অন্যান্য

রমজানের শিক্ষা

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬

রোজা ফারসি শব্দ। আরবি ভাষায় শব্দটিকে ‘সাওম’ বলা হয়। সাওম শব্দের বহুবচন ‘সিয়াম’। আরবি সাওম শব্দের বাংলা আভিধানিক অর্থ বিরত থাকা, পানাহার পরিহার, উপবাস থাকা ইত্যাদি। আমাদের দেশে রোজা শব্দটি বহুল প্রচলিত। হজরত মুহাম্মদ (সা.) প্রচারিত পবিত্র ইসলাম ধর্ম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত। এর মধ্যে রোজা মূল স্তম্ভের অন্যতম। আল্লাহ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নর ও নারীর জন্য রোজা পালন ফরজ ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হলো, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যেন তোমরা মোত্তাকি হতে পারো’ (সুরা আল বাকারা-১৮৩)। সব নবী-রসুলের যুগে রোজার বিধান প্রচলন ছিল। রসুল (সা.) বলেন, ‘হজরত নুহ (আ.) ঈদুল ফিতরের দিন এবং ঈদুল আজহার দিন ছাড়া সারা বছর সিয়াম পালন করতেন’ (ইবনে মাজাহ, পৃষ্ঠা ১২৩)। হাদিসে বর্ণিত আছে, আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেন, ‘তুমি হজরত দাউদ (আ.)-এর সাওম পালন কর, যা আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম। তিনি একদিন সাওম পালন করতেন এবং পরের দিন বাদ দিতেন’ (মুসলিম শরিফ প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৬৭)। অতি প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন নবীর আমলে মুমিন বান্দাদের অন্তরের কলুষতা দূর করার জন্য রোজার বিধান চালু ছিল। ইসলাম ধর্মে অনুসারীদের জন্য আল্লাহ রমজানের রোজা এক মাস ফরজ করেন। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে এ (রমজান) মাস পাবে, সে যেন এ মাসের রোজা রাখে’ (সুরা আল বাকারা-১৮৫)।

 

ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য সুবহে সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যাবতীয় পানাহার ও কামাচার হতে বিরত থাকাকে রোজা বলে। রোজা পালনের মাধ্যমে মানুষ লোভলালসা, হিংসাবিদ্বেষ, ক্রোধ-ক্ষোভ ও কাম-মানসিকতা পরিহারের মাধ্যমে আত্মিক দোষত্রুটি সংশোধন করে পরিশুদ্ধ হতে পারে। রোজা একজন ব্যক্তি ও তার মন্দ কাজের মাঝে ঢালস্বরূপ। রসুল (সা.)-এর ফরমান, ‘রোজা হচ্ছে ঢালস্বরূপ’ (বোখারি প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৫৪)। রোজা আমাদের আত্মশুদ্ধির প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। রোজা পালনের মাধ্যমে যারা আত্মশুদ্ধি লাভ করে, আদর্শ চরিত্রের অধিকারী হতে পারেন, তারাই সফলতা অর্জন করে থাকে। হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ্ বলেন, ‘রোজা আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব’ (আর প্রতিদান হলো মহান আল্লাহ নিজেই) (বোখারি প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৫৪)। রোজা মানুষের আমিত্বকে দূর করে আল্লাহর চরিত্রে চরিত্রবান হওয়ার শিক্ষা দেয়। রোজার মাধ্যমে আল্লাহকে পাওয়ার অর্থ হলো নিজের মাঝে আল্লাহর চরিত্র বিকশিত হওয়া। অন্তরের পাপকালিমা বিদূরিত করে হৃদয় মাঝে বিরাজমান আল্লাহর সুপ্ত নুর বিকশিত করার লক্ষ্যে শুদ্ধভাবে রোজা পালনের গুরুত্ব অপরিসীম।

 

আল্লাহ রোজার মাধ্যমে বান্দাকে পরিশুদ্ধ করতে চান এবং পুরস্কার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা রোজা রাখো; তবে তা হবে তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণকর; যদি তোমরা তা বুঝতে’ (সুরা আল বাকারা-১৮৪)। আল্লাহর রসুল (সা.) রোজার ফজিলত সম্পর্কে বলেন, ‘আদম সন্তানের প্রতিটি নেক আমল ১০ থেকে ৭০০’ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। এরপর আল্লাহ যতদূর ইচ্ছা করেন। আল্লাহ বলেন, ‘তার সিয়াম, তা আমার জন্য; আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব। সে প্রবৃত্তি এবং পানাহার আমার জন্যই বর্জন করে।’ সিয়াম পালনকারীর জন্য রয়েছে দুটি আনন্দ। একটি আনন্দ তার ইফতারের সময় এবং অন্য আনন্দটি হচ্ছে তার প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়। সিয়াম পালনকারীর মুখের ঘ্রাণ আল্লাহর কাছে মিশকের ঘ্রাণ অপেক্ষা অধিক সুগন্ধিময় (সুনানু ইবনে মাজাহ, পৃষ্ঠা ১১৮)। রসুল (সা.) বলেন, ‘জান্নাতের একটি দরজার নাম “রায়্যান”। কিয়ামতের দিন সেখান থেকে এ বলে আহ্বান করা হবে; সাওম পালনকারীগণ কোথায়? যে ব্যক্তি সাওম পালনকারী হবে, সে ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে এবং যে ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে, সে কখনো পিপাসার্ত হবে না’ (সুনানু ইবনে মাজাহ্, পৃষ্ঠা ১১৮)। রোজার সামাজিক গুরুত্বও অপরিসীম। রোজা পালনের মাধ্যমে রোজাদার ব্যক্তি ক্ষুধার যন্ত্রণা উপলব্ধি করতে পারে, ফলে তার মধ্যে গরিব-দুঃখী মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। রোজা পালনকারী ব্যক্তি অন্যায়-অশ্লীল কথাবার্তা পরিহার করে চলে এবং হানাহানি থেকে দূরে থাকে। ফলে সমাজে শান্তি বিরাজ করে। এ ছাড়া আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় একে অন্যকে সাহরি ও ইফতার করিয়ে থাকে এবং অভাবীকে আর্থিক সহযোগিতা করে থাকে। এভাবে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক বন্ধন আরও মজবুত ও শক্তিশালী হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানও রোজা রাখার উপকারিতা স্বীকার করে নিয়েছে। মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা-তিনি যেন দয়া করে আমাদের হাকিকতে রোজা পালনের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করার তৌফিক দান করেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
মেঘমল্লার বসু
সংকটাপন্ন মেঘমল্লার বসু লাইফ সাপোর্টে

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সাবেক সভাপতি ও ন্যাশনাল পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য মেঘমল্লার বসুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে।   শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হওয়ায় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।       বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার থেকেই মেঘমল্লার বসুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় শুরুতে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তবে বুধবার সন্ধ্যা থেকে তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তে তাকে আইসিইউ থেকে লাইফ সাপোর্টে স্থানান্তর করা হয়।       হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ সেবন করায় তার শরীরে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকরা তার শারীরিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।     এর আগে গত সোমবার রাতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকা থেকে মেঘমল্লার বসুকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেন তার পরিচিত ব্যক্তিরা। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসকরা তার পাকস্থলী পরিষ্কার (স্টমাক ওয়াশ) করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউ এবং পরবর্তীতে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত।

বাঁধনের ওপর হামলা নিন্দনীয় ও ঘৃণ্য অপরাধ: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত

দেশের সব মাদ্রাসায় জরুরি নির্দেশনা

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

আওয়ামী লীগের বিচার আটকেছে জামায়াতের ক্ষমা ঘোষণায়: রাশেদ খাঁন

ছবি: সংগৃহীত
ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে বারবার চক্রান্ত হয়েছে: রিজভী

নানা ধরনের অপশক্তি ও চক্রান্তকারীরা দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি বারবার নষ্ট করার চেষ্টা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।   তিনি বলেন, ‘আমাদের এই অটুট বন্ধন যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে, আমরা একে অপরের পূজা-পার্বণে অংশগ্রহণ করি।’   মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্যদের নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।   রুহুল কবির রিজভী বলেন, ধর্মীয় বিষয়গুলো দেখার জন্য এসব ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সকলের স্থান নিশ্চিত করেছে এবং তা প্রতিষ্ঠিত করেছে জিয়াউর রহমান।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভোটার এলাকা বদলালেন আসিফ মাহমুদ

ছবি: সংগৃহীত

কালো আইন’ গুমকারীদের দায়মুক্তি দেবে: মীর আহমাদ বিন কাসেম

ছবি: সংগৃহীত

গাজী নজরুলকে নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্ক

ছবি: সংগৃহীত
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন নিয়ে তড়িঘড়ির অভিযোগ মামুনুল হকের

জীবনকালীন ভোগাধিকার রেখে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিধানসংবলিত ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (সংশোধন) আইন, ২০২৬ শরিয়াহর আলোকে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।   সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে সংসদে তড়িঘড়ি করে এ আইন পাস করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এ দাবি জানান।   মামুনুল হক বলেন, ‘সংসদে সদ্য পাস হওয়া আইনটির কয়েকটি ধারা ইসলামের হেবা ও ফারায়েজ–সংক্রান্ত বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। জীবনকালীন ভোগাধিকার রেখে সম্পত্তি হস্তান্তরের এই নতুন বিধানটি শরিয়াহর আলোকে পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।’   মামুনুল হক বলেন, ‘বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন হলেও সে জন্য এমন কোনো বিধান করা উচিত নয়, যা শরিয়াহ নির্ধারিত উত্তরাধিকার ও হেবার নীতিকে পাশ কাটানোর সুযোগ সৃষ্টি করে। তার মতে, জীবিত অবস্থায় হেবা এবং মৃত্যুর পর ফারায়েজ অনুযায়ী সম্পত্তি বণ্টন দুটি পৃথক বিষয়। নতুন আইন যেন কোনো ওয়ারিশকে তার শরিয়াহ নির্ধারিত অধিকার থেকে বঞ্চিত করার হাতিয়ার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’   তিনি দাবি করেন, ‘ইসলামে হেবার ক্ষেত্রে মালিকানা হস্তান্তরের পাশাপাশি সম্পত্তির বাস্তব দখল ও কর্তৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু নতুন আইনে সরকার বলছে সাধারণ হেবা বা মুসলিম আইনের হেবাকে প্রভাবিত করবে না। প্রশ্ন হলো-বাস্তবে এই আইন কি হেবার শরয়ী কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে সম্পত্তির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণের একটি নতুন ব্যবস্থা তৈরি করছে না? বিশেষ করে দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় ভোগ ও নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে রেখে যদি নির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করেন, তাহলে প্রকৃত কবয, পূর্ণ মালিকানা এবং হস্তান্তরের চূড়ান্ততা নিয়ে গুরুতর শরয়ী প্রশ্ন সৃষ্টি হয়।’   খেলাফত মজলিসের আমির আরও বলেন, ‘হেবার নামে নির্দিষ্ট কোনো উত্তরাধিকারীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে তা ইসলামের উত্তরাধিকার ব্যবস্থার ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হতে পারে।   তিনি অভিযোগ করেন, শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার দাবি থাকলেও বিলটি দ্রুত পাস করা হয়েছে।’   তিনি বলেন, ‘বিএনপি তাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গীকারে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা সমুন্নত রাখা এবং মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপির পক্ষ থেকে ইসলামবিরোধী কোনো আইন না করার অঙ্গীকারের কথাও বলা হয়েছে। তাহলে ইসলামের হেবা ও ফারায়েজের মতো সুস্পষ্ট শরিয়াহ বিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি আইন এত দ্রুত পাস করা হলো কেন?’   মামুনুল হক আইনটির ১২২-এ ও ১২২-বি ধারা পুনর্বিবেচনা করে আলেম, মুফতি, ফকীহ ও শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের আহ্বান জানান।   তিনি বলেন, ‘বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তবে তা করতে গিয়ে ইসলামের হেবা ও ফারায়েজ–সংক্রান্ত বিধানকে দুর্বল করা উচিত হবে না।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাধাহীন লংমার্চ, রাজনীতিতে সহনশীলতার ইঙ্গিত

ছবি: সংগৃহীত

১৪ বোয়িং কেনার চুক্তি জনসম্মুখে আনার দাবি, সরকারকে নোটিশ

ছবি: সংগৃহীত

বিরোধী দল হিসেবে ব্যর্থ বিএনপির নসিহত আমাদের লাগবে না: সারজিস আলম

0 Comments