ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটি ব্যতিক্রমী ও প্রতীকী উপহার দেন—নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক। দীর্ঘদিন ধরেই এই পুরস্কার পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসা ট্রাম্পের জন্য এটি ছিল আলোচিত এক মুহূর্ত।
ভেনেজুয়েলার সাবেক ক্ষমতাধর শাসক নিকোলাস মাদুরোর কট্টর সমালোচক মাচাদো গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন। সেই পুরস্কারের পদকই তিনি হোয়াইট হাউসে রেখে আসেন। তার আশা ছিল, এই প্রতীকী সম্মান যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে নিজের অবস্থানের পক্ষে রাজনৈতিক সমর্থন আদায়ে সহায়ক হবে।
তবে বাস্তবে তেমন কোনো স্পষ্ট আশ্বাস পাননি তিনি। বরং হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় তার হাতে দেখা যায় ট্রাম্পের নাম ও লোগোসংবলিত একটি উপহার ব্যাগ। তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়নি।
বর্তমানে মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বের জন্য মারিয়া কোরিনা মাচাদো অন্যতম দাবিদার হলেও ট্রাম্প প্রশাসন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে সমর্থন দিয়েছে—যদিও তিনি দীর্ঘদিন মাদুরো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন।
হোয়াইট হাউস প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্প একটি সোনালি ফ্রেমে বাঁধানো ফলক হাতে নিয়ে মাচাদোর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। সেখানে লেখা ছিল—ভেনেজুয়েলার জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতার প্রতীক হিসেবে এই উপহার দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, মাচাদো তাকে তার নোবেল শান্তি পুরস্কার দিয়েছেন, যা পারস্পরিক সম্মানের একটি দারুণ নিদর্শন।
তবে নরওয়ের অসলোভিত্তিক নোবেল শান্তি কেন্দ্র দ্রুত স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, নোবেল পুরস্কারের পদক হস্তান্তর করা গেলেও নোবেলজয়ীর স্বীকৃতি কখনোই অন্যের কাছে দেওয়া যায় না।
মাচাদো এই বৈঠককে ঐতিহাসিক ও অসাধারণ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলায় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্ব বোঝে। পাশাপাশি তিনি একটি নতুন, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন, যাতে প্রবাসী ভেনেজুয়েলানরা দেশে ফিরতে উৎসাহিত হন।
তিনি আরও দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার জনগণ ইতোমধ্যে একজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেছে—বিরোধী প্রার্থী এদমুন্দো গনসালেসকে, যাকে একসময় যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছিল। যদিও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে সরকারি কর্তৃপক্ষ নিকোলাস মাদুরোকেই বিজয়ী ঘোষণা করে।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর অভিযানে মাদুরো আটক হলেও এরপরও ওয়াশিংটন মাচাদো বা গনসালেসের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয়নি। বরং ডেলসি রদ্রিগেজকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেক বিরোধী নেতাকে বিস্মিত করেছে।
হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানান, ট্রাম্প মাচাদোকে সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে দেখলেও ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত রাজনৈতিক সমর্থন তার আছে—এমনটি তিনি মনে করেন না। এই অবস্থানে এখনো কোনো পরিবর্তন আসেনি।
নোবেল শান্তি পুরস্কারের মতো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট রাজনৈতিক সমর্থন আদায় করতে না পারা মারিয়া কোরিনা মাচাদোর জন্য বড় এক বাস্তবতা তুলে ধরেছে। এই ঘটনা ভেনেজুয়েলার জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির কঠিন হিসাবই স্পষ্ট করে দেখিয়েছে। মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব কার হাতে যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র : CNN
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
কারাবন্দী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নয় মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো তার বোন ও স্ত্রীর সাথে দেখা করেছেন। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি থাকা এই নেতার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়ার পর এই সাক্ষাৎ হলো। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে বেশ কয়েকটি মামলার মুখোমুখি হয়ে আদিয়ালা কারাগারে রয়েছেন। তিনি বর্তমানে আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৪ বছরের সাজা ভোগ করছেন। ডন-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার বোন নওরীন নিয়াজি এই বছর প্রথমবারের মতো তার সাথে ১৫ মিনিটের জন্য দেখা করেছেন। কারা সূত্রের বরাত দিয়ে পাকিস্তানি এই প্রকাশনাটি জানিয়েছে, তারা দুজন কারাগারের কনফারেন্স রুমে দেখা করেন, যেখানে তারা তার স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। নওরীন তাকে মেডিকেল চেকআপের জন্য শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আগের আদেশের কথাও জানান বলে তারা যোগ করেন। সাক্ষাৎ সংক্রান্ত আর কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, কারণ সুপ্রিম কোর্ট তার আদেশে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছিল যে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য এই সাক্ষাৎ ব্যবহার করলে ইমরান খানকে দেওয়া এই ছাড় প্রত্যাহার করা হবে। আলীমা খান ও উজমা খানসহ খানের অন্য বোনদের এবং তার চাচাতো ভাই কাসিম জামানকে তার সাথে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এছাড়াও তার দলের রাজনৈতিক নেতাদের এই সাক্ষাতে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়। স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ কারা সূত্র এক্সপ্রেস ট্রিবিউনকে জানিয়েছে, স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গে খানের সাক্ষাৎ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট স্থায়ী ছিল। আদিয়ালা কারাগারে বন্দী বুশরা বিবির সঙ্গে তার সন্তান মুসা ও মুবাশারা মানেকা এবং ননদ মেহেরুন্নিসাও সাক্ষাৎ করেন। এর আগে, সর্বোচ্চ আদালত সরকারকে দুই দিনের মধ্যে চিকিৎসা সেবার জন্য খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করার এবং ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে সেখানে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব আগের তুলনায় কমে আসছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ টহল জোরদারের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের বড় একটি অংশ এখন ওমানি রুট ব্যবহার করছে, যা এই জলপথে ইরানের কার্যকর প্রভাবকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তা উপস্থিতি বাড়ার পর জাহাজ চলাচলের ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ওমানি রুটে বেড়েছে জাহাজ চলাচল জাহাজের গতিপথ পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা ৮০ শতাংশের বেশি জলযান ওমানি রুট ব্যবহার করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক মাস আগেও এই রুটে জাহাজ চলাচল প্রায় ছিল না বললেই চলে। বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তা আশ্বাসের কারণে অনেক জাহাজ ইরানের আপত্তি সত্ত্বেও এই পথ বেছে নিচ্ছে। কেপলারের ক্রুড অয়েল অ্যানালিসিস প্রধান হোমায়ুন ফালাকশাহী বলেন, জাহাজ চলাচলের এই পরিবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব আগের তুলনায় দুর্বল হয়েছে। টোল আদায়ে বাধা সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, রুট পরিবর্তনের ফলে ইরান আগের মতো জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ হারাচ্ছে। পিকারিং এনার্জি পার্টনার্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ড্যান পিকারিং বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশ ইরানকে অতিরিক্ত অর্থ বা টোল দিতে আগ্রহী নয়। ফলে ওমানি রুট ক্রমেই বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য বিকল্প হয়ে উঠছে। বড় ট্যাংকারে তেল পরিবহন লিপো ওয়েল অ্যাসোসিয়েটস-এর প্রধান অ্যান্ডি লিপো জানান, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বড় তেলবাহী ট্যাংকার ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি পার করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা অতিক্রম করার পর অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তরের কৌশলও ব্যবহার করা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু জাহাজ নিরাপত্তাজনিত কারণে ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রাখলেও মার্কিন নৌবাহিনী তাদের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তেল পরিবহন প্রায় স্বাভাবিক পর্যায়ে মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হচ্ছে। এটি যুদ্ধপূর্ব সময়ের প্রায় ২ কোটি ব্যারেল দৈনিক পরিবহনের কাছাকাছি। নিয়ন্ত্রণের দাবি ও বাস্তবতা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি করলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষই পুরো জলপথের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সম্পৃক্ত না করেই ওমান ও ইরান জলপথে মুক্ত চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির এই পরিবর্তিত পরিস্থিতি শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
যাত্রীদের ভোটে বিশ্বের সেরা বিমান সংস্থাগুলোর নতুন তালিকায় এশিয়ার এয়ারলাইনগুলোর আধিপত্য দেখা গেছে। তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস। এয়ারলাইন রেটিংস ডটকমের ‘ফ্লায়ার্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ চারটি বিভাগে সেরা হয়েছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ইউরোনিউজ এ খবর প্রকাশ করেছে। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস সেরা ইকোনমি এয়ারলাইন, সেরা কেবিন ক্রু সেবা, মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সেরা এয়ারলাইন এবং যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি স্বস্তি বা আস্থা দেয়, এমন এয়ারলাইন হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। এবারের তালিকাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে নয়; সরাসরি যাত্রীদের ভোটের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। সেরা কম খরচের এয়ারলাইন, সেরা ব্যবসায়িক শ্রেণি, সেরা ইকোনমি শ্রেণি ও সেরা কেবিন ক্রুসহ বিভিন্ন বিভাগে যাত্রীরা নিজেদের পছন্দের বিমান সংস্থাকে ভোট দিয়েছেন। যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি স্বস্তি দেওয়া এয়ারলাইনগুলোর তালিকায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের পর রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার কান্তাস এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইতিহাদ এয়ারওয়েজ। এই বিভাগে ইউরোপের একমাত্র এয়ারলাইন হিসেবে ষষ্ঠ হয়েছে এয়ারবাল্টিক। কম খরচের এয়ারলাইনগুলোর মধ্যে প্রথম হয়েছে ভিয়েতনামের ভিয়েতজেট এয়ার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এয়ারএশিয়া। যুক্তরাজ্যের ইজিজেট ও অস্ট্রেলিয়ার জেটস্টার যৌথভাবে তৃতীয় হয়েছে। ইউরোপের এয়ারলাইনগুলোর সামগ্রিক পারফরম্যান্স অবশ্য খুব একটা ভালো ছিল না। বিভিন্ন বিভাগে শীর্ষস্থান দখল করতে পারেনি ইউরোপের বড় কোনো এয়ারলাইন। তবে ইউরোপের যাত্রীদের পছন্দের বিমান সংস্থা হিসেবে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, লুফথানসা ও কেএলএমের নাম উঠে এসেছে। এয়ারলাইন রেটিংস ডটকমের প্রধান নির্বাহী শ্যারন পিটারসেন বলেন, যাত্রীদের আস্থা ও নিরাপত্তার অনুভূতি দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক সেবা দেওয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। এবারের ফলাফলে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস ও কান্তাসের মতো প্রতিষ্ঠিত বিমান সংস্থার প্রতি যাত্রীদের আস্থা অর্জন করেছে। সূত্র: ইউরোনিউজ