এই বছরের মে মাসে রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী একাধিক মুসলিম আলেম ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিকে আটক করে। দেশটির রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে এসব গ্রেফতারের খবর সীমিত আকারে প্রচার হয়, তবে অনলাইনে এ নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনা সামনে আসে।
উগ্র-ডানপন্থি সংগঠন ও চ্যানেলগুলোর কাছে এসব গ্রেফতার ছিল ক্রেমলিন-সমর্থিত স্পিরিচুয়াল বোর্ড অব মুসলিমস (ডিইউএম) ভেঙে দেওয়ার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত অভিযানের সূচনা।
রাশিয়ার বাইরে পরিচালিত গণমাধ্যমগুলোর মতে, এসব পদক্ষেপ দেশটিতে ইসলামবিদ্বেষ বাড়ার ইঙ্গিত দেয়, যেখানে 'আবাসিক ভবনে' গণউপাসনা নিষিদ্ধের নতুন বিতর্কিত আইনকে অনেকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এসব গ্রেফতারের ঘটনা, স্থানীয় আলেমদের প্রতিক্রিয়া এবং রাশিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব পর্যালোচনা করেছে বিবিসি মনিটরিং।
কারা আটক হয়েছেন?
২০২৬ সালের মে মাসে রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী আটজন মুসলিম আলেম ও কমিউনিটি প্রতিনিধিকে আটক করেছে বলে জানা যায়। তাদের মধ্যে অন্তত একজনকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তাদের মধ্যে ছিলেন কারেলিয়ার সাবেক মুফতি উইসাম বার্দভিল। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা তাস জানায়, ১৪ই মে শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরে 'পুলিশের সঙ্গে অবাধ্যতা'র অভিযোগে তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফোরতাঙ্গার তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার এফএসবি সংস্থা ১২ই মে ধর্মযাজক ও বারর্দভিলের ডেপুটি আখমাদ তাঙ্গিয়েভকেও আটক করে।
রাশিয়ার জনপ্রিয় সংবাদ সাইট লেন্তা ডট রু জানায়, মর্দোভিয়া প্রজাতন্ত্রের মুফতি রয়াল আসেনভকে ১৯ই মে 'ঘুষ চাওয়ার' সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়। প্রতিবেদনটিতে রাশিয়ার স্পিরিচুয়াল বোর্ড অব মুসলিমসের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাত দেওয়া হয়।
২৩ই মে ব্যবসাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দৈনিক কোমেরসান্ত বিচার বিভাগের প্রেস অফিস এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্তকারীদের উদ্ধৃতি দিয়ে আটক ব্যক্তিদের একটি দীর্ঘ তালিকা প্রকাশ করে।
কোমেরসান্তের তথ্য অনুযায়ী, 'মুসলিম কমিউনিটি অব দ্য নর্থওয়েস্ট' নামের কেন্দ্রীয় ধর্মীয় সংগঠনের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ খেনিকে সেন্ট পিটার্সবার্গে তার এক আত্মীয় এবং রাশিয়ার সারাতভ অঞ্চলের ডেপুটি মুফতি আল-খেইখ নিদাল আওয়াদুল্লাহ আহমদের সঙ্গে আটক করা হয়।
ওয়েবসাইটটি আরও চারজন আটক ব্যক্তির আদ্যক্ষর ও পদবী প্রকাশ করে, যাদের তাতারস্তান, মারমানস্ক ও পেট্রোজাভোদস্কের মুসলিম কমিউনিটি কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে শনাক্ত করেছে তদন্তকারী সংস্থা এজেনস্তভো।
কেন তাদের আটক করা হয়েছিল?
এদের বিরুদ্ধে 'ঘুষ' থেকে 'অবাধ্যতা' পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে, যদিও কিছু ব্লগার ও কিছু গণমাধ্যম আরও গুরুতর অভিযোগও তুলেছে।
কোমেরসান্তের দাবি, ২৩শে মে তারা সংশ্লিষ্ট মামলার নথি দেখেছে, যেখানে কয়েকজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
রাশিয়া ২০০৩ সালে মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রভাবশালী প্রচারক রুসলান অস্তাশকোও এই অভিযোগ পুনরাবৃত্তি করেন এবং আলেমদের নতুন "পঞ্চম স্তম্ভ" হিসেবে দেখান যারা "বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা" ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন।
তিনি হুমকির সুরে বলেন, "প্রশ্নটি বাড়ছে- এটি কি একটি ধর্মীয় কাঠামো, নাকি বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রিত একটি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক?"
প্রত্যাশিতভাবেই, উগ্র-ডানপন্থি চ্যানেলগুলো এই গ্রেফতারকে স্বাগত জানায় এবং ডিইউএম-এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় দমন অভিযানের সম্ভাবনায় স্পষ্ট উত্তেজনা প্রকাশ করে।
১৯শে মে উগ্র-ডানপন্থি চ্যানেল 'সন্স অব মনার্কি' লিখেছে, "সাহসী রুশ নিরাপত্তা বাহিনী অবশেষে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে, যারা রাশিয়ায় ভিন্ন ধর্মের মধ্যে বিভেদ উসকে দিচ্ছে।"
তারা যোগ করে, "আমি আশা করি এটি কেবল শুরু!"
২১শে মে ব্লগার ইউরি বারানচুকের একটি বিশেষভাবে অবমাননাকর পোস্টে বলা হয়, "এই চরমপন্থিরা, যারা ধীরে ধীরে 'হালালাইজেশন' এবং অর্থোডক্স রাশিয়াকে 'আড়াল' করার পক্ষে, তারা অনেক দিন ধরেই জেলে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিল... মনে হচ্ছে কর্তৃপক্ষের কেউ হঠাৎ এই হুমকির মাত্রা ও ব্যাপ্তি বুঝতে পেরেছে।"
দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন
মুসলিম আলেমদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত একটি মামলা সামনে আসে ২৯শে মে। এটি ছিল ডিইউএম চেয়ারম্যান মুফতি রাভিল গনুতদিনের প্রথম ডেপুটি দামির মুখেতদিনভের বিরুদ্ধে, যিনি 'ঘৃণা বা শত্রুতা উসকে দেওয়ার' অভিযোগে অভিযুক্ত হন বলে জানায় ব্যবসায়িক দৈনিক আরবিসি।
তিন দিন পর ব্যবসায়িক সংবাদপত্র ভেদোমোস্তি জানায়, 'মঙ্গোল-তাতার যুগ' শীর্ষক চিত্রকর্ম প্রদর্শনের কারণে তাকে এক লাখ ৫০ হাজার রুবল (প্রায় দুই হাজার ৪০ মার্কিন ডলার) জরিমানা করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত মেসেঞ্জার অ্যাপ ম্যাক্সে মস্কো সিটি কোর্টস অব জেনারেল জুরিসডিকশনের প্রকাশিত একটি পোস্ট উদ্ধৃত করা হয়।
চিত্রকর্মটি, যা গত বছর একটি সাক্ষাৎকারের সময় তার কার্যালয়ের দেয়ালে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়, এটি ১২২৩ সালের কালকা যুদ্ধকে চিত্রিত করে, যা পূর্ব ইউরোপে মঙ্গোলদের প্রথম আগ্রাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।
এটি ব্লগার, কট্টর জাতীয়তাবাদী এবং এমনকি কিছু সরকারি কর্মকর্তার সমালোচনা কুড়ায়। তাদের কেউ কেউ এই চিত্রকর্মকে 'রাশিয়া-বিরোধী' আখ্যা দিয়ে ক্রেমলিন-ঘনিষ্ঠ ডিইউএম-কে 'চরমপন্থি' সংগঠন ঘোষণার দাবি তোলে।
মুখেতদিনভ প্রথমে নিজেকে 'রাশিয়া-বিরোধী' বলা অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বলেন, ১৩শ শতকে মঙ্গোল সাম্রাজ্যের উত্তরসূরি রাষ্ট্র 'গোল্ডেন হোর্ড' "ভূমি একত্রিত করা, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং বহুজাতিক ও বহু-ধর্মীয় রাষ্ট্র হিসেবে রাশিয়ার বিকাশে" গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
পরে তিনি অবস্থান পরিবর্তন করেন। ২০২৫ সালে এই বিতর্ক প্রথম সামনে এলে তিনি ডিইউএম-এর ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে বলেন, "আমি এই চিত্রকর্মটি জনসমক্ষে থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন এর জায়গায় মহান দেশপ্রেমিক যুদ্ধের (নাজি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের যুদ্ধ) ঘটনাবলি তুলে ধরা একটি চিত্রকর্ম স্থাপন করা হবে।"
আধুনিক রাশিয়ার অন্তর্ভুক্তিমূলক চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে মুখেতদিনভ রাষ্ট্রের ইতিহাস বর্ণনার একচেটিয়া ক্ষমতার নীতির বাইরে গিয়েছিলেন বলে মনে হয়।
ক্ষমতায় থাকার সময় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার পরিচয়কে একটি 'ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক পরিসর'-এ সংগঠিত করার চেষ্টা করেছেন, যা তার দৃষ্টিতে স্লাভ জনগণের অংশ, এবং এই প্রক্রিয়ায় রাশিয়ান, ইউক্রেনীয় ও বেলারুশিয়ানদের মধ্যে পার্থক্য ঝাপসা হয়েছে।
এই 'স্লাভিক' ঐতিহ্যভিত্তিক ধারণা বিভিন্ন জাতিগত ও ধর্মীয় পরিচয়ের জন্য পরিসর সীমিত করে এবং ইসলামবিরোধী এজেন্ডাসম্পন্ন উগ্র জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে পারে।
মনে হয় প্রেসিডেন্ট পুতিন প্রয়োজন অনুযায়ী এই জনতাত্ত্বিক বাস্তবতা ব্যবহার করেন, যেমন সৌদি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা বা ২০২৬ সালের সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে 'বিশিষ্ট অতিথি'দের অভ্যর্থনার সময়।
তবে ক্রেমলিন ও মুসলিম নাগরিকদের সম্পর্ক বরাবরই জটিল।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর যে বিচ্ছিন্নতাবাদী যুদ্ধগুলো শুরু হয়, তার পর পুতিন রাশিয়ার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রজাতন্ত্রগুলোতে শাসন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেন। বৃহৎ মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পে অর্থায়ন এবং চেচনিয়ার নেতা রমজান কাদিরভের মতো অনুগত নেতৃত্ব নিয়োগের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ ধর্মীয় সম্প্রীতির ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চেয়েছিল।
রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, রাশিয়ার মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলো (যেমন ডিইউএম) ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় বস্তুগত ও মতাদর্শগত সমর্থন দিয়েছে। একই সময়ে, পুতিনের যুদ্ধের দৃঢ় সমর্থকেরা ক্রমে 'অর্থোডক্স রাশিয়া'র একক ধারণায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে উঠছে।
২১শে মে স্বাধীন সংস্থা দক্সাকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইসলামি বিশারদ বলেন, "ইসলামবিদ্বেষ ও অভিবাসীবিরোধী মনোভাব আগে থেকেই ছিল, কিন্তু যুদ্ধ একটি স্পষ্ট মোড় পরিবর্তন হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।"
অতীতে রাশিয়ায় ধর্মীয় বৈচিত্র্যের মূল্য ছিল রাজনৈতিক আনুগত্য। নির্বাসিত নোভায়া গাজেতা ইউরোপার মতে, সাম্প্রতিক গ্রেফতারের ঢেউ এই প্রশ্ন উত্থাপন করছে - সেই আনুগত্য এখনো যথেষ্ট কি না।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার উদ্বেগে আছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদরদপ্তর পেন্টাগন। আর এ কারণে ইরানে হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। গত মাসে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হলেও হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দ্বন্দ্বে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পাল্টাপাল্টি হামলা চালায় ওয়াশিংটন ও তেহরান। রোববার নতুন করে আর হামলার খবর পাওয়া যায়নি। বিপরীতে উভয়পক্ষ আলোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছে। দুইদিন আগেও (বৃহস্পতিবার) ইরান ও হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠীদের ওপর বড় ধরনের সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে শুক্রবার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর এবং অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার ব্যাপারে আলোচনা হয়। মূলত এরপরই হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। বৈঠকের আলোচনা সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছে, হামলা অব্যাহত রাখলে কর্মকর্তারা বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। সেটি হলে উপসাগরীয় মিত্ররা আরও বিপাকে পড়তে পারে। এছাড়া, অর্থনৈতিক মন্দা, জ্বালানি ও শরণার্থী সংকট বৃদ্ধি নিয়েও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এর আগে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানে বড় ধরনের অভিযান চালানো সম্ভব। কিন্তু তাতে সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনক হারে কমে যাবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করা হলে ড্যান কেইনের মুখপাত্র মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে দুটি সূত্র টাইমসকে বলেছে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের মধ্যে খুব কম লোকই উত্তেজনা বাড়ানোর পরিকল্পনায় সমর্থন দিয়েছেন। একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার যুক্তি- হামলা চালিয়ে গেলে ইরান আরও ঐক্যবদ্ধ হবে। তখন তারা আলোচনার টেবিলে বসার বদলে অন্য যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে মনোযোগ দেবে। হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক স্টিভেন চেং বলেছেন, ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধান পছন্দ করেন। তবে তেহরান যদি হরমুজ প্রণালি বা মার্কিন মিত্রদের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী কার্যকলাপ’ চালিয়ে যায়, তাহলে জবাব দেওয়ার জন্য সব পথ খোলা আছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দৈনিক মাত্র শূন্য থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমানোর অভ্যাস দেশজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তার অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততা, ব্যক্তিগত জীবন ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব নিয়ে রাজনীতিবিদ, বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। খবর রয়টার্সের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তাকাইচি জানান, বহুদিন পর তিনি টানা পাঁচ ঘণ্টা ঘুমাতে পেরেছেন। সাধারণত তিনি প্রতিদিন শূন্য থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমান। তিনি বলেন, সরকারি ছুটির দিনেও তিনি নীতিমালা-সংক্রান্ত নথি পড়া এবং হাজার হাজার ই-মেইলের জবাব দেওয়ার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। পোস্টে তিনি আরও জানান, অল্প অবসর সময়ে তিনি নিজের গৃহস্থালির কাজও করেছেন। এর মধ্যে ছিল অন্তর্বাস ইস্ত্রি করা, ছেঁড়া স্কার্ট সেলাই করা এবং জ্যাকেটের বোতাম মেরামত করা। তাকাইচির এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিন কোটির বেশি বার দেখা হয়েছে। তবে তার কর্মনিষ্ঠার প্রশংসার পাশাপাশি বিশ্রামের অভাব নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। বিরোধী দলের আইনপ্রণেতা তোরু কুনিশিগে বলেন, দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তার মতে, এর প্রভাব অনেকটা মাতাল অবস্থার মতো, যা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আরেক বিরোধী আইনপ্রণেতা হিরোইউকি কোনিশি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রতিটি নথির খুঁটিনাটি পড়া নয়; বরং নীতিগত দিকনির্দেশনা দেওয়া ও নেতৃত্ব প্রদান করা। রক্ষণশীল জনতাবাদী দলের নেতা ইউইচিরো তামাকি বলেন, “তাকাইচি নিঃসন্দেহে পরিশ্রমী। তবে বিশ্রাম নেওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।” তবে সমর্থকরা প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তারা বলছেন, তিনি একজন কর্মঠ নেতা হিসেবে নিজের বাস্তব জীবন ও কাজের চাপের অভিজ্ঞতা জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন। টোকিওর ন্যাশনাল গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজের অধ্যাপক ইয়োকো ইওয়ামা বলেন, জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকাইচিকে অনেক গৃহস্থালির দায়িত্বও নিজে পালন করতে হয়, যা তার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জন্য এমন সহায়ক ব্যবস্থা থাকা উচিত যাতে তিনি গৃহস্থালির দায়িত্বের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় কাজে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারেন। সম্প্রতি সংসদের গ্রীষ্মকালীন বিরতির আগে বিভিন্ন আইন পাস করানো এবং দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাকাইচি ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ সময় জাপানি মুদ্রা ইয়েনের মূল্য প্রায় চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। নিজের পোস্টে তাকাইচি জানান, জুলাইয়ের শুরু থেকে তিনি ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছেন। সপ্তাহান্তেও সরকারি বাসভবনে অবস্থান করে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পর্যালোচনা করেছেন। তিনি লেখেন, “আগামীকাল থেকে আমি আবার পুরো শক্তি দিয়ে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারব।” জাপান দীর্ঘ কর্মঘণ্টার সংস্কৃতির জন্য পরিচিত। দেশটিতে অতিরিক্ত কাজের কারণে মৃত্যুর ঘটনা, যা ‘কারোশি’ নামে পরিচিত, বহুবার জাতীয় আলোচনার বিষয় হয়েছে। ২০১৬ সালে বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠান ডেনৎসুর কর্মী মাতসুরি তাকাহাশি মাসে ১০০ ঘণ্টার বেশি অতিরিক্ত কাজ করার পর আত্মহত্যা করলে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এরপর সরকার মাসে অতিরিক্ত কাজের সর্বোচ্চ সীমা ৪৫ ঘণ্টা নির্ধারণ করে। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই কঠোর কর্মনিষ্ঠার জন্য পরিচিত তাকাইচি গত বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বলেছিলেন, “আমি কাজ করব, কাজ করব, কাজ করব, কাজ করব এবং কাজ করব।”
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের সাফল্যের পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বার্তা দিয়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নেওয়ার পর আন্দোলন প্রত্যাহার করেছে সিজেপি। রবিবার (২৬ জুলাই) এক ভিডিও বার্তায় আন্দোলনের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান অভিজিৎ। নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে এক ভিডিওতে ৩০ বছর বয়সী দীপকে জানান, এখন তিনি অনেকটাই স্বস্তিতে আছেন। দীপকে বলেন, ‘‘এখন আমি নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারি। সকালে ঘুম থেকে উঠে আর ভাবতে হয় না, এরপর কী করব বা সন্ধ্যা পর্যন্ত কী ঘটবে।’’ ৩৭ দিনের আন্দোলনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘‘পুরো সময়টা সত্যিই খুব কঠিন ছিল’’। তবে এখন আর কোনও আতঙ্ক নেই বলেও জানান তিনি। ভিডিও বার্তায় সমর্থকদের উদ্দেশে দীপকে বলেন, ‘‘এই সাফল্যই শেষ নয়। এটা তো সবে শুরু। ককরোচ জনতা পার্টির এখনও অনেক দূর পথ পাড়ি দিতে হবে।’’ ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যের ব্যঙ্গাত্মক জবাব হিসেবে মে মাসে দীপকে সিজেপি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে তা দেশজুড়ে তরুণদের একটি বড় আন্দোলনে রূপ নেয়। রাজধানীর জন্তর মন্তরে হাজারো সমর্থক জড়ো হয়ে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যান। ভিডিও বার্তায় দীপকে আরও জানান, টাইফয়েড ও জ্বরে আক্রান্ত থাকায় আন্দোলনের শেষের দিন জন্তর মন্তরে উপস্থিত সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাতে পারেননি। তার ভাষ্য, ‘‘যারা ৩৭ দিন ধরে জন্তর মন্তরে ছিলেন, আপনাদের প্রত্যেককে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনারা দেশের জন্য যা করেছেন, আমি সত্যিই তার প্রশংসা করি।’’