প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভা শুরু হয়।
সভায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সুজন মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
একসময়ে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখানো মিরসরাইয়ের ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল গণঅভ্যুত্থানের পর মুখ থুবড়ে পড়েছে। ৯০০ একর জায়গায় ৯১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্প মাঝপথে গত ফেব্রুয়ারিতে বাতিল করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
এবার এক লাখ কর্মসংস্থান ও ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগের আশা নিয়ে একনেকে উঠছে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল নির্মাণ প্রকল্প। এটি চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৮০০ একর জায়গায় বাস্তবায়ন হবে। ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ একনেক সভায় এই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য তোলা হতে পারে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কর্ণফুলী নদীর মোহনার কাছে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে গড়ে উঠবে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল।
প্রকল্পটিতে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সহায়তা হিসেবে চীন দেবে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা। প্রকল্পটি জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ডিসেম্বর ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা ১২ লাখ রোহিঙ্গার তথ্য ও ডেটাবেজ বাংলাদেশ সরকারের একটি সার্ভারে যাচ্ছে। এই সার্ভার তৈরির কাজ শেষ করেছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শেষে শিগগিরই এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) রোহিঙ্গাদের ডেটা বাংলাদেশি সার্ভারে পাঠানো শুরু করবে। তবে এতদিন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন (আরআরআরসি) রোহিঙ্গাদের ডেটা শুধু ‘রিড অনলি অ্যাকসেস’ (দেখতে পারা) ছিল। গতকাল সোমবার সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন বাংলাদেশ দাবি জানিয়ে আসছে, রোহিঙ্গাদের তথ্যভান্ডার সরকারের কাছে থাকাও জরুরি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ-সংক্রান্ত একটি বৈঠক হয়েছে। কীভাবে দ্রুত রোহিঙ্গাদের ডেটাবেজ সরকার সংরক্ষণ করতে পারে, তা ওই বৈঠকে আলোচনা হয়। এর আগের দুটি সরকারের সময় বিষয়টি নিয়ে একাধিক ফোরামে আলোচনা হয়। সর্বশেষ কয়েকটি বৈঠকে রোহিঙ্গাদের তথ্যভান্ডার হস্তান্তরের বিষয়টির গতি আসে। এর আগে তাদের যুক্তি ছিল– রোহিঙ্গাদের তথ্য বেহাত হতে পারে। এটি ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার পরিপন্থি। তবে বাংলাদেশ যুক্তি দিয়ে আসছে, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অবস্থান করায় রোহিঙ্গাদের তথ্যভান্ডার পাওয়ার ন্যায্যতা তাদের রয়েছে। এ ছাড়া এই তথ্য বেহাত হবে না। যেসব রোহিঙ্গার ডেটাবেজ বাংলাদেশ পেতে যাচ্ছে, বর্তমানে তারা কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছে। তাদের সবাই নিবন্ধিত রোহিঙ্গা। বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ ও চোখের স্ক্যান) নিবন্ধনের মাধ্যমে তাদের তথ্যভান্ডার তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও ইউএনএইচসিআর এটি তৈরি করেছে। তবে এতকাল ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করা এসব রোহিঙ্গার ডেটাবেজের তথ্য সরকারের কাছে ছিল না। গতকাল এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার কথা বলে অনেক বছর ধরে ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গা নাগরিকদের ডেটাবেজ আমাদের হস্তান্তর করেনি ইউএনএইচসিআর। এখন তারা তথ্য দিতে রাজি হয়েছে। তথ্যগুলো কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে, তার জন্য একটি কমিটি করা হয়। মূলত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটির দেখভাল করবে। রোহিঙ্গাদের তথ্য আমরা পেলে তাদের বৈধ মোবাইল সিমকার্ড দেওয়া শুরু করবে বাংলাদেশ। পাইলট প্রকল্প হিসেবে কয়েক হাজার সিমকার্ড তাদের দেওয়া হয়েছে। যদিও অনেক দিন ধরে তারা অবৈধভাবে সিম ব্যবহার করে থাকে। ফিঙ্গার প্রিন্টে শনাক্ত হবে কারসাজি পরিচয় গোপন করে প্রায়ই রোহিঙ্গারা পাচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)। এর সঙ্গে জড়িত সরকারি-বেসরকারি অসাধু চক্র। অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পাসপোর্ট তৈরি করে দেশের বাইরে পাড়ি জমাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে কেউ মাঝেমধ্যে ধরা পড়ছে। সম্প্রতি পুলিশের একটি সংস্থার কাছে ১৭১ রোহিঙ্গার তথ্য আসে, যারা মিথ্যা নাম-পরিচয় ব্যবহার করে পাসপোর্ট নিয়েছে। এটি জানার পর তাদের পাসপোর্ট বাতিল করার কাজ শুরু হয়। যাতে জালিয়াতির মাধ্যমে রোহিঙ্গারা এনআইডি ও পাসপোর্ট তৈরি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে যাতে রোহিঙ্গাদের পরিচয় শনাক্ত করে কারসাজি প্রতিরোধ করা যায়, তা নিশ্চিত করতে এনআইডি কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি আরআরআরসির মহাপরিচালককে চিঠি দিয়েছে। অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দুটি ভিন্ন সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চায় তারা। যাতে ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে। নিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের তথ্যভান্ডার জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডারের মূল সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত জালিয়াতি ঠেকাতে চায় বাংলাদেশ। যাতে ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে কোনো রোহিঙ্গা বাংলাদেশের এনআইডি তৈরি করতে গেলে সার্ভার স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা চিহ্নিত করবে। যেভাবে সব রোহিঙ্গা পাবে সিমকার্ড বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১২ লাখের বেশি। ১৮ বছরের নিচে রোহিঙ্গার সংখ্যা ৫২ শতাংশ। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট-পরবর্তী কয়েক মাসে এসেছে অন্তত আট লাখ রোহিঙ্গা। এতদিন রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি মোবাইল কোম্পানির সিম ব্যবহারের অনুমতি ছিল না। ২০২৩ সালের পর নতুনভাবে রোহিঙ্গা এসেছে দেড় লাখ। নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের ফিঙ্গার প্রিন্ট নেওয়া হচ্ছে। কিছুসংখ্যক রোহিঙ্গা এখনও নিবন্ধনের বাইরে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় ২০২৫ সালে ১০ হাজারের মতো রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি সিমকার্ড দেওয়া শুরু হয়। তবে বর্তমানে অন্তত পাঁচ লাখের রোহিঙ্গার হাতে অবৈধ বাংলাদেশি সিমকার্ড রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের তথ্যভান্ডার বাংলাদেশি সার্ভারে যাওয়ার পরপরই অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের হাতে থাকা বিপুলসংখ্যক সিমকার্ড জব্দ করার কাজ শুরু হবে। এরপর ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে থাকা রোহিঙ্গাদের সবাইকে বাংলাদেশি বৈধ সিম দেওয়া শুরু হবে। আরআরআরসির কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গাদের ব্যবহৃত সব অবৈধ সিম ব্লক করা হবে। এতে অপরাধমূলক কার্যকলাপ প্রতিরোধ ও অপকর্মে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। প্রযুক্তিগত নজরদারি বাড়বে। আশ্রয়শিবিরে মাদক চোরাচালান ও সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধ হবে। সংশ্লিষ্ট আরেক কর্মকর্তা বলেন, বছর ছয়েক আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যারা অবৈধ সিমকার্ড ব্যবহার করত সেগুলো জব্দ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সেটাতে কার্যকর ফল আসেনি। উল্টো রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে মিয়ানমারের সিমকার্ড ব্যবহার বাড়তে শুরু করে। এতে চোরাচালান ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যেম অর্থ পাচারের প্রবাহ বাড়ে। সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) আওতাধীন দেশের মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠান রোহিঙ্গাদের সিম দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করবে। জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনের কাছে রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন নম্বর আছে। এটিকে ‘প্রগ্রেস আইডি’ বলা হয়। কেউ কেউ ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এনআইডি’ বলে থাকে। সেই আইডির বিপরীতে ১৮ বছরের বেশি বয়সী রোহিঙ্গাদের সিম দেওয়া হবে। এ ছাড়া নতুনভাবে যেসব রোহিঙ্গা ঢুকছে তাদের দেওয়া হচ্ছে ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট কার্ড’। মিথ্যা তথ্যে বাংলাদেশি পাসপোর্ট পুলিশের একটি সংস্থার কাছে ১৭১ রোহিঙ্গার তালিকা আছে। তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্ট করেছেন। তাদের পাসপোর্ট বাতিলের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় আছেন রোহিঙ্গা নাগরিক আবদুর রহমান। তিনি নিজেকে বাংলাদেশি সালমান আহমেদ পরিচয় দিয়ে পাসপোর্ট করেন। সেখানে পিতা সাব্বির আহমেদ ও মাতা ফাহিমা খাতুন বলে উল্লেখ করেন। ঠিকানা হিসেবে লেখা চট্টগ্রামের পটিয়ার চক্রশালা। ওই তালিকায় আছেন আহমদ উল্লাহ নামে আরেকজন। তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চিওড়া এলাকার ঠিকানায় পাসপোর্ট করেন। তালিকায় আছেন রোকেয়া বেগম। তিনি ফেনীর দাগনভূঞার রাজাপুরের ঠিকানায় পাসপোর্ট করেছেন। সেখানে তিনি বাবা আবুল বশর ও মায়ের নাম আয়েশা বেগম বলে উল্লেখ করেন। নোয়াখালী থেকে পাসপোর্ট করেছেন মরজান নামে এক রোহিঙ্গা নারী। তাঁর স্বামী রহিম উল্লাহ ও বাবা আবু বকর সিদ্দিক বলে উল্লেখ করেন। জালিয়াতি করে শামসুল আলম, ইকবাল চৌধুরী, সরওয়ার আলম, আবদুল্লাহ ও জমিলা পাসপোর্ট করেছেন। জমিলা তাঁর ঠিকানা লিখেছেন চট্টগ্রামের চার নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরীপাড়া। পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন না থাকায় রোহিঙ্গারা জালিয়াতির এই সুযোগ নিচ্ছেন কিনা এমন প্রশ্ন অনেকের। পেছনে বড় চক্র বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট করিয়ে দিতে একটি চক্র গড়ে উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পাসপোর্ট অফিসের কর্মচারী, পুলিশের কিছু কর্মকর্তা এবং দালালদের নিয়ে চক্রটি গড়ে উঠেছে। অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে চলে গেছে। বিদেশে গিয়ে তাদের অনেকে নানা অপরাধে জড়াচ্ছে। এর যার দায় পড়ছে বাংলাদেশের ওপর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য যেসব শরণার্থী শিবির করা হয়েছে, সেখানেই তাদের চলাচল সীমিত রাখতে হবে। যাতে তারা কোনোভাবেই বাইরে এসে নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করতে না পারে। যেসব স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পাসপোর্ট অফিস ও পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত, তাদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বায়োমেট্রিক বা হাতের ছাপসহ পরিচয়পত্র দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক এ টি এম জিয়াউল ইসলাম বলেন, যে সার্ভারে রোহিঙ্গাদের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে, সেটি আমরা তৈরি করে দিয়েছি। এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার অপেক্ষায় আছে। রোহিঙ্গাদের ডেটা সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আমরা সার্ভার তৈরি করেছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে সার্ভার হস্তান্তরের পরই ইউএনএইচসিআর ডেটা সেখানে পাঠানো শুরু করবে। এতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র নিচ্ছে, তা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় উপজেলা পর্যায়ের এক আওয়ামী লীগ নেতার লেখা একটি চিঠি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। চিঠিটি একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল প্যাডে লেখা হওয়ায় বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে তিনি রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের ৩১ দফা, নির্বাচনী ইশতেহার এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন। এছাড়া ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণের পর নতুন সরকারের নেতৃত্ব দেশের মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়। জানা গেছে, চিঠিটি ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। তবে এটি কোনো রাজনৈতিক প্যাডে নয়, বরং ‘ইফতি ইটিসিএল প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল প্যাড ব্যবহার করে পাঠানো হয়। মো. মিরাজুল ইসলাম ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। চিঠিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে পিরোজপুরে চলমান কিছু প্রকল্পের সময়সীমা এক বছর বাড়ানোর বিষয়েও অনুরোধ জানানো হয়েছে। এদিকে, আওয়ামী লীগের স্থানীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের চিঠি প্রকাশ্যে আসায় ভান্ডারিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে মো. মিরাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়ার অধীন পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে সরকারি প্রশাসক নিয়োগের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম সারওয়ার হোসেন। সোমবার তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, সচিব, বিটিআরসি চেয়ারম্যান এবং ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, আইন, স্বরাষ্ট্র, ভূমি ও গৃহায়ন মন্ত্রণালয়সহ একাধিক দপ্তরে আবেদনটির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। আবেদনে ওই পাঁচটি সংবাদমাধ্যমকে ‘পেশাদারত্বহীন’ ও ‘অপপ্রচারে জড়িত’ বলে উল্লেখ করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবি জানানো হয়। এ সময় সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এম সারওয়ার হোসেন বলেন, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়ার অধীন কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, দ্য ডেইলি সান, নিউজ টোয়েন্টিফোর টিভি ও বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর—এই পাঁচটি গণমাধ্যমে প্রশাসক নিয়োগ প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে অপপ্রচার চালানো হয় এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগও তুলে ধরেন। তবে একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে বলেন, কর্মরত সাংবাদিকরা বাধ্য হয়ে এসব কাজ করেন, তাই তাদের দায়ী করা উচিত নয়। এ বিষয়ে প্রশাসক নিয়োগ হলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, গণমাধ্যম বন্ধের পক্ষে তিনি নন, বরং প্রতিষ্ঠানগুলোকে পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর মধ্যে আনার পক্ষেই অবস্থান করছেন। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তিনি উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করবেন।