যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে বন্দুক হামলার ঘটনা সেখানকার কয়েক হাজার বাংলাদেশি প্রবাসীর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে।
তারা বলছেন, সান ডিয়েগোর বাসিন্দারা এর আগে কখনো এ ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়েনি।
সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়াগোর একটি মসজিদে বন্দুক হামলা হয়। এতে এক নিরাপত্তা রক্ষীসহ নিহত হন তিনজন। পরে লাশ পাওয়া যায় সন্দেহভাজন দুই হামলাকারীর। তারা দুজনই কিশোর।
পুলিশের ধারণা, নিজেদের গুলিতেই ওই দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।
সান ডিয়েগোতে কয়েক হাজার বাংলাদেশি প্রবাসী বসবাস করেন। তবে হতাহতের তালিকায় কোনো বাংলাদেশি থাকার খবর পাওয়া যায়নি।
মসজিদের পাশের এলাকায় থাকেন বাংলাদেশি লেখক মোহাম্মদ আলম পান্না।
তিনি টেলিফোনে বিডিনিউজ টোয়োন্টিফোর ডটকমের এ প্রতিনিধিকে বলেন, “ঘটনার আকস্মিকতায় সবাই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
কারণ, হামলার সময় মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত আল রশিদ স্কুলে পাঠদান চলছিল। ইংরেজি ও আরবি ক্লাসের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকানরাও ছিল। তবে হতাহতের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি নেই।
পান্না বলেন, সান ডিয়েগোর এই মসজিদ ঘিরে আশপাশের এলাকায় বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের মুসলমান পেশাজীবী রয়েছেন। কারণ এই মসজিদে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি আরবি শেখানোর অনুমতিও মিলেছে স্থানীয় শিক্ষা দপ্তর থেকে। তবে এমন দুঃখজনক ঘটনার অবতারণা কখনো হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় পুলিশ বলেছে, দুই সন্দেহভাজনের মধ্যে একজনের মা ঘটনার ঘণ্টা দুয়েক আগে পুলিশকে ফোন করেছিলেন।
ওই মা জানিয়েছিলেন, তার ছেলে বাড়ি থেকে তিনটি বন্দুক নিয়ে দৌঁড়ে বের হওয়ার পর গাড়ি নিয়ে চলে গেছে। তার ছেলেটি আত্মহত্যাপ্রবণ বলে উল্লেখ করেছিলেন ওই মা।
সান ডিয়াগোর পুলিশ প্রধান স্কট ওয়ালের তথ্য অনুযায়ী, ওই মা জানিয়েছিলেন, তার ছেলের সঙ্গে একজন সঙ্গী আছে এবং তারা উভয়েই ছদ্মবেশী পোশাক পরে ছিল। এসব খবর পেয়ে পুলিশ এই কিশোরদের খুঁজতে শুরু করে আর পূর্ব সতর্কতা হিসেবে নিকটবর্তী একটি শপিং মলে ও ওই ছেলেদের হাইস্কুলে টহল দল পাঠায়। এর পরই মসজিদ থেকে গুলির খবর আসে।
সেখানে গিয়ে পুলিশ তিনটি মৃতদেহ খুঁজে পায়। কর্মকর্তাদের ধারণা, নিহত নিরাপত্তারক্ষী সম্ভবত আরও রক্তপাত থামাতে ভূমিকা রেখেছেন।
এর কিছুক্ষণ পর পুলিশ দুই কিশোরের মৃতদেহ খুঁজে পায়। তাদের একজনের বয়স ১৭ ও অপরজনের ১৮। এক রাস্তার মাঝখানে থেমে থাকা গাড়িতে তাদের মৃতদেহগুলো ছিল।
নিজেদের গুলিতে জখম হওয়ার পর তারা মারা গেছেন বলে ধারণা পুলিশের।
বাড়ি থেকে অস্ত্র নিয়ে বের হয়ে যাওয়ার পর ওই ছেলেটির মা একটি লেখা খুঁজে পেয়েছিলেন, ওয়াল এমনটি জানালেও ওই নোটে কী লেখা ছিল তা প্রকাশ করতে রাজি হননি।
ঈদুল-আযহার কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে এই হামলার ঘটনাটি ঘটল।
ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক ও ইমাম তাহা হাসান সাংবাদিকদের বলেছেন, এর আগে এ ধরনের শোচনীয় ঘটনার কোনো অভিজ্ঞতা আমাদের হয়নি। একটি প্রার্থনার স্থানকে লক্ষ্যস্থল করা অত্যন্ত ভয়ানক কাজ।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সৌদি আরবে কর্মরত এক ফিলিপাইনি প্রবাসী নারীর প্রেমে পড়ে তাকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে তার নিজ দেশে গিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছেন এক সৌদি যুবক। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গেছে, ওই নারী সৌদি আরবে একটি পরিবারের গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। কাজের সূত্রে পরিবারের এক তরুণ সদস্যের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সময়ের সঙ্গে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং পরে তা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ওই নারী অনুরোধ করেন, প্রস্তাবটি যেন তার পরিবারের উপস্থিতিতে দেওয়া হয়। প্রেমিকার এই ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে সৌদি যুবক ফিলিপাইনে যান এবং পরিবারের সদস্যদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি উপহারসামগ্রী ও ফুল নিয়ে কনের বাড়িতে প্রবেশ করছেন। স্থানীয় রীতিনীতি মেনে তাকে স্বাগত জানায় কনের পরিবার। পরে দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে প্রস্তাব গ্রহণের দৃশ্যও দেখা যায়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই একে আন্তরিক ভালোবাসা ও পারিবারিক সম্মানের একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত মালয়েশিয়ান ইয়ুথ এসডিজি সামিট ২০২৬-এ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে অংশগ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়াভিত্তিক আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা ইয়ুথ হাব ফাউন্ডেশন বারহাদ। সামিটটির মূল প্রতিপাদ্য ছিল “দ্য ফিউচার অব দ্য সোশ্যাল ইকোনমি”। এটি মালয়েশিয়ার ১৩তম জাতীয় পরিকল্পনা (আরএমকে-১৩) এবং সিক্স হেলিক্স ইনোভেশন মডেল-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আয়োজিত একটি জাতীয় নীতি পরামর্শমূলক সম্মেলন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী মোরদি আনাক বিমল, এপিপিজিএম-এসডিজির সচিবালয় প্রধান দাতুক ড. ডেনিসন জয়সুরিয়া এবং জাতিসংঘের মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ব্রুনাইয়ের আবাসিক সমন্বয়কারী নিকোলাস মিন্ট উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সিনেটর ড. হাজি জুফিতরি জোহা। আন্তর্জাতিক এ আয়োজনে অংশগ্রহণকারী ১৩টি প্রদর্শনী বুথের মধ্যে ইয়ুথ হাবের বুথটি অন্যতম আকর্ষণ ছিল বলে আয়োজক সূত্র জানিয়েছে। সংস্থাটির বুথে ইকো-প্রিন্ট, ক্লে জুয়েলারি, গার্মেন্টস বর্জ্য থেকে তৈরি পুনর্ব্যবহারযোগ্য স্যানিটারি ন্যাপকিন, ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মেশিন লার্নিং (এমএল), নারী ক্ষমতায়ন, নেতৃত্ব উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক বিভিন্ন উদ্যোগ উপস্থাপন করা হয়। ইয়ুথ হাবের ক্রিয়েটিভ অ্যান্ড কালচারাল বিভাগের প্রধান নিয়ান সাহা-র নেতৃত্বে সম্মেলনে অংশ নেন এসডিজি এজেন্ট রফিকুল ইসলাম, জারিফ হামিম ইরাম এবং কাজী নাফিয়া ইসলাম। তারা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সংস্থা ও অংশীদার প্রতিষ্ঠানের কাছে সংস্থাটির কার্যক্রম তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই অংশগ্রহণ বাংলাদেশের যুব নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ, প্রযুক্তি শিক্ষা, সামাজিক উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে সহায়ক হবে। ইয়ুথ হাব ফাউন্ডেশন বারহাদ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়াভিত্তিক একটি যুব নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা, যা এসডিজি-৩, ৪, ৫, ৮, ৯, ১৩ ও ১৭ বাস্তবায়নে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, সামাজিক উদ্ভাবন এবং যুব ক্ষমতায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।
কুয়েতে বসবাসরত বাংলাদেশি, ভারতীয়, নেপালি ও ফিলিপিনো প্রবাসীদের একটি অংশ অনলাইনভিত্তিক বিনিয়োগ কার্যক্রমে অর্থ বিনিয়োগ করে বিপাকে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ‘ইয়েপবিট’ নামের একটি অ্যাপ এবং সংশ্লিষ্ট ‘বনচ্যাট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু বর্তমানে সেই অর্থ উত্তোলন করা যাচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্তদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রত্যেকে প্রায় ১,৫০০ মার্কিন ডলার বা তার বেশি অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন। বিনিয়োগের পর প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে পিন কোড দেওয়া হতো এবং সেটি অ্যাপে ব্যবহার করলে অ্যাকাউন্টে ডলার যোগ হওয়ার তথ্য দেখানো হতো। ভুক্তভোগীরা আরও জানান, নতুন সদস্য যুক্ত করলে অতিরিক্ত কমিশনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ফলে অনেকেই আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতজনদের এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করেন, যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে তাদের দাবি। তবে গত ১০ জুলাই থেকে অনেক ব্যবহারকারী অর্থ উত্তোলনের আবেদন করেও টাকা পাচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ, শুরুতে কয়েকবার টাকা তোলা সম্ভব হলেও পরে উত্তোলন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় অথবা দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকে। এক ভুক্তভোগী আব্দুর রহমান বলেন, প্রথম থেকেই তার সন্দেহ ছিল। পরিচিত কয়েকজনকে টাকা তুলতে দেখে এবং বন্ধুর অনুরোধে তিনি ১,৫০০ ডলার বিনিয়োগ করেন। কিছুদিনের মধ্যেই তার অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮০০ ডলার দেখালেও পরে আর টাকা তুলতে পারেননি। আরেক ভুক্তভোগী সুমন শেট দাবি করেন, তার অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ হাজার ডলার জমা ছিল। তিনি বলেন, শুরুতে একাধিকবার টাকা উত্তোলন করতে পেরেছিলেন। বেশি মুনাফার আশায় টাকা না তোলায় এখন পুরো অর্থ হারিয়েছেন বলে আশঙ্কা করছেন। এ ঘটনায় পরিচিত অনেকের সঙ্গে তার সম্পর্কও নষ্ট হয়েছে বলে জানান তিনি। কুয়েত বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিন সরকার বলেন, অনলাইন বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মে অর্থ দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা, লাইসেন্স, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ও অর্থ উত্তোলনের নীতিমালা যাচাই করা জরুরি। তিনি সতর্ক করে বলেন, অস্বাভাবিক মুনাফার প্রতিশ্রুতি ও নতুন সদস্য আনলে বেশি কমিশন দেওয়ার প্রলোভন থাকলে সেটি প্রতারণামূলক স্কিম হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। প্রবাসীদের প্রতি তিনি যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো অ্যাপ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ না করার আহ্বান জানান।