জাতীয়

প্রবাসীদের সেবায় বিশেষ সেল গঠন করল মন্ত্রণালয়

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ০২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একটি ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নিরসন সেল’ গঠন করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
সোমবার (১ জুন) মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


এছাড়া এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২ জুন) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, এ আদেশ আজ থেকে কার্যকর হবে। প্রবাসীরা এই অভিযোগ সেলে তাদের অভিযোগ জমা দিতে পারবেন। হোয়াটসঅ্যাপেও তাদের অভিযোগ জমা নেওয়ার প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হবে।
আদেশ অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব/যুগ্মসচিবকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের এ সেল গঠন করা হয়েছে।


সেলের অন্য সদস্যরা হলেন— কল্যাণ অধিশাখার যুগ্মসচিব/উপসচিব, আইন শাখার উপসচিব/সিনিয়র সহকারী সচিব, সেবা ও প্রটোকল শাখার উপসচিব/সিনিয়র সহকারী সচিব এবং এনফোর্সমেন্ট-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব। এনফোর্সমেন্ট-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
অফিস আদেশে বলা হয়, minister@probashi.gov.bd এবং minister.expat@gmail.com ই-মেইল ঠিকানায় প্রাপ্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সেলটি।


এছাড়া প্রাপ্ত আবেদন ও অভিযোগ এবং সেগুলোর বিষয়ে গৃহীত ব্যবস্থা দৈনিক বা সাপ্তাহিক ভিত্তিতে মন্ত্রী ও সচিবের কাছে উপস্থাপন করা হবে।


প্রয়োজনে সেলটি অতিরিক্ত সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

​​​​​​

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস, পাশে থাকার আশ্বাস বাংলাদেশের

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো বাংলাদেশী নাগরিকের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিসির খানালের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।   এসময় বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন তিনি।   বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে নেপালের সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সংহতি রয়েছে।   আলাপকালে ড. খলিলুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত বন্যা ও ভূমিধসে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক হতাহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এমন কোনো ঘটনা শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য নেপাল সরকারের সহায়তা কামনা করেন তিনি।   নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের এই সহমর্মিতা ও সংহতির জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব ও পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে। মূল্যায়ন শেষে প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট সহায়তার বিষয়ে বাংলাদেশকে জানানো হবে।   বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত শোকবার্তাও নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের কাছে পৌঁছে দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।   বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নেপালের প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো ধরনের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৭, ২০২৬

দলনিরপেক্ষভাবেই আমি আমার দায়িত্বপালন করে যাব: রাষ্ট্রপতি

ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস

ছবি: সংগৃহীত

জবানবন্দিতে নতুন তথ্য, ডিএনএ ও ডোপ টেস্ট হবে দুই আসামির

ছবি: সংগৃহীত
যমুনার দুই পাড়ে নতুন নদীবন্দর, ২০০ কিলোমিটারের ঘুরপথ নামবে ১৬ কিলোমিটারে

যমুনা নদীর দুই পাড়ে বসবাস করলেও বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও জামালপুরের মাদারগঞ্জের মানুষের যোগাযোগে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি রয়েছে। দুই এলাকার সরাসরি দূরত্ব যেখানে মাত্র ১৬ কিলোমিটারের মতো, সেখানে সড়কপথে যাতায়াতে ঘুরতে হয় প্রায় ২০০ কিলোমিটার। এবার যমুনার তীরে সারিয়াকান্দি ও ধুনটে দুটি নতুন অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর ঘোষণায় সেই দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট কাটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।   গত ৮ জুলাই নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নদীবন্দর দুটির সীমানা নির্ধারণ করা হয়। নতুন দুটি বন্দর যুক্ত হওয়ায় দেশে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬টিতে।   সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সারিয়াকান্দি নদীবন্দর কার্যকর হলে যমুনা পেরিয়ে সরাসরি মাদারগঞ্জের সঙ্গে নৌযোগাযোগ গড়ে উঠতে পারে। এতে সড়কপথের প্রায় ২০০ কিলোমিটারের পরিবর্তে নদীপথে মাত্র ১৬ কিলোমিটারের মতো পথ পাড়ি দিয়ে দুই এলাকার মানুষ যাতায়াত করতে পারবেন।   এতে শুধু যাত্রীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে না, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য পরিবহনের খরচও কমতে পারে। পাশাপাশি নদীর দুই পাড়ে নতুন ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।   কাছাকাছি দুই এলাকা, যোগাযোগে দীর্ঘ পথ: সারিয়াকান্দির যমুনা নদীর ঘাটগুলোতে প্রতিদিনই মানুষের ব্যস্ততা দেখা যায়। ছোট নৌযানে নদী পারাপারের পাশাপাশি কৃষিপণ্য ও বিভিন্ন মালামাল ওঠানামাও হয়। নদীর অপর পাড়েই জামালপুরের মাদারগঞ্জ। দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকলেও সহজ ও নিয়মিত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় সেই সম্পর্কের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগেনি। স্থানীয়রা জানান, সারিয়াকান্দি থেকে মাদারগঞ্জ যেতে সড়কপথে সিরাজগঞ্জ ও বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে যেতে হয়। ফলে অল্প দূরত্বের পথ ঘুরে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে হয়। এতে যাত্রীদের সময় যেমন বেশি লাগে, তেমনি পণ্য পরিবহনের ব্যয়ও বেড়ে যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. দুলাল মিঞা বলেন, যমুনার দুই পাড়ে কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বড় বাজার রয়েছে। সরাসরি নৌযোগাযোগ চালু হলে সারিয়াকান্দির পণ্য সহজে মাদারগঞ্জ ও জামালপুরের বাজারে পাঠানো যাবে। একইভাবে ওই অঞ্চলের পণ্যও কম সময়ে বগুড়ায় আনা সম্ভব হবে। কৃষক মো. জলিল মিয়ার ভাষ্য, দূরের সড়কপথে পণ্য পাঠাতে পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে যায়। নিয়মিত নৌযান চালু হলে একই সঙ্গে বেশি পণ্য কম খরচে পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে।   কৃষিপণ্য পরিবহনে সম্ভাবনা: সারিয়াকান্দি ও আশপাশের এলাকায় ধান, আলু, ভুট্টা, পেঁয়াজ, মরিচসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। এসব পণ্য বর্তমানে মূলত সড়কপথে বিভিন্ন বাজার ও মোকামে পাঠানো হয়। স্থানীয়দের মতে, নদীবন্দরকে কেন্দ্র করে কার্যকর নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠলে কৃষকদের পরিবহন ব্যয় কমবে। বিশেষ করে দ্রুত নৌপথে পচনশীল পণ্য পাঠানো সম্ভব হলে কৃষকের ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি নতুন বাজারে পণ্য পৌঁছানো সহজ হবে। স্কুলশিক্ষক বিপ্লব মিয়া বলেন, নদীবন্দর চালু হলে শুধু নৌযান চলাচলই বাড়বে না, এর সঙ্গে গুদাম, পণ্য ওঠানামা, প্যাকেজিং, কোল্ড স্টোরেজ ও পরিবহনসহ নানা ধরনের সেবা গড়ে উঠতে পারে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে। কৃষক আবু তাহের বলেন, উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষকের জন্য দ্রুত ও কম খরচে পণ্য বাজারজাত করাও গুরুত্বপূর্ণ। নৌপথে একসঙ্গে বেশি পরিমাণ পণ্য পরিবহন করা গেলে পরিবহন ব্যয় কমানোর সুযোগ রয়েছে। আরেক কৃষক রুবেল মিয়া বলেন, মৌসুমে একই সময়ে অনেক কৃষক পণ্য বাজারে আনেন। তখন স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বেড়ে গিয়ে দাম কমে যায়। নদীপথে অন্য এলাকার বাজারে দ্রুত পণ্য পাঠানোর সুযোগ থাকলে কৃষকরা বিকল্প বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।   ধুনট নদীবন্দরেও বাড়ছে প্রত্যাশা: সারিয়াকান্দির পাশাপাশি ধুনটে ঘোষিত নতুন নদীবন্দরটিকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ধুনট নদীবন্দরের সীমানা সারিয়াকান্দি উপজেলার কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের মধুরাপাড়া ঘাট এলাকা থেকে শুরু হয়ে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার তেকুরিয়া হাটসংলগ্ন যমুনা নদী হয়ে বগুড়ার ধুনট উপজেলার চৌবার মৌজার বেশাঘীর চর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই বন্দরের আওতায় চন্দনবাইশা ও শাহরাবাড়িসহ কয়েকটি বিদ্যমান ঘাট ও খালও রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, ধুনট নদীবন্দরকে কেন্দ্র করে কাজিপুরসহ যমুনার দুই পাড়ের বিভিন্ন বাজারের সঙ্গে নৌযোগাযোগ জোরদার হলে কৃষিপণ্য ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।   আধুনিক জেটি ও অবকাঠামোর দাবি: নদীবন্দর ঘোষণায় স্থানীয়দের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হলেও এখন তাদের মূল প্রত্যাশা দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণ। তারা আধুনিক জেটি, যাত্রীছাউনি, পণ্য ওঠানামার ব্যবস্থা, গুদাম এবং নিরাপদ নৌযান চলাচলের সুবিধা চান। প্রজ্ঞাপনে নদীবন্দরগুলোর সীমানা নির্ধারণের পাশাপাশি নৌপথ উন্নয়ন, জেটি নির্মাণ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো স্থাপন ও যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। দুই বন্দরের সংরক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিউটিএ)। তবে এখন পর্যন্ত কতটি জেটি নির্মাণ করা হবে, কোন ঘাটকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় কত এবং নির্মাণকাজ কবে শুরু হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। স্থানীয়দের মতে, শুধু নদীবন্দর ঘোষণা করলেই এর সুফল পাওয়া যাবে না। সারা বছর নৌযান চলাচলের উপযোগী নাব্যতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে নদীতে ড্রেজিং করতে হবে এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য উপযুক্ত নৌযান চালু করতে হবে।   বদলে যেতে পারে দুই পাড়ের অর্থনীতি: সারিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান বাবু বলেন, যমুনার কারণে দুই এলাকার মানুষের যোগাযোগে দীর্ঘদিনের সমস্যা রয়েছে। নিয়মিত নৌযোগাযোগ চালু হলে যাতায়াতের সময় ও খরচ দুটোই কমবে। দ্রুত আধুনিক ঘাট ও জেটি নির্মাণ করা প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দা মিশুক বাবু সম্রাট বলেন, সারিয়াকান্দি ও মাদারগঞ্জ ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি হলেও সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় মানুষকে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হয়। নদীবন্দরটি কার্যকর হলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের সুবিধা পাওয়া যাবে। বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, নদীবন্দর দুটি শুধু স্থানীয় যোগাযোগ নয়, উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে উঠলে যমুনার দুই পাড়ের বাজারের সঙ্গে বগুড়ার যোগাযোগ বাড়বে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত নৌযান চলাচল, আধুনিক জেটি ও ঘাট, নাব্যতা রক্ষা, পণ্য সংরক্ষণ সুবিধা এবং আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন একসঙ্গে নিশ্চিত করা গেলে নতুন দুই নদীবন্দর উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ও বাণিজ্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ নৌরুট চালু হলে ২০০ কিলোমিটারের দীর্ঘ ঘুরপথ কমে মাত্র ১৬ কিলোমিটারের নৌপথে নামার সম্ভাবনা রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে আসিফ আকবরের মন্তব্যে রাশেদ খানের কড়া প্রতিক্রিয়া

ছবি : সংগৃহীত

সৌরবিদ্যুৎ ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগে আগ্রহী চীন

ছবি: সংগৃহীত

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানিতে সংসদীয় কমিটির শোক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও নেপালের আকস্মিক বন্যায় ভূমিধসে আটকে থাকা নারীকে উদ্ধার। ছবি: সংগৃহীত
নেপালের বন্যায় প্রাণহানিতে প্রধানমন্ত্রীর শোক, সহায়তার আশ্বাস

নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে সরকার। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নেপালকে যেকোনো ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নেপালের আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞে বাংলাদেশের জনগণ মর্মাহত ও শোকাহত। পরিস্থিতির ওপর বাংলাদেশ গভীরভাবে নজর রাখছে। এতে শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের অনেকেই মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে পর্যটকরাও রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ এই কঠিন সময়ে নেপালের সরকার ও বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে।   বিবৃতিতে নিহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নিখোঁজদের দ্রুত সন্ধান এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসা ও সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।   এতে আরও বলা হয়, ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।   নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার (২৬ আগস্ট) ভয়াবহ এই বন্যায় প্রাণহানির পাশাপাশি শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন।   নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের হিসাবে দেশটিতে ৪০৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজদের মধ্যে ভারতীয়, মার্কিন, ব্রিটিশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৬, ২০২৬

রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক সহায়তা নয়, চাই মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন

ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধায় ব্যারাকের ওয়াশরুম থেকে পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

২০২৭ সালেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

0 Comments