এলপি গ্যাস আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ও ট্যাক্স পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আমদানি করা এলপি গ্যাসের ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ এবং স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত এলপি গ্যাসের ভ্যাট ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এর আগে এলপি গ্যাসের ক্রমবর্ধমান সংকট ও মূল্য অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ও কর কাঠামো পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেয় সরকার। একই সঙ্গে এলপি গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণ ও এলসি (ঋণপত্র) খোলার প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এলপি গ্যাসকে ‘গ্রিন ফুয়েল’ হিসেবে বিবেচনা করে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। একই দিনে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এলপি গ্যাস আমদানির জন্য ঋণ প্রাপ্তি ও এলসি খোলার আবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছেও চিঠি দেওয়া হয়।
এনবিআরকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে ব্যবহৃত মোট এলপি গ্যাসের প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে আমদানি করা হয়, যা শিল্প ও গৃহস্থালি—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সাধারণত শীত মৌসুমে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি দেশে পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় এলপি গ্যাসের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। চলতি শীত মৌসুমেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। ফলে বাজারে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তার ওপর।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী আল কায়েদা বাংলাদেশে সক্রিয় সেল গঠনের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে বলে সম্প্রতি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। তবে জাতিসংঘের এ প্রতিবেদনটিকে ‘অনুমাননির্ভর’ বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অনুমানের ওপর তৈরি কোনো রিপোর্টের ভিত্তিতে সরকার পদক্ষেপ নিতে পারে না বলেও জানান তিনি। সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশে আল কায়েদার ঘাঁটি করবার চেষ্টার বিষয়টিকে সরকার কীভাবে দেখছে—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কারা রিপোর্ট দিয়েছে? সে রিপোর্ট নিয়ে আমি শুনেছি, সেটা পড়িনি। ওখানে হয়ত কিছু অবজারভেশন দিতে পারে, আমি না দেখে বলতে পারব না।’ সরকার প্রতিবেদনটিকে আমলে নিচ্ছে কিনা—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা এগুলো আমলে নিচ্ছি না। রিপোর্ট এখনো পড়িনি। তাছাড়া আমি যতটুক শুনেছি—ওখানে বলা হয়েছে তারা একটা এজিউম করেছে, একটা অনুমান করেছে যে এরকম হতে পারে। তো অনুমাননির্ভর কোনো রিপোর্টের ওপর আমরা অ্যাকশন নিতে পারি না।’ এ সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সন্তুষ্টির বিষয়টা জনগণ বলবে। আমরা তো সবসময় বলব, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে পেরেছি। তবে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নীতকরণের জন্য আরও সময় লাগবে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন মাত্র ছয় মাস পার হলো। এর মধ্যে আমরা অনেক সংস্কার কাজ করেছি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশংসনীয় বিভিন্ন উদ্যোগ আপনারা দেখতে পেয়েছেন।’ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১৮০ দিনে বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় সফলতার দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা দুই-একটি সংকটময় মুহূর্ত খুব সফলতার সঙ্গে মোকাবেলা করেছি। যেমন মধ্যপ্রাচ্য একটা যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল এবং গ্যাসের সারা বিশ্বে সংকট সৃষ্টি হয়েছিল। বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। কিন্তু আমরা দীর্ঘ এক মাস পর্যন্ত কোনো জ্বালানি তেলের বা গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করিনি।’ গ্যাসের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মাঝেমধ্যে বিভিন্নভাবে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় বা বিভিন্ন রকমভাবে হয়। যে সমস্যায় আমরা পড়েছি। এছাড়া গ্যাসের যে আমদানিনির্ভরতা বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় সৃষ্টি হয়েছিল। এখান থেকে আমরা বেরিয়ে আসার জন্য দেশের অভ্যন্তরে এবং অফশোর-অনশোরে গ্যাসের অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’ আশা প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, ‘তাতে করে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমরা আমাদের নিজস্ব সম্পদেই এই গ্যাসের সমস্যাটা সমাধান করতে পারব।’ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে কৃষিঋণের ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অনুদান ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পরিকল্পনা প্রায় বাস্তবায়িত হয়েছে। খাদ্য প্রকিউরমেন্ট সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে বলে দাবি করেন।
রাজধানীর কামরাঙ্গীচরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে গরম পানি ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় প্রায় ২০ বছর পর স্বামী মো. সানাউল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি সানাউল্লাহ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলার অপর নয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন—আলী হোসেন, মিন্টু মিয়া, নুর ইসলাম, শহিদুল্লাহ, মো. কালু, শহিদুল, বেগম, রেনু বেগম ও আ. খালেক। সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এরশাদ আলম জর্জ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ২৮ নভেম্বর সানাউল্লাহর সঙ্গে রুবিনা আক্তার পিংকির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে পিংকিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সালের ২ মে যৌতুক না দেওয়ায় সানাউল্লাহ পিংকির শরীরে গরম পানি ঢেলে দেন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পিংকির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০৬ সালের ২০ অক্টোবর থানার উপপরিদর্শক মো. গোলাম মোস্তফা সানাউল্লাহকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অন্য আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হলে বাদীপক্ষ এতে নারাজি আবেদন করে। পরবর্তীতে আদালত সব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচার শুরু করেন। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় আদালত মামলার নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। রায় ঘোষণার পর সানাউল্লাহর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে, তার কোনো পূর্বনির্ধারিত ছক নেই বলে মন্তব্য করেছেন লেখক ও অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান। তার মতে, দেশের বর্তমান বাস্তবতা বুঝতে হলে শুধু ২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহ নয়, এর পেছনের দীর্ঘ রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসও বিবেচনায় নিতে হবে। রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর বাংলামোটরের প্ল্যানার্স টাওয়ারে এশীয় শিল্প ও সংস্কৃতি সভার (সিএএসি) রজতজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনার ও মুক্ত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। সলিমুল্লাহ খান বলেন, মানুষ চোখে যা দেখে, বাস্তবতা সব সময় তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বিজ্ঞানের মতো রাজনীতি ও সমাজকেও দৃশ্যমান ঘটনার বাইরে গিয়ে বিশ্লেষণ করতে হয়। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রেও শুধু সাম্প্রতিক ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে পূর্ণ বাস্তবতা বোঝা সম্ভব নয়। ভবিষ্যতের পথ নিয়ে স্পেনের কবি আন্তোনিও মাচাদোর কবিতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পথ আগে থেকে তৈরি থাকে না; চলার মধ্য দিয়েই পথ তৈরি হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও জুলাইয়ের আগে বা পরে ভবিষ্যতের জন্য কোনো নির্দিষ্ট পথরেখা তৈরি ছিল না। এখন পর্যন্ত যে পথ তৈরি হয়েছে, তা পেছনে ফিরে বিশ্লেষণ করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসবোধকে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে কোনো একটি রাজনৈতিক দল, মতাদর্শ বা গোষ্ঠীর একক ব্যাখ্যার মধ্যে জুলাইকে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। এর পেছনে থাকা দীর্ঘ ইতিহাস, সামাজিক বৈচিত্র্য, রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনকে সমন্বিতভাবে দেখতে হবে। বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসের প্রসঙ্গে সলিমুল্লাহ খান ১৯২০-এর দশকের ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন’-এর কথা উল্লেখ করেন। সে সময়ের বুদ্ধিজীবীরা জ্ঞানকে মুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবে দেখেছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে তাদের চিন্তার মধ্যেও কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। ধর্ম, সমাজ ও বাঙালি মুসলমানের আত্মপরিচয় নিয়ে সেই সময় যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার অনেক প্রশ্ন এখনো প্রাসঙ্গিক বলেও জানান তিনি। বাঙালি মুসলমানের আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক বিকাশ বোঝার ক্ষেত্রে কাজী নজরুল ইসলামকে নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মত দেন সলিমুল্লাহ খান। তার মতে, নজরুল হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের কাছেই গ্রহণযোগ্য সাংস্কৃতিক নেতৃত্বের উদাহরণ তৈরি করতে পেরেছিলেন। দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জ্ঞানচর্চার চেয়ে ভর্তি, পরীক্ষা ও র্যাঙ্কিংয়ের মতো বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। এসব উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজেদের সীমাবদ্ধতা নিয়েও আত্মবিশ্লেষণ প্রয়োজন। সেমিনারে লেখক ও গবেষক সহুল আহমদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাস ও অতীতের রাজনৈতিক সংকটগুলো নতুন করে পর্যালোচনা করা জরুরি। দলীয় নেতৃত্বের পরিবর্তে সমন্বয়কভিত্তিক আন্দোলন, স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ এবং ইন্টারনেটনির্ভর যোগাযোগ নতুন ধরনের রাজনৈতিক পরিসর তৈরি করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। গবেষক ও সাংবাদিক তাহমিদাল জামি বলেন, বুদ্ধিজীবীদের কাজ শুধু কোনো একটি বয়ান জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া নয়; বরং গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন শ্রেণি ও গোষ্ঠীর আকাঙ্ক্ষা বিশ্লেষণ করে তা স্পষ্ট করে তোলা। জুলাইয়ের পর এ ক্ষেত্রে ঘাটতি দেখা গেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন এশীয় শিল্প ও সংস্কৃতি সভার সভাপতি জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত ২৫ বছর ধরে সংগঠনটি এমন একটি সাংস্কৃতিক পরিসর তৈরির চেষ্টা করছে, যেখানে কোনো ব্যক্তি বা মতাদর্শকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রাখা হবে না। জ্ঞান সৃষ্টি এবং প্রচলিত জ্ঞানকাঠামোকে প্রশ্ন করার সক্ষমতা তৈরি করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, বর্তমান অনিশ্চিত সময়ে সমাজ ও রাষ্ট্র কোন পথে এগোবে—এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বুদ্ধিজীবীদের বৃহত্তর বাস্তবতার সঙ্গে বিভিন্ন ঘটনার সম্পর্ক বোঝার একটি ‘মানচিত্র’ তৈরি করতে হবে। অনুষ্ঠানে সাংবাদিক মিনহাজুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা বক্তব্য দেন।