অর্থনীতি

সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোকে ৭৫ হাজার কোটি টাকার বেশি তারল্য সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

আক্তারুজ্জামান জুন ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট মোকাবিলা এবং আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলন স্বাভাবিক রাখতে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি টাকার বেশি জরুরি সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জাতীয় সংসদে দেওয়া এক লিখিত উত্তরে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

মঙ্গলবার (২৪ জুন) সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোসাম্মৎ শারমীন আক্তারের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, তারল্য সংকটে থাকা বিভিন্ন ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত এই সহায়তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা।

 

তবে তিনি জানান, একই ধরনের সংকটে থাকা ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে (এনবিএফআই) এখন পর্যন্ত কোনো তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়নি।

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। নতুন আইনের আওতায় সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন, একীভূতকরণ এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

 

গত কয়েক বছরে দেশের কয়েকটি বেসরকারি ও শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক তারল্য সংকটে পড়ে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলনে সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে বাধ্য হয়। এতে আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয় এবং অনেক গ্রাহক তাদের জমাকৃত অর্থ সময়মতো উত্তোলনে সমস্যার সম্মুখীন হন।

 

অর্থনীতিবিদদের মতে, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, দুর্বল করপোরেট সুশাসন, ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ বিতরণ এবং দীর্ঘদিনের অনিয়ম ব্যাংক খাতের সংকটকে আরও গভীর করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং খাতে সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করেছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর জন্য বিশেষ তারল্য সহায়তা, আন্তঃব্যাংক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন নীতিগত সুবিধা চালু করেছে, যাতে গ্রাহকদের স্বাভাবিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা যায় এবং আর্থিক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
জ্বালানি সংকটে ৫৫ শতাংশ নিটওয়্যার কারখানার রপ্তানি আদেশ বাতিল

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ প্রায় ৫৫ শতাংশ নিটওয়্যার পোশাক কারখানার রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়েছে অথবা কমে গেছে।      মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এক জরিপ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।     প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত জুলাইয়ের ২০ তারিখ থেকে শুরু হওয়া গ্যাস সংকট এবং পরবর্তীতে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের নিটওয়্যার পোশাক রপ্তানিকারকদের ৮৭ শতাংশই সময়মতো শিপমেন্ট করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এর ফলে বিদেশি বায়ারকে ডিসকাউন্ট দিতে বাধ্য হয়েছেন প্রতি তিনজনে প্রায় দুইজন সাপ্লায়ার।     বিকেএমইএ গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, তাদের সদস্যভুক্ত ২০ শতাংশ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, বিকেএমইএ'র অ্যাক্টিভ সদস্য সংখ্যা ৮০০। ২০ শতাংশ হিসেবে রেসপন্ডেন্টের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১৬০টি। অর্থাৎ ১৬০টি কারখানার তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।     যেসব রেসপন্ডেন্ট তথ্য দিয়েছেন, তাদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ গ্যাস সংকটের কারণে এবং ৯০ শতাংশ বিদ্যুৎ সংকটের কারণে প্রভাবিত হয়েছেন বলে জানানো হয়। এতে উঠে এসেছে, আলোচ্য সময়ে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৭৮ শতাংশ কম ছিল।     জরিপ অনুযায়ী, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বিকল্প জ্বালানির জন্য অতিরিক্ত খরচ করতে হয়েছে প্রায় ৯২ শতাংশ কারখানাকে। এ ছাড়া প্রায় ৯২ শতাংশ কারখানাতেই শ্রমঘণ্টার অপচয় হয়েছে।     প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৮৯ শতাংশ কারখানা মালিক জানিয়েছেন তারা বিদেশি ক্রেতার আস্থা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। আর তিন-চতুর্থাংশের বেশি কারখানা মালিক জানান, তাদের উৎপাদন আংশিক বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে এসব সমস্যার কারণে ঋণখেলাপির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতি দশজনে ছয়জন কারখানা মালিক এবং সম্পূর্ণ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ৭ শতাংশ মালিক।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

চাহিদা বাড়ায় বাণিজ্যিক ব্যাংকে ডলার বিক্রি শুরু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

অর্থবছরের প্রথম আড়াই মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১৫.৩ শতাংশ

সংগৃহীত ছবি

চার শত কোটি টাকার প্রকল্পের পরও ইলিশের প্রজনন সংকটে বাংলাদেশ

সংগৃহীত ছবি
ব্যাংকিং খাতে কোটিপতি আমানতকারী বৃদ্ধির নতুন রেকর্ড: বাংলাদেশ ব্যাংক

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপে যখন দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের বড় একটি অংশকে সংসার চালাতে নিয়মিত সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে, ঠিক তখনই ব্যাংকিং খাতে সম্পূর্ণ বিপরীত এক চিত্র দেখা যাচ্ছে।       দেশের বিত্তশালী শ্রেণি ও বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় ব্যাংকে এক কোটি টাকার বেশি জমা থাকা হিসাবের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে দেশের অর্থনীতিতে এই বৈপরীত্য ও আয় বৈষম্যের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।       তিন মাসে কোটি টাকার হিসাব বেড়েছে পাঁচ হাজারের বেশি: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংক খাতজুড়ে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টিতে। এর ঠিক তিন মাস আগে অর্থাৎ গত মার্চ শেষে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি। সে হিসেবে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দেশে কোটি টাকার বেশি জমা থাকা হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি।     সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতের সার্বিক চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, জুন শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে মোট হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৮টিতে, যেখানে মোট আমানতের পরিমাণ পৌঁছেছে ২২ লাখ ১০ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকায়। এর আগের ত্রৈমাসিকে অর্থাৎ মার্চ শেষে মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ২১ লাখ ৫৮ হাজার ২ কোটি টাকা, অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে সামগ্রিক আমানতও ৫২ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।       অর্থনীতির দুই মেরুর চিত্র ও আমানত বৃদ্ধির কারণ: বিশেষজ্ঞ ও খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, অর্থনীতির এই দুই বিপরীতমুখী চিত্র মূলত সমাজে সম্পদ বণ্টনের ব্যবধানকেই ফুটিয়ে তোলে। একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান নিম্নগামী হচ্ছে এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে অনেকেই ব্যাংক বা সঞ্চয়ের আগের জমানো অর্থ তুলে নিচ্ছেন; অন্যদিকে বড় ব্যবসা, করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং ধনী শ্রেণির একটি অংশের আয় ও ব্যাংক আমানত অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকের বাইরে থাকা অলস বা অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কিছু অর্থ আস্থার পরিবেশ পেয়ে আবার ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসায় সামগ্রিক আমানত বাড়তেও ভূমিকা রাখছে।     তবে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এক কোটি টাকার বেশি থাকা হিসাবের এই পরিসংখ্যান দিয়ে ঠিক কতজন প্রকৃত ‘কোটিপতি’ ব্যক্তি রয়েছেন তা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়, কারণ এসব হিসাবের মধ্যে ব্যক্তি ছাড়াও বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি এবং সরকারি সংস্থার হিসাব যুক্ত থাকে এবং অনেক ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একাধিক ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করে থাকে।     ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে কোটিপতি হিসাবের ধারাবাহিক বৃদ্ধি: স্বাধীনতার অব্যবহিত পর ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা মাত্র ৫ জন থাকলেও পরবর্তী দশকগুলোতে এই সংখ্যা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৯০ সালে কোটি টাকার হিসাব ছিল ৯৪৩টি, ২০০৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯ হাজার ১৬৩টিতে এবং ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে এই সংখ্যা ৯৩ হাজার ৮৯০টিতে উন্নীত হয়।       এরপর বিগত বছরগুলোতে করোনা মহামারী ও পরবর্তী বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও এই ধারা থেমে থাকেনি; বরং ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তা ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টিতে এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪টিতে পৌঁছায়। পরিশেষে চলতি বছরের জুনে তা ১ লাখ ৪১ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার ঘটনাটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সবার মাঝে সমভাবে না পৌঁছে বরং নির্দিষ্ট একটি বিত্তশালী শ্রেণির হাতে কুক্ষীগত হওয়ার ইঙ্গিতই বহন করছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

উর্ধ্বমুখী রেমিট্যান্স প্রবাহ: সেপ্টেম্বরের শুরুতে এলো ১৪২ কোটি ডলার

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের রিসিভিং টার্মিনাল। ছবি : সংগৃহীত

ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনে এলো ৪ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪ কার্গোসহ মোট ৫ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

আন্তর্জাতিক দরপত্রে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চার কার্গোসহ মোট পাঁচটি কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার। ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির জরুরি বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।   রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টায় অনুষ্ঠিত হয় সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এই জরুরি বৈঠক।   সম্প্রতি দেশে গ্যাস সংকট তীব্র হওয়ায় নানা উৎস থেকে এলএনজি আমদানি বাড়াচ্ছে সরকার। চাহিদা মেটাতে উচ্চমূল্যেও স্পট মার্কেটসহ বিভিন্ন সোর্স থেকে এলএনজি কেনা হচ্ছে।   তবে নতুন করে অনুমোদন পাওয়া এই পাঁচ কার্গো এলএনজি কিনতে সরকারের কত ব্যয় হবে কিংবা প্রতি কার্গোর ক্রয়মূল্য কত, বৈঠকের নথিতে তা উল্লেখ করা হয়নি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের চার স্বতন্ত্র পরিচালক সরে দাঁড়ালেন

ছবি: সংগৃহীত

করদাতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছাড়াই করসেবা, নতুন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত: জামানত ছাড়াই তরুণদের অর্থ সহায়তা

0 Comments