শুধুমাত্র তারিখ ঘোষণার বাকি। ত্রয়োদশ ভোটের অন্য সব আয়োজন চলছে পুরোমাত্রায়। দেশ এখন নির্বাচনের মহাসড়কে। ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজনৈতিক দলগুলো ও তাদের মনোনীত প্রার্থীরা। এতোদিন ভোট দিতে না পারার যন্ত্রণায় কাতর সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও আগ্রহ ব্যাপক। সবার প্রত্যাশা একটি উৎসবমুখর, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আশায় বুক বেঁধেছে দেশের মানুষ। সর্বজনীন ভোটাধিকারে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে এগিয়ে যাবে দেশ। আর হারাবে না পথ।
এমন সন্ধিক্ষণেও গণভোট ইস্যুতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রাজনীতিকরা। সন্দিহান একে অপরের প্রতি। প্রকৃত গণতান্ত্রিক রূপান্তরের যাত্রাপথে এ নিয়ে আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তোলা যাচ্ছে না মোটেও। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও সন্তোষজনক মাত্রা পায়নি। রাজনীতিকদের অনৈক্যে জন্ম হচ্ছে নতুন নতুন সঙ্কট। তপশিল ঘোষণার কাউন্টডাউন। অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ হতে চায় না কোনোভাবেই।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচন প্রসঙ্গে বারবার নিজের শক্ত অবস্থান পরিস্কার করেছেন। যত খেলা আর ষড়যন্ত্রই হোক না কেন নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প দেখছেন না। তিনি জানেন, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হচ্ছে প্রত্যেক নাগরিকের ভোটের অধিকার। নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র কোনভাবেই পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। আলোয় আলোয় ঝকঝক জীবনে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের মাধ্যমে তাই ক্ষমতার প্রকৃত মালিক জনগণের হাতেই ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর।
নির্বাচনকে যিনি মনে করেন একটি ‘টিম ওয়ার্ক’। এই টিম স্পিরিটে সফলতা অর্জনে দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা চেয়েছেন এক সপ্তাহে দু’বার। দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি দেশের জনসাধারণের আস্থা-বিশ্বাস-ভরসা-নির্ভরতা অনুরণিত হয়েছে তার কণ্ঠেও। প্রথমবার বুধবার (১৯ নভেম্বর) মিরপুর সেনানিবাসে ডিএসসিএসসি কোর্স-২০২৫-এর গ্র্যাজুয়েশন সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে ও দ্বিতীয়বার গত শুক্রবার (২১ novembre) সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে।
প্রধান উপদেষ্টা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন, ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। একটি নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।’ প্রথম অনুষ্ঠানটিতেও তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা নির্বাচনের অপেক্ষায় আছি। আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আবারও আমাদের সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
এই নভেম্বরের প্রথম দিনেই সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেদিন দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সামরিক বাহিনীর সদস্যদের কঠোর পরিশ্রমের জন্য সাধুবাদ জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেছিলেন, ‘গত ১৫ মাসে সেনাবাহিনীসহ সব বাহিনীর সদস্যরা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করেছে।’
আসন্ন নির্বাচন যেন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকে, সে জন্যও তিন বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। গত ১৯ ও ২১ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানের পরপরই শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে সরকারকে ও নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ও নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, রোববার (২৩ নভেম্বর) সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে ‘আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্স’-এ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান বলেছেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী নিয়োজিত রয়েছে… সুন্দর একটা নির্বাচন পেতে আমরা যথাযথভাবে সরকারকে এবং নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করবো।’
একদিন পরেই (২৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নবীন নাবিকদের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান বলেছেন, ‘সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আগামী নির্বাচন আয়োজনে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে নৌবাহিনী সার্বিক সহায়তা প্রদান করবে।’
দেশের প্রতিটি সঙ্কটে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী। সামরিক বাহিনী-ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসেই বিরল এক গণঅভ্যুত্থানে বিজয়ী হয়েছে দেশ। এই ঐক্যই পতিত সরকারের জগদ্দল পাথর সরিয়েছে। নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যেতে অন্তর্বর্তী সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে।
সামনেও নতুন সৌন্দর্যের আবাহনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সেনা, নৌ, বিমান বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ—প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য থেকেও সেটি স্পষ্ট।
একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত হলো স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। গত ১৫ মাসে সশস্ত্র বাহিনী দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিজেদের অপরিহার্যতা তুলে ধরেছে। সাধারণ রিকশা চালক থেকে কর্পোরেট কর্মকর্তা, আমলা–শিক্ষক–আইনজীবী—সকলেই জানেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কেবল সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ সহযোগীতাতেই সম্ভব।
এই কারণেই ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে মাঠে রাখছে সরকার। এতে ভোট সহিংসতা ও কারচুপি প্রতিরোধ সহজ হবে এবং রাজনৈতিক চাপও কম পড়বে।
এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সেমিনারে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. রোকন উদ্দিন বলেছেন, ‘ভোট কারচুপিতে দলীয় প্রশাসন মূল ভূমিকা রাখে। তাই সশস্ত্র বাহিনীকে পূর্ণ ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে মাঠে নামানো জরুরি।’
প্রধান উপদেষ্টা বারবার ‘সবচেয়ে সুন্দর নির্বাচন’ আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যদিও এখনো হাটে-ঘাটে-প্রবাসে নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় অনেকে পর্দার আড়ালের নোংরা খেলায় উদ্বিগ্ন। কারণ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি।
দেশে এখনও বিপুল অবৈধ অস্ত্র ছড়িয়ে আছে—যা উদ্ধার না হলে নির্বাচনের আগে–পরে সহিংসতা বাড়তে পারে। ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। একইসঙ্গে সুশাসন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই বাস্তবতায় রাজনৈতিক দলগুলোর সহনশীল আচরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। মুসলিম মনীষীদের বাণী—‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’—রাজনীতিকদের মনে রাখা প্রয়োজন।
গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার সমাধানসূত্র মানা না হলে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নাজুক হতে পারে। ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে যাত্রা রোধ করতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই একমাত্র পথ।
ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিতে হবে নির্বাচন বানচালে সক্রিয় অপশক্তির কারসাজিকে। তবেই দেশে টেকসই গণতন্ত্রের সূর্য উঠবে—কুয়াশা সরিয়ে উজ্জ্বল রোদ্দুর উঁকি দেবে। আলোয় ভরা বাংলাদেশে সাধারণ মানুষ হাসবে, বিজয়ী হবে একাত্তর ও চব্বিশের চেতনাসম্পন্ন বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মায়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সিমেন্টসহ সেন্টমার্টিনে ৯ পাচারকারীকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। বুধবার (০৩ জুন) বিকেলে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সেন্টমার্টিনের উত্তর-পূর্ব সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় আজ রাত ২টায় সমুদ্রে টহলরত কোস্ট গার্ড জাহাজ মনসুর আলী কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন ওই এলাকায় সন্দেহজনক ১ টি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে শুল্ক কর ফাঁকি দিয়ে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহনকৃত প্রায় ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের ৬৫০ বস্তা সিমেন্ট ও পাচার কাজে ব্যবহৃত বোটসহ ৯ জন পাচারকারিকে আটক করা হয়। জব্দকৃত সিমেন্ট, পাচারকাজে ব্যবহৃত বোট ও আটককৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
সাফল্যের অন্যতম প্রধান সোপান হলো ক্রমাগত শিক্ষা ও জ্ঞানার্জন। জ্ঞানহীন মানুষ অন্ধের মতো, যে গন্তব্যে পৌঁছানোর সঠিক পথ খুঁজে পায় না। মহানবী (সা.)-এর কাছে আসা প্রথম ওহি ছিল—‘পড়ো’। তিনি শুধু ধর্মীয় শিক্ষাই নয়, বরং জাগতিক জ্ঞান, ভাষা এবং কারিগরি দক্ষতা অর্জনের ওপরও সমান গুরুত্ব দিয়েছিলেন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে তাঁর বলা ১০টি উপায় তুলে ধরা হলো: ১. জ্ঞানার্জন বাধ্যতামূলক মনে করা সাফল্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং এটি প্রতিটি মানুষের মৌলিক দায়িত্ব। রাসুল (সা.) বলেছেন, “জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ (অবশ্যপালনীয়)।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২২৪) ২. আজীবন শিক্ষার মানসিকতা শেখার কোনো বয়স বা সীমা নেই। নবীজি (সা.) দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান অন্বেষণের প্রেরণা দিয়েছেন এবং উপকারী জ্ঞানের জন্য সব সময় দোয়া করতেন। রাসুল (সা.) বলতেন, “হে আল্লাহ! আমাকে এমন জ্ঞান দিন, যা আমার উপকারে আসবে এবং আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৫১) ৩. ভাষার দক্ষতা অর্জন সাফল্যের একটি বড় মাধ্যম হলো যোগাযোগ। নবীজি (সা.) তাঁর সাহাবিদের ভিনদেশি ভাষা শেখার জন্য উৎসাহিত করতেন, যাতে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সহজ হয়। হজরত জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) বলেন, “নবীজি আমাকে ইহুদিদের ভাষা (হিব্রু ও সিরিয়াক) শেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফলে আমি মাত্র ১৫ দিনে তা শিখে ফেলি।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৭১৫) ৪. অন্যের মেধার সম্মান করা একজন সফল নেতা বা মানুষের গুণ হলো অন্যের মেধার মূল্যায়ন করা। নবীজি (সা.) বদর যুদ্ধের শিক্ষিত যুদ্ধবন্দীদের মুক্তিপণের বিনিময়ে মদিনার শিশুদের অক্ষরজ্ঞান শেখানোর দায়িত্ব দিয়েছিলেন। (আলি মুহাম্মদ সাল্লাবি, আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, ১/৫৪৭, দারুল মা’রিফাহ, বৈরুত, ২০০৪) ৫. হাতে-কলমে শিক্ষা তাত্ত্বিক জ্ঞানের চেয়ে ব্যবহারিক বা হাতে-কলমে শেখা কাজের গুণগত মান বাড়ায়। নবীজি (সা.) সাহাবিদের বিভিন্ন কারিগরি ও সমরবিদ্যা হাতে-কলমে শিখিয়েছেন। বলেছেন, “তোমরা তির নিক্ষেপ করা শেখো এবং অশ্বারোহণ শেখো।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৫১৩) ৬. অজানাকে জানার কৌতূহল অহংকারবশত প্রশ্ন না করা বা শেখার সুযোগ হারানো সাফল্যের অন্তরায়। নবীজি (সা.) সাহাবিদের প্রশ্ন করার সুযোগ দিতেন এবং নিজেও প্রশ্ন করে তাঁদের মেধা যাচাই করতেন। তিনি একবার জিজ্ঞেস করলেন, “বলো তো, এমন একটি গাছ আছে, যার পাতা ঝরে না এবং যা মুসলিমের উদাহরণ?” সাহাবিরা উত্তর দিতে পারলেন না, তখন তিনি নিজেই শিখিয়ে দিলেন—“সেটি হলো খেজুরগাছ।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১) ৭. সৃজনশীল সমাধান ও বুদ্ধিবৃত্তি প্রথাগত চিন্তার বাইরে গিয়ে নতুন কোনো আইডিয়া গ্রহণ করা নবীজি (সা.)-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল। খন্দকের যুদ্ধে সালমান ফারসি (রা.)-এর পরামর্শে পরিখা খননের সিদ্ধান্ত ছিল এক অনন্য সৃজনশীল রণকৌশল। (আলি মুহাম্মদ সাল্লাবি, ফাসলুল খিতাব ফি সিরাতি আমিরিল মুমিনিন উমার ইবনিল খাত্তাব, ১/২৪৫-২৪৬, দার ইবনে কাসির, বৈরুত, ২০০২) ৮. নোট নেওয়া বা লিখে রাখা স্মৃতিশক্তির ওপর শুধু নির্ভর না করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লিখে রাখা সফলতার একটি বড় কৌশল। নবীজি (সা.) সাহাবিদের জ্ঞান লিখে রাখার অনুমতি দিয়েছিলেন। তিনি এক আনসারী সাহাবির উদ্দেশে বলেছিলেন, “তুমি তোমার ডান হাতের সাহায্য নাও (অর্থাৎ লিখে রাখো)।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৬৬৬) ৯. বিনয় ও শিক্ষক-ছাত্রের মর্যাদা জ্ঞান অর্জন করতে হলে বিনয়ী হতে হয়। নবীজি (সা.) নিজেকে একজন শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং ছাত্রদের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু। তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই আমি শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছি।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২২৯) ১০. অর্জিত জ্ঞানের প্রচার ও প্রয়োগ সাফল্য তখনই সার্থক হয় যখন অর্জিত জ্ঞান নিজের জীবনে প্রয়োগ করা হয় এবং অন্যের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। রাসুল (সা.) বিদায় হজের ভাষণে বলেছিলেন, “উপস্থিতরা যেন অনুপস্থিতদের কাছে আমার কথাগুলো পৌঁছে দেয়।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৭) রাসুলের জ্ঞানভিত্তিক এই দর্শন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শুধু পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং জীবনমুখী শিক্ষা এবং সৃজনশীলতাই প্রকৃত অগ্রগতির চাবিকাঠি। যে জাতি জ্ঞানে সমৃদ্ধ, তারাই পৃথিবীতে নেতৃত্ব দেয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কক্সবাজার জেলা শাখার যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক নওশাবা মুকতার সিয়ামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১ জুন) দলীয় ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগে তাকে এ নোটিশ দেয় জেলা শাখার সাংগঠনিক শৃঙ্খলা কমিটি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনসিপির নেত্রী পরিচয়ে নওশাবা মুকতার সিয়ামকে ঘিরে একাধিক বিতর্কিত সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব সংবাদ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে এবং দলের সাংগঠনিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছে দলটি। এ বিষয়ে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা কমিটির আহ্বায়ক মুহাম্মদ হোছাইন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বলা হয়, দলের একজন দায়িত্বশীল পদধারী হিসেবে তার কর্মকাণ্ড দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রত্যাশিত। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলির কারণে দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান। নওশাবা মুকতার সিয়ামকে নোটিশ প্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে লিখিতভাবে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।