালঙ্কারের দাম

ছবি: সংগৃহীত

ফের ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

ছবি: সংগৃহীত

নতুন বিনিয়োগ সম্ভাবনা খুঁজতে বাংলাদেশে মার্কিন শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল

ছবি: সংগৃহীত
অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে এক বছরেই ১০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি তেল আমদানি

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে এক বছরে জ্বালানি তেল আমদানির খরচ ১০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক পেরিয়েছে।   ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) ১ হাজার ৬৩ কোটি ৫০ লাখ (১০.৬৩ বিলিয়ন) ডলারের জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছে, যা আগের আর্থিক বছরের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি।   ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাতে ৫১৩ কোটি ৭৯ লাখ (৫.১৪ বিলিয়ন) ডলার খরচ হয়েছিল। শতাংশ হিসাবে ব্যয় বেড়েছে ১০৭ শতাংশ।   বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৮০ পয়সা) হিসাবে টাকার অঙ্কে গত অর্থবছরে জ্বালানি তেল আমদানিতে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা।   বাংলাদেশে কখনোই জ্বালানি তেলে এত অর্থ খরচ হয়নি। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৮৯৮ কোটি ৫০ লাখ (৮.৯৮ বিলিয়ন) ব্যয় হয়েছিল; যা ছিল এতদিন সবচেয়ে বেশি।   ওই আর্থিক বছরে কোভিড মহামারীর প্রাথমিক ধাক্কা কেটে যাওয়ার পর বৈশ্বিক অর্থনীতি ও শিল্পকারখানা সচল হতে শুরু করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও অন্যান্য জ্বালানির চাহিদা হঠাৎ বৃদ্ধি পায়; তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমদানির পরিমাণ ও মূল্যও বেড়ে যায়।   সে কারণেই ২০২০-২১ আর্থিক বছরে জ্বালানি তেল আমদানিতে খরচ প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল।   ২০২০ সালের মার্চে দেশে দেশে কোভিড প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, তখন সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে কমতে একেবারে তলানিতে নেমেছিল। মহামারীর ধাক্কা কাটতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে দামও বাড়তে থাকে। ২০২১ সালের শেষের দিকে প্রতি ব্যারেল তেলে দাম প্রায় ৯০ ডলারে উঠেছিল।   কোভিডের ধকল কাটতে না কাটতেই ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয় রাশিয়া–ইউক্রেইন যুদ্ধ। তার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। ওই বছরের মার্চে ১৩৯ ডলার অতিক্রম করে।   চাহিদা বৃদ্ধি ও দাম বাড়ার কারণেই ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে জ্বালানি তেল আমদানি ব্যয় বেড়েছিল বলে জানান জ্বালানি বিশ্লেষকরা।   একই কারণে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় বেড়ে সাড়ে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।   চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে; একপর্যায়ে প্রতি ব্যারেল ১২০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পরে অবশ্য তা কমে ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। তার আগে অবশ্য কমতে কমতে ৬৫ ডলারে নেমেছিল।   সোমবার (১০ অগাস্ট) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড (অপরিশোধিত) তেলের দাম ছিল ৮৬ ডলার ৭২ সেন্ট। আর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ছিল ৮১ ডলার।   বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার পণ্য আমদানির সবশেষ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন) পণ্য আমদানিতে মোট ৭ হাজার ৫২৪ কোটি (৭৫.২৪ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে অপরিশোধিত তেল এবং পেট্রোলিয়াম, তেল ও লুব্রিকেন্ট (পিওএল) আমদানিতে ১ হাজার ৬৩ কোটি ৫০ লাখ (১০.৬৩ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় হয়েছে বাংলাদেশের।   এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, গত অর্থবছরে আমদানি খাতে মোট যত অর্থ ব্যয় হয়েছে, তার ১৪ দশমিক ১৩ শতাংশ খরচ হয়েছে জ্বালানি তেলে।   ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম আমদানির ব্যয় ৯২ শতাংশ বেড়ে ১১৯ কোটি ৯০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে পিওএল বাবদ ব্যয় ১০৯ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ৯৪৩ কোটি ৬০ লাখ (৯.৪৪ বিলিয়ন) ডলারে দাঁড়িয়েছে।   ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অপরিশোধিত তেল এবং পেট্রোলিয়াম, তেল ও লুব্রিকেন্ট (পিওএল) আমদানিতে মোট ৫ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছিল। যার মধ্যে ৬২ কোটি ৪৫ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছিল অপরিশোধিত তেল আমদানিতে। আর ৪ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছিল পিওএল আমদানি বাবদ।   গত অর্থবছরে জ্বালানি তেল আমদানিতে রেকর্ড ব্যয় কেন হয়েছে—এ প্রশ্নে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম তামিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মূলত দাম বৃদ্ধি ও চাহিদা বাড়ার কারণে এই ব্যয় বেড়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম এখন আবার বাড়তির দিকে; কমবে বলে মনে হচ্ছে না।   “সেক্ষেত্রে আগামী মাসগুলোতে এ খাতে ব্যয় আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে।”   কিছু দিন আগে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছিল, পেট্টোল পাম্পগুলোতে লম্বা লাইন—এমন পরিস্থিতি এড়াতে সরকারের কী করা উচিৎ?   জবাবে ম তামিম বলেন, “আতঙ্কের কারণে ওই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল। সবাই ভেবেছিল তেল আর পাওয়া যাবে না, সে কারণেই সবাই লাইনে দাঁড়িয়েছিল। অনেকে প্রয়োজনের বেশি কিনে মজুত করেছিল।”   এমন পরিস্থিতি যাতে আর না হয়, সেজন্য বিশ্ব পরিস্থিতি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে কমপক্ষে দেড় মাসের মজুত রাখার পরামর্শ দেন এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ।   বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রতি বছরই তেলের চাহিদা বাড়ে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বাজার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে; দাম বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে গত অর্থবছরে তেল আমদানিতে অনেক বেশি অর্থ খরচ হয়েছে।”   দেশে এখন ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা; অকটেন ১৪৫, পেট্রোল ১৪০ এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।   গত ১ জুন ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা অপরিবর্তিত রেখে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়েছিল। পরে জুলাই ও অগাস্টেও সেই দাম অপরিবর্তিত রেখেছে সরকার।   কেবল দামে নয়, পরিমাণের দিক দিয়েও জ্বালানি তেল আমদানি ব্যয় বেড়েছে। তবে পরিমাণের দিক দিয়ে গত অর্থবছরের পুরো সময়ে মোট কত জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছে তা প্রকাশ করা হয়নি।   নয় মাসের (জুলাই-মার্চ) তথ্য পাওয়া গেছে। তাতে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টন জ্বালানি আমদানি করেছে। ২০২৪-১৫ অর্থবছরের একই সময়ে এই আমদানির পরিমাণ ছিল ৫০ লাখ ৫ হাজার টন।   আমদানিকৃত জ্বালানির তালিকায় রয়েছে ডিজেল, ক্রুড তেল, ফার্নেস তেল, পেট্রোল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও বেস অয়েল।   বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রাক্কলন অনুযায়ী, গত অর্থবছরে দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা ছিল ৭৪ লাখ টন।   ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ৬২ লাখ ১৫ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছিল, যার মধ্যে ২৪ শতাংশ ছিল অপরিশোধিত তেল। বাকি ৭৬ শতাংশই ছিল পরিশোধিত তেল, যা সরাসরি ব্যবহারযোগ্য।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ফার্নেস অয়েলে তিক্ত অভিজ্ঞতা, বেসরকারি জ্বালানি তেল আমদানিতে যে ঝুঁকি দেখছে বিপিসি

ছবি : সংগৃহীত

সক্ষমতায় ফিরতে আবারও বন্ধ রাখতে হবে এলএনজি টার্মিনাল: প্রতিমন্ত্রী অমিত

ছবি : সংগৃহীত

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

0 Comments