বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ফ্রান্সকে জয় উপহার দিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে শুধু দলের জয়ই নিশ্চিত করেননি, গড়েছেন নতুন ইতিহাসও। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের পরও সমালোচকদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধের মানসিকতা নেই বলে জানিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক।
নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে এমবাপ্পের দুই গোলে সেনেগালকে ৩-১ ব্যবধানে হারায় ফ্রান্স। ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি ছিল বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া অসাধারণ এক শট, যা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
এই জোড়া গোলের মাধ্যমে এমবাপ্পে ফ্রান্সের হয়ে নিজের গোলসংখ্যা ৫৮-তে উন্নীত করেন। ফলে তিনি দেশটির সাবেক তারকা অলিভিয়ের জিরুকে পেছনে ফেলে ফ্রান্সের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেন।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে অবশ্য এমবাপ্পেকে ঘিরে সমালোচনার কমতি ছিল না। ক্লাব ফুটবলে হতাশাজনক মৌসুম কাটানোর কারণে তাকে নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।
ম্যাচ শেষে ফরাসি গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় এমবাপ্পে বলেন, “আমি খেলি আমার দেশের ইতিহাস গড়ার জন্য এবং দলকে ফাইনাল ও শিরোপার পথে এগিয়ে নেওয়ার জন্য। সমালোচকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার কোনো বিষয় এখানে নেই। তাদের মুখ বন্ধ করার জন্য খেলতে গেলে আমাকে হয়তো ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত খেলতে হতো।”
তিনি আরও বলেন, “গোল করার পর আমি আমার পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কথা ভেবেছি। তারা আজ মাঠে উপস্থিত ছিলেন। আমি যখনই গোল করি, সেটি তাদের জন্যই করি।”
প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করা ফ্রান্স আগামী সোমবার ফিলাডেলফিয়ায় নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ইরাকের মুখোমুখি হবে। সেই ম্যাচেও এমবাপ্পের দিকে বিশেষ নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে নিরাপত্তা ইস্যুতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করে বাংলাদেশ। সেই সময় যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন আসিফ নজরুল। তিনিই বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন। আলোচিত সেই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে। ২২ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে এককভাবে কারো নাম সরাসরি উল্লেখ করা না হলেও, অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের কাঁধেই এই সিদ্ধান্তের মূল দায় চাপানো হয়েছে। তদন্ত কমিটি জানিয়েছেন, তার বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলেও আসিফ নজরুল সারা দেননি। রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস দিয়ে পুরো বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সাবেক এই ক্রীড়া উপদেষ্টা। আসিফ নজরুল প্রশ্ন তোলেন যে, ‘যে কথা তিনি আগেই একাধিকবার প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, এতদিন পর সেই একই বিষয় নিয়ে কেন ঘটা করে তদন্ত প্রকাশ করা হলো।’ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর চাপে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে অপমানজনকভাবে বাদ দেওয়ার ঘটনা থেকেই মূলত সংকটের সূত্রপাত। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা এবং দেশের প্রতি অবমাননার প্রতিবাদেই ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আইসিসির রিপোর্টের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, তাদের সেই শঙ্কা অমূলক ছিল না; কারণ আইসিসির প্রথম প্রতিবেদনেও ভারতে নিরাপত্তার ঘাটতির বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হয়েছিল। বিকল্প ভেন্যুতে খেলার জন্য নানা চেষ্টা চালানো হলেও আইসিসিতে ভারতীয় আধিপত্যের কারণে এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি। দেশের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখাকেই নিজের সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, সে সময় আশঙ্কা করা হয়েছিল যে বিশ্বকাপ বয়কট করলে অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা পরবর্তীতে বিসিবির কূটনৈতিক পদক্ষেপে সফলভাবেই দূর করা হয়েছিল। ‘আমি মনে করি, আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম', দাবি করেন সাবেক এই উপদেষ্টা আরও লেখেন, 'একটি ছোট দেশ বলে কেউ আমাদের ইচ্ছেমতো অপমান করবে, আর আমরা সবসময় তা মুখ বুঝে মেনে নেব—এমন প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। আমি সমমর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সাথে বন্ধুত্বে বিশ্বাসী, মাথা নত করে সব মেনে নেয়াতে না।’
ইসা ফয়সাল বাদ পড়ে যাওয়ায় লেফট-ব্যাক পজিশনে মূলত লড়াইটা এখন অভিজ্ঞ রহমত মিয়া ও তরুণ জায়ান আহমেদের মধ্যে চলছে। এই লড়াই দারুণ উপভোগ করছেন জায়ান। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এই লেফট-ব্যাক বললেন, এক পজিশনে একাধিক খেলোয়াড়ের উপস্থিতি দলের জন্য ভালো। ঢাকায় এসে গরমের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জও সামলাতে হচ্ছে জায়ানকে। তবে, সব প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে ২২ বছর বয়সী এই তরুণ আসছে আসিয়ান কাপে খেলতে মুখিয়ে আছেন। আসিয়ান কাপ শুরু হবে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর। দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে খুব বেশি সময় পাচ্ছেন না জায়ান। গত অক্টোবরে হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে লাল-সবুজের জার্সিতে অভিষেক হওয়া এই ফুটবলারের মনে হচ্ছে, ক্লাবের হয়ে প্রাক-মৌসুমের প্রস্তুতি নেওয়ার ফলে তার সমস্যা হবে না। “আমি প্রি-সিজন শেষ করেছি, অনেকগুলো প্রীতি ম্যাচ এবং ইতিমধ্যে দুটি লিগ ম্যাচও খেলেছি। তাই প্রি-সিজন থেকে সরাসরি এখানে আসাটা আমার জন্য খুবই সহায়ক হয়েছে। আমার মনে হয় এটা আমার জন্য বড় একটা বাড়তি সুবিধা। “ফিরে আসতে পেরে ভালো লাগছে। সবার সঙ্গে দেখা হওয়াটা আনন্দের। এখন পর্যন্ত অনুশীলন ভালোই চলছে। আবহাওয়া বেশ গরম, সেটার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে। আর জানেনই তো, আমি একটু আগেই চলে এসেছি। ক্লাবকে বলেছিলাম আমি আগেভাগে আসব, কারণ আসিয়ান গেমস অনেক বড় একটা টুর্নামেন্ট। তাই আমি আগেই আসতে চেয়েছিলাম এবং ভালো কিছু করতে চাই। ইনশাআল্লাহ, আমার বিশ্বাস আমরা ভালো করব।” দলের মধ্যে জায়গা পাওয়ার লড়াইকে জায়ান দেখছেন ইতিবাচক দৃষ্টিতে। আমি মনে করি এটা (যে কোন পজিশনে একাধিক খেলোয়াড় থাকা) ভালো একটা বিষয়। আমার মতে, আমরা যদি উন্নতি করতে চাই, তবে একটি পজিশনে একাধিক খেলোয়াড় থাকাটা খুবই ইতিবাচক। আমি মনে করি, এটি দলের জন্য দারুণ একটি বিষয়। “একজন লেফট-ব্যাক হিসেবে, লেফট-উইং পজিশনে ভালো বিকল্প থাকাটা আমার কাজ অনেক সহজ করে দেয়। লেফট-ব্যাক এবং লেফট-উইংয়ের মধ্যকার বোঝাপড়াটা অত্যন্ত জরুরি। তাই, আমাদের হাতে অনেক বিকল্প থাকাটা আমাকে যেমন সাহায্য করে, তেমনি দলের জন্যও তা ভালো।
ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘতম ক্যারিয়ারের বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন জিম্বাবুয়ের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ব্রেন্ডন টেলর । মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে মাঠে নেমে তিনি এই রেকর্ড গড়েন। এতে ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকারের এতদিনের রেকর্ডটি ভেঙে দেন। ২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া টেলরের ওডিআই ক্যারিয়ারের স্থায়িত্ব এখন ২২ বছর ৪ মাস, যা শচীনের ২২ বছর ৩ মাসের ওডিআই ক্যারিয়ারকে ছাড়িয়ে গেছে। ৪০ বছর বয়সী এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল খেলোয়াড়। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে ২০৭টি ওয়ানডে তার নামের পাশে ছিল ৬৭০৪ রান। এর মধ্যে রয়েছে ১১টি সেঞ্চুরি এবং ৩৯টি হাফ সেঞ্চুরি। জিম্বাবুয়ের হয়ে ৫০ ওভারের ফরম্যাটের ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির মালিকও টেলর। ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন টেলর। কিন্তু ২০২২ সালে আইসিসি দুর্নীতি দমন এবং ডোপিং বিরোধী নিয়ম ভাঙার কারণে তাকে সাড়ে তিন বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলো। নির্বাসনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে ২০২৫ সালে ফের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসেন টেলর। ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নামিবিয়ার সঙ্গে সহ-আয়োজক হিসেবে থাকবে জিম্বাবুয়েও। তাই ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ খেলাই এখন লক্ষ্য টেলরের। তবে রানের বিচারে শচিনের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে টেলর। ৪৬৩টি ওডিআই ম্যাচে শচিনের সংগ্রহ ১৮৪২৬ রান। অন্যদিকে ব্রেন্ডন টেলর ২০৭ ম্যাচে করেছেন ৬৭০৪ রান।