আবারও ফোর্বসের শীর্ষ উপার্জনকারী ক্রীড়া অ্যাথলেট হয়েছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এ নিয়ে টানা চতুর্থ এবং সবমিলিয়ে ষষ্ঠবার ক্রীড়াবিদদের মধ্যে আয়ের শীর্ষে অবস্থান করছেন সিআরসেভেন। ২০২৫ সালে ৩০০ মিলিয়ন ডলার (৩৬৮৮ কোটি টাকারও বেশি) আয় করেছেন রোনালদো। মাঠে আয় ২২৫ মিলিয়ন এবং মাঠের বাইরে ৬৫ মিলিয়ন ডলার করেছেন এই ফুটবলার।
এই তালিকার দুইয়ে আছেন মেক্সিকোর বক্সার কানেলো আলভারেজ। ৩৫ বছর বয়সী আলভারেজ ২০২৫ সালে মোট ১৭০ মিলিয়ন ডলার (২০৯০ কোটি টাকার বেশি) আয় করেছেন। এর মধ্যে মাঠে ১৬০ মিলিয়ন এবং বাহ্যিক কার্যক্রমে ১০ মিলিয়ন ডলার আয় করেন মেক্সিকোর এই বক্সার।
অন্যদিকে, রোনালদোর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি আছেন তালিকার ক্রীড়াঙ্গনের শীর্ষ আয়ের তালিকায় তিনে। গত এক বছরে মেসির আয় ১৪০ মিলিয়ন ডলার (১৭২১ কোটি টাকার বেশি)। এর মধ্যে তিনি ৭০ মিলিয়ন মাঠের পারফরম্যান্স এবং বাকি ৭০ মিলিয়ন ডলার মাঠের বাইরের নানা কার্যক্রমে পকেটে পুরলেন।
ক্রীড়া অ্যাথলেটদের ভেতর এরপর শীর্ষ উপার্জনকারী ব্যক্তিদের মাঝে ১০-এর ভেতর আছেন– যুক্তরাষ্ট্রের বাস্কেটবল কিংবদন্তি লেব্রন জেমস (১৩৭.৮ মিলিয়ন ডলার), জাপানের বেসবল খেলোয়াড় শোহেই ওহতানি (১২৭.৬ মিলিয়ন ডলার), যুক্তরাষ্ট্রের বাস্কেটবল তারকা স্টিফেন কুরি (১২৪.৭ মিলিয়ন ডলার), স্পেনের গলফার জন রাম (১০৭ মিলিয়ন ডলার), ফ্রান্সের সাবেক ও আল হিলালের তারকা করিম বেনজেমা (১০৪ মিলিয়ন ডলার), যুক্তরাষ্ট্রের বাস্কেটবল খেলোয়াড় কেভিন ডুরান্ট (১০৩.৮ মিলিয়ন ডলার) এবং যুক্তরাজ্যের অটো-রেসিং তারকা লুইস হ্যামিল্টন (১০০ মিলিয়ন ডলার)।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলেই বড় চমক দেখিয়েছে কেপ ভার্দে। শক্তিশালী স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে স্মরণীয় সূচনা করেছে আফ্রিকার দেশটি। ম্যাচজুড়ে বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল স্পেনের। তবে কেপ ভার্দের দৃঢ় রক্ষণ এবং গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার অনবদ্য পারফরম্যান্সের কারণে একটিও গোল করতে পারেনি সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়া ছিলেন ম্যাচের সবচেয়ে বড় নায়ক। স্পেনের একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে তিনি দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। প্রথমার্ধে স্পেনের ফেরান তোরেস গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তাঁর শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে নেওয়া হেডও দুর্দান্তভাবে প্রতিহত করেন ভোজিনিয়া। বিরতির আগ পর্যন্ত আরও কয়েকটি আক্রমণ ব্যর্থ করে দেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধেও স্পেন গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ম্যাচের ৭১তম মিনিটে তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে মাঠে নামানো হয়। এটি ছিল তাঁর বিশ্বকাপ অভিষেক। তবে ইয়ামালের উপস্থিতিতেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি স্পেন। ম্যাচটি আরও একটি বিশেষ কারণে আলোচনায় এসেছে। ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল এবং ৪০ বছর বয়সী ভোজিনিয়ার মধ্যে বয়সের পার্থক্য ছিল ২১ বছরেরও বেশি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে একই ম্যাচে মুখোমুখি হওয়া দুই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের মধ্যে এটি অন্যতম বড় বয়সের ব্যবধান। শেষ পর্যন্ত কোনো দলই গোল করতে না পারায় ০-০ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ। ফলে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই স্পেনের মতো শক্তিশালী দলকে রুখে দিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা সাফল্য অর্জন করে কেপ ভার্দে। শেষ বাঁশি বাজার পর কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। অন্যদিকে জয় হাতছাড়া হওয়ায় হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে স্পেনকে। বিশ্বকাপের শুরুতেই এমন ফলাফলে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনার।
খেলার মাঠেও শৃঙ্খলা এবং দায়িত্ববোধের উদাহরণ হিসেবে আবারও প্রশংসা কুড়িয়েছেন জাপানের সমর্থকরা। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর অন্য দর্শকদের মতো তড়িঘড়ি স্টেডিয়াম ত্যাগ না করে, পুরো গ্যালারি পরিষ্কার করে তবেই মাঠ ছাড়েন তারা। জাপানি সমর্থকদের জন্য অবশ্য এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও প্রতিটি ম্যাচের পর একই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। শুধু নিজেদের দলের ম্যাচ নয়, অন্য দলের খেলা দেখতে গিয়েও গ্যালারি পরিষ্কার করার নজির স্থাপন করেছিলেন তারা। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হয় জাপান। রোমাঞ্চকর সেই ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়। তবে খেলার ফলের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে আসে জাপানি সমর্থকদের অসাধারণ দায়িত্বশীল আচরণ। ম্যাচ শেষে ডালাসের স্টেডিয়ামে দেখা যায়, গ্যালারিতে পড়ে থাকা পানির বোতল, খাবারের মোড়কসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা নিজেরাই সংগ্রহ করছেন জাপানের সমর্থকরা। বড় প্লাস্টিকের ব্যাগে সেগুলো ভরে নির্ধারিত বর্জ্য ফেলার স্থানে নিয়ে যান তারা। পুরো এলাকা পরিষ্কার করার পরই স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। এই ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ফুটবলপ্রেমীরা তাদের এই সচেতনতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধের ভূয়সী প্রশংসা করেন। মূলত জাপানের ক্রীড়া সংস্কৃতিরই অংশ এই অভ্যাস। দেশটির ঘরোয়া ফুটবল লিগের ম্যাচগুলোতেও খেলা শেষে সমর্থকদের স্টেডিয়াম পরিষ্কার করতে দেখা যায়। তাদের বিশ্বাস, খেলা দেখতে গিয়ে যে আবর্জনা তৈরি হয়, সেটি পরিষ্কার করার দায়িত্বও দর্শকদেরই। সে দায়িত্ববোধ থেকেই তারা নিয়মিত এ কাজ করে আসছেন। বিশ্বের বিভিন্ন ক্রীড়া আসরে বারবার একই চিত্র ফুটে ওঠে— খেলা শেষ, দর্শকশূন্য হচ্ছে গ্যালারি, আর হাতে প্লাস্টিকের ব্যাগ নিয়ে স্টেডিয়াম পরিষ্কারে ব্যস্ত জাপানের সমর্থকরা। দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের এই দৃষ্টান্ত আবারও বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হলো।
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে প্রায় ১৩ হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থকের স্টেডিয়ামে প্রবেশ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছে দেশটির সরকার। সন্তানদের মৌলিক চাহিদা ও নিয়মিত ভরণপোষণ (চাইল্ড সাপোর্ট) না দেওয়া এবং বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে। তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বিশ্বকাপ চলাকালে স্টেডিয়ামে প্রবেশ ঠেকাতে সহযোগিতা চেয়েছে আর্জেন্টিনার সরকার। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্তানদের ভরণপোষণ বা ‘চাইল্ড সাপোর্ট’ বকেয়া রাখার অভিযোগ রয়েছে। আর্জেন্টিনা সরকারের ‘সেফ স্ট্যান্ডস’ কর্মসূচির আওতায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য যারা সন্তানদের মৌলিক চাহিদার অবহেলা করে ফুটবল ম্যাচ দেখার পেছনে টাকা ও সময় খরচ করে তাদেরকে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা। আর্জেন্টিনা সরকারের মনে করে, যারা নিজের সন্তানের মৌলিক দায়িত্ব পালন করেন না, তাদের বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। এ বিষয়ে বুয়েনস আইরেসের মেয়র হোর্হে মাখরি বলেন, ‘যদি কেউ নিজের সন্তানের প্রয়োজন মেটাতে না পারে, তাহলে তার কোনো স্টেডিয়ামে প্রবেশের অধিকার থাকা উচিত নয়।’ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সম্প্রসারিত হওয়ার পর থেকে ‘সেফ স্ট্যান্ডস’ কর্মসূচির আওতায় আর্জেন্টিনার ১ হাজার ৩২৮টি ফুটবল ম্যাচে ৪০ লাখের বেশি দর্শককে যাচাই করা হয়েছে। এ সময় ১ হাজার ১৬৬ জনের বিরুদ্ধে বিদ্যমান গ্রেপ্তারি পরোয়ানা শনাক্ত করা হয় এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের এবারের আসরেও শিরোপার অন্যতম দাবিদার। ‘জে’ গ্রুপে লিওনেল স্কালোনির দল প্রথম ম্যাচ খেলবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে। আগামী ১৭ জুন বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় ম্যাচটি মাঠে গড়াবে। গ্রুপ পর্বের পরের দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান।