অন্যান্য

স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের নির্ভরতায় সশস্ত্র বাহিনী

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৭, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

শুধুমাত্র তারিখ ঘোষণার বাকি। ত্রয়োদশ ভোটের অন্য সব আয়োজন চলছে পুরোমাত্রায়। দেশ এখন নির্বাচনের মহাসড়কে। ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজনৈতিক দলগুলো ও তাদের মনোনীত প্রার্থীরা। এতোদিন ভোট দিতে না পারার যন্ত্রণায় কাতর সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও আগ্রহ ব্যাপক। সবার প্রত্যাশা একটি উৎসবমুখর, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আশায় বুক বেঁধেছে দেশের মানুষ। সর্বজনীন ভোটাধিকারে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে এগিয়ে যাবে দেশ। আর হারাবে না পথ।

 

এমন সন্ধিক্ষণেও গণভোট ইস্যুতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রাজনীতিকরা। সন্দিহান একে অপরের প্রতি। প্রকৃত গণতান্ত্রিক রূপান্তরের যাত্রাপথে এ নিয়ে আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তোলা যাচ্ছে না মোটেও। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও সন্তোষজনক মাত্রা পায়নি। রাজনীতিকদের অনৈক্যে জন্ম হচ্ছে নতুন নতুন সঙ্কট। তপশিল ঘোষণার কাউন্টডাউন। অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ হতে চায় না কোনোভাবেই।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচন প্রসঙ্গে বারবার নিজের শক্ত অবস্থান পরিস্কার করেছেন। যত খেলা আর ষড়যন্ত্রই হোক না কেন নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প দেখছেন না। তিনি জানেন, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হচ্ছে প্রত্যেক নাগরিকের ভোটের অধিকার। নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র কোনভাবেই পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। আলোয় আলোয় ঝকঝক জীবনে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের মাধ্যমে তাই ক্ষমতার প্রকৃত মালিক জনগণের হাতেই ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর।

নির্বাচনকে যিনি মনে করেন একটি ‘টিম ওয়ার্ক’। এই টিম স্পিরিটে সফলতা অর্জনে দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা চেয়েছেন এক সপ্তাহে দু’বার। দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি দেশের জনসাধারণের আস্থা-বিশ্বাস-ভরসা-নির্ভরতা অনুরণিত হয়েছে তার কণ্ঠেও। প্রথমবার বুধবার (১৯ নভেম্বর) মিরপুর সেনানিবাসে ডিএসসিএসসি কোর্স-২০২৫-এর গ্র্যাজুয়েশন সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে ও দ্বিতীয়বার গত শুক্রবার (২১ novembre) সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে।

প্রধান উপদেষ্টা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন, ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। একটি নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।’ প্রথম অনুষ্ঠানটিতেও তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা নির্বাচনের অপেক্ষায় আছি। আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আবারও আমাদের সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

এই নভেম্বরের প্রথম দিনেই সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেদিন দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সামরিক বাহিনীর সদস্যদের কঠোর পরিশ্রমের জন্য সাধুবাদ জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেছিলেন, ‘গত ১৫ মাসে সেনাবাহিনীসহ সব বাহিনীর সদস্যরা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করেছে।’

আসন্ন নির্বাচন যেন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকে, সে জন্যও তিন বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। গত ১৯ ও ২১ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানের পরপরই শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে সরকারকে ও নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ও নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, রোববার (২৩ নভেম্বর) সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে ‘আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্স’-এ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান বলেছেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী নিয়োজিত রয়েছে… সুন্দর একটা নির্বাচন পেতে আমরা যথাযথভাবে সরকারকে এবং নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করবো।’

একদিন পরেই (২৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নবীন নাবিকদের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান বলেছেন, ‘সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আগামী নির্বাচন আয়োজনে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে নৌবাহিনী সার্বিক সহায়তা প্রদান করবে।’

দেশের প্রতিটি সঙ্কটে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী। সামরিক বাহিনী-ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসেই বিরল এক গণঅভ্যুত্থানে বিজয়ী হয়েছে দেশ। এই ঐক্যই পতিত সরকারের জগদ্দল পাথর সরিয়েছে। নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যেতে অন্তর্বর্তী সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে।

সামনেও নতুন সৌন্দর্যের আবাহনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সেনা, নৌ, বিমান বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ—প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য থেকেও সেটি স্পষ্ট।

একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত হলো স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। গত ১৫ মাসে সশস্ত্র বাহিনী দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিজেদের অপরিহার্যতা তুলে ধরেছে। সাধারণ রিকশা চালক থেকে কর্পোরেট কর্মকর্তা, আমলা–শিক্ষক–আইনজীবী—সকলেই জানেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কেবল সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ সহযোগীতাতেই সম্ভব।

এই কারণেই ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে মাঠে রাখছে সরকার। এতে ভোট সহিংসতা ও কারচুপি প্রতিরোধ সহজ হবে এবং রাজনৈতিক চাপও কম পড়বে।

এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সেমিনারে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. রোকন উদ্দিন বলেছেন, ‘ভোট কারচুপিতে দলীয় প্রশাসন মূল ভূমিকা রাখে। তাই সশস্ত্র বাহিনীকে পূর্ণ ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে মাঠে নামানো জরুরি।’

প্রধান উপদেষ্টা বারবার ‘সবচেয়ে সুন্দর নির্বাচন’ আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যদিও এখনো হাটে-ঘাটে-প্রবাসে নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় অনেকে পর্দার আড়ালের নোংরা খেলায় উদ্বিগ্ন। কারণ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি।

দেশে এখনও বিপুল অবৈধ অস্ত্র ছড়িয়ে আছে—যা উদ্ধার না হলে নির্বাচনের আগে–পরে সহিংসতা বাড়তে পারে। ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। একইসঙ্গে সুশাসন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই বাস্তবতায় রাজনৈতিক দলগুলোর সহনশীল আচরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। মুসলিম মনীষীদের বাণী—‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’—রাজনীতিকদের মনে রাখা প্রয়োজন।

গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার সমাধানসূত্র মানা না হলে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নাজুক হতে পারে। ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে যাত্রা রোধ করতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই একমাত্র পথ।

 

ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিতে হবে নির্বাচন বানচালে সক্রিয় অপশক্তির কারসাজিকে। তবেই দেশে টেকসই গণতন্ত্রের সূর্য উঠবে—কুয়াশা সরিয়ে উজ্জ্বল রোদ্দুর উঁকি দেবে। আলোয় ভরা বাংলাদেশে সাধারণ মানুষ হাসবে, বিজয়ী হবে একাত্তর ও চব্বিশের চেতনাসম্পন্ন বাংলাদেশ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
সংসদের প্রথম দিনেই আবেগঘন মুহূর্ত, চোখ ভিজল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী Khaleda Zia–র স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার–১ আসনের সংসদ সদস্য Salahuddin Ahmed। তিনি বলেন, এই সংসদ গঠিত হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া।   বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) Jatiya Sangsad–এর অধিবেশনে খালেদা জিয়ার শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্য দিতে গিয়ে একাধিকবার থেমে যান তিনি এবং কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদে দাঁড়িয়ে তার বারবার মনে পড়ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কথা। তিনি বলেন, “এই সংসদ গঠনের পর সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হতেন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই।” সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘ ৪৫ বছরেরও বেশি সময় তিনি খালেদা জিয়ার স্নেহের ছায়ায় কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। সহকর্মী, কর্মী, সংসদ সদস্য, কখনো মন্ত্রী আবার কখনো দলের নেতা হিসেবে তার কাছ থেকে দিকনির্দেশনা পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও সংগ্রাম এক অনন্য উদাহরণ। সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই তিনি ‘দেশনেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত হন এবং পরে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে তার নেতৃত্বেই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হয়। তার আমলেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয় এবং নারী শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়। খালেদা জিয়াকে ‘অপরাজিতা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন নজির খুবই বিরল। তিনি যে আসন থেকেই নির্বাচন করেছেন, সেখানেই বিজয়ী হয়েছেন।   বক্তব্যের শেষদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তিনি আছেন—বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে। বাংলাদেশের ইতিহাস যতদিন থাকবে, ততদিন মানুষ তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।” তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের ভিত্তিতেই বর্তমান সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই এখন সবার দায়িত্ব।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ব কিডনি দিবসে বিএমইউতে র‌্যালি-সেমিনার, সচেতনতায় গুরুত্বারোপ

ছবি : সংগৃহীত

সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সংসদের নতুন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ

ছবি : সংগৃহীত
কারচুপির অভিযোগে হাইকোর্টে নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে হাইকোর্টে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম–এর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) ঢাকা-১১ আসনের বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুম এ মামলা দায়ের করেন। আদালত সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিচারপতি জাকির হোসেন–এর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চে এ মামলার শুনানি হতে পারে। এদিকে একই অভিযোগে বুধবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর আরও ছয়জন প্রার্থী হাইকোর্টে পৃথক মামলা করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন— জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার, বরগুনা-২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদ এবং পিরোজপুর-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী শামীম সাঈদী, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী শরিফুজ্জামান শরীফ, মাদারীপুর-১ আসনের নাদিরা আক্তার এবং নীলফামারী-২ আসনের শাহরিন ইসলাম। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে মামলা করেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস–এর আমির মামুনুল হক। একই অভিযোগে বিএনপির আরও চারজন প্রার্থীও পৃথক নির্বাচনী আবেদন (ইলেকশন পিটিশন) দায়ের করেছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১২, ২০২৬ 0
প্রতিদিন কয়েক মিনিট সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করাই হতে পারে সবচেয়ে সহজ, সাশ্রয়ী এবং কার্যকর ব্যায়ামগুলোর একটি | ছবি : সংগৃহীত

সিঁড়ি দিয়ে টানা ওঠানামা করলে কী উপকার? জেনে নিন

প্রতি বছর ৩ মার্চ সারা বিশ্বে পালিত হয় ‘বিশ্ব শ্রবণ দিবস’ | ছবি : সংগৃহীত

কানে কম শোনা শুরু? দেখুন ১০টি সতর্ক সংকেত

মাঝরাতে ঘন ঘন খিদে লাগা অনেক সময় এক ধরনের ইটিং ডিসঅর্ডার-এর লক্ষণ | ছবি : সংগৃহীত

মাঝরাতে খিদে পায়? হতে পারে বড় সমস্যার লক্ষণ

ছবি : সংগৃহীত
দলীয় স্বার্থে নির্বাচন পেছানো গণতন্ত্রের জন্য হুমকি: গাজী আতাউর

দলীয় স্বার্থ বিবেচনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন পেছানো ফ্যাসিবাদী প্রবণতা বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, স্থানীয় বা জাতীয় সকল নির্বাচন নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী সময়মাফিক এবং সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হওয়াই গণতান্ত্রিক রীতি ও সৌন্দর্য।   বুধবার (১১ মার্চ) এক বিবৃতিতে এমন মন্তব্যসহ এসব কথা বলেন গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, ভোট নিয়ে কারসাজির বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল, দেশে কোনো নির্বাচন সময়মতো আইন মোতাবেক সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা হবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার দলীয় প্রস্তুতির অনুপস্থিতির কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে আয়োজন করতে অনীহা দেখাচ্ছে এবং সর্বত্র দলীয় লোকজনকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের চেষ্টা করছে। ফ্যাসিবাদও নির্বাচনে নিজের দলকে জয়ী করতে নানা ছলচাতুরি করত। দলীয় স্বার্থ বিবেচনায় নির্বাচনের সময় পেছানো নিঃসন্দেহে একটি ফ্যাসিবাদী প্রবণতা।   মাওলানা গাজী আতাউর রহমান স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সতর্ক করে বলেন, ভোটের অধিকার রক্ষার আন্দোলনের দীর্ঘ সময়ের সারথি তিনি। কিন্তু এখন তার দলের স্বার্থে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত করছেন এবং অনির্বাচিত ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের চেষ্টা করছেন। তিনি যোগ করেন, ক্ষমতায় গিয়েই গণতন্ত্র ও মানুষের ক্ষমতায়নের বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করবেন না। যথাসময়ে কোনো ছলচাতুরি ছাড়াই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করুন। অন্যথায় আপনাদেরকেও পতিত ফ্যাসিবাদের অংশ হিসেবে মানুষ বিবেচনা করবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে আয়োজনের দাবি জানিয়ে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ১১, ২০২৬ 0
লাইলাতুল কদরের সম্ভব্য রাত। ছবি: সংগৃহীত

শবে কদরের সম্ভব্য রাত কোনটি?

ছবি : সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার পোস্টস্টাডি ফি ভিসা বৃদ্ধি, খরচ এখন কানাডা–নিউজিল্যান্ড–যুক্তরাজ্যের চেয়ে বেশি

সংগৃহীত ছবি

ওসমান হাদি হত্যায় অধিকতর প্রতিবেদন ২ এপ্রিল

0 Comments