বিশ্ব

রুশ হ্যাকার ঠেকাতে গেমারদের গোয়েন্দা হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছে জার্মানি

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার সাইবার হামলার পাল্টা জবাব দিতে প্রযুক্তিতে দক্ষ নতুন প্রজন্মের গুপ্তচর নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে জার্মানির বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা। এ লক্ষ্যে এবার গেমারদেরও নিয়োগের তালিকায় রাখছে সংস্থাটি।


জার্মানির ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই সিক্সের সমতুল্য বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা বুন্ডেসনাখরিশটেনডিন্সট বা বিএনডির কর্মকর্তারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভিডিও গেম উৎসব গেমসকমে অংশ নিয়ে সম্ভাবনাময় তরুণদের খুঁজবেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।
বিএনডির কর্মকর্তারা মনে করছেন, গেমারদের অনেক দক্ষতার সঙ্গে সংস্থাটির প্রয়োজনীয় সাইবার নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। বিশেষ করে জার্মানির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় রাশিয়ার হ্যাকারদের হামলার জবাব দিতে এসব দক্ষতা কাজে লাগানো যেতে পারে।


২০২৬ সালের গেমসকম উৎসব জার্মানির কোলোনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে বিএনডির নিয়োগ কার্যক্রম দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাকে শক্তিশালী করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। এর মাধ্যমে একসময় তুলনামূলক সীমিত ক্ষমতার অধিকারী বিএনডিকে এমআইসিক্স ও ইসরায়েলের মোসাদের মতো শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থায় পরিণত করতে চায় জার্মানি।


গোয়েন্দা সংস্থাটির একটি সূত্র জানিয়েছে, উৎসবে বিএনডির কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতার সঙ্গে মেলে এমন গেমারদের পাঁচ ধাপের একটি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। এতে তাদের সাইবার নিরাপত্তা ও হ্যাকিংয়ের দক্ষতা যাচাই করা হবে।

 

সম্প্রতি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎসের মন্ত্রিসভা বিএনডির কার্যক্রমে বড় ধরনের সংস্কারের একটি প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। এতে বিদেশে কাজ করা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি নাশকতামূলক কার্যক্রম পরিচালনারও সুযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।


তবে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হতে পারে ‘হ্যাক ব্যাক’ নামে পরিচিত নতুন বিধান। এর মাধ্যমে রাশিয়ার সাইবার হামলার জবাবে বিএনডি পাল্টা সাইবার হামলা চালাতে পারবে।


ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে কিয়েভকে জার্মানির সমর্থনের প্রতিশোধ হিসেবে দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় রুশ সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।


এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ২০২৪ সালের মার্চে। ওই সময় রাশিয়া জার্মান বিমানবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একটি গোপন বৈঠকের রেকর্ডিং হাতে পায়। ওই বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে জার্মানির সামরিক কৌশল নিয়ে আলোচনা করছিলেন কর্মকর্তারা।


সাইবার হামলার বাইরেও জার্মানির প্রতিরক্ষা খাতের কর্মকর্তাদের হত্যার ষড়যন্ত্র, ইউক্রেনকে সরঞ্জাম সরবরাহকারী কারখানায় আগুন দেওয়া এবং জার্মান বিমানবন্দরে বোমা পেতে রাখার মতো কর্মকাণ্ডে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ রয়েছে।


এ পরিস্থিতিতে রাশিয়ার ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ মোকাবিলায় বিএনডির জন্য নতুন দক্ষ জনবল নিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।


ভবিষ্যতে তরুণ জার্মান গোয়েন্দাদের রুশ সাইবার হামলার জবাবে মস্কোর গোয়েন্দা তথ্যভাণ্ডার কিংবা অস্ত্র উৎপাদন নেটওয়ার্কে পাল্টা সাইবার হামলা চালানোর মতো কাজ করতে হতে পারে।


বিএনডির মুখপাত্র জুলিয়া লিনার দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, গেমারদের সঙ্গে সংস্থাটির প্রয়োজনীয় প্রতিভার উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। তারা প্রযুক্তিতে দক্ষ, বিভিন্ন চরিত্রে কাজ করতে পছন্দ করে, মিশন সম্পন্ন করতে আগ্রহী এবং সফল না হওয়া পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে।


তিনি বলেন, বর্তমানে যাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, তারা সম্ভবত এমন একটি নতুন বিএনডিতে যোগ দেবেন, যার কাঠামো চলমান আইন সংস্কারের মাধ্যমে পরিবর্তিত হবে।


গেমারদের আকৃষ্ট করতে বিএনডি নিজেই একটি ভিডিও গেম তৈরি করেছে। ‘বিএনডি লিজেন্ডস’ নামের গেমটিতে গুপ্তচরবৃত্তি ও হ্যাকিংয়ের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। গেমসকমে বিএনডির স্টলে এটি খেলার সুযোগ থাকবে।


বিএনডির কর্মকর্তারা বলছেন, গেমারদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে কথা বলার পাশাপাশি উৎসবে প্রযুক্তি ও হ্যাকিংয়ে দক্ষ পেশাজীবীদেরও খুঁজে বের করবেন সংস্থার কর্মকর্তারা।


তবে গেমারদের নিয়োগই জার্মানির অস্বাভাবিক জনবল সংগ্রহের একমাত্র উদ্যোগ নয়। দেশটির সামরিক বাহিনী বুন্ডেসভেরকেও ক্যারিয়ার প্রচারের জন্য ক্যামোফ্লাজ নকশার কাবাবের মোড়ক ব্যবহার করতে দেখা গেছে। সেই মোড়কে সামরিক বাহিনীর চাকরির ওয়েবসাইটের লিংক দেওয়া হয়েছে।


ইংরেজিতে ‘ওয়ান ক্যারিয়ার উইথ এভরিথিং’ লেখা ওই মোড়কটি জার্মান ভাষায় ‘সবকিছুসহ একটি কাবাব’ কথাটির সঙ্গে শব্দের খেলার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।


১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বিএনডিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপীয় গোয়েন্দা ব্যবস্থায় তুলনামূলক সীমিত পর্যবেক্ষক ভূমিকার জন্য গড়ে তোলা হয়েছিল। এর মাধ্যমে নাৎসি আমলের গেস্টাপো ও এসএসের নিরাপত্তা শাখা সিশেরহাইটসডিন্সটের সঙ্গে সংস্থাটির স্পষ্ট দূরত্ব তৈরি করা হয়।


তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিএনডির কর্মকর্তারা অভিযোগ করে আসছেন, রাশিয়ার মতো সম্ভাব্য বড় হুমকির মুখে সংস্থাটির ওপর আরোপিত অনেক বিধিনিষেধ পুরোনো ও অযৌক্তিক।


মেরৎস সরকারও গোয়েন্দা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে বলেছে, এর মাধ্যমে জার্মানি অবশেষে একটি প্রকৃত গোয়েন্দা সংস্থা পাবে। যদিও বিএনডিকে আরও শক্তিশালী করার এই পরিকল্পনা নিয়ে জার্মানিতে সমালোচনাও রয়েছে। বাম ও ডান উভয় রাজনৈতিক শিবিরের একটি অংশ গোয়েন্দা সংস্থার ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে উদ্বিগ্ন।


বামপন্থি দল ডি লিংকের মতে, গোয়েন্দা সংস্থার ক্ষমতা বাড়ানো জার্মানির অতীতের দিকে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দলটির সংসদ সদস্য উলরিশ থোডেন বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য নিশ্চিত করা জার্মানির ইতিহাস থেকে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, বিশেষ করে গেস্টাপোর অভিজ্ঞতা থেকে।


অন্যদিকে ডানপন্থি পপুলিস্ট দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানিও সংস্কার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। দলটি বিশেষ করে জার্মান নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।


তবে নতুন সংস্কারেও বিএনডিকে পুরোপুরি ‘জেমস বন্ড’ ধরনের ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের কাউকে হত্যা করার মতো সরাসরি অনুমোদন বা ‘লাইসেন্স টু কিল’ দেওয়া হয়নি।


সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
জনগণের জীবিকা ও নিরাপত্তায় চাপ মানেই যুদ্ধ: ইরান

জনগণের জীবিকা ও নিরাপত্তাকে লক্ষ্য করে যে কোনো ধরনের চাপকে যুদ্ধের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ ইবন আল রেজা। খবর আইআরএনএর। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের কাছে অর্থনীতি, জনগণের স্বস্তি ও কল্যাণ এবং নিরাপত্তা সবই প্রতিরক্ষার অংশ। তিনি বলেন, জনগণের জীবিকা ও নিরাপত্তাকে লক্ষ্য করে যেকোনো চাপই যুদ্ধের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, যারা চাপের ক্ষেত্র বিস্তৃত করবে, তাদের জানা উচিত যে জনগণের সুরক্ষায় ইরানও জাতীয় স্বার্থের কাঠামোর মধ্যে তার প্রতিরক্ষার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করবে। যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নেওয়ার পরেই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ ইবন আল রেজা এই মন্তব্য করলেন। এর আগে সোমবার সকালেই ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখা সব ধরনের বাণিজ্যিক ও আর্থিক পথ বন্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নতুন এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে নতুন নিষেধাজ্ঞায় প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো, ইরানের তেল বিক্রির আয় কমানো। ইরানের ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেন কঠিন করা। নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজ ও নেটওয়ার্ক বন্ধ করা। ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির অর্থ ও প্রযুক্তির জোগান বন্ধ করা। ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা তৃতীয় পক্ষগুলোকেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা। একই সঙ্গে জাহাজ চলাচল, সোনা, বিমান পরিবহন, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সম্পদ খাতেও বাড়ানো হয়েছে ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ বা পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা। বেসেন্ট বলেন, তেহরান সরকারকে টিকিয়ে রাখা প্রতিটি অর্থনৈতিক পথ বন্ধ করাই এই অভিযানের লক্ষ্য। ইরানকে শেষ পর্যন্ত একা করে দিতে চান তারা। এ জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের নেতাদের ফোন করে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধের বিষয়ে নির্দিষ্ট অনুরোধ জানাচ্ছেন। তবে কোন কোন দেশকে তিনি এ বিষয়ে বলেছেন বা কোনো সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন কি না, তা জানাননি বেসেন্ট। সূত্র : আইআরএনএ

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় ২ নিহত, তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার মাটিতে মার্কিন সামরিক বিমান, কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

ছবি: সংগৃহীত

রুশ হ্যাকার ঠেকাতে গেমারদের গোয়েন্দা হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছে জার্মানি

ছবি: সংগৃহীত
ইরানে বড় ধরনের মানবিক সংকট চলছে: ট্রাম্প

ইরানে ভয়াবহ মানবিক সংকট চলছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে দেশটির সরকার বিক্ষোভকারীদের হত্যা করছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। খবর দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ব্যর্থ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান তাদের সামরিক বাহিনীর বড় একটি অংশকে বেতন দিচ্ছে না। একই সময়ে তারা বিক্ষোভকারীদের হত্যা করছে। এমনকি যারা বিক্ষোভও করছে না, তাদেরও হত্যা করা হচ্ছে। পোস্টে ট্রাম্প বলেন, এটি নজিরবিহীন মাত্রার একটি মানবিক সংকট এবং অবশ্যই এগুলো বন্ধ করতে হবে। তবে ট্রাম্প ঠিক কোন ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন, তা স্পষ্ট নয়। তিনি জানুয়ারিতে ইরানে বিক্ষোভের সময় হাজারো মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনাকে বোঝাচ্ছেন, নাকি নতুন কোনো অপ্রকাশিত ঘটনার কথা বলছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বিক্ষোভের সময় গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনাকেও ট্রাম্প ইঙ্গিত করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরান এরই মধ্যে বিক্ষোভে গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কলকাতায় আরও ২০০ হোটেল বন্ধের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

চার বছর পর গম রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলল ভারত

ইরান বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিল চীন

প্রতীকী ছবি
বন্দিদের যৌন তাড়না কমাতে নতুন পরিকল্পনা যুক্তরাজ্যের

যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বন্দিদের অনিয়ন্ত্রিত যৌনাকাঙ্ক্ষা কমাতে বিশেষ ওষুধ ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে অনিয়ন্ত্রিত যৌন কামনার চিকিৎসা বলা হয়।     বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু বন্দির মাথায় সবসময় বিকৃত যৌন চিন্তা ঘোরপাক খায়, যা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে। এই সমস্যা দমনে যুক্তরাজ্যে মূলত দুই ধরনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। বিষণ্নতার ওষুধ, যা অতিরিক্ত কামনার তাড়না কমায় এবং হরমোন কমানোর ওষুধ, যা শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমিয়ে দেয়।   বিশিষ্ট ফরেনসিক সাইকোলজিস্ট অধ্যাপক বেলিন্ডা উইন্ডারের মতে, এই চিকিৎসায় অনেক অপরাধী আবার স্বাভাবিক মনোযোগ ও মানসিক স্থিরতা ফিরে পায়। তবে রাগ, ক্ষোভ বা মাদকের প্রভাবে অপরাধ করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হয় না।   আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন চিকিৎসা ব্যবস্থার বিভিন্ন ধরণ দেখা যায়। ডেনমার্ক ও ফ্রান্সে বন্দিরা কেবল নিজেদের ইচ্ছায় স্বেচ্ছায় এই চিকিৎসা নিতে পারে। জার্মানিতেও গোপন চিকিৎসার মাধ্যমে বিকৃত মানসিকতা সম্পন্ন পুরুষদের সহায়তা দেওয়া হয়।     অন্যদিকে পোল্যান্ড, কাজাখস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ও ফ্লোরিডার মতো স্থানে কিছু অপরাধীর জন্য আইন করে বাধ্যতামূলকভাবে রাসায়নিক চিকিৎসা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। অস্ট্রেলিয়াতেও অপরাধীদের জামিনে মুক্তির শর্ত হিসেবে এমন থেরাপি দেওয়ার ক্ষমতা আদালতের হাতে রয়েছে।   যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষও ক্যালিফোর্নিয়ার মতো প্যারেলে মুক্তির শর্ত হিসেবে এই ওষুধ সেবনের নিয়ম চালু করা যায় কি না, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই পদ্ধতিটি নতুন নয় এবং এর ইতিহাস বেশ জটিল।     ১৯৫০-এর দশকে যুক্তরাজ্যে সমকামী পুরুষদের জেল খাটা থেকে রেহাই পাওয়ার বিনিময়ে এই থেরাপি নিতে বাধ্য করা হতো, যার শিকার হয়েছিলেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী অ্যালান টিউরিং। তিনি এ পদ্ধতির শিকার হয়ে পরবর্তীতে আত্মহত্যা করেছিলেন।   তাছাড়া, হরমোন কমানোর এই ওষুধগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশ মারাত্মক। এর ফলে শরীরে চরম ক্লান্তি, মেজাজ পরিবর্তন, ওজন বৃদ্ধি, পেশি হ্রাস পাওয়া এবং হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার মতো দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা তৈরি হয়।     চিকিৎসকরা মনে করেন, এই ওষুধ কেবল শারীরিক চাহিদা কমায়, কিন্তু অপরাধ করার মানসিকতা পুরোপুরি বদলে দেয় না। সে কারণে শুধু ওষুধ খাওয়ার শর্তেই কাউকে জামিন দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক ও নৈতিক প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্বস্তি ট্রাম্পের

ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিএনপির দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনের ফল: খন্দকার মোশাররফ

0 Comments