ফুটবল বিশ্ব কি আরও একটি বেলো হরাইজন্তের সেই ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি দেখতে যাচ্ছে? ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ব্রাজিলের সেই চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাওয়ার অবিশ্বাস্য ভূত যেন এবার এসে ভর করল ফরাসি শিবিরের ওপর।
চলতি বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী হাইভোল্টেজ ম্যাচে প্রথমার্ধের বাঁশি বাজার আগেই ফ্রান্সের জালে একে একে চারবার বল জড়িয়ে এক কল্পনাতীত তাণ্ডব চালাল ইংল্যান্ড। থ্রি লায়ন্সদের এই গোল উৎসবের বিপরীতে মাঠে ফরাসি ডিফেন্ডারদের অসহায় আত্মসমর্পণ দেখে গ্যালারিতে থাকা হাজারো ফরাসি সমর্থক তখন গালে হাত দিয়ে অশ্রুসজল চোখে স্তব্ধ হয়ে বসে আছেন। ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটেই কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্সকে এভাবে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে এক মহানাটকীয় রূপকথার জন্ম দিল ইংলিশরা।
খেলার শুরু থেকেই ফরাসি রক্ষণভাগের হতশ্রী চেহারার সুযোগ নিয়ে আক্রমণের ঝড় তোলে থ্রি লায়নরা। ম্যাচের মাত্র ৩ মিনিটেই ফ্রান্সের রক্ষণভাগ ভেঙে প্রথম গোলটি করেন ডেক্লান রাইস। শুরুর ধাক্কা সামলে ফ্রান্স যখন ঘুরে দাঁড়ানোর ছক কষছিল, ঠিক তখনই ১৮ মিনিটের মাথায় এজরি কোনসা গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর শুরু হয় বুকায়ো সাকার একক জাদু; ৩৭ মিনিটে নিজের প্রথম এবং দলের তৃতীয় গোলটি করার পর প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (৪৫+১ মিনিট) ফরাসিদের জালে আবারও বল জড়িয়ে হ্যাটট্রিকের দোরগোড়ায় পৌঁছান এই তারকা উইঙ্গার।
প্রথমার্ধের এই ৪টি গোল যেন বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছিল ২০১৪ সালের সেই সেমিফাইনালে টনি ক্রুস আর মিরোস্লাভ ক্লোসাদের সামনে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের ভেঙে পড়ার সেই দুঃসহ দৃশ্য।
খেলার প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়ে গেছে তুমুল ঝড়। ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই একে ব্রাজিলের সেই ‘সেভেন-আপ’ ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখছেন, যেখানে প্রথমার্ধে জার্মানি ৫ গোল দিয়েছিল সেলেসাওদের।
ফ্রান্সের কোচ ডাগআউটে দাঁড়িয়ে মাথায় হাত দিয়ে যখন শিষ্যদের এই বিপর্যয় দেখছিলেন, তখন অন্যদিকে ইংলিশ শিবিরে বইছিল বাঁধভাঙা উল্লাস। রাইস, কোনসা ও সাকার এই ৪-০ গোলের মহাপ্রলয়ের পর দ্বিতীয়োর্ধে ফ্রান্স নিজেদের সম্মান বাঁচাতে কতটুকু ঘুরে দাঁড়াতে পারে, কিংবা ইংল্যান্ড গোলের সংখ্যাকে কোথায় নিয়ে ঠেকায়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
অভাবের কারণে লামিনে ইয়ামাল একসময় এমন এক ফ্ল্যাটে থাকতেন, যেখানে রান্নাঘর আর শোবার ঘর একসঙ্গে ছিল। সেই ইয়ামাল ফুটবল বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তারকা হয়েছেন আরো আগেই। সম্প্রতি স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা এই উইঙ্গার এবার কিনলেন প্রাসাদসম এক বাড়ি, যেখানে একসময় থাকতেন বার্সা কিংবদন্তি জেরার্দ পিকে ও তার সাবেক প্রেমিকা পপ গায়িকা শাকিরা। স্পেনের ক্রীড়া দৈনিক স্পোর্তের খবরে বলা হয়েছে, কাতালোনিয়ার এসপ্লুগেস দে লোব্রেগাত এলাকায় অবস্থিত ইয়ামালের প্রাসাদসম এই বাড়ির দাম ১ কোটি ৫ লাখ ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। পিকে-শাকিরার সম্পর্কের শুরু ২০১০ সালে। বাড়িটি নির্মাণ করা হয় ২০১২ সালে। তখন থেকে ২০২২ সালে বিচ্ছেদের আগপর্যন্ত তারা সেই বাড়িতেই থাকতেন। দুজন আলাদা হয়ে যাওয়ার পরপরই বাড়িটি বিক্রির চেষ্টা করে আসছিলেন। স্পেনের আরেক সংবাদমাধ্যম এল পাইসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিকে-শাকিরার পুরোনো আর ইয়ামালের বর্তমান ঠিকানা হতে চলা ভূসম্পত্তিটি ৩৮০০ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। বিশাল এই জায়গায় রয়েছে তিনটি ভবন—একটি মূল বাড়ি এবং দুটি আলাদা বাসভবন। এ ছাড়া ইনডোর ও আউটডোর সুইমিংপুল, টেনিস কোর্ট, জিমনেসিয়াম, একাধিক চত্বর, সিনেমা হল এমনকি একটি রেকর্ডিং স্টুডিও আছে। প্রথমে তিনটি ভবন মিলিয়ে এই সম্পত্তির দাম ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ইউরো (প্রায় ২০০ কোটি টাকা), যা ২০২২ সালে বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। পরে একটি ছোট ভবন বিক্রি হয়ে যাওয়ায় পুরো দাম থেকে ৩৫ লাখ ইউরো (প্রায় ৫০ কোটি টাকা) কমানো হয়। ফলে বর্তমানে এর মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫ লাখ ইউরো (প্রায় ১৫০ কোটি টাকা)। এই দুই ভবনে শোবার ঘর ছয়টি ও বাথরুম পাঁচটি। ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল শুরু থেকেই এই সম্পত্তি কেনার ব্যাপারে বেশ আগ্রহী ছিলেন। এটি কিনতে তিন মাস ধরে আলোচনা চলেছে। আইনজীবীরা পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। বাড়ির সাবেক মালিক পিকে ও শাকির অনুপস্থিত থাকায় দরকষাকষির পর সমঝোতায় পৌঁছাতে সময় লেগেছে। মালিকানা পাওয়ার পর নিজের পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী বাড়িটি সাজাতে চান ইয়ামাল। এ জন্য কিছু অর্থ সংস্কারকাজে ব্যয় করবেন বলে জানিয়েছে এল পাইস। এত দামি বাড়ি কেনার সামর্থ্য অনেক ফুটবলারেরই নেই। কিন্তু ইয়ামালের ফুটবল প্রতিভা তাকে বিশাল অংকের অর্থ উপার্জনের সুযোগ করে দিয়েছে। বার্সেলোনার সঙ্গে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তি আছে ইয়ামালের। এই চুক্তিতে তার বার্ষিক বেতন প্রায় ৩ কোটি ইউরো (৪২৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা)। চুক্তির পুরো সময় বার্সায় কাটালে ১৮ কোটি ইউরো (২৫৬৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা) পর্যন্ত আয় করতে পারেন। এ ছাড়া বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি থেকে বড় অংকের অর্থ তো পাবেনই। বিখ্যাত সাময়িকী ফোর্বস জানিয়েছে, সব মিলিয়ে ইয়ামালের বছরে আয় হতে পারে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ ইউরো (প্রায় ৫২৭ কোটি টাকা)। এতে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আয় করা ফুটবলারদের তালিকায় জায়গা পাবেন, যেখানে লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহামের মতো তারকারা আছেন। সূত্র : গোল.কম
প্রথম কোয়ালিফায়ারে ঝড়ো ফিফটি করা তাওহিদ হৃদয় জ্বলে উঠতে পারলেন না শিরোপার মঞ্চে। ব্যাটিংয়ে কিছু করতে পারলেন সাকিব আল হাসানও। পরে যদিও দারুণ বোলিংয়ে দুটি উইকেট নিলেন তিনি। কিন্তু অল্প পুঁজি নিয়ে পেরে উঠল না তাদের দল। জাফনা কিংসকে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলো গল গ্যালান্টস। লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) ষষ্ঠ আসরের ফাইনালে গলের জয় ৫ উইকেটে। জাফনাকে ১২৩ রানে গুটিয়ে দিয়ে ২৫ বল হাতে রেখে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে দাসুন শানাকার দল। শ্রীলঙ্কার এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে তিনটি ফাইনালে হারের পর অবশেষে প্রথম শিরোপার স্বাদ পেল গল ফ্র্যাঞ্চাইজি। গল গ্ল্যাডিয়েটরস নামে প্রথম দুই আসরের ফাইনালে ও গল মার্ভেলস নামে পঞ্চম আসরের ফাইনালে জাফনা ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছেই হেরেছিল তারা। এবারের আসরে প্রথম কোয়ালিফায়ারেও জাফনা বিপক্ষে তারা তেতো স্বাদ পেয়েছিল। প্রথমবার ফাইনালে হারলেও চারটি শিরোপা জিতে এখনও এলপিএলের সফলতম দল জাফনা ফ্র্যাঞ্চাইজি। কলম্বোয় শনিবার হৃদয় ১০ বলে করতে পারেন ১০ রান। সাকিব ৯ রান করতে খেলেন ১৩ বল। বল হাতে চার ওভারে ১৫ রানে ২ উইকেট শিকার করেন ৩৯ বছর বয়সী এই বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার। আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে জাফনা। আভিশকা ফার্নান্দো ও কামিল মিশারা উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ২৫ রান। শেষ পর্যন্ত এটিই হয়ে থাকে দলটির সর্বোচ্চ জুটি! নিয়মিত উইকেট হারায় জাফনা। ১৬ বলে ২০ রান করে ফেরেন আভিশকা। খাওয়াজা নাফে বিদায় নেন শূন্য রানে। চার নম্বরে নেমে একটি চার মারেন হৃদয়। অষ্টম ওভারে লেগ স্পিনার সাচিন্দু কলম্বাগের বল উড়িয়ে মেরে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন তিনি। অধিনায়ক ভানুকা রাজাপাকসা, দুনিথ ওয়েলালাগে ও সাকিব দুই অঙ্কে যেতে পারেননি। পাঁচ চারে ৩২ বলে ৪১ রান করে ফেরেন মিশারা। আট নম্বরে চামিন্দু উইক্রামাসিংহের ১৬ বলে ২৪ রানের ক্যামিওতে একশ ছাড়াতে পারে জাফনা। আঁটসাঁট বোলিংয়ে গলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি করে উইকেট নেন চারিথ আসালাঙ্কা ও ইশান মালিঙ্গা। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় গলের শুরুটা ভালো ছিল না। প্রথম দুই ওভারে স্যাম হার্পার ও আসালাঙ্কাকে হারায় তারা। ১০ রানে ২ উইকেট হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে ৬৪ রানের চমৎকার জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন টমাস রজার্স ও দিনুরা কালুপাহানা। পাওয়ার প্লেতে এক ওভার বোলিং করে একটি চারে ৫ রান দেওয়া সাকিবকে আক্রমণে ফেরানো হয় নবম ওভারে। এই ওভারের প্রথম ও শেষ বলে দুই থিতু ব্যাটসম্যানকেই বিদায় করে দেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক। অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বলে হাঁটু গেড়ে স্লগ সুইপের চেষ্টায় ক্যাচ তুলে দেন রজার্স (২৭ বলে ৩২)। দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড হন দিনুরাকে (১৯ বলে ৩১)। নিজের পরের ওভারে কেবল ২ রান দেন সাকিব। তার বোলিং ফিগার তখন ৩-০-৮-২! জয় থেকে ২১ রান দূরে থাকতে চামিকা কারুনারাত্নেকে হারালেও গলকে দুর্ভাবনায় পড়তে হয়নি। সাকিবের শেষ ওভারে প্রথম বলে চার মেরে দেন শানাকা। এই ওভারে আসে ৭ রান। পরের ওভারে লিজাড উইলিয়ামকে পরপর চার ও ছক্কা মেরে জয় নিশ্চিত করেন শানাকাই। ৯ বলে ২০ রানে অপরাজিত থাকেন শিরোপা জয়ী গল অধিনায়ক।
জীবনে অনেক ভুলই শুধরে নিয়েছেন কাসেমিরো। তবে একটা ভুল কোনোদিনও ঠিক করতে চান না ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার। সেই ভুলটা হচ্ছে জার্সিতে থাকা তার নামের বানান। ভুলটা অবশ্য নিজে করেননি কাসেমিরো। করেছে তার শৈশবের ক্লাব সাও পাওলো। ৩৪ বছর বয়সী তারকার পুরো নাম কার্লোস হেনরিকে জোসে ফ্র্যান্সিসকো ভেনাসিও কাসেমিরো (Carlos Henrique Jose Francisco Venancio Casimiro)। ২০০২ সালে সাও পাওলোয় যোগ দেওয়ার পর তার নামে জার্সি বানায় ক্লাব। তার জার্সির পেছনে ‘Casimiro’ পরিবর্তে ‘Casemiro’ লেখা হয়। শুরুতে একটু খারাপ লাগলেও সে ম্যাচে দুর্দান্ত খেলায় পরে আর নাম পরিবর্তন করতে চাননি তিনি। সেই ভুল নামেই ব্রাজিল, রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে এখন ইন্টার মায়ামিতে খেলছেন তিনি। নামের ভুল বানান নিয়ে ইতালির সংবাদ মাধ্যম লা রিপাবলিকাকে কাসেমিরো বলেছেন, ‘সবার কাছে আমি আজীবন ‘কাসেমিরো’ (Casemiro) হয়েই থাকব। সব দোষ সাও পাওলোর! ব্যাপারটা শুরু হয়েছিল তখন, যখন আমি সাও পাওলোর হয়ে আমার প্রথম ম্যাচ খেলছিলাম। এই ক্লাবের বয়সভিত্তিক দল থেকে উঠে মূল দলে খেলেছি (২০০২ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত)। তারা দুর্ঘটনাবশত আমার জার্সিতে নামের বানান ‘i’-এর জায়গায় ‘e’ লিখেছিল। আর সেই ম্যাচে আমি দারুণ খেলেছিলাম!’ বানান ঠিক না করার পেছনে কুসংস্কার কাজ করেছে বলে জানান কাসেমিরো।