ঝিনাইদহের শৈলকুপায় একটি মাদরাসায় রাতের আঁধারে নাইটগার্ড নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই মাদরাসার সুপার, সভাপতি ও মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজির প্রতিনিধি পরিচয় দেওয়া এক নারী কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার পুটিমারি আউলিয়া মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়ম-বহির্ভূতভাবে রাতের আঁধারেই মাদরাসায় নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে আশপাশের গ্রামের শত শত মানুষ মাদরাসা প্রাঙ্গণে গিয়ে পরীক্ষা নিতে বাধা দেন।
সে সময় নিয়োগ পরীক্ষায় জড়িত সংশ্লিষ্টদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।
মাদরাসা সুপার রুহুল আমিন দাবি করেন, নিয়ম মেনেই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল। নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল ১২ জনের।
তবে সরেজমিনে দেখা যায়, হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন মাত্র ১০ জন পরীক্ষার্থী এবং নিয়োগ পরীক্ষা কেন্দ্রে পাওয়া যায় মাত্র ৩ জন পরীক্ষার্থীকে।
স্থানীয়দের দাবি, সন্ধ্যার দিকে একটি সাদা রঙের প্রাইভেট কারে করে ডিজির প্রতিনিধি পরিচয়ে এক নারী কর্মকর্তা ওই মাদরাসায় আসেন। এ সময় তার সঙ্গে তার মেয়ে, বোন ও নাতিও ছিলেন।
রাতের বেলায় নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহ ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
মাদরাসা সুপার রুহুল আমিন বলেন, ডিজির প্রতিনিধি দেরিতে আসায় পরীক্ষাও দেরিতে শুরু হয়।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তারা পরীক্ষার খাতা ও কাগজপত্র তৈরি করছিলেন। সে সময় স্থানীয়রা এসে বাধা দিলে পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ূন কবির মোল্লা কালের কণ্ঠকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মাদরাসা সুপার ও ডিজির প্রতিনিধি পরিচয় দেওয়া নারী কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
মৃত্যুর ১৫২ দিন পর অবশেষে নিজ দেশ আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন আফগান নাগরিক হাসমত মোহাম্মাদী। দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা শেষে বাংলাদেশ থেকে তার মরদেহ কাবুলে পৌঁছালে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। গত ১৩ এপ্রিল ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে হাসমতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও বিজিবি। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় পরদিন ১৪ এপ্রিল আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে ঝিনাইদহ পৌর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে অজ্ঞাতনামা হিসেবে দাফন করা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মরদেহের ছবি দেখে আফগানিস্তানে থাকা স্বজনেরা হাসমতের পরিচয় শনাক্ত করেন। ডিএনএ পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নিতে উদ্যোগ নেয় পরিবার। নিহত হাসমতের ভাই ইমাল মোহাম্মাদী আফগানিস্তান থেকে বাংলাদেশে এসে দীর্ঘদিন ধরে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদনের পর গত ১ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহ পৌর কেন্দ্রীয় গোরস্থান থেকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হাসমতের মরদেহ উত্তোলন করা হয়। পরে মরদেহ ঢাকায় নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও এয়ার কার্গো সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত ১০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে মরদেহটি কাবুলে পাঠানো হয়। ১১ সেপ্টেম্বর স্বজনদের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে বাবার কবরের পাশে হাসমতকে দাফন করা হয়। কাবুলে পরিবারের কাছে মরদেহ পৌঁছানোর পর স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। ১৫২ দিনের অপেক্ষার পর ভাইকে ফিরে পাওয়ার এই মুহূর্তটি পরিবারের জন্য ছিল গভীর আবেগের। ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নিতে সহযোগিতা করায় বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক এবং তার আইনজীবীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ইমাল মোহাম্মাদী। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ এই জটিল প্রক্রিয়ায় অনেকের সহযোগিতা ছাড়া আমার ভাইকে নিজ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতো না। যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, বিশেষ করে বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি আমার পরিবার কৃতজ্ঞ। সবার সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত ভাইকে বাবার কবরের পাশে দাফন করতে পেরেছি।’ উল্লেখ্য, হাসমতের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জটিলতা নিয়ে গত ২৪ আগস্ট একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর ১ সেপ্টেম্বর তার মরদেহ ঝিনাইদহ পৌর কেন্দ্রীয় গোরস্থান থেকে উত্তোলন করা হয়। দীর্ঘ ১৫২ দিনের অপেক্ষার পর কাবুলে বাবার কবরের পাশে দাফনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো হাসমতের মরদেহ দেশে ফেরানোর দীর্ঘ প্রক্রিয়া।
ফেনীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডাকাত, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী ও মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং পরোয়ানাভুক্ত (ওয়ারেন্টভুক্ত) ২১ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ফেনী মডেল থানা পুলিশ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অভিযানকালে আসামিদের কাছ থেকে ৫০ বোতল বিদেশি মদ, ১০ লিটার দেশি চোলাই মদ, ৩ বোতল বিয়ার ও ৫৭ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ফেনী মডেল থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে সন্ত্রাসবিরোধী মামলার ঘটনায় জড়িত আসামি ফেনীর সোনাগাজীর ছাড়াইতকান্দি এলাকার আবদুল হকের ছেলে আশরাফুলড়া জামান সোহাগকে (২০) মহিপাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ডাকাত দলের সদস্য সোনাগাজীর চরচান্দিয়া এলাকার নুর খাতুনের ছেলে সাইফুল ইসলাম রিয়াজকে (২৮) ফেনী শহরের এস এস কে রোড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একাধিক মাদক মামলার আসামি ও মাদক ব্যবসায়ী ফেনীর ধর্মপুর এলাকার মো. বাবুলের ছেলে মো. সেলিমকে (২৪) ৫০ বোতল বিদেশি মদসহ ফেনীর ধর্মপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ফেনী শহরের মধ্যম চাড়িপুর (খাজুরিয়া) জজ কোর্ট কলোনি এলাকা থেকে ১০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদসহ রাবেয়া আক্তারের ছেলে মো. হৃদয় (২০) ও তার মা রাবেয়া আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানকালে ৫৭ পিস ইয়াবাসহ শাহরিয়ার হোসেন (২২), নাজমুল ইসলাম (২১), শহিদুল ইসলাম সুমন (৩৪), ইসমাইল হোসেন ইমন (২৬) ও মো. রবেলকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়াও ৩ বোতল বিয়ারসহ আবু বক্কর (২৩) ও মো. ইকবাল হোসেনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়। ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ কালবেলাকে জানান, পরবর্তীতে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, মাদকসেবীসহ সর্বমোট ২১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। ফেনী মডেল থানার ওসি আমিনুল ইসলাম কালবেলাকে জানান, ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারের দিকনির্দেশনায় জেলার মাদক নির্মূল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ফেনী মডেল থানাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মাদকবিরোধী ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, মাদক ব্যবসায়ী, মাদক কারবারি, মাদকসেবী এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকা থেকে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রের সদস্য ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতারের পর তাদের কাছে পাসপোর্ট-ভিসা পাওয়া যায়নি। তাদের পাসপোর্ট মোহাম্মদ মহসীন নামে এক ব্যক্তির কাছে রয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছেন তারা। এবার সেই মহসীনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নগরের খুলশী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মহসীনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। নগরের কর্ণফুলী এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, ‘৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে মহসীনের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি আটতলা ভবন তাদের ভাড়া করে দিয়েছিলেন। মহসীনের পেছনে থাকা অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’ ওসি আরও বলেন, ‘মহসীন কুরিয়ারে ১১৮ গ্রাম কোকেন ঢাকায় এক ব্যক্তির কাছে পাঠিয়েছিলেন কয়েক দিন আগে। এগুলো ফেরত আসে। কোকেনের তথ্য খুঁজতে গিয়ে ৬৩ বিদেশি নাগরিকের খোঁজ পাওয়া যায়। মহসীনকে কোকেনের মামলায় আজ সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে করা সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখাতে আদালতে আবেদন করা হবে। একই সঙ্গে রিমান্ডেরও আবেদন করা হবে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে চক্রটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।’ গত বৃহস্পতিবার রাতে খুলশী থানার জালালাবাদ আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবনে অভিযান চালিয়ে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিইউ) ও খুলশী থানা পুলিশ। তাদের মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের পাঁচ জন, নেপালের একজন ও ভিয়েতনামের একজন নাগরিক রয়েছেন। তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মুঠোফোনসহ ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় খুলশী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেছে। শুক্রবার ৬৩ বিদেশি নাগরিককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশ জানায়, ১৪টি ফ্ল্যাটে দেড় মাস ধরে ভাড়া নিয়ে তারা অবস্থান করছেন। ভবনটিতে সার্ভার, কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছিল। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে অনলাইন প্রতারণার একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন তারা। এ কাজে তাদের সহায়তা করেছে দেশীয় একটি চক্র। সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, ‘গ্রেফতার বিদেশি নাগরিকরা প্রায় দেড় মাস আগে ওই বাড়িটি ভাড়া নেন। বাড়িটি একজন দুবাইপ্রবাসীর। ওই বাড়িতে অবস্থান করে তারা সংঘবদ্ধভাবে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় অবস্থান করে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণা এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। তারা নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রযুক্তিগত বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করতেন।