চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা ধরার অপরাধে ২২ জেলেকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা, একজন অসুস্থ হওয়ায় ৫০০ টাকা জরিমানা এবং বাকি ছয়জন অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
শুক্রবার এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হুদা।
আটক জেলেদের কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।
দণ্ডপ্রাপ্ত জেলেরা হলেন– মো. ইউনুস, শামীম পাটোয়ারী, রিপন খান, হোসাইন হাওলানাদর, মো. রাকিব, আব্দুল করিম, ঈমান হাওলাদার, দুধু মাঝি, আনসার খান, দলিল মিজি, শাহীন হাওলাদার, হাসান হাওলাদার, হাবিব জমাদার, আবুল কাশেম, হারুন জামাদার, শাহজাহান পাটোয়ারী।
তাদের বাড়ি চাঁদপুর শহরের পুরান বাজার, দোকানঘর, সদরের বহরিয়া, লক্ষ্মীপুর ও ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে।
সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত সদরের অভয়াশ্রম এলাকায় মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। এ সময় জাটকা ধরার অপরাধে ২২ জেলেকে আটক করা হয়। একই সময় পাঁচটি মশারি জাল ও পাঁচটি মাছ ধরার নৌকা জব্দ করা হয়।
তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক জেলেকে তিন মাসের কারাদণ্ড, তিনজনকে ২১ দিন করে কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, একজনকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জেলেদের একজন ক্যান্সারের রোগী হওয়ায় তাঁকে ৫০০ টাকা জরিমানা এবং ১০ জনকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি ছয়জন অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমকে গণসংবর্ধনা দিয়েছে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপি। শুক্রবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগের উদাহরণ আমাদের চোখের সামনে আছে। অন্যায় অবিচার, লুটপাট, সন্ত্রাস করলে কী হয়, ফল তো দেখছেন। ছয়বারের এমপিকে ঘর থেকে বের হতে দেয়নি। তিনি ছাত্র সমাজকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা মাফিয়া সরকারকে বিদায় করে বাংলাদেশের উন্নয়নের পথকে সুগম করেছে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে স্পিকার বলেন, ‘দলবাজি আর করবেন না। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কাউকে হয়রানি করবেন না। জামায়াতে ইসলামী ভদ্র লোকের দল– সংসদে তারা খুব ভালো ব্যবহার করে। এক সময় আমাদেরই মিত্র দল ছিল। তাদের অনুরোধ করব, আপনারা আর বিএনপি মিলেমিশে চলবেন। যারা মাফিয়া সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ছিল, তারা যেন ঐক্য আর না ভাঙে। ঐক্য ভাঙলে, আবার ভারত থেকে চলে আসবে দাদারা। তারা এসে এদেশে আবার আগের মতো লুণ্ঠনের রাজ্য কায়েম করতে চাইবে। আমরা আর এ ধরনের বাংলাদেশ দেখতে চাই না– যেখানে মানুষ গুম হবে, মানুষ ভয়ে থাকবে, আতঙ্কে ঘুমাতে পারবে না। এ অবস্থার অবসান চাই।’ ক্ষমতাসীন দল বিএনপির দায়িত্ব অনেক বেশি উল্লেখ করে স্পিকার আরও বলেন, জনগণকে আশ্বস্ত করতে হবে– এটা আওয়ামী লীগ না। আমরা সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করব না। আগামী দিনে স্থানীয় সরকার বা যে কোনো নির্বাচন হবে, সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা আমরা করব, যাতে আপনার সঠিকভাবে ভোট দিতে পারেন। অনুষ্ঠানে তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টু, ভোলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাছেত, উপজেলা বিএনপি নেতা হাসান মাকসুদুর রহমান, জাকির হোসন হাওলাদারসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। সভায় উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পিকারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এতে রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সিলেটে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল না পেয়ে পরিবহন চালকসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ভোর থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি না পেয়ে বিপাকে পড়েন যানবাহনের চালক ও মোটরসাইকেল আরোহীরা। সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর অধিকাংশ পাম্পে ‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড টাঙানো। ফলে পরিবহন খাতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। জরুরি প্রয়োজনে গাড়ি নিয়ে বের হওয়া মানুষজন পড়ছেন বিপাকে। চালকদের অভিযোগ, তেলের অভাবে তারা ঠিকমতো গাড়ি চালাতে পারছেন না, এতে আয় বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না। আম্বরখানা এলাকার মাইক্রোচালক জাহিদ মিয়া জানান, সকাল থেকে বিভিন্ন পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়েও পেট্রোল পাননি। কাজ না থাকায় আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। নগরীর বাগবাড়ির বাসিন্দা আবুল কাসেম বলেন, অকটেন সংকটে তার প্রাইভেটকারের জ্বালানি শেষ হয়ে গেছে। তিনি ১৫ থেকে ২০টি পাম্প ঘুরেও কোথাও তেল পাননি। কবে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। মেজরটিলা এলাকার সেলিনা বেগম বলেন, হঠাৎ এই সংকটে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। লামাবাজারের ব্যবসায়ী নাসিম হোসেন জানান, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এই সংকট তৈরি হওয়ায় তারা প্রস্তুত থাকতে পারেননি। জ্বালানি না পাওয়ায় তার দৈনন্দিন কাজ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করেন, তারা প্রায় ২০টি পাম্প ঘুরেও কোথাও পেট্রোল, অকটেন বা ডিজেল পাননি। পাঠানটুলা, আম্বরখানা ও চৌকিদেখি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পাম্পগুলোও বন্ধ ছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতারা জানান, নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি পাম্পে দৈনিক মাত্র ২০০০ লিটার তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। এছাড়া অল্প পরিমাণ তেল পরিবহনে খরচ বেশি হওয়ায় অনেক পাম্প মালিক তেল নিতে আগ্রহী নন, ফলে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে একসঙ্গে কয়েক দিনের তেল সরবরাহের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। তারা আরও জানান, তেল মজুত বা সিন্ডিকেটের সুযোগ নেই, কারণ প্রতিটি পাম্পে সরকারি নজরদারি রয়েছে এবং নিয়মিত স্টক হিসাব রাখা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে জ্বালানির ঘাটতি নেই। বরং আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। পাম্প মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে সরবরাহে শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা চলছে এবং খুব শিগগির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও দিগপাইত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কৃষিবিদ জিয়াউল হক জিয়া কারাবন্দি অবস্থায় মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্নও উঠেছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ শফিউল আলম। তিনি জানান, এর আগে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জিয়াউল হক জিয়া। জানা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় গত ১৫ জানুয়ারি গ্রেপ্তার হয়ে জামালপুর জেলা কারাগারে ছিলেন তিনি। কারা সূত্রে জানা গেছে, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন জিয়াউল হক জিয়া। মঙ্গলবার দুপুরে খাবার গ্রহণের পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য Mymensingh Medical College Hospital-এ স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জেল সুপার মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, “দুপুরের খাবারের পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল ও পরবর্তীতে ময়মনসিংহে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।” এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ না এলেও, তার মৃত্যু ঘিরে স্থানীয় মহলে আলোচনা চলছে।