বিশ্ব

পাকিস্তানের আকাশে ঐতিহাসিক মুহূর্ত: যুদ্ধবিমানের কড়া পাহারায় নামলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট

মারিয়া রহমান জুন ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলার পর এটিই প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের প্রথম বিদেশ সফর। এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যার ঠিক একদিন আগেই পাকিস্তান ও কাতার ঘোষণা করেছে যে সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উচ্চ-পর্যায়ের প্রথম দফার বৈঠক থেকে একটি চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে ৬০ দিনের একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।

 

ইরানি প্রেসিডেন্টের বিমানটি পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করার সাথে সাথেই পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ এসকর্ট স্কোয়াড্রন সেটিকে স্বাগত জানায়। এরপর জেএফ-১৭ থান্ডার এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমান নিয়ে গঠিত ছয়টি ফাইটার জেটের একটি ফর্মেশন রাষ্ট্রপতির বিমানটিকে নিরাপদে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং তাকে সম্মান জানিয়ে আকাশেই একটি আনুষ্ঠানিক স্যালুট প্রদর্শন করে। 

 

আকাশপথের এই বিশেষ স্কোয়াড্রনের দলনেতা এ সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং দেশের জনগণের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা বার্তা পৌঁছে দেন।

 

পাকিস্তান বিমান বাহিনী কর্তৃক আয়োজিত এই ঐতিহ্যবাহী বিমান এসকর্ট অন্য দেশ থেকে আসা রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রতি পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের আতিথেয়তা ও গভীর শ্রদ্ধাবোধেরই প্রতিফলন ঘটায়। একই সাথে এই আড়ম্বরপূর্ণ অভ্যর্থনায় জেএফ-১৭ থান্ডার এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের অংশগ্রহণ পাকিস্তান বিমান বাহিনীর আধুনিক কর্মক্ষমতা, পেশাদারিত্ব এবং সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছে।

 

সূত্র: জিও নিউজ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।
প্রতিরক্ষা-এআইসহ বড় চুক্তিতে সৌদি আরব ও ফ্রান্স

সৌদি আরব ও ফ্রান্স প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারসহ বিনিয়োগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), পর্যটন, অবকাঠামো ও সংস্কৃতি খাতে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই করেছে।   গত সোমবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সফরকালে প্রথমবারের মতো ফ্রাঙ্কো-সৌদি স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ কাউন্সিলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পরই এসব চুক্তি সই করা হয়।   স্বাক্ষরিত নতুন এ চুক্তির লক্ষ্য হলো আধুনিক প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা শিল্প এবং দু’দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রশিক্ষণ এবং সামরিক শিক্ষায় বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বিনিময় সহজতর করা।   এচাড়া প্রাচীন মরূদ্যান শহর আলউলা উন্নয়ন ও সংরক্ষণে বিদ্যমান সহযোগিতা চুক্তিও সংশোধন ও সম্প্রসারণ করেছে দুই দেশ। নতুন চুক্তির আওতায় ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। প্রত্নতত্ত্ব, সাংস্কৃতিক উদ্যোগ, প্রশিক্ষণ, পর্যটন, উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন এবং আলউলার জীবমণ্ডল সংরক্ষণে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।   এ ছাড়া প্যারিস অঞ্চলের সার্জি-পন্তোয়াজ শহরে কিদ্দিয়া বিনিয়োগ প্রকল্পের জন্য ৬ বিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় তিনটি থিম ও বিনোদন পার্ক, আবাসন, রেস্তোরাঁ এবং অন্যান্য স্থাপনা গড়ে তোলার কথা রয়েছে। এতে প্রায় ২২ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তিতে সহযোগিতার কাঠামো তৈরিতেও একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে সৌদি আরব ও ফ্রান্স।   দুই দেশের ব্যবসায়িক ফোরামেও বেশ কয়েকটি চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে জেদ্দা ইসলামিক বন্দরের টার্মিনাল-৪ উন্নয়নে ৪৩৪ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের চুক্তি করেছে ফরাসি শিপিং কোম্পানি সিএমএ সিজিএম ও রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল।   রিয়াদ মেট্রোর ৩ ও ৬ নম্বর লাইনের জন্য অতিরিক্ত ট্রেন সরবরাহে ফরাসি প্রতিষ্ঠান আলস্টমকে ৫০০ মিলিয়ন ইউরোর চুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি নতুন ৭ নম্বর লাইনের ট্রেন সংযোজন কারখানা সৌদি আরবে স্থাপনে বিনিয়োগের বিষয়েও চুক্তি হয়েছে।   ফরাসি পারমাণবিক জ্বালানি কোম্পানি ওরানো ও সৌদি খনি কোম্পানি মাআদেন প্রযুক্তি উন্নয়ন ও কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা করেছে। ফরাসি এআই কোম্পানি মিস্ত্রাল এআই এবং সৌদি এআই কোম্পানি হিউমেইনও কম্পিউটিং সক্ষমতা, এআই মডেল তৈরি ও বাণিজ্যিকীকরণে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার কাঠামো গড়তে সম্মত হয়েছে।   এছাড়া সৌদি এনার্জির বিভিন্ন প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৩ বিলিয়ন ডলার এবং রিয়াদ মেট্রো, আলউলার শারান হোটেল ও অন্যান্য প্রকল্পে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়নের ব্যবস্থা করেছে ফরাসি রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিপিফ্রান্স অ্যাসুরেন্স এক্সপোর্ট।   সৌদি এয়ারলাইনসের জন্য চারটি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার অর্থায়ন নিয়েও সৌদি গ্রুপ, সৌদি এক্সিম ব্যাংক ও ক্রেডিট অ্যাগ্রিকোল সিআইবি সমঝোতা স্মারক সই করেছে।   এদিকে ২০৩০ সালের রিয়াদ এক্সপো ও ২০৩৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে আন্তর্জাতিক আয়োজন পরিচালনায় অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য আতু ফ্রান্স ও এক্সপো ২০৩০ রিয়াদ কোম্পানিও সমঝোতা করেছে।   দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিনিয়োগ বাড়ানো ও সহজ করতে সৌদি বিনিয়োগমন্ত্রী ফাহাদ বিন আবদুল জলিল আল-সাইফ এবং ফরাসি অর্থমন্ত্রী রোলাঁ ল্যস্কুরও একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছেন। এতে বিনিয়োগের সুযোগ, কৌশলগত প্রকল্প ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান নিয়ে তথ্য বিনিময় এবং বিনিয়োগকারীদের সহায়তার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   সূত্র: আরব নিউজ ও আল জাজিরা

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৭, ২০২৬
বসনিয়ান সার্ব বাহিনীর অন্যতম প্রধান সামরিক নেতা ছিলেন ম্লাদিচ। সংগৃহীত ছবি

মারা গেলেন ‘বসনিয়ার কসাই’ রাতকো ম্লাদিচ

ছবি: রয়টার্স

নেপালে বিপর্যয়ের পরও কাটেনি শঙ্কা, আসতে পারে নতুন ঢেউ

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ভারতের চার সংস্থা

দুই দশক পর ৯/১১ হামলার বিচার শুরুর নির্দেশ

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ‘মূলহোতা’ হিসেবে অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তার তিন সহযোগীর বিচার ২০২৮ সালের জুনে শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন বিমানবাহিনীর এক বিচারক। কিউবার গুয়ানতানামো বে সামরিক ট্রাইব্যুনালে তাদের বিচার হবে। খবর রয়টার্সের।   বুধবার মার্কিন বিমানবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইকেল শ্রামা এ আদেশ দেন। চার আসামির বিচার শুরু হবে ২০২৮ সালের ৫ জুন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আইনি জটিলতায় আটকে থাকা মামলাটিতে এটিই সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।   গুয়ানতানামো বে কারাগারে আটক চার আসামিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চলছে। গত মাসে একটি মার্কিন আপিল আদালত খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তার দুই সহযোগীকে দোষ স্বীকারের মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তির সুযোগ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ওই চুক্তির আওতায় দোষ স্বীকার করলে মৃত্যুদণ্ড এড়াতে পারতেন তারা।   আপিল আদালতের ওই সিদ্ধান্ত সামরিক বিচারক এবং মার্কিন কোর্ট অব মিলিটারি কমিশন রিভিউয়ের আগের সিদ্ধান্তকে উল্টে দেয়। গত বছর আসামিদের সঙ্গে ওই সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পেন্টাগনের গুয়ানতানামো সামরিক আদালতের তত্ত্বাবধানকারী কর্মকর্তাও তা অনুমোদন করেছিলেন। তবে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের তীব্র সমালোচনার মুখে তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন গত আগস্টে চুক্তিটি বাতিল করেন।   বিচারক শ্রামার ১১ পৃষ্ঠার আদেশ অনুযায়ী, খালিদ শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে ওয়ালিদ মুহাম্মদ সালেহ মুবারক বিন আতাশ, মুস্তাফা আহমেদ আদম আল-হাওসাউই এবং আলী আবদুল আজিজ আলীও বিচারের মুখোমুখি হবেন।   বিচারের শুরুতে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে একটি প্যানেল গঠন করা হবে। সামরিক বিচারব্যবস্থার নিয়ম অনুযায়ী এই প্যানেলই জুরির দায়িত্ব পালন করবে।   প্যানেল গঠনের ৩০ দিন পর রাষ্ট্রপক্ষের উদ্বোধনী বক্তব্য শুরু হবে। এরপর প্রসিকিউশন তাদের সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করবে। রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপন শেষ হলে আসামিপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে খালাস চেয়ে আবেদন করতে পারবেন। এসব আবেদনের বিষয়ে উভয় পক্ষকে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন এবং পরস্পরের বক্তব্যের জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। প্রয়োজনে রাষ্ট্রপক্ষকে আবারও নিজেদের মামলা উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হবে।   রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন শেষ হওয়ার ৬০ দিন পর আসামিপক্ষ তাদের প্রধান প্রমাণ উপস্থাপন শুরু করবে। এরপর মামলার শেষ ধাপে সাজা নির্ধারণের শুনানি হবে।   রাষ্ট্রপক্ষ ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বিচার শুরুর প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে বিচারক শ্রামা তা প্রত্যাখ্যান করেন। তার মতে, ওই সময়ের মধ্যে বিচার শুরুর আগে প্রয়োজনীয় প্রমাণ ও অন্যান্য আইনি বিষয়ে আবেদন নিষ্পত্তির জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া যাবে না।   গুয়ানতানামো বে কারাগারের সবচেয়ে পরিচিত বন্দিদের একজন খালিদ শেখ মোহাম্মদ। ৯/১১ হামলার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসন ২০০২ সালে বিদেশি জঙ্গি সন্দেহভাজনদের আটক রাখতে কারাগারটি প্রতিষ্ঠা করে।   ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সদস্যরা ছিনতাই করা চারটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালায়। এর মধ্যে দুটি উড়োজাহাজ নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে এবং একটি পেন্টাগনে আছড়ে পড়ে। হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন।   খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে ওই হামলার পরিকল্পনা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। দুই দশকের বেশি সময় পর অবশেষে সেই অভিযোগের বিচার শুরুর পথ খুললেও, মামলাটি শেষ হতে আরও কত সময় লাগবে তা এখনো অনিশ্চিত।   সূত্র : রয়টার্স

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মক্কায় ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, জারি হলো সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘রেড অ্যালার্ট’

ভারতে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুই পাইলট নিহত

ছবি : সংগৃহীত

নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা, ১ হাজার ৫০০ নিখোঁজ; ৮০০ জনই বিদেশি

ছবি: সংগৃহীত
সিনেমার দৃশ্যকেও হার মানাল নেপালের ভয়াবহ বন্যা

নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধস যেন সিনেমার দৃশ্যের মতো ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। প্রবল পানির স্রোতে ভেসে গেছে ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক, সেতু, জলবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এখন পর্যন্ত ৯৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, আর নিখোঁজ রয়েছেন শত শত মানুষ। নেপালের ভোতে কোশি নদীর তীরবর্তী রসুয়া ও নুওয়াকোট জেলার কয়েকটি এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষায়, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ‘কল্পনারও বাইরে’। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নিখোঁজদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা। নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুধু নিখোঁজ পর্যটকের সংখ্যাই দাঁড়িয়েছে ৫৭৯ জনে। তাদের মধ্যে ৪৬৬ জন বিদেশি নাগরিক, যারা ২৮টি দেশের নাগরিক। নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে ১১৩ জন নেপালি, ৫৪ জন মার্কিন এবং ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন। এর আগে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছিল, বিপর্যয়ের পর ৪০৩ জন নিখোঁজ ছিলেন। তাদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক ছিলেন। পরে নিখোঁজ পর্যটকের সংখ্যা আরও বেড়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিখোঁজ মানুষের প্রকৃত সংখ্যা এখনো পুরোপুরি নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। দুর্যোগের আঘাতে নেপাল-চীন বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভোতে কোশি নদীর তীরবর্তী এলাকায় থাকা হাইওয়ে, সেতু ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চীনের সীমান্তবর্তী অংশেও সড়ক, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রসুয়াগাধি হয়ে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক তিব্বতের কৈলাস-মানস সরোবরের দিকে যাতায়াত করেন। পাশাপাশি জনাই পূর্ণিমা উপলক্ষে শত শত নেপালি তীর্থযাত্রীও ওই অঞ্চলের গোসাইঙ্কুণ্ডে যান। ফলে দুর্যোগের সময় ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও ভ্রমণকারী উপস্থিত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভোতে কোশি নদীর উজানে কোনো হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদের পানি হঠাৎ বেরিয়ে আসার কারণে বন্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের সূত্রপাত হতে পারে। তবে দুর্যোগের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনো নিশ্চিত নয়। নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে উদ্ধারকাজ জোরদার করা হয়েছে। হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন উদ্ধারকারী দল নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুর সরকারি হাসপাতাল ও নিরাপত্তা বাহিনীর চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও শোক ও সংহতি জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার নেপালের সরকার ও জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। গত বছরও একই এলাকায় আকস্মিক বন্যায় ১৮ জন নিহত হয়েছিলেন এবং ৬ বিলিয়ন নেপালি রুপির বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এবার সেই ক্ষত শুকানোর আগেই আরও ভয়াবহ দুর্যোগে সীমান্তবর্তী জনপদগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়া বসতি আর ধ্বংসস্তূপের চিত্র দেখে স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, এ যেন বাস্তব নয়, কোনো ভয়াবহ সিনেমার দৃশ্য। সূত্র: বিবিসি

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বন্যা-ভূমিধসে বিপর্যস্ত তিব্বত সীমান্তে ড্রোন পাঠাল চীন

ছবি: সংগৃহীত

ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানিতে মর্মাহত নেপালের প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

নেপালে বন্যায় নিখোঁজ পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে ৫৭৯

0 Comments