টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের আদলে দেশের কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করবে সরকার। তবে প্রাথমিকভাবে এটি সারাদেশে একযোগে চালু না হয়ে অঞ্চলভিত্তিক পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে তা সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়–এ এ তথ্য জানান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সরকারের লক্ষ্য দেশের সব কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা।
তথ্যমন্ত্রী জানান, কৃষক কার্ড ইস্যুতে বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চলছে। নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী কৃষকদের জন্য কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় যত দ্রুত সম্ভব ফ্যামিলি কার্ডের মতোই কৃষক কার্ডের পাইলট প্রকল্প শুরু করা হবে।
কবে নাগাদ বিতরণ শুরু হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রস্তুতির নানা বিষয় থাকায় নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
মন্ত্রী আরও জানান, এই কার্ডের মাধ্যমে একজন কৃষক উৎপাদনসংক্রান্ত সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন। কোনো লিকেজ বা মধ্যস্বত্বভোগী যাতে সুবিধা নিতে না পারে, সেজন্য স্মার্ট কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একজন সিম ব্যবহারকারী যেমন সরাসরি ব্যাংকিং বা অন্যান্য সেবা পান, তেমনি এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকের সঙ্গে রাষ্ট্রের সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে। ফলে কৃষক সরাসরি সুবিধা পাবেন এবং রাষ্ট্রও তাদের সমস্যা দ্রুত জানতে পারবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
রোজা এলেই প্রতি বছর নিতপণ্যের দাম বেড়ে যায়। পবিত্র এ মাসে ভোক্তার চাহিদা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মূল্য চড়ান কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিয়েছিলেন ঢাকা-১২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা সাইফুল আলম খান মিলন। তার তৎপরতা বেশ কাজেও দিয়েছে। দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন রাজধানীর কারওয়ান বাজারের দোকানদাররা। রোজায় লেবু-তেল-চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশকিছু পণ্যের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা। আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) কারওরান বাজারের কিচেন মার্কেটে ইসলামিয়া শান্তি সমিতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দাম কমানোর এ ঘোষণা দেন ব্যবসায়ীরা। রমজান মাস উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় ঢাকা-১২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন উপস্থিত ছিলেন। ব্যবসায়ীদের সংবাদ সম্মেলনে সম্মতি প্রকাশ করতেই তিনি এসেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিটি লেবু ২ টাকা, তেল প্রতি লিটারে ১ টাকা, চিনি প্রতি কেজি ১ টাকা, ছোলা ২ টাকা, ট্যাং ২০০ গ্রামের প্যাকেটে ৫ টাকা, গরুর মাংস প্রতি কেজি ৩০ টাকা ও মিনিকেট চালের দাম প্রতি কেজি ১ টাকা কমিয়ে বিক্রির ঘোষণা দেন ব্যবসায়ীরা। এ সময় কারওয়ান বাজার পাকা মার্কেট আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘আমরা শ্রীমঙ্গল থেকে ১১ থেকে ১২ টাকা দরে প্রতিটি লেবু কিনি। সেটা কারওয়ান বাজারে এনে ৫ ক্যাটাগরিতে আলাদা করে বিক্রি হয়। কিছু লেবু ৩-৪ টাকা বিক্রি হয়, আবার ভালো বড় লেবুর দাম ১৭ টাকায়ও বিক্রি হয়। আমরা এখন থেকে প্রতি লেবুতে ২ টাকা কমিয়ে দেবো। অর্থাৎ, যে লেবুর দাম ১৭ টাকা ছিল, সেটা ১৫ টাকায় বিক্রি হবে। এদিকে সংবাদ সম্মেলনে সব তেল বিক্রেতার পক্ষে আখি ইন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আমরা ৫ লিটার তেল ৯২০ টাকা বিক্রি করি। গায়ের দাম আরও বেশি, ৯৫০ টাকা। এখন থেকে প্রতি ৫ লিটারে আরও ৫ টাকা ছাড় দেওয়া হবে। কিচেন মার্কেটের সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বলেন, চিনি প্রতি কেজি প্যাকেটের গায়ের দাম ১০৫ টাকা, যা ১০২ টাকায় আমরা কারওয়ান বাজারে বিক্রি করতাম, এখন থেকে ১০১ টাকা বিক্রি করবো। কুমিল্লা স্টোরের কর্ণধার গোফরান বলেন, এতদিন আমরা ছোলা ৮০ টাকা কিনে ৮৫ টাকা কেজি বিক্রি করেছি, এখন লাভ ২ টাকা কমিয়ে ৮৩ টাকা বিক্রি করবো। রমজানের প্রয়োজনীয় আরেক পণ্য ট্যাংয়ের দাম নিয়ে এক ব্যবসায়ী বলেন, বাজারে ২ কেজি জার ট্যাং ১ হাজার ৯০০ টাকা এমআরপিতে বিক্রি হয়। আমাদের কারওয়ান বাজারে বিক্রি হতো ১ হাজার ৫৮০ টাকা। এখন ১ হাজার ৫৬০ টাকা বিক্রি হবে। ছোট পেপার বক্স ৩৮০ টাকা বিক্রি হবে, যা আগে ৩৮৫ টাকা ছিল। মাংস ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এখন থেকে আমরা ৩০ টাকা কমে ৭৫০ টাকায় প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি করবো। চাল ব্যবসায়ীরা বলেন, আগে মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ২ টাকা লাভ করতাম, এখন ১ টাকা লাভে বিক্রি করবো। এখন থেকে মিনিকেট চাল ৮১ টাকা থেকে কমিয়ে ৮০ টাকা বিক্রি হবে। এ সময় জামায়াতের এমপি মিলন বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এ দাম কমিয়েছি। কারও ওপর চাপিয়ে দিতে চাইনি। রমজানের দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতা থেকে লাভের আংশ থেকে তারা এ ছাড় দিয়েছেন। আমি ব্যবসায়ীদের কনভিন্স করে দাম কমাবো। তাদের জোর-জবরদস্তি করে পায়ে ঠেলতে চাই না, বুকে ধরে দাম কমাতে চাই।’
৫ আগস্টের পরে যেসব বড় বড় ব্যবসায়ী এবং স্বনামধন্য ব্যক্তি, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মামলার আসামি করা হয়েছে এবং ভোগান্তিতে আছেন, সেসব বিষয় যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব অধিদপ্তর ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘৫ আগস্টের পরে বেশ কিছু মামলা হয়েছে। এখানে কিছু সুবিধাবাদী শ্রেণির মানুষ এ সুযোগে ভোগান্তি সৃষ্টির জন্য অনেককে আসামি করেছে, যারা সেখানে জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না। সেই জায়গায় অনেক বড় বড় ব্যবসায়ী এবং অনেক স্বনামধন্য ব্যক্তি, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও এ রকম আসামি করা হয়েছে। অনেক মানুষকে এভাবে ভোগান্তিতে ফেলা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সেটা আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বলেছি। তাদের যথাযথ ব্যবস্থা করা এবং তারা যেন ভোগান্তির শিকার না হন, সেগুলো দেখবে এবং এই ক্ষেত্রে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি, যাতে আইনের শাসন আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারি, সেই লক্ষ্যে যেন এই কাজটা করে। কারণ আমরা ঘোষণা দিলাম, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করব, সুশাসন জারি করব; কিন্তু এই নিরীহ মানুষগুলো অনেক ক্ষেত্রে মামলাবাজির শিকার হয়ে হয়তো ভোগান্তিতে আছেন। এটা এখন যাচাই-বাছাই করে দেখবে এবং সে মতো ব্যবস্থা নেবে।’ এক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা যাচাই-বাছাই করার জন্য কমিটির দরকার নেই, এটা পুলিশের কাজ, তারাই করবে। সময় বেঁধে দেওয়া হয়নি, দ্রুত একটা রিপোর্ট দেবে’ বলে তিনি জানান। এর মধ্যে সাংবাদিক আছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকরা কি মানুষ না, সব মানুষই আছে, আইনের শাসন সবাই পাবে।’
জরুরি ভিত্তিতে ২ হাজার ৭০১ জন কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়–এ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি পুলিশের কাজে অবৈধভাবে বাধা বা হস্তক্ষেপ করে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক হোক কিংবা সামাজিক—কেউ পুলিশের বৈধ কাজে বাধা দিতে পারবে না। একই সঙ্গে পুলিশের কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে জনভোগান্তি না হয়। তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় যেসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, সেগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হবে। লাইসেন্সগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় দেওয়া হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে।