নিউজিল্যান্ডের ছুঁড়ে দেওয়া ২৪৮ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ভালো অবস্থায় থেকেও ম্যাচ জয়ের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় হতাশ বাংলাদেশ ওপেনার সাইফ হাসান|
২১ রানে ২ উইকেট পতনের পর তৃতীয় উইকেটে সাইফ-লিটন দাস জুটিতে ৯৩ রানের সুবাদে দারুণভাবে লড়াইয়ে ছিল বাংলাদেশ| কিন্তু পরের দিকের ব্যাটাররা দায়িত্ব নিয়ে খেলতে না পারায় ২৬ রানে হারতে হয় টাইগারদের|
সাইফের মতে, উইকেটে সেট হওয়া ব্যাটারদের বড় ইনিংস খেলার পাশাপাশি ম্যাচ শেষ করে আসা উচিত ছিল| ম্যাচ শেষে সাইফ বলেন, ‘শুরু থেকেই উইকেট চ্যালেঞ্জিং ছিল| কিন্তু উইকেটে সেট হয়ে গেলে ব্যাট করা সহজ হয়ে যেত| নতুন ব্যাটারদের জন্য এটা কঠিন| আমি আরও কিছুক্ষণ থাকতে পারলে দলের জন্য কাজটা সহজ হয়ে যেত|’
স্ট্রাইক রোটেট করে খেলার প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন সাইফ| তিনি বলেন, ‘অবশ্যই উন্নতির আরও অনেক ক্ষেত্র আছে| উইকেট চ্যালেঞ্জিং ছিল, তবে আরও ভালো স্ট্রাইক রোটেশন করে খেললে আমাদের জন্য ভালো হতো|’
উইকেটের সাথে মানিয়ে নিতে ব্যাটাররা চেষ্টা করেছে বলে জানান সাইফ| তারপরও ব্যাটারদের ব্যর্থতার জন্য কোনো অজুহাত দিতে রাজি নন তিনি|
সাইফ বলেন, ‘আমরা পেশাদার ক্রিকেটার এবং ভিন্ন ভিন্ন অবস্থার সাথে মানিয়ে নিতে হবে| আমরা দীর্ঘ সময় ধরে লড়াইয়ে ছিলাম| কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময় উইকেট হারিয়ে পিছিয়ে পড়ি| ড্রেসিংরুম থেকে পরিষ্কার বার্তা ছিল| কিন্তু আমরা ঠিকঠাক নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারিনি|’
হার দিয়ে সিরিজ শুরু করলেও পরের ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা সাইফের| তিনি বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড খুবই ভালো দল| আমরা পরের ম্যাচেই আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করব|’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজ শেষ হওয়ার পরদিনই ঢাকায় আসবে পাকিস্তান দল। এই সফরে দুটি টেস্ট খেলবে তারা। ম্যাচ দুটি আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। বছরের শুরুতে দেশের মাঠে সারা বছরের যে সূচি ঘোষণা করেছিল বিসিবি, সেটি অনুযায়ী আগামী ৪ মে বাংলাদেশে আসার কথা ছিল পাকিস্তান দলের। তবে বিসিবি শুক্রবার রাতে জানায়, পাকিস্তানিরা চলে আসবে ৩ মে। কিউইদের বিপক্ষে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ হবে ২ মে। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ থেকে অভিজাত সংস্করণের সিরিজে যেতে খুব বেশি সময় পাবে না দল। ৮ মে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শুরু প্রথম টেস্ট। ১৬ মে থেকে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্ট। পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ম্যাচ দুটির তারিখ অপরিবর্তিত আছে। গত মাসেই বাংলাদেশে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলে গেছে পাকিস্তান। সেই সফরে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিও ছিল। তবে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) কারণে সফরটি ভাগ হয়ে যায়। টি-টোয়েন্টি সিরিজ কাটা পড়ে যায়। টেস্ট সিরিজটি হবে পিএসএলের পর। দুই দলের সবশেষ টেস্ট সিরিজে ২০২৪ সালে পাকিস্তানে গিয়ে তাদেরকে ২-০তে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। আগের ১৩ টেস্টের কেবল একটি ড্র হয়েছিল, বাকি সব জিতেছিল পাকিস্তান।
ব্যাটারদের ব্যর্থতায় হার দিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল| আজ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের কাছে ২৬ রানে হেরেছে বাংলাদেশ| নিউজিল্যান্ডের ছুঁড়ে দেওয়া ২৪৮ রানের টার্গেটে ২২১ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ| ফলে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ল টাইগাররা| মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ফিল্ডিংয়ে নামে স্বাগতিক বাংলাদেশ| টাইগারদের দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামের আঁটসাঁট বোলিংয়ে প্রথম ৬ ওভারে ১৬ রানের বেশি তুলতে পারেনি নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার হেনরি নিকোলস ও নিক কেলি| সপ্তম ওভারে শরিফুলের হাত ধরে প্রথম উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ| ২৩ বলে ৭ রান করা কেলিকে বোল্ড করেন শরিফুল| দলীয় ২১ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর বড় জুটি গড়ার চেষ্টা করেন নিকোলস ও উইল ইয়ং| ৮৮ বলে ৭৩ রান যোগ করেন তারা| ২টি চারে ৩০ রান করা ইয়ংকে শিকার করে বাংলাদেশকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন স্পিনার রিশাদ হোসেন| ব্যক্তিগত ১ রানে শরিফুলের বলে সাইফ হাসানের হাতে জীবন পেয়েছিলেন ইয়ং| নতুন ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে এসে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম লাথাম| বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ২টি চারে ১৪ রান করেন লাথাম| তৃতীয় উইকেটে লাথামের সাথে ৩৩ রানের জুটি গড়ার পথে ওয়ানডেতে ১৭তম ও বাংলাদেশের বিপক্ষে পঞ্চম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান নিকোলস| হাফ-সেঞ্চুরির পর ইনিংস বড় করার চেষ্টায় বেশি দূর যেতে পারেননি নিকোলস| উইকেটের পেছনে লিটন দাসকে ক্যাচ দিয়ে রিশাদের দ্বিতীয় শিকার হন তিনি| ৯টি চারে ৮৩ বলে ৬৮ রান করেন নিকোলস| দলীয় ১৩১ রানে চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে নিকোলস ফেরার পর সতীর্থদের নিয়ে ছোট-ছোট জুটিতে নিউজিল্যান্ডের রান দুইশ পার করেন আড়াই বছর পর এই মিরপুরেই ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামা ডিন ফক্সক্রফট| পঞ্চম উইকেটে মুহাম্মদ আব্বাসের সাথে ৪৭ বলে ৩৪, ষষ্ঠ উইকেটে জশ ক্লার্কসনকে নিয়ে ৩৪ বলে ২৭ এবং নাথান স্মিথের সাথে ৩২ বলে ৩৪ রান দলের স্কোরে জমা করেন ফক্সক্রফট| সতীর্থদের সাথে জুটি গড়ার পথে ওয়ানডেতে প্রথম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান ফক্সক্রফট| ৪৭তম ওভারের চতুর্থ বলে বাংলাদেশ পেসার নাহিদ রানার প্রথম শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি| বোল্ড আউট হবার আগে ৮টি বাউন্ডারিতে ৫৮ বলে ৫৯ রান করেন ফক্সক্রফট| দলীয় ২২৬ রানে সপ্তম ব্যাটার হিসেবে ফক্সক্রফট আউটের পর নিউজিল্যান্ডকে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৪৭ রানের সংগ্রহ এনে দেন নাথান স্মিথ| ২২ বলে ২১ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি| ১০ ওভার করে বল করে বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন ৫০ রানে, শরিফুল ২৭ রানে, রিশাদ ৪৪ রানে ২টি করে উইকেট নেন| মিরাজ ও রানা ১টি করে উইকেট শিকার করেন| ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩ ওভারে ২১ রান তুলে বিচ্ছিন্ন হন বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান| চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে নিউজিল্যান্ড পেসার নাথান স্মিথের বলে বোল্ড হন ২ রান করা তানজিদ| এরপর ক্রিজে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত| স্মিথের প্রথম ডেলিভারিতেই বোল্ড হন শান্ত| ডাক মেরে সাজঘরে ফেরেন তিনি| ২১ রানে ২ উইকেট পতনের পর বাংলাদেশকে লড়াইয়ের ভিত গড়ে দেন সাইফ ও উইকেটরক্ষক লিটন দাস| ১১৬ বলে ৯৩ রানের জুটি গড়েন তারা| এই জুটিতেই ওয়ানডেতে দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ পান সাইফ| ২৩তম ওভারে সাইফ-লিটনের জমে যাওয়া জুটি ভাঙেন নিউজিল্যান্ড পেসার উইল ও’রুর্ক| ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় ৭৬ বলে ৫৭ রান করেন সাইফ| সাইফ ফেরার কিছুক্ষণ পর সাজঘরের পথ ধরেন লিটনও| হাফ-সেঞ্চুরির সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি| ৩ বাউন্ডারিতে ৪৬ রান করেন লিটন| ১৩২ রানে চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে লিটনকে হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ| দলকে চাপমুক্ত করতে জুটি গড়ার চেষ্টায় সফল তাওহিদ হৃদয় ও আফিফ হোসেন| ৫২ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন তারা| নিউজিল্যান্ড স্পিনার জেডেন লেনক্সের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে লং-অনে ক্যাচ দেন আফিফ| চার-ছক্কা ছাড়া ইনিংসে ৪৯ বলে ২৭ রান করেন তিনি| আফিফ যখন ফেরেন তখন ৫ উইকেট হাতে নিয়ে ৫৭ বলে ৬৪ রান দরকার পড়ে বাংলাদেশের| এরপর নিউজিল্যান্ড পেসার ব্লেয়ার টিকনার ৪ উইকেট তুলে নিলে হারের মুখে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ| অধিনায়ক মিরাজ ১৪ বলে ৬, রিশাদ ৯ বলে ৪, শরিফুল ১ বলে শূন্য এবং তাসকিন ৫ বলে ২ রানে টিকনারের শিকার হন| সতীর্থদের ব্যর্থতার মাঝেও এক প্রান্ত আগলে বাংলাদেশের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখেন হৃদয়| কিন্তু ৪৯তম ওভারে স্মিথের তৃতীয় বলে শেষ ব্যাটার হিসেবে হৃদয় আউট হলে ২২১ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ| ১২তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে ৬০ বলে ৫৫ রানে আউট হন ২টি করে চার-ছক্কা মারা হৃদয়| নিউজিল্যান্ডের টিকনার ১০ ওভারে ৪০ রানে ৪ উইকেট নেন| স্মিথের নেন ৩ উইকেট| সংক্ষিপ্ত স্কোর : নিউজিল্যান্ড : ২৪৭/৮, ৫০ ওভার (নিকোলস ৬৮, ফক্সক্রফট ৫৯, শরিফুল ২/২৭, রিশাদ ২/৪৪)| বাংলাদেশ : ২২১/১০, ৪৮.৩ ওভার (সাইফ ৫৭, হৃদয় ৫৫, টিকনার ৪/৪০)| ফল : নিউজিল্যান্ড ২৬ রানে জয়ী| সিরিজ : তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নিউজিল্যান্ড|
আরও এক প্রবাসী ফুটবলার যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ফুটবলে। এবার নতুন নাম হিসেবে যুক্ত হলেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ট্রেভর ইসলাম। গত ফেব্রুয়ারিতে তার জন্মনিবন্ধন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাফুফে সহসভাপতি ফাহাদ করিম। পাসপোর্ট করা সময়ের ব্যাপার হলেও এ বছর তার খেলা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্র ট্রেভর। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এনসিএএ ডিভিশন-১ লিগে নিয়মিত খেলছেন। ২১ বছর বয়সী এই ফুটবলার সেন্টার ফরোয়ার্ড হলেও লেফট উইঙ্গার ও রাইট উইঙ্গার পজিশনেও খেলতে পারেন। বাংলাদেশ দলের আক্রমণভাগের দুর্বলতা কাটাতে তাই তিনি হতে পারেন অন্যতম ভরসা। নিজের ফেসবুক পেজে ফাহাদ করিম বলেন, ‘আমার এখনও মনে আছে ১২ ডিসেম্বর ট্রেভর আমার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন তখন থেকে নিয়মিত আমার সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে। গত রাতেও তার সঙ্গে আমার হোয়াটসঅ্যাপে কথাবার্তা হয়েছে এবং আমরা তার সম্মতি নিয়ে ডিসেম্বর থেকে তার ডকুমেন্টেশনের কাজ শুরু করি। ১৮ ফেব্রুয়ারি তার জন্মনিবন্ধন এবং যাদের যাদের প্রয়োজন, সকল জন্মনিবন্ধনগুলো আমরা তৈরি করি।’ ট্রেভরের প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও পাসপোর্ট তৈরির কাজ চলছে, যা আগামী মে মাসের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে। জাতীয় দলের জার্সিতে তার খেলা নিয়ে ফাহাদ করিম বলেন, ‘তার জন্য এই বছর খেলা খুবই কঠিন। পড়াশোনার প্রতি তার যে কমিটমেন্ট এবং এনসিএএ লিগ মানে ডি ওয়ান যেটাকে বলে, সেখানে সে নিয়মিত খেলে। বিশ্ববিদ্যালয় দলের প্রতি তার একটা কমিটমেন্ট আছে। তাই জুন উইন্ডোতে পাব না। সেপ্টেম্বর উইন্ডো বেশ কঠিন। নভেম্বর উইন্ডো নিয়ে একটু আশাবাদী। হয়তোবা নভেম্বরে সে আসতে পারে। তবে আগামী বছর অবশ্যই তাকে পাব।’