আন্তর্জাতিক

সপ্তমবারের মতো উগান্ডার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন মুসেভেনি

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১৭, ২০২৬

আফ্রিকার দেশ উগান্ডার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়েছেন প্রবীণ রাজনীতিক ইয়োওয়েরি মুসেভেনি। শনিবার উগান্ডার নির্বাচন কমিশনের প্রধান তাকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। এ নিয়ে সপ্তমবারের মতো উগান্ডার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

 

ব্যাপক সহিংসতা আর জালিয়াতির অভিযোগের মাঝে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পঞ্চম দশকে নিজের শাসনকালকে নিয়ে গেলেন দেশটির এই নেতা। নির্বাচনী এই ফলাফল ৮১ বছর বয়সী মুসেভেনির রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তার উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান জল্পনার মাঝে এই নির্বাচনী ফলাফলে ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।

 

শনিবার দেশটির রাজধানী কাম্পালায় এক অনুষ্ঠানে উগান্ডার নির্বাচন কমিশন বলেছে, মুসেভেনি মোট ভোটের প্রায় ৭২ শতাংশ পেয়েছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পপসংগীতশিল্পী থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া ববি ওয়াইন পেয়েছেন ২৪ শতাংশ ভোট।

 

নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন ওয়াইন। দেশটির কর্তৃপক্ষ ‘ভুল তথ্য’ ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে ইন্টারনেট বন্ধ রেখে নির্বাচনের আয়োজন করেছিল। জালিয়াতির অভিযোগে নিজের সমর্থকদের বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানিয়েছেন ওয়াইন। তবে শনিবার ওয়াইনের অবস্থান জানা যায়নি।

 

তিনি বলেছেন, তার বাড়িতে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন। ওয়াইনের ঘনিষ্ঠ রাজনীতিকরা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, তিনি উগান্ডার ভেতরেই আত্মগোপনে আছেন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওয়াইন বলেছেন, গত রাতটি আমাদের বাড়িতে অত্যন্ত কঠিন ছিল... সেনাবাহিনী ও পুলিশ আমাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে। তারা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং আমাদের কিছু সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেয়।

 

তিনি বলেন, আমি নিশ্চিতভাবে তাদের হাত থেকে পালাতে পেরেছি। বর্তমানে আমি বাড়িতে নেই। ওয়াইন বলেন, তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা গৃহবন্দী অবস্থায় আছেন। তবে তার এই অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

 

• মুসেভেনির উত্তরসূরি নিয়ে বাড়ছে জল্পনা 

 

ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দেশটিতে বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ বলেছে, উগান্ডার মধ্যাঞ্চলের স্থানীয় সংসদ সদস্য মুওয়াঙ্গা কিভুম্বির সংগঠিত বিরোধী ‘দুষ্কৃতকারীদের’ বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় গুলি চালিয়েছে পুলিশ। এতে সাতজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন।

 

তবে কিভুম্বি এই দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী তার বাড়িতে ঢুকে ১০ জনকে হত্যা করেছে।

 

গত অক্টোবরে প্রতিবেশী তানজানিয়ায় নির্বাচনের পর শতাধিক মানুষের প্রাণহানির মতো সহিংসতা উগান্ডায় ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা শেষ পর্যন্ত বাস্তবে দেখা যায়নি। উগান্ডার এবারের নির্বাচনে মুসেভেনির জয় খুব বেশি অবাক করার মতো ছিল না। কারণ ১৯৮৬ সালে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়ে ক্ষমতায় আসার পর তিনি বয়সসীমা ও মেয়াদসীমা তুলে দিতে সংবিধান দু’বার পরিবর্তন করেছেন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তার নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন।

 

২০২১ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে ওয়াইনকে ৫৮ শতাংশ ভোটে পরাজিত করেছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র সে নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু নয় বলে মন্তব্য করেছিল।

 

এবারের প্রচারণা চলাকালীন ওয়াইনের বিভিন্ন সমাবেশে বারবার টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। সহিংসতায় অন্তত একজন নিহত হন এবং শত শত বিরোধী সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও সোমালিয়ার মতো আঞ্চলিক সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সেনা পাঠানো এবং লাখ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে মুসেভেনি প্রশংসিত হয়েছেন।

 

উগান্ডার অনেক বাসিন্দা তার শাসনামলে আপেক্ষিক স্থিতিশীলতারও প্রশংসা করেছেন। তিনি ‘সব অর্জন রক্ষা করো’ স্লোগান নিয়ে এবারের নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। এ বছর অপরিশোধিত তেলের উৎপাদন শুরু হলে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দ্বিগুণ অঙ্কে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

মুসেভেনি তার উত্তরসূরি হিসেবে নিজের ছেলে সেনাবাহিনীর প্রধান মুওজি কাইনেরুগাবাকে পছন্দ করেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়। যদিও তিনি এই দায়িত্বের জন্য ছেলেকে প্রস্তুত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

 

চলতি সপ্তাহে স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্ষমতা ছাড়ার আলোচনা উড়িয়ে দেন মুসেভেনি। তিনি বলেন, আমি যদি সুস্থ থাকি, মারা না যাই, বার্ধক্যজনিত দুর্বলতায় না ভুগি, আমার কিছুটা জ্ঞান থাকে, যদি সত্যিই দেশের ব্যাপারে আন্তরিক হই; তাহলে কেন আমার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাইবেন না?

 

সূত্র: রয়টার্স।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
সিরিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে হতাহত ৬৫

সিরিয়ার মধ্য-পূর্বাঞ্চলের মরুভূমি এলাকায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং আরও ৩০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার দামেস্ক-দেইর এজোর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর এএফপির।   রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানার খবরে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বহনকারী একটি বাসের সঙ্গে একটি বেসামরিক যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর সামরিক হেলিকপ্টারে করে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে নিহত ও আহতদের মধ্যে কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, তা জানানো হয়নি।   রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে একটি বাসে আগুন জ্বলতে এবং মহাসড়কজুড়ে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।   জরুরি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী রায়েদ আল সালেহ বলেন, নিহতের সংখ্যার দিক থেকে এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিরিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর একটি। তিনি বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সড়ক অবকাঠামোর দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা জরুরি।   তিনি আরও বলেন, বছরের পর বছর অবহেলা এবং গৃহযুদ্ধের কারণে দেশের সড়ক অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে সড়ক পরিবহন বিভাগের পরিচালক মোয়াজ নাজ্জার জানান, পূর্বাঞ্চলের সড়কগুলোর রক্ষণাবেক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, গত ১৫ বছরে দেশের অধিকাংশ সড়কের যথাযথ সংস্কার হয়নি।   চলতি মাসের শুরুতে দক্ষিণাঞ্চলের দারা প্রদেশে সৌদি আরব থেকে ফেরা তীর্থযাত্রীবাহী একটি বাস উল্টে পাঁচজন নিহত হন। এছাড়া গত বছর উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় একটি বাস ও তেলবাহী ট্যাংকারের সংঘর্ষে ১২ জনের প্রাণহানি ঘটে। ২০২০ সালে দামেস্ক-হোমস মহাসড়কে জ্বালানিবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় দুটি বাসের ৩২ আরোহী নিহত হয়।   সিরিয়ার মধ্য-পূর্বাঞ্চলের মরুভূমি এলাকায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং আরও ৩০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার দামেস্ক-দেইর এজোর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর এএফপির।   রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানার খবরে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বহনকারী একটি বাসের সঙ্গে একটি বেসামরিক যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর সামরিক হেলিকপ্টারে করে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে নিহত ও আহতদের মধ্যে কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, তা জানানো হয়নি।   রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে একটি বাসে আগুন জ্বলতে এবং মহাসড়কজুড়ে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।   জরুরি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী রায়েদ আল সালেহ বলেন, নিহতের সংখ্যার দিক থেকে এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিরিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর একটি। তিনি বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সড়ক অবকাঠামোর দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা জরুরি।   তিনি আরও বলেন, বছরের পর বছর অবহেলা এবং গৃহযুদ্ধের কারণে দেশের সড়ক অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে সড়ক পরিবহন বিভাগের পরিচালক মোয়াজ নাজ্জার জানান, পূর্বাঞ্চলের সড়কগুলোর রক্ষণাবেক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, গত ১৫ বছরে দেশের অধিকাংশ সড়কের যথাযথ সংস্কার হয়নি।   চলতি মাসের শুরুতে দক্ষিণাঞ্চলের দারা প্রদেশে সৌদি আরব থেকে ফেরা তীর্থযাত্রীবাহী একটি বাস উল্টে পাঁচজন নিহত হন। এছাড়া গত বছর উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় একটি বাস ও তেলবাহী ট্যাংকারের সংঘর্ষে ১২ জনের প্রাণহানি ঘটে। ২০২০ সালে দামেস্ক-হোমস মহাসড়কে জ্বালানিবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় দুটি বাসের ৩২ আরোহী নিহত হয়।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমতীরে সেটেলারদের হামলা, মসজিদে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘নউল’, আঘাত হানতে পারে যেসব অঞ্চলে

সংগৃহীত ছবি

আধুনিক যুগেও স্মার্টফোন থেকে দূরে নোলান, জানালেন কারণ

ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের হামলায় রুশ পর্যটন ক্যাম্পে নিহত ১১

ইউক্রেনের জাপোরিজিয়া অঞ্চলের রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় একটি হলিডে ক্যাম্পে রাতের হামলায় চার শিশুসহ ১১ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ। শনিবার মস্কো অভিযোগ করেছে, বেসামরিকদের লক্ষ্য করে ইচ্ছাকৃতভাবে এ হামলা চালিয়েছে কিইভ। তবে এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইউক্রেন।   ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার আক্রমণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেন, উভয়েই বেসামরিকদের লক্ষ্যস্থল করার কথা অস্বীকার করে আসছে।জাপোরিজিয়া অঞ্চলের রাশিয়ার বসানো গভর্নর ইয়েভগেনি বালিতস্কি টেলিগ্রাম অ্যাপে জানিয়েছেন, আজভ সাগরের উপকূলীয় পর্যটন শহর কিরিলিওকায় এ হামলায় আরও ১৬ জন আহত হয়েছে।   তিনি বলেছেন, “শত্রু দেখেছে আর বুঝেছে কাকে তারা লক্ষ্যস্থল করছে।”   ইউক্রেন শনিবার বলছে, তাদের ড্রোনগুলো রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে একটি তেল শোধনাগার ও ক্যাস্পিয়ান সাগরে একটি তেল প্লাটফর্মে আঘাত হেনেছে। আর উভয় দেশই দাবি করেছে তারা একে অপরের জাহাজে আঘাত হেনেছে যেগুলো সামরিক রসদ বহন করছিল।   রাশিয়ার যে দুই লক্ষ্যস্থলে ইউক্রেইন আঘাত হানার দাবি করেছে তা তাদের সীমান্ত থেকে যথাক্রমে ২০০০ কিলোমিটার ও ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এতে ইউক্রেনের ড্রোনের পাল্লা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে আসছে। এ ধরনের দীর্ঘ পাল্লার হামলাগুলো রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে ম্লান করবে ও ক্রেমলিনের ওপর শান্তি প্রতিষ্ঠার চাপ তৈরি করবে।   ইউক্রেনের এসবিইউ নিরাপত্তা পরিষেবা জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার লুকোয়েল কোম্পানির ফিলানভস্কি তেল প্লাটফর্মে আঘাত হেনেছে। এই প্লাটফর্মটি কাস্পিয়ান সাগরে রাশিয়ার বৃহত্তম তেল খনির একটি অংশ।   কথিত এ হামলার বিষয়ে রয়টার্সের করা মন্তব্যের অনুরোধে লুকোয়েল তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।   সাইবেরিয়ার তুমেয়েন অঞ্চলের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে একটি ড্রোন তাদের অঞ্চলের তেল শোধনাগারটিতে আঘাত হেনেছে আর তাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে শোধনাগারের কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়েছে কি না, তা পরিষ্কার হয়নি। সূত্র: রয়টার্স

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের বিরোধিতা উপেক্ষা করে আবারও মানবাধিকার প্রধান ফলকার টুর্ক

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধের আগুনেও থামেনি ইরানের তেল বাণিজ্য, ১৮ বিলিয়ন ডলার আয়ের দাবি

ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৩৫ জন

ছবি: সংগৃহীত
ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে প্রহ্লাদ যোশী

আন্দোলনের মুখে ধর্মেন্দ্র প্রধান সরে দাঁড়ানোর পর ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী।   মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।   প্রহ্লাদ যোশী বর্তমানে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।   অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় প্রহ্লাদ যোশী বলেন, “আমি বিনয়ের সঙ্গে এ দায়িত্ব গ্রহণ করছি।”   নতুন দায়িত্বের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদও জানান তিনি।   প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শুরু হওয়া আন্দোলনের মুখে এদিন পদত্যাগ করেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাকে সরিয়ে দেওয়ার পর আন্দোলনের ইতি টানে ককরোচ পার্টি।   প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে সরে দাঁড়ানো ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবশ্য প্রশংসা করেছেন প্রহ্লাদ যোশী।   তার ভাষায়, “গত চার থেকে পাঁচ বছরে ধর্মেন্দ্র প্রধান জাতীয় শিক্ষা নীতি বাস্তবায়ন করেছেন এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছেন। নতুন শিক্ষাব্যবস্থার কারণে দেশ অনেকটা এগিয়ে গেছে।”   প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে শুরু হওয়া আন্দোলনের ৩৬তম দিনে সরে দাঁড়ান ৫৭ বছর বয়সী ধর্মেন্দ্র প্রধান।   পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, পরিস্থিতিকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’ যেন কাজে লাগাতে না পারে, সে কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ককরোচ পার্টির নেতারা কি মূলধারার রাজনীতিতে যোগ দেবেন?

ছবি: সংগৃহীত

আন্দোলনকারীরা সরে যেতেই ভাঙা হচ্ছে দিল্লির বিক্ষোভস্থলের মঞ্চ

ছবি: সংগৃহীত

সৌদির তেল স্থাপনায় হুতি হামলার দাবি, জিজানে ধোঁয়ার কুণ্ডলির ছবি প্রকাশ

0 Comments