জাপানের টোকিও শহরের নিকটবর্তী উদ্ভাবননির্ভর শহর সাকাই (ইবারাকি প্রিফেকচার) পরিদর্শন করেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) শহরটিতে পৌঁছালে মেয়র মাসাহিরো হাশিমোতো তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
মেয়র হাশিমোতো জানান, অধ্যাপক ইউনূসের ‘তিন শূন্য’ ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সাকাই শহরকে একটি মডেল ‘স্মার্ট সিটি ৩.০’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন তারা।
সাকাই শহর স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তি এবং ‘হোমটাউন ট্যাক্স’ ব্যবস্থার মতো উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য পরিচিত। এই কর ব্যবস্থার মাধ্যমে টোকিওর মতো বড় শহরের বাসিন্দারা তাদের করের একটি অংশ নিজ নিজ এলাকায় স্থানীয় উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করতে পারেন।
পরিদর্শনকালে অধ্যাপক ইউনূস একটি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান। সেখানে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে একটি আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রবৃদ্ধি ও নবায়নের প্রতীক হিসেবে তিনি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি চেরি গাছ রোপণ করেন।
সাকাইয়ের রূপান্তর প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিতে অধ্যাপক ইউনূস ও তার দলের দিকনির্দেশনা কামনা করেন মেয়র হাশিমোতো। আলোচনায় সামাজিক ব্যবসা তহবিল গঠন এবং কমিউনিটি পর্যায়ে উদ্ভাবন ও সামাজিক প্রভাব তৈরির লক্ষ্যে ‘তিন শূন্য ক্লাব’ বা ‘থ্রি জিরো ক্লাব’ চালুর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
পরবর্তীতে অধ্যাপক ইউনূস জাপানের জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ চেইন ‘বান্দো তারো কোম্পানি লিমিটেড’ পরিদর্শন করেন। শতাধিক শাখাসম্পন্ন এই রেস্তোরাঁ চেইনটি পরিবারবান্ধব ব্যবসা মডেলের জন্য পরিচিত। এই মডেলে প্রতিটি রেস্তোরাঁর সঙ্গে একটি করে নার্সারি সংযুক্ত থাকে, যাতে কর্মীরা কাজের সময় তাদের সন্তানদের কাছাকাছি রাখতে পারেন। সেখানে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতীক হিসেবে ড. ইউনূ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বাংলাদেশের নতুন পাঁচটি তৈরি পোশাক (আরএমজি) কারখানা লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন (লিড) সনদ অর্জন করেছে। এর ফলে, দেশে মোট লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানার সংখ্যা বেড়ে ২৮০টিতে দাঁড়িয়েছে এবং পরিবেশবান্ধব পোশাক উৎপাদনে বিশ্বসেরা হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। এই নতুন সংযোজনের ফলে, বাংলাদেশে এখন ১১৮টি প্ল্যাটিনাম ও ১৪৩টি গোল্ড রেটেড লিড সনদপ্রাপ্ত আরএমজি কারখানা রয়েছে। এছাড়াও, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি সর্বোচ্চ রেটিংপ্রাপ্ত লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানার মধ্যে বাংলাদেশের ৫২টি কারখানা রয়েছে, যা টেকসই ও পরিবেশবান্ধব শিল্প অনুশীলনের প্রতি দেশটির দৃঢ় অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। শিল্প সূত্র অনুযায়ী, নতুন সনদপ্রাপ্ত কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের এপিক গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং কোং লিমিটেড ইউনিট-৭, ঢাকার সুরমা গার্মেন্টস লিমিটেড, ধামরাইয়ের নাফা অ্যাপারেলস লিমিটেড ইউনিট-২, সাভারের উইন্টার ড্রেস লিমিটেড ও চট্টগ্রামের মেহের গার্মেন্টস লিমিটেড। এপিক গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং কোং লিমিটেড ইউনিট- ৭.৬৭ পয়েন্ট পেয়ে লিড বিডি+সি: নিউ কনস্ট্রাকশন ভি৪ এর অধীনে গোল্ড সনদ অর্জন করেছে, অন্যদিকে সুরমা গার্মেন্টস লিমিটেড ৭১ পয়েন্ট পেয়ে লিড ও+এম: এক্সিসটিং বিল্ডিং ভি৪-গাই এর অধীনে গোল্ড সনদ অর্জন করেছে। নাফা অ্যাপারেলস লিমিটেড ইউনিট-০২.৬৫ পয়েন্ট পেয়ে লিড বিডি+সি: নিউ কনস্ট্রাকশন ভি৪ এর অধীনে গোল্ড সনদ পেয়েছে। উইন্টার ড্রেস লিমিটেড ৮৫ পয়েন্ট পেয়ে লিড ও+এম: এক্সজিসটিং বিল্ডিং ভি৪.১-এর অধীনে প্ল্যাটিনাম সনদ অর্জন করেছে ও মেহের গার্মেন্টস লিমিটেড ৮৯ পয়েন্ট পেয়ে প্ল্যাটিনাম সনদ অর্জন করেছে। শিল্প নেতারা বলেছেন, এই অর্জনটি তৈরি পোশাক খাতে সবুজ প্রযুক্তি, জ্বালানি দক্ষতা ও পরিবেশগতভাবে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা গ্রহণে বাংলাদেশের ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রমাণ। বর্তমানে সবুজ পোশাক কারখানার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এই খাতটি টেকসই উন্নয়ন ও বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নিশ্চিত করতে ক্রমবর্ধমানভাবে জ্বালানি দক্ষতা, পানি সংরক্ষণ, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং কর্মক্ষেত্রের উন্নত মানের ওপর মনোযোগ দিচ্ছে।
জাপানের টোকিও শহরের নিকটবর্তী উদ্ভাবননির্ভর শহর সাকাই (ইবারাকি প্রিফেকচার) পরিদর্শন করেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (২৭ মার্চ) শহরটিতে পৌঁছালে মেয়র মাসাহিরো হাশিমোতো তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। মেয়র হাশিমোতো জানান, অধ্যাপক ইউনূসের ‘তিন শূন্য’ ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সাকাই শহরকে একটি মডেল ‘স্মার্ট সিটি ৩.০’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন তারা। সাকাই শহর স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তি এবং ‘হোমটাউন ট্যাক্স’ ব্যবস্থার মতো উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য পরিচিত। এই কর ব্যবস্থার মাধ্যমে টোকিওর মতো বড় শহরের বাসিন্দারা তাদের করের একটি অংশ নিজ নিজ এলাকায় স্থানীয় উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করতে পারেন। পরিদর্শনকালে অধ্যাপক ইউনূস একটি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান। সেখানে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে একটি আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রবৃদ্ধি ও নবায়নের প্রতীক হিসেবে তিনি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি চেরি গাছ রোপণ করেন। সাকাইয়ের রূপান্তর প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিতে অধ্যাপক ইউনূস ও তার দলের দিকনির্দেশনা কামনা করেন মেয়র হাশিমোতো। আলোচনায় সামাজিক ব্যবসা তহবিল গঠন এবং কমিউনিটি পর্যায়ে উদ্ভাবন ও সামাজিক প্রভাব তৈরির লক্ষ্যে ‘তিন শূন্য ক্লাব’ বা ‘থ্রি জিরো ক্লাব’ চালুর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। পরবর্তীতে অধ্যাপক ইউনূস জাপানের জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ চেইন ‘বান্দো তারো কোম্পানি লিমিটেড’ পরিদর্শন করেন। শতাধিক শাখাসম্পন্ন এই রেস্তোরাঁ চেইনটি পরিবারবান্ধব ব্যবসা মডেলের জন্য পরিচিত। এই মডেলে প্রতিটি রেস্তোরাঁর সঙ্গে একটি করে নার্সারি সংযুক্ত থাকে, যাতে কর্মীরা কাজের সময় তাদের সন্তানদের কাছাকাছি রাখতে পারেন। সেখানে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতীক হিসেবে ড. ইউনূ
উন্নত জীবনের রঙিন স্বপ্ন নিয়ে ইউরোপ পাড়ি দিতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরের নীল জলেই নিভে গেছে সুনামগঞ্জের ১২টি তাজা প্রাণ। লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে গ্রিস যাওয়ার পথে তীব্র খাদ্য ও পানীয় সংকটে অসুস্থ হয়ে অকালে প্রাণ হারিয়েছেন তারা। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই নৌযানে থাকা মোট ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি আর নিহতদের ১২ জনই সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে দিরাই উপজেলার ৬ জন, জগন্নাথপুরের ৫ জন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার ১ জন রয়েছেন। নিহতরা হলেন— দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮) ও শাহান মিয়া (২৫); রনারচর গ্রামের মুজিবুর রহমান (৩৮), বাসুরি গ্রামের মো. সুহানুর রহমান এবং মাটিয়াপুর গ্রামের তায়েফ মিয়া; জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও গ্রামের আমিনুর রহমান (৩৫), রানিগঞ্জ ইউনিয়নের ইছগাঁও গ্রামের মোহাম্মদ আলী (২৭) ও টিয়ারগাঁও গ্রামের শায়েখ আহমদ (২২), চিলাউরা হলদিপুর ইউনিয়নের নাইম আহমদ (২৫), চিলাউরা মাঝপাড়া গ্রামের ইজাজুল হক সজীব (২৭) এবং দোয়ারাবাজার উপজেলা কবিরনগর গ্রামের আবু ফাহিম মুন্না (২২)। এ সংবাদ পৌঁছানোর পর থেকে সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোতে শুরু হয়েছে শোকের মাতম। স্বজনদের গগনবিদারী আর্তনাদে পুরো এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। উদ্ধার হওয়া জীবিত যাত্রীদের বরাতে জানা গেছে, পাচারকারীরা একটি জরাজীর্ণ ও অত্যন্ত ছোট নৌকায় ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে তাদের সমুদ্রযাত্রায় পাঠায়। দীর্ঘ এ পথে তাদের জন্য রাখা হয়নি পর্যাপ্ত খাবার বা বিশুদ্ধ পানি। সাগরের মাঝখানে তীব্র গরমে তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুধার্ত অবস্থায় যাত্রীরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই অসহনীয় হয়ে ওঠে যে, একের পর এক যাত্রী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, পাচারকারীদের নির্দেশে মরদেহগুলো সেই উত্তাল সাগরেই ভাসিয়ে দেওয়া হয়। নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, দিরাই উপজেলার স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে জনপ্রতি ১২ লাখ টাকা চুক্তিতে লিবিয়া হয়ে গ্রিস যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা দেশ ছাড়েন। দালালরা তাদের নিরাপদ ও বড় জাহাজে করে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুকূপ সমতুল্য একটি ছোট নৌকায় তুলে দেন। ১২ লাখ টাকা দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না এ স্বপ্নচারী তরুণদের। শোকাতুর পরিবারগুলো এখন কেবল তাদের প্রিয়জনের স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছেন। স্বজনদের দাবি, সরকার যেন এ মর্মান্তিক ঘটনার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত মানবপাচারকারী চক্রকে আইনের আওতায় আনে। সম্ভব হলে নিহতদের মরদেহ বা অন্তত তাদের কোনো চিহ্ন উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো যুবক দালালের খপ্পরে পড়ে এভাবে প্রাণ না হারায়, সেদিকে কঠোর নজরদারি যেন বাড়ানো হয়। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কর্মসংস্থানের অভাব এবং উন্নত জীবনের হাতছানি এই যুবকদের মরণফাঁদে পা দিতে বাধ্য করছে। তবে অবৈধ পথে এভাবে বিদেশ যাত্রা রোধে জনসচেতনতা এবং পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। এদিকে, আজ (রবিবার) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার এবং এই অমানবিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। দ্রুত এ চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আইন ও বাংলাদেশের আইন—উভয় ব্যবস্থায় বিচার নিশ্চিত করার কথাও বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সূত্র : ইউএনবি