অন্যান্য

জনগণকে অপমান করে ভুল পথে সরকার: বিরোধীদলীয় নেতা

মারিয়া রহমান এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করে সরকার জনগণকে অপমান করে ভুল পথে এগোচ্ছে বলে মনে করেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও গণভোট বৃথা যায়নি দাবি করে জামায়াতে ইসলামীর আমির সরকারের উদ্দেশ্যে বলেছেন, জাতি মনে করে আপনারা ভুলে নিমজ্জিত। ভুল থেকে বের হয়ে আসুন।

শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে ‘জেলা ও মহানগর আমির সম্মেলন’ এসব কথা বলেছেন শফিকুর রহমান। 


সম্মেলনে দলের নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং ৭৯ সাংগঠনিক জেলা ও মহানগরের আমির-সেক্রেটারিরা উপস্থিত ছিলেন।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য সরকারকে দায়ী করে শফিকুর রহমান বলেছেন, জ্বালানি সংকটে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও চাঁদার চাপে দাম বাড়ছে। বিদ্যুত সংকট, সার সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে আলোচনা সরকারের পছন্দ নয়, শুধু লুকোচুরি করছে। আমাদের আহ্বান, আসুন খোলামনে আলোচনা করে জাতীয় সংকট উত্তরণে কাজ করি। এ দেশটা সবার।


গণভোট, গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ, বিচার বিভাগ সচিবালয়, দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো অধ্যাদেশ সংসদ পাস না করায় সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, দেশকে আবার ফ্যাসিবাদের দিকে নেওয়া হয়েছে।

গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে অভিযোগ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, ক্রিকেট বোর্ডকেও দলীয়করণ করা হয়েছে। প্রশাসনের দক্ষ কর্মচারীদের ওএসডি করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চোখের পলকে বিদায়! দুদক থেকে কর্মকর্তারা পদত্যাগ করেছেন! মানবাধিকার কমিশন থেকে পদত্যাগ করে খোলা চিঠি দিচ্ছেন! বিচারকদের ওপর হস্তক্ষেপ করে ২৮ জনকে শোকজ করা হয়েছে, অথচ বলা হচ্ছে বিচারকরা স্বাধীন! বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিল করায় আবার খায়রুল হক, শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের মতো বিচারপতি তৈরি হবে।

বিরোদলীয় নেতা অভিযোগ করেছেন, বিএনপি হয়ত ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালাতে চায়। তিনি বলেছেন, আবার কি আয়নাঘর তৈরি হবে? নইলে গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাদ দেবে কেন? দুদকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ মুক্ত নিয়োগের অধ্যাদেশ বাতিল করা হলো! পুলিশে অনেক সংস্কার প্রয়োজন। পুলিশও বৈষম্যের শিকার। কিন্তু পুলিশ কমিশন বাদ দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুট হয়ে বিদেশে পাচার হয়েছে। এর শাস্তি না দিয়ে এখন ব্যাংকের উপর থাবা শুরু হয়েছে। ব্যাংকের মালিক জনগণ, কোনো দল নয়। সবাইকে পাহারাদারের ভূমিকা পালন করতে হবে, গর্জে উঠতে হবে। আমানত রক্ষা করতে হবে। এতে জনগণের সঙ্গে থাকবে জামায়াত। অধিকার কেউ ঘরে এনে দেবে না। আপনারা হয়ত বলবেন, আর কত ত্যাগ? হ্যাঁ, ত্যাগের রাস্তায় আমাদের চলতে হবে এবং কালোরাতের অবসান ঘটবে।

গণভোট নিয়ে প্রতারণা ও ধোঁকাবাজির রাজনীতিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেন জানিয়ে জামায়াত আমির বলেছেন, ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান প্রথম যে গণভোট করেন, তা সংবিধানে ছিল না। ২০২৬ সালের গণভোটও সংবিধানে ছিল না। কিন্তু প্রথমটা যদি জায়েজ হয়, তাহলে এটা জায়েজ হবে না কেন? এখন বলছে 'ফ্যাক্টাম ভ্যালেট'।

অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেছেন, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। ব্যাপক ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টার মুখ থেকে তা বের হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্যের বরাত দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, অভ্যুত্থানে যুবসমাজ ছিল, জামায়াতও ছিল। কিন্তু অধ্যাপক ইউনূস যুক্তরাজ্যে গিয়ে ক্যাপ্টেনের হাতে ট্রফি তুলে দিয়ে এসেছেন। ট্রফি যদি তুলে দেয়া হয়, তাহলে নির্বাচনের প্রয়োজন কী ছিল?

অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এড়াতে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছিলেন জানিয়ে জামায়াত আমির সরকারকে সতর্ক করে বলেন, এই নির্বাচন শেষ নির্বাচন নয়। অতীতে যারা বোঝাপড়া করে পিছনের দরজায় ক্ষমতায় গিয়েছিলেন, তারা পরিণতি বহন করে বিদায় হয়েছে।

সরকারের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, চুরানব্বইয়ে হয়েছিল মাগুরা, ছাব্বিশে বগুড়া।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
জনগণকে অপমান করে ভুল পথে সরকার: বিরোধীদলীয় নেতা

গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করে সরকার জনগণকে অপমান করে ভুল পথে এগোচ্ছে বলে মনে করেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও গণভোট বৃথা যায়নি দাবি করে জামায়াতে ইসলামীর আমির সরকারের উদ্দেশ্যে বলেছেন, জাতি মনে করে আপনারা ভুলে নিমজ্জিত। ভুল থেকে বের হয়ে আসুন। শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে ‘জেলা ও মহানগর আমির সম্মেলন’ এসব কথা বলেছেন শফিকুর রহমান।  সম্মেলনে দলের নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং ৭৯ সাংগঠনিক জেলা ও মহানগরের আমির-সেক্রেটারিরা উপস্থিত ছিলেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য সরকারকে দায়ী করে শফিকুর রহমান বলেছেন, জ্বালানি সংকটে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও চাঁদার চাপে দাম বাড়ছে। বিদ্যুত সংকট, সার সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে আলোচনা সরকারের পছন্দ নয়, শুধু লুকোচুরি করছে। আমাদের আহ্বান, আসুন খোলামনে আলোচনা করে জাতীয় সংকট উত্তরণে কাজ করি। এ দেশটা সবার। গণভোট, গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ, বিচার বিভাগ সচিবালয়, দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো অধ্যাদেশ সংসদ পাস না করায় সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, দেশকে আবার ফ্যাসিবাদের দিকে নেওয়া হয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে অভিযোগ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, ক্রিকেট বোর্ডকেও দলীয়করণ করা হয়েছে। প্রশাসনের দক্ষ কর্মচারীদের ওএসডি করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চোখের পলকে বিদায়! দুদক থেকে কর্মকর্তারা পদত্যাগ করেছেন! মানবাধিকার কমিশন থেকে পদত্যাগ করে খোলা চিঠি দিচ্ছেন! বিচারকদের ওপর হস্তক্ষেপ করে ২৮ জনকে শোকজ করা হয়েছে, অথচ বলা হচ্ছে বিচারকরা স্বাধীন! বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিল করায় আবার খায়রুল হক, শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের মতো বিচারপতি তৈরি হবে। বিরোদলীয় নেতা অভিযোগ করেছেন, বিএনপি হয়ত ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালাতে চায়। তিনি বলেছেন, আবার কি আয়নাঘর তৈরি হবে? নইলে গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাদ দেবে কেন? দুদকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ মুক্ত নিয়োগের অধ্যাদেশ বাতিল করা হলো! পুলিশে অনেক সংস্কার প্রয়োজন। পুলিশও বৈষম্যের শিকার। কিন্তু পুলিশ কমিশন বাদ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুট হয়ে বিদেশে পাচার হয়েছে। এর শাস্তি না দিয়ে এখন ব্যাংকের উপর থাবা শুরু হয়েছে। ব্যাংকের মালিক জনগণ, কোনো দল নয়। সবাইকে পাহারাদারের ভূমিকা পালন করতে হবে, গর্জে উঠতে হবে। আমানত রক্ষা করতে হবে। এতে জনগণের সঙ্গে থাকবে জামায়াত। অধিকার কেউ ঘরে এনে দেবে না। আপনারা হয়ত বলবেন, আর কত ত্যাগ? হ্যাঁ, ত্যাগের রাস্তায় আমাদের চলতে হবে এবং কালোরাতের অবসান ঘটবে। গণভোট নিয়ে প্রতারণা ও ধোঁকাবাজির রাজনীতিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেন জানিয়ে জামায়াত আমির বলেছেন, ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান প্রথম যে গণভোট করেন, তা সংবিধানে ছিল না। ২০২৬ সালের গণভোটও সংবিধানে ছিল না। কিন্তু প্রথমটা যদি জায়েজ হয়, তাহলে এটা জায়েজ হবে না কেন? এখন বলছে 'ফ্যাক্টাম ভ্যালেট'। অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেছেন, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। ব্যাপক ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টার মুখ থেকে তা বের হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্যের বরাত দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, অভ্যুত্থানে যুবসমাজ ছিল, জামায়াতও ছিল। কিন্তু অধ্যাপক ইউনূস যুক্তরাজ্যে গিয়ে ক্যাপ্টেনের হাতে ট্রফি তুলে দিয়ে এসেছেন। ট্রফি যদি তুলে দেয়া হয়, তাহলে নির্বাচনের প্রয়োজন কী ছিল? অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এড়াতে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছিলেন জানিয়ে জামায়াত আমির সরকারকে সতর্ক করে বলেন, এই নির্বাচন শেষ নির্বাচন নয়। অতীতে যারা বোঝাপড়া করে পিছনের দরজায় ক্ষমতায় গিয়েছিলেন, তারা পরিণতি বহন করে বিদায় হয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, চুরানব্বইয়ে হয়েছিল মাগুরা, ছাব্বিশে বগুড়া।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

নবী অবমাননায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি এমপি হানজালার

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। ছবি : সংগৃহীত

সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় স্থানান্তর মির্জা আব্বাস

ছবি : সংগৃহীত

এসএসসিতে নতুন নিয়ম, তাৎক্ষণিক ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’

ছবি : সংগৃহীত
প্রাথমিকে ৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় চলমান শিক্ষক সংকট নিরসনে বড় ধরনের নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।   বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে সিলেটের জালালাবাদ গ্যাস মিলনায়তনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, খুব শিগগিরই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ৩২ হাজার ৫০০টি প্রধান শিক্ষক পদের মামলা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগলেও, এ সময়ে পাঠদান স্বাভাবিক রাখতে অবসরপ্রাপ্ত দক্ষ শিক্ষকদের নিয়ে একটি ‘শিক্ষক পুল’ গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। এই পুল থেকে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের খণ্ডকালীনভাবে সংকটপূর্ণ বিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়া হবে। মন্ত্রী বলেন, এতে একদিকে অভিজ্ঞতার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি কমবে। তিনি আরও জানান, পাবলিক পরীক্ষার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার সমস্যা কমাতে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে আধুনিক ‘মাল্টিপারপাস পরীক্ষা কেন্দ্র’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের নিজ এলাকার স্কুলগুলো অনলাইনে পর্যবেক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং শুধু অবকাঠামো নয়— শিক্ষার আধুনিকায়ন ও নৈতিক মানোন্নয়ন নিশ্চিত করাও সরকারের অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন— আরিফুল হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য এমরান আহমেদ চৌধুরীসহ শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
ঢাকা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য কামাল হোসেন | ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

রাত ২টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাইনি, তেল শুধু সংসদে : এমপি কামাল

মাদারীপুর-১ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা।

নবীর অবমাননায় মৃত্যুদণ্ডের আইন দাবি এমপি হানজালার

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। ছবি : সংগৃহীত

শাপলা চত্বর মামলায় আসামি হতে পারেন সাবেক আইজিপি মামুন

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আজ বুধবার সিলেটে আয়োজিত আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে সিলেট অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।
প্রতিটি উপজেলায় মাল্টিপারপাস পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণ করবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, পাবলিক পরীক্ষার কারণে সাধারণ পাঠদান যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে আধুনিক ‘মাল্টিপারপাস পরীক্ষা কেন্দ্র’ নির্মাণ করবে সরকার। তিনি বলেন, ‘বিদ্যমান পরীক্ষা পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে মূল্যবান দু’টি বছর ঝরে যাচ্ছে, যা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অর্জনে বড় বাধা।’ আজ বুধবার সকালে জালালাবাদ গ্যাস মিলনায়তনে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আয়োজিত আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে সিলেট অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন বলেন, ‘মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার শিক্ষা খাতে জিডিপি’র ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। আমরা শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং শিক্ষার গুণগত মান ও সংস্কারে গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রতিটি ক্লাসরুমে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে যাতে পাঠদানের মান নিশ্চিত করা যায়। আমি সংসদ সদস্যদের অনুরোধ করব, আপনারা নিজ নিজ এলাকার স্কুলের সিসি ক্যামেরা কোড নিয়ে স্মার্টফোনের মাধ্যমেই তদারকি করুন।’ শিক্ষক সংকট ও নিয়োগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিকের ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক পদের মামলা জটিলতা নিরসনের চেষ্টা চলছে। খুব দ্রুতই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের নিয়ে একটি ‘পুল’ গঠন করা হচ্ছে, শিক্ষক সংকট থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদেরকে পার্ট-টাইম শিক্ষক হিসেবে কাজে লাগানো হবে।’ নকলের বর্তমান ধরণ সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘এখন আর আগের মতো সনাতন পদ্ধতিতে নকল হয় না, এখন ডিজিটাল নকলের ভ্যারিয়েন্ট এসেছে। শিক্ষক যদি ক্লাসে না পড়ান, তবেই শিক্ষার্থীরা নকলের আশ্রয় নেয়। তাই মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমেই এই ব্যাধি দূর করতে হবে।’ এ সময় মন্ত্রী পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে শিক্ষকদের আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান। শিক্ষামন্ত্রী জানান, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক প্রশস্তকরণে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া কারিগরি শিক্ষার প্রসার ও নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারলে বিদেশে কর্মসংস্থান আরও বৃদ্ধি পাবে। তিনি সিলেট অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, সিলেট জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিঞা মো. নুরুল হক, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। এছাড়া অনুষ্ঠানে সিলেট অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবসহ শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

হাদি হত্যা মামলায় অস্ত্র বিক্রেতা হেলাল গ্রেপ্তার ৩ দিনের রিমান্ডে

ছবি : সংগৃহীত

সাভারে বিএনপি অফিসে হামলা ও গুলিবর্ষণ

ছবি : সংগৃহীত

আজ সারা দেশে শুরু প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা

0 Comments