আগামী ২৬ মার্চ মাঠে গড়াবে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) এবারের আসর। ফ্র্যাঞ্চাইজি এই টুর্নামেন্টে দল পেয়েছেন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ছয়জন ক্রিকেটার।
পিএসএলে অংশ নিতে আজ সোমবার সকালের একটি ফ্লাইটে পাকিস্তানের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন পেস বোলার মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম আর ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন।
লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন ও তারকা ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম আগামীকাল পাকিস্তানের বিমান ধরবেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একটি সূত্র এমনটি জানিয়েছে।
আগামী ১৭ এপ্রিল থেকে ২ মে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দেশের মাঠে তিনটি করে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এ জন্য পিএসএলে দল পাওয়া ৬ ক্রিকেটারকে কাউকেই পুরো সময়ের জন্য অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেয়নি বিসিবি।
টুর্নামেন্টটির জন্য রিশাদ, শরীফুল, রানা এবং তামিমকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত অনাপত্তিপত্র দিয়েছে বিসিবি। ইমনকে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়েছে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত।
অন্যদিকে মোস্তাফিজ অনাপত্তিপত্র পেয়েছেন দুই ভাগে। প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত খেলতে পারবেন এই পেসার। এরপর ২৪ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপে পিএসএলে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে ফিজকে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আরও এক প্রবাসী ফুটবলার যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ফুটবলে। এবার নতুন নাম হিসেবে যুক্ত হলেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ট্রেভর ইসলাম। গত ফেব্রুয়ারিতে তার জন্মনিবন্ধন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাফুফে সহসভাপতি ফাহাদ করিম। পাসপোর্ট করা সময়ের ব্যাপার হলেও এ বছর তার খেলা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্র ট্রেভর। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এনসিএএ ডিভিশন-১ লিগে নিয়মিত খেলছেন। ২১ বছর বয়সী এই ফুটবলার সেন্টার ফরোয়ার্ড হলেও লেফট উইঙ্গার ও রাইট উইঙ্গার পজিশনেও খেলতে পারেন। বাংলাদেশ দলের আক্রমণভাগের দুর্বলতা কাটাতে তাই তিনি হতে পারেন অন্যতম ভরসা। নিজের ফেসবুক পেজে ফাহাদ করিম বলেন, ‘আমার এখনও মনে আছে ১২ ডিসেম্বর ট্রেভর আমার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন তখন থেকে নিয়মিত আমার সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে। গত রাতেও তার সঙ্গে আমার হোয়াটসঅ্যাপে কথাবার্তা হয়েছে এবং আমরা তার সম্মতি নিয়ে ডিসেম্বর থেকে তার ডকুমেন্টেশনের কাজ শুরু করি। ১৮ ফেব্রুয়ারি তার জন্মনিবন্ধন এবং যাদের যাদের প্রয়োজন, সকল জন্মনিবন্ধনগুলো আমরা তৈরি করি।’ ট্রেভরের প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও পাসপোর্ট তৈরির কাজ চলছে, যা আগামী মে মাসের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে। জাতীয় দলের জার্সিতে তার খেলা নিয়ে ফাহাদ করিম বলেন, ‘তার জন্য এই বছর খেলা খুবই কঠিন। পড়াশোনার প্রতি তার যে কমিটমেন্ট এবং এনসিএএ লিগ মানে ডি ওয়ান যেটাকে বলে, সেখানে সে নিয়মিত খেলে। বিশ্ববিদ্যালয় দলের প্রতি তার একটা কমিটমেন্ট আছে। তাই জুন উইন্ডোতে পাব না। সেপ্টেম্বর উইন্ডো বেশ কঠিন। নভেম্বর উইন্ডো নিয়ে একটু আশাবাদী। হয়তোবা নভেম্বরে সে আসতে পারে। তবে আগামী বছর অবশ্যই তাকে পাব।’
কোচ-ক্যাপ্টেনের আস্থার প্রতিদান দিলেন রিশাদ হোসেন। পিএসএলে ছন্দে না থাকলেও জাতীয় দলের জার্সিতে হাজির হলেন নিজের চেনা ফর্মে। শরিফুল ইসলাম হয়ত মুস্তাফিজুর রহমান একাদশে থাকলে খেলার সুযোগই পেতেন না, তিনিই কঠিন ধাঁধায় ফেললেন কিউইদের। যদিও নিকোলস-ফক্সক্রফটের ব্যাটিং কিউইদের দেখাচ্ছে জয়ের আশা। মোস্তাফিজুর রহমান শেষমুহুর্তে চোট পাওয়ায় ছিলেন না একাদশে, তাসকিন-শরিফুল-নাহিদ রানাকে নিয়ে সাজানো পেস লাইনআপ শুরুতে একটু ভুগেছে। ৭ম ওভারে নিক কেলিকে শরিফুল সাজঘরে ফেরালেও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন হেনরি নিকোলস ও উইল ইয়ং। দুজনের ৭৩ রানের জুটি ভাঙে ৪২ বলে ৩০ রান করে ইয়ং বিদায় নিলে, রিশাদের প্রথম শিকারে পরিণত হয়ে। ২৫ ওভার শেষেও নিউজিল্যান্ডকেই রাখতে হচ্ছিল চালকের আসনে। তবে অধিনায়ক মেহেদী মিরাজ প্রতিপক্ষ অধিনায়ক টম ল্যাথামকে ফেরালে তার খানিক পরই ভয়ংকর হয়ে ওঠা নিকোলসকে শিকার করেন রিশাদ। আর তাতে মোমেন্টামও চলে আসে বাংলাদেশের দিকে। মোহাম্মদ আব্বাসকে শিকার করেন শরিফুল, এরপর ডিন ফক্সক্রফট বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালান। ভাগ্য পক্ষে না থাকায় রিশাদের নামের পাশে উইকেটের সংখ্যা বাড়েনি। শেষদিকে বাংলাদেশের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ান ফক্সক্রফট। ওয়ানডে ফরম্যাটের সাথে ব্যাটিংয়ের তাল ঠিক রেখে তুলে নেন অর্ধশতক। যদিও দলীয় রান রেট ছিল কম। শেষপর্যন্ত আড়াইশর কাছাকাছি পৌঁছে যায় কিউইরা। ৫৮ বলে ৫৯ রান করে ক্ষান্ত হন ফক্সক্রফট, হাঁকান ৮টি চার। কিউইদের গোটা ইনিংসে ছিল না কোনো ছক্কা। বাংলাদেশের পক্ষে শরিফুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন ও তাসকিন আহমেদ শিকার করেন দুটি করে উইকেট। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪৭ রান দাঁড়ায় নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ।
তামিম ইকবালের ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ অনুষ্ঠানে দেশে থাকা সাবেক অধিনায়কদের মধ্যে প্রায় সবাই এলেন, আসেননি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও মাশরাফি বিন মর্তুজা। বুলবুল ‘অভিমান’ থেকে আসেননি, আর ৫ আগস্টের পর মাশরাফি তো একপ্রকার নিখোঁজ। বাংলাদেশের ক্রিকেটের আরেক ‘আলোচিত’ নাম সাকিব আল হাসান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। যে কারণে ছিলেন না সাবেক এই অধিনায়কও। এই তিন অধিনায়কের অনুপস্থিতি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক জল্পনা-কল্পনার পর গত সপ্তাহেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব নেন তামিম ইকবাল খান। বোর্ড প্রধান হয়েই একের পর এক চমকপ্রদ উদ্যোগ নেন টাইগার ক্রিকেটের সাবেক এই হার্ড-হিটার ওপেনার। তবে বড় চমকটা উপহার দিলেন বৃহস্পতিবার। সাবেক অধিনায়কদের সম্মান জানিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর এক অভিজাত হোটেলে ক্যাপ্টেনস কার্ড তুলে দেন তামিম ইকবাল। তবে অনুষ্ঠানের নাম ক্যাপ্টেনস কার্ড হস্তান্তর হলেও সোনারগাঁ হোটেলে বৃহস্পতিবারের সন্ধ্যাটা যেন হয়ে উঠে অধিনায়কদের মেলা। ছবির ফ্রেমটাও বাঁধাই করে রাখার মতোই। একসঙ্গে জাতীয় দলের এত অধিনায়ক কি এর আগে দেখা গেছে কোথাও? উত্তরটা খুঁজে পাওয়া কঠিনই হবে বোধ হয়। ঠিক এমনই একটা উপলক্ষ গোটা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা দেখার সুুযোগ পায় বিসিবির এক আয়োজনের কারণে। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচের অধিনায়ক শামীম কবির মারা গেছেন। এর বাইরে এখন পর্যন্ত পুরুষ দলে তিন সংস্করণ মিলিয়ে অধিনায়কত্ব করেছেন ২৬ জন। নারী ক্রিকেটে সবমিলিয়ে অধিনায়কত্ব করেছেন ৬ জন, তাদের মধ্যে শুধু রুমানা আহমেদই উপস্থিত ছিলেন আজ।বাংলাদেশ নারী দলে তিনি ছাড়াও অধিনায়ক ছিলেন তাজকিয়া আক্তার, সালমা খাতুন, জাহানারা আলম, নিগার সুলতানা ও ফাহিমা খাতুন। ছেলেদের দলের বাকি ২০ অধিনায়ক রকিবুল হাসান, শফিকুল হক হীরা, গাজী আশরাফ হোসেন, মিনহাজুল আবেদীন, আকরাম খান, খালেদ মাহমুদ, হাবিবুল বাশার, রাজিন সালেহ, শাহরিয়ার নাফীস, মোহাম্মদ আশরাফুল, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ, মুমিনুল হক, লিটন দাস, নুরুল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন, নাজমুল হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ ও জাকের আলী ক্যাপ্টেনস কার্ড নিয়েছেন। লাল-সবুজের পতাকাকে গর্বিত করা এতো সব অধিনায়ক উপস্থিত থাকলেও আজকের ফ্রেমটা যেন কিছুটা হলেও অপূর্ণ রেখেছে কয়েকটি নাম। তার মধ্যে আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের সাবেক তিন সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয়, মাশরাফি বিন মর্তুজা এবং সাকিব আল হাসান অন্যতম। তবে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয়কে গত বছর গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, সাকিব আল হাসান অবস্থান করছেন দেশের বাইরে। পক্ষান্তরে আমিনুল ইসলাম বুলবুল আর মাশরাফি বিন মর্তুজা এখনও দেশেই অবস্থান করছেন। ভক্ত-সমর্থকরা ধারণা করেছিলেন হয়তো তাদের এই অনুষ্ঠানে হাজির করে বোর্ড প্রধান হওয়ার পর থেকেই একের পর এক বিষ্ময়ের জন্ম দেওয়া তামিম ইকবাল চমকে দিবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে উঠেনি।কিন্তু কেন? ক্রীড়ামোদিদের ধারণা, সদ্যই বিসিবি থেকে অপসারিত আমিনুল ইসলাম এখনও ‘অভিমান’ করে আছেন তামিম ইকবালের উপর। কেননা, তাদের লড়াইটা তো দেশের ক্রিকেটে বেশ কিছুদিন ধরেই প্রকাশ্যে চলেছে। যে কারণেই হয়তো বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান উপস্থিত হননি এই অনুষ্ঠানে। তবে তামিম ইকবাল চেষ্টার ঘাটতি রাখেননি। সাবেক অধিনায়কদের সবাইকেই এই অনুষ্ঠানে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তামিম। যদিওবা সদ্য সাবেক সভাপতি আমিনুলকে আমন্ত্রণ জানাতে গিয়েও পারেননি। কারণটাও স্পষ্ট করেছেন বিসিবি প্রধান। তিনি বলেন, ‘আমি বুলবুল ভাইকে কল করেছি, ওনাকে মেসেজ পাঠিয়েছি, তারপর বুঝতে পারলাম আমিও ব্লকড্।’ গত ৭ এপ্রিল আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দিয়ে তামিমের নেতৃত্বে অ্যাডহক কমিটি হয়। আর সেই বোর্ডে থাকা আমিনুল ছাড়াও ফারুক আহমেদ ও খালেদ মাসুদ আসেননি। তাহলে রইলো বাকি মাশরাফি। বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক তিনিই। বলা হয়ে থাকে, যিনি সফল তিনিই সেরা—বাংলাদেশের অধিনায়কদের সাফল্যের বিচারে মাশরাফি বিন মর্তুজা যে সবার ওপরে থাকবেন, সেটি আর নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। আজ তার উপস্থিত না থাকাটাও অবশ্য স্বাভাবিক। কেননা, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় হলো প্রকাশ্যে দেখা যায়নি মাশরাফিকে। এরপর থেকেই মাশরাফি যেন ‘নিখোঁজ’। আজকের অনুষ্ঠান যেন আরও একবার প্রমাণ করে দিয়ে গেল তা। তবে যারা এখনও কার্ড নেননি, তারা চাইলে যেকোনো সময় এসেই তা নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তামিম। বোর্ড প্রধানের ভাষ্যমতে, ‘যখনই আপনারা পারেন, যখনই আপনারা দেশে আসবেন, প্লিজ কার্ডটা গ্রহণ করবেন।’ তামিমের মতে, ‘এটা সবসময় আপনাদের জন্য বিসিবিতে থাকবে। বাংলাদেশ ক্রিকেটে আপনাদের অবদান অনেক। আমি রাজনীতি বা বিসিবিতে সম্প্রতি যা হয়েছে, তা নিয়ে বলতে চাই না। আমরা সবাই ক্রিকেটার এবং একে–অন্যকে সম্মান করি।’ দীর্ঘ সময়ের পথ পরিক্রমায় এটা বলা যায় যে, বাংলাদেশ ক্রিকেট মানেই শুধু একটি দল না—এটা একটা আবেগ, একটা ইতিহাস। আর সেই ইতিহাসে বুলবুল-মাশরাফি-সাকিবদের না থাকাটা যেন এক ‘অসমাপ্ত’ কাহিনী। দেশের ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, পারফরম্যান্স, নেতৃত্ব, আর জনপ্রিয়তা—সব দিক থেকেই তারা এক অনন্য উচ্চতায়। তবুও বাস্তবতা কখনও কখনও কঠিন। নানা পরিস্থিতি আর সময়ের খেলায়, অধিনায়কত্বের ফ্রেমে তাদের জায়গা সবসময় হয়তো দেখা যায় না। কিন্তু ইতিহাস কি কখনো ফ্রেমে বন্দি থাকে? ছবিতে না থাকলেও, এই মানুষগুলো বেঁচে থাকবেন কোটি ভক্তের হৃদয়ে। তাদের অবদান, তাদের লড়াই, আর দেশের জন্য দেওয়া ভালোবাসা—এসবই বাংলাদেশ ক্রিকেটকে আজকের জায়গায় নিয়ে এসেছে। যা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। বাংলাদেশ ক্রিকেটের গল্প লিখতে গেলে, এই নামগুলো কখনোই বাদ দেওয়া যাবে না।