সারাদেশ

প্রশাসনের মধ্যস্থতায় সুন্দরবনে স্বাভাবিক হলো পর্যটকবাহী নৌযান চলাচল

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ০৭, ২০২৬

সুন্দরবনে পর্যটকবাহী নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। প্রশাসনের আশ্বাসের পর নৌযান মালিকেরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন।

 

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি, মোংলা–রামপাল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রিফাতুল ইসলাম এবং মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুর রহমান নৌযান মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রয়োজনীয় আশ্বাস দেওয়ার পর ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে ডিজি শিপিংয়ের হয়রানির প্রতিবাদ ও প্রতিকার চেয়ে নৌযান মালিকেরা স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দেন।

স্মারকলিপির পর স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ডিজি শিপিং কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দেয়, ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অভিযান পরিচালনার আগে পূর্ব নোটিশ দেওয়া হবে এবং নৌযান মালিকদের হয়রানি করা হবে না। এসব আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতেই নৌযান মালিকেরা চলমান ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন।

মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, গত রোববার কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই ডিজি শিপিংয়ের কর্মকর্তারা মোংলার ফেরিঘাট এলাকায় অন্তত ৩০টি পর্যটনবাহী জালিবোটের ছাদ ভেঙে ও কেটে ফেলেন। এ সময় নৌযানের আসবাবপত্র জব্দ করা হয় এবং জরিমানা আরোপ করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার ভোর থেকে নৌযান মালিকেরা ধর্মঘট শুরু করেন।

 

তিনি আরও বলেন, হয়রানির প্রতিকার চেয়ে মঙ্গলবার প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ডিজি শিপিং কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে পূর্ব নোটিশ ছাড়া কোনো অভিযান না চালানোর আশ্বাস দেয়। এর পরই মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
সোহাগী জাহান তনু
তনু হত্যা: সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল। তারা হলেন, সাবেক সার্জেন্ট মো. জাহিদুজ্জামান (৪৮) ও সাবেক সৈনিক মো. শাহীন আলম (৩৭)। তনু হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অনুরোধে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি-ঢাকা) মাধ্যমে এই রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে এনসিবির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খন্দকার রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। পুলিশের ধারণা, জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলম বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। রেড নোটিশের বিষয়টি সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও কর্মকর্তারা জানান। তনু হত্যা মামলার তদন্তের একপর্যায়ে সাবেক তিন সেনাসদস্য সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহীন আলমের ডিএনএ প্রোফাইল ক্রসম্যাচের (মেলানোর) জন্য চলতি বছরের ৬ এপ্রিল আদালতের অনুমতি চান তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম। আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর গত জুনে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লার একটি আদালত জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমকে শনাক্ত করে গ্রেফতারের জন্য ইন্টারপোলের সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, তদন্তের অংশ হিসেবে জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। তবে দুজনই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে চলছেন বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। আদালতের আদেশের পর পিবিআই এনসিবি-ঢাকায় একটি অনুরোধ পাঠায় এবং ওই দুজনকে শনাক্ত করতে ইন্টারপোলের সহায়তা চায়। বাংলাদেশের জমা দেওয়া তথ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে ইন্টারপোল দুজনের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিশ জারি করে। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলম দুজনই কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের গাড়ঘাটা এলাকার জাহিদুজ্জামান কুমিল্লা সেনানিবাসের ১২ প্রকৌশলী ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। আর কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের শাহীন আলম সে সময় ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। পরে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যান। মামলার আরেক সন্দেহভাজন সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ৮ আগস্ট ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পিবিআই। এর আগে হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর ৪ আগস্ট কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন তিনি। পরে রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ওই জামিন ৯ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত করেন। একই সঙ্গে হাফিজুর রহমানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। আত্মসমর্পণ না করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন আদালত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করায় তাকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫-এর বিচারক তৈয়ব উদ্দিন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাসের অদূরে একটি জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। ওই রাতেই সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস সংলগ্ন ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তনুর বাবা ইয়ার আহম্মেদ কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ সময় সিআইডি এই মামলার তদন্ত করলেও কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। পরে ২০২০ সালে মামলার তদন্তভার পিবিআইকে দেওয়া হয়। পুলিশ সদরের নির্দেশে ওই বছরের অক্টোবরে পিবিআই মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব নেয়।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নানা অনিয়মে চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁয় ৬ লাখ টাকা জরিমানা

ছবি: সংগৃহীত

তনু হত্যা মামলায় দুই পলাতক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ

বাগেরহাটে বজ্রপাতে দুই ভাইয়ের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
১৪ বছর ধরে ইন্টারপোলে রেড নোটিস, তবুও দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেই সাজ্জাদকে

ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারির ১৪ বছর পরও চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদকে দেশে ফেরানো যায়নি।   আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, বিদেশে অবস্থান করেও তিনি অনুসারীদের মাধ্যমে চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছেন।   সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীদের বাড়িতে গুলি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও চাঁদা দাবির কয়েকটি ঘটনাতেও বড় সাজ্জাদের নাম এসেছে। এসব ঘটনায় তার অনুসারীদের জড়িত থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশ।   সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী ও ভবন মালিকদের কাছে মূর্তিয়মান আতঙ্ক হয়ে উঠেছেন এই বড় সাজ্জাদ। দেশ থেকে পাঠানো চাঁদাবাজির টাকায় বিদেশে তার বিলাসী জীবনের খবর আসছে। তারপরও তাকে ফেরানোর দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।   এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সাজ্জাদ নিজের নাম-পরিচয় গোপন করে বিদেশে অবস্থান করছেন। এ কারণে তাকে নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাজ্জাদ আলী খান ইন্টারপোলে ‘সাজ্জাদ হোসেন খান’ নামে রেড নোটিসভুক্ত। ২০১২ সালে বাংলাদেশ পুলিশের আবেদনের পর তার বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারি হয়।   ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের একজন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ২০১২ সালে সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিস জারি হওয়ার পর ২০১৩ সালে ভারত থেকে দুবাই যাওয়ার পথে স্থানীয় পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন সাজ্জাদ।   “বিষয়টি ওই সময় বাংলাদেশ পুলিশকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু সরকারিভাবে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় সাজ্জাদকে ফেরানো যায়নি। বিষয়টি নিয়ে ওই সময় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছিল।”   কয়েক বছর ভারতের কারাগারে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে যান সাজ্জাদ। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে সাজ্জাদ ভারতে অবস্থান করছেন মো. আব্দু্ল্লাহ নামে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে। সেখানে তার বাবার নাম দেওয়া হয়েছে হাজী শুক্কুর, মায়ের নাম দেওয়া হয়েছে হাজী জাহানারা বেগম। ঠিকানা লেখা হয়েছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা।   কে এই বড় সাজ্জাদ? চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন চালিতাতলী এলাকার আব্দুল গণি কন্ট্রাক্টরের ছেলে সাজ্জাদের নাম আলোচনায় আসে গত শতকের নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে। তখন ইসলামী ছাত্র শিবিরের ‘ক্যাডার’ হিসেবে পরিচিত এই যুবক খুনসহ অনেক মামলার আসামি হন।   ১৯৯৯ সালে পাঁচলাইশের তৎকালীন ওয়ার্ড কাউন্সিলর লিয়াকত আলী খান নিজের বাড়ির সামনে খুন হয়। ওই সময় লিয়াকত হত্যায় সাজ্জাদের নাম উঠে আসে। কিন্তু সাক্ষীর অভাবে ওই মামলা থেকে খালাস পেয়ে যান তিনি। এরপর থেকে অপরাধ জগতে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে।   ২০০০ সালের ১২ জুলাই চট্টগ্রামে আট ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী হত্যায় জজ আদালতে সাজ্জাদের ফাঁসির রায় হয়েছিল। পরে উচ্চ আদালত থেকে এ মামলায় তিনি খালাস পান।   ২০০০ সালে একে-৪৭ রাইফেলসহ গ্রেপ্তার হওয়ার পরে জামিনে ছাড়া পেয়ে সাজ্জাদ দুবাই পালিয়ে যান বলে গুঞ্জন খবর আসে।   ২০১২ সালে তাকে ধরতে পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে ইন্টারপোলের সহায়তা চায় চট্টগ্রাম নগর পুলিশ। এরপর তারে নামে ‘রেড নোটিস’ জারি হয় ইন্টারপোলে।   চট্টগ্রামে থাকাকালে নুরুন্নবী ম্যাক্সন ও সরোয়ার হোসেন বাবলাকে নিয়ে অপরাধ জগৎ দাপিয়ে বেড়াতেন সাজ্জাদ। তবে বিভিন্ন সময়ে তাদের মধ্যে বিরোধের পর ছোট সাজ্জাদ, রায়হান ও বোরহানদের দিয়ে দল পরিচালনা শুরু করেন বড় সাজ্জাদ।   বিয়ে করে ভারতে স্থায়ী হওয়া ম্যাক্সন ২০২২ সালে সেখানে মারা যায়। তার পরিবার বাংলাদেশের পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, তার স্ত্রী তাকে খুন করে ‘আত্মহত্যা’ বলে প্রচার করেছে।   গত বছর নভেম্বরে বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলী খোন্দকীয়া পাড়ায় জনসংযোগ করছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। সে সময় গুলিতে নিহত হন সরোয়ার; আহত হন এরশাদ উল্লাহসহ চারজন। ওই ঘটনায় সরোয়ারের বাবার করা মামলায় বড় সাজ্জাদকে এক নম্বর আসামি করা হয়।   বায়েজিদ কেন্দ্রিক চাঁদাবাজি এখন নগর জুড়ে এক সময় বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় ভবন নির্মাণকারীদের কাছ থেকে ফোন করে চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না পেলে পেট্রোল বোমা, গুলি ছোড়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে সাজ্জাদের সহযোগীদের নাম আসত। তবে ইদানিং বায়েজিদ এলাকার বাইরেও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে আসছে বড় সাজ্জাদের নাম।   চট্টগ্রাম জেলা ও নগর পুলিশের সাবেক বর্তমান একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, বিদেশে অবস্থান করলেও চট্টগ্রামে সাজ্জাদের হয়ে ‘বেশকিছু গ্রুপ’ কাজ করে। তাদের একটি গ্রুপ চাঁদা দাবির আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে সাজ্জাদকে জানায়।   এ তথ্য সংগ্রহকারীদের মধ্যে কেউ আছেন ব্যবসায়ীদের তথ্য সংগ্রহকারী, কেউ ভবন মালিক ও ভবন নির্মাণকারী ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহকারী।   সাজ্জাদকে তথ্য জানানোর পর সে বিষয়টি চট্টগ্রামে তার সহযোগী ছোট সাজ্জাদ, রায়হান, ডেভিড ইমন, বোরহান ও মোবারকদের ফোনে জানিয়ে দেওয়া হত। তারাই তখন সাজ্জাদের হয়ে ওইসব ব্যবসায়ী বা ভবনমালিকদের ফোন করে সাজ্জাদের নামে চাঁদা দাবি করতেন। আবার সাজ্জাদ নিজেও অনেককে সরাসরি ফোন করেছেন বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ।   ব্যবসায়ী ও ভবন মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা দাবির পর তারা টাকা না দিলে হামলাসহ বিভিন্ন ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেন সাজ্জাদের অনুসারীরা। পরে চাহিদামত টাকা পেলে সে টাকা সাজ্জাদকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।   গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সাবেক সংসদ সদস্য ও স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে চাঁদা না পেয়ে তার বাসায় গুলি ছোড়া হয়।   গত জুনে বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় ইন্টারনেট সেবার কোম্পানি ডিডিএন-এ ফোন করে এককালীন দুই কোটি এবং মাসে ১০ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করেন সাজ্জাদের সহযোগী ডেভিড ইমন। চাঁদা না পেয়ে সেখানে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়।   বড় সাজ্জাদের অনুসারীদের চাঁদাবাজি এক সময় বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকার মধ্যে অক্সিজেন, চালিতাতলী, কুয়াইশ এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল। তবে ২০২৪ সালের পর তা নগরীর অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।   অনুসারীদের মধ্যে ছোট সাজ্জাদকে গত ১৫ মার্চ ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ। ভারতে পালানোর চেষ্টার সময় ২৬ জুলাই যশোরে গ্রেপ্তার হয় ডেভিড ইমন। আর গত ২৮ অগাস্ট পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির পর ফটিকছড়ি থেকে গ্রেপ্তার হন মোবারক ওরফে গলাকাটা মোবারক।   যা বলছে পুলিশ চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, “ছোট সাজ্জাদ, রায়হান, ডেভিড ইমন, মোবারক তাদের সবার নিয়ন্ত্রক বড় সাজ্জাদ। বিদেশে বসে সে তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধ করিয়ে থাকে। তার পক্ষে যারা টাকা নিয়ে থাকেন সে টাকা বিদেশে হুন্ডির মাধ্যমে তার কাছে পাঠিয়ে দেন।”   এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক নেতার সম্পৃক্ততা আছে কিনা জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, “তাদের অনেকের সাথে রাজনৈতিক নেতাদের ছবি আছে। তবে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমন, মোবারকসহ অন্যান্যদের জিজ্ঞাসাবাদে কোনো রাজনৈতিক নেতার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তবুও আমরা খতিয়ে দেখছি কোন রাজনৈতিক যোগসাজশ সেখানে আছে কি না।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপ, আগস্টে প্রতিদিন আক্রান্ত ৩৯ জন

ছবি: সংগৃহীত

বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত ১,৫০০ পরিবারের পাশে আরব আমিরাত

গ্রেপ্তারকৃত আওয়ামী লীগ নেতা। পুরোনো ছবি

গাইবান্ধায় ডিবির অভিযানে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন
হামের ভ্যাকসিন না কিনেই বিদায় নেয় অন্তর্বর্তী সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হামের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কায় আগেই সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ। দ্রুত ভ্যাকসিন কেনার জন্য তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারকে তিন দফা অনুরোধও করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তায় কর্ণপাত না করে ভ্যাকসিন না কিনেই বিদায় নেয় ওই সরকার। এর আগে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারও কয়েক বছর হামের ভ্যাকসিন দেয়নি। এমন দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।   সোমবার দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।   হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বর্তমান সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্টক যাচাই করে দেখা যায়, দেশে হামের কোনো ভ্যাকসিন মজুত নেই। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে বিশ্বব্যাংক, ইউনিসেফ ও গ্যাভিকে ডাকা হয়। আমরা মাত্র ২১ দিনের মধ্যে দেশে হামের ভ্যাকসিন নিয়ে আসি। এরপর দেশের অতিঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়।   সভায় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এসএ জিন্নাহ কবীর, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম খান শান্ত, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করা জরুরি’: চেম্বার সভাপতি

ছবি: সংগৃহীত

রংপুরে গণপতি পরিবার হত্যা: মুগ্ধ-সিদ্ধার্থের ডোপ টেস্টে মেলেনি মাদক

ছবি: সংগৃহীত

সীতাকুণ্ডে ১০ শ্রমিকের মৃত্যু: নিরাপত্তা গাফিলতিকে দায়ী করে ইয়ার্ড মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার সুপারিশ

0 Comments