বিশ্ব

নিউইয়র্কে নির্বাচনী ভূমিকম্প: ইসরায়েলপন্থীদের হারিয়ে ফিলিস্তিনপন্থী অধিকারকর্মীদের ঐতিহাসিক জয়

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীরা দুই বছর ধরে কঠোর নিরাপত্তার নামে দমন–পীড়ন, একাডেমিক নিষেধাজ্ঞা, দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতাদের সমালোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের মতো অভিযানের শিকার হয়েছেন।

 

এখন নিউইয়র্কের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন এমন এক অধিকারকর্মী, যিনি গাজায় ইসরায়েলের চালানো গণহত্যার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের অন্যতম সংগঠক ছিলেন।

 

গত বছরের নভেম্বরে ডারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার যখন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন, তখন খুব কাছের বন্ধুরা ছাড়া কম মানুষই তাঁর নাম জানত।

 

তবে শুরু থেকেই আভিলা শেভালিয়ার অবস্থান ছিল স্পষ্ট। তিনি অভিবাসনব্যবস্থার কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পরিবারকে এক করতে কাজ করা একজন সংগঠক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনে চলা ‘গণহত্যার’ বিরুদ্ধেও সরব ছিলেন।

 

গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডারিয়ালিজা দীর্ঘদিনের কংগ্রেস সদস্য আদ্রিয়ানো এসপাইলাতকে হারিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন নিশ্চিত করেন, যা ছিল এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমকগুলোর একটি। নিউইয়র্ক নগরের মেয়র জোহরান মামদানি ডারিয়ালিজাকে সমর্থন দিয়েছিলেন।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের এবং ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট মেয়র জোহরান মামদানির সমর্থনপুষ্ট অন্যান্য প্রার্থীর জয় ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরে ইসরায়েলপন্থী রাজনীতির জনপ্রিয়তা কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

ইহুদিদের অধিকার রক্ষার সংগঠন জিউইশ ভয়েস ফর পিস (জেভিপি) অ্যাকশনের রাজনৈতিক পরিচালক বেথ মিলার বলেছেন, ‘গত রাতের ফলাফল নিউইয়র্ক নগরের রাজনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের মতো, যা ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বকে সতর্ক বার্তা দিয়েছে।’

 

বেথ মিলার বলেন, ‘আমরা প্রমাণ করেছি, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে আপসহীন অবস্থান নেওয়াটা শুধু নৈতিকভাবে সঠিক নয়, প্রগতিশীল প্রার্থীদের জেতার মোক্ষম উপায়ও বটে।’

 

প্রাথমিক নির্বাচনে তিন জয়

গত মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের মনোনয়ন নিশ্চিতের লড়াইয়ে মামদানির সমর্থনপুষ্ট আরও দুজন প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।

 

ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোর বিরোধী এবং সাবেক সিটি কমপট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডার কট্টর ইসরায়েলপন্থী বর্তমান প্রতিনিধি ড্যান গোল্ডম্যানকে পরাজিত করেছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট পার্টির রাজ্য আইনপ্রণেতা ক্লেয়ার ভালদেস একটি শূন্য আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন।

 

বিজয়ী এই দুই প্রার্থীই ডেমোক্রেটিক পার্টির নিরাপদ আসনগুলো থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে আগামী নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে তাঁরা অনায়াসেই জয়ী হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

 

স্থানীয় পর্যায়েও ভোটাররা ইসরায়েলের বেশ কয়েকজন সোচ্চার সমালোচককে নির্বাচিত করেছেন। তাঁদেরই একজন আবের কাওয়াস। তিনি নিউইয়র্কের প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত সিনেটর হওয়ার পথে বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে আছেন।

 

সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের (সিইউএনআই) সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক হেবা গাওয়ায়েদ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে কোন বিষয়টি গ্রহণযোগ্য আর কোনটি কাঙ্ক্ষিত, তার একটি সত্যিকারের রূপান্তর আমরা দেখতে পাচ্ছি।’

 

গাওয়ায়েদ আল–জাজিরাকে বলেন, ডেমোক্রেটিক পার্টির মঙ্গলবারের প্রাথমিক বাছাইয়ের এই ফলাফল—বিশেষ করে প্রভাবশালী ও সুপরিচিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে আভিলা শেভালিয়ারের জয়—সেই সুবিধাবাদী ও প্রতিষ্ঠিত রাজনীতির জন্য বড় এক পরাজয়, যাঁরা ইসরায়েলের সমালোচনাকে শুরুতেই নস্যাৎ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

 

গাওয়ায়েদ আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আমরা এই আজেবাজে জিনিস আর দেখতে চাই না।’

 

এই অধ্যাপক জোর দিয়ে বলেন, মামদানির মতোই নিউইয়র্কে যেসব প্রগতিশীল প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, তাঁরা ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে কথা বলার কারণেই জিতেছেন।

 

‘ইউএস ক্যাম্পেইন ফর প্যালেস্টাইন রাইটস অ্যাকশন’–এর রাজনৈতিক পরিচালক ইমান আবিদও আভিলা শেভালিয়ার এবং ভালদেসের এই জয়কে স্বাগত জানিয়েছেন।

 

এক বিবৃতিতে আবিদ বলেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) রাতে নিউইয়র্কে ফিলিস্তিনবিরোধী রাজনৈতিক বলয় আমাদের চোখের সামনে ভেঙে পড়ছে। ন্যায়বিচার, শ্রমিকদের অধিকার, সাশ্রয়ী ভাড়া, অভিবাসীদের অধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনের জন্য লড়াই করা সাহসী প্রগতিশীলেরা তাঁদের প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।’

 

নিউইয়র্কের বাইরে

বিভিন্ন জনমত জরিপ থেকে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে—বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন দ্রুত কমছে।

 

ফলে ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা আন্দোলনের কর্মীরা আত্মবিশ্বাসী, নিউইয়র্কের এই ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রজুড়েই ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের আরও বড় বিজয়ে ভূমিকা রাখবে। তাঁরা এই নির্বাচনী মৌসুমে ফিলিস্তিনপন্থী অন্য প্রার্থীদের সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন, যাঁদের মধ্যে পেনসিলভানিয়ার ক্রিস রাব এবং নিউজার্সির অ্যাডাম হামাওয়ি অন্যতম।

 

গত মঙ্গলবার আভিলা শেভালিয়ার এবং ভালদেসের এই জয়কে অভিনন্দন জানিয়েছেন ক্রিস রাব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তিনি লিখেছেন, ‘আভিলা শেভালিয়ার খুব ভালো করেই জানেন, আমাদের বোমার পেছনে নয়, শিশুদের পেছনে বিনিয়োগ করা দরকার। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চেয়ে অভিবাসীদের এবং রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারদের চেয়ে ভাড়াটেদের গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।’

 

ক্রিস রাব আরও লিখেছেন, ‘কংগ্রেসে একসঙ্গে কাজ করে আমরা ওয়াশিংটনের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তিকে মোকাবিলা করব এবং দেশের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিশ্চিত করব।’

আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি যা আইপ্যাক নামে পরিচিত এবং অন্যান্য ইসরায়েলপন্থী গোষ্ঠী এসব প্রগতিশীল প্রার্থীকে পরাজিত করতে কোটি কোটি ডলার খরচ করে আসছে।

 

তবে জেভিপি অ্যাকশনের রাজনৈতিক পরিচালক বেথ মিলার বলেন, আইপ্যাকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার দাবিকে সমর্থন করা এবং ইসরায়েলের বর্ণবাদ, গণহত্যা ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারত্বের সম্পূর্ণ অবসান ঘটানোর ডাক দেওয়াই ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ের মূল চাবিকাঠি হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে।

 

বেথ মিলার বলছেন, ২০২৭ সালের শুরুতে যখন ফিলিস্তিনপন্থী বিজয়ী প্রার্থীরা পরবর্তী কংগ্রেসে যোগ দেবেন, তখন তাঁরা ইসরায়েলের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থনের ব্যাপারে ক্যাপিটল হিলে উভয় দলের মধ্যকার গড়ে ওঠা ফাটলটিকে আরও বড় করে তুলবেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার মাটিতে মার্কিন সামরিক বিমান, কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর ভনুকোভো বিমানবন্দরে একটি মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমান অবতরণ করেছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ফ্লাইট ট্র্যাকিং সেবা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য থেকে এ বিষয়টি জানা গেছে। খবর রয়টার্সের। বোয়িং গ্লোবমাস্টার উড়োজাহাজটি লাটভিয়ার রাজধানী রিগা থেকে সরাসরি মস্কোর উদ্দেশে উড়ে যায়। মার্কিন নিবন্ধিত ০৭-৭১৮১ টেইল নম্বরের বিমানটি স্থানীয় সময় অনুযায়ী প্রায় সকাল ৭টায় মস্কোয় অবতরণ করে। তবে বিমানটিতে কোনো যাত্রী বা সামরিক সরঞ্জাম ছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স। বিমানটি ২৩ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির কাছে ক্যাম্প স্প্রিংস বিমানঘাঁটি থেকে রিগায় পৌঁছেছিল বলে ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য থেকে জানা গেছে। মস্কোয় মার্কিন সামরিক বিমানের অবতরণের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রেমলিন জানায়, এ বিষয়ে তাদের কাছে এখনো কোনো তথ্য নেই। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে আলোচনা স্থবির হয়ে থাকা অবস্থায় এই বিমান মস্কোয় পৌঁছানোয় ঘটনাটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইউরোপ থেকে সরাসরি রাশিয়ায় একটি মার্কিন নিবন্ধিত উড়োজাহাজ গিয়েছিল। ওই বিমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ছিলেন। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার জন্য তারা মস্কো সফর করেছিলেন। গত সপ্তাহে ক্রেমলিন জানিয়েছিল, উইটকফ ও কুশনারের নতুন করে মস্কো সফর নিয়ে তাদের কাছে তখনো কোনো তথ্য নেই। ইরান যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় মস্কোয় মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমানের এই আকস্মিক অবতরণ নতুন কোনো কূটনৈতিক বা সামরিক তৎপরতার অংশ কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট হয়নি।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রুশ হ্যাকার ঠেকাতে গেমারদের গোয়েন্দা হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছে জার্মানি

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে বড় ধরনের মানবিক সংকট চলছে: ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

কলকাতায় আরও ২০০ হোটেল বন্ধের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
চার বছর পর গম রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলল ভারত

রেকর্ড উৎপাদন, পর্যাপ্ত মজুত ও অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ চার বছর পর গম এবং গমজাত পণ্য রপ্তানির ওপর থেকে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ভারত। ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) গমের রপ্তানি নীতি ‘নিষিদ্ধ’ অবস্থা থেকে সংশোধন করে ‘মুক্ত’ ঘোষণা করেছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-র বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।     সিদ্ধান্তের মূল ক্ষেত্র ও প্রেক্ষাপট এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ফলে ভারতে গম ছাড়াও আটা, ময়দা, সুজি ও গোটা গমের আটার মতো সব ধরনের গমজাত পণ্য অবাধে রপ্তানির নতুন পথ উন্মুক্ত হলো। ২০২২ সালের মে মাসে নিজস্ব খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও স্থানীয় বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে গম বিক্রিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গম উৎপাদনকারী দেশ ভারত। নতুন এই নির্দেশনার মাধ্যমে চলতি বছরের শুরুতে কার্যকর থাকা লাইসেন্স ও কোটা-ভিত্তিক রপ্তানি ব্যবস্থাও সম্পূর্ণ বাতিল করা হলো।     রপ্তানি নীতি উন্মুক্ত করার প্রধান কারণসমূহ ভারতের খাদ্য সচিব সঞ্জীব চোপড়ার মতে, মূলত দেশীয় কৃষকদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষার্থেই এই পদক্ষপে নেওয়া হয়েছে। বাজারে গমের দরপতনের কারণে চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। রপ্তানি শুরু হলে স্থানীয় বাজারে দাম যৌক্তিক পর্যায়ে ফিরবে এবং আসন্ন রবি মৌসুমে কৃষকরা নতুন উদ্যামে আবাদে উৎসাহিত হবেন।       বর্তমানে ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত সার্বিক চিত্র বর্তমান মজুত: ভারতের ফুড করপোরেশনের (এফসিআই) কাছে বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ টন গম জমা রয়েছে।   রেকর্ড উৎপাদন: ২০২৫–২৬ মৌসুমে দেশটিতে রেকর্ড ১২ কোটি ৬ লাখ ৫০ হাজার টন গম উৎপাদিত হয়েছে, যা আগের বছরের ১১ কোটি ৭৯ লাখ ৪০ হাজার টনের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।       আন্তর্জাতিক বাজার ও বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক প্রভাব রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক গম সরবরাহ যখন দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং মিসর ও ইন্দোনেশিয়ার মতো বড় আমদানিকারক দেশগুলো বিকল্প খাদ্য সরবরাহের সন্ধান করছে, ঠিক এমন সময়ে ভারতের বাজার উন্মুক্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।       বাংলাদেশের জন্য বড় সুসংবাদ ও সম্ভাব্য সুবিধা ভারতের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ।   কম খরচ ও ভৌগোলিক সুবিধা: ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারত থেকে দ্রুততম সময়ে এবং ন্যূনতম পরিবহন খরচে গম বাংলাদেশে আনা সম্ভব।   বাজার দর নিয়ন্ত্রণ: ভারতের সুগম সরবরাহের ফলে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে আটা, ময়দা ও গমজাত পণ্যের দাম সরাসরি নিয়ন্ত্রণে আসবে, যার সুফল পাবেন সাধারণ ভোক্তারা।   জরুরি ঘাটতি পূরণ: সরকারি বা বেসরকারি কোনো খাতে হঠাৎ গমের ঘাটতি দেখা দিলে ভারত থেকে আগের চেয়ে অনেক দ্রুততম সময়ে তা আমদানি করে সমাধান করা যাবে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৫, ২০২৬

ইরান বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিল চীন

প্রতীকী ছবি

বন্দিদের যৌন তাড়না কমাতে নতুন পরিকল্পনা যুক্তরাজ্যের

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্বস্তি ট্রাম্পের

ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এটিকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক আক্রমণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একইসঙ্গে ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন।   সোমবার (২৪ আগস্ট) ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে বেসেন্ট বলেন, ইরানের আর্থিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাই নতুন নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য। তিনি বলেন, তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেশটির অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখার সব ধরনের পথ বন্ধ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।   নতুন পদক্ষেপের আওতায় ইরানের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি খাত—ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, বিমান চলাচল ও নৌপরিবহন—বিশেষভাবে নজরে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।   ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোকেও সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বেসেন্ট বলেন, কোনো দেশই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে নয়। ইরানের তেল পাচার ও নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্ক, মধ্যস্থতাকারী ও আর্থিক চ্যানেলগুলো শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।   ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা চীনও নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশেষ নজরে রয়েছে। তবে চীনা ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও ঘোষণা দেয়নি ওয়াশিংটন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগ কোনও আন্তর্জাতিক বিরোধের সমাধান করে না। নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে বেইজিং।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞাকে আগেই ‘ব্যর্থ’ হবে বলে মন্তব্য করেছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, মার্কিন চাপের জবাব দেওয়া হবে। ইরানের পক্ষ থেকে এর আগে নতুন মার্কিন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ‘ধ্বংসাত্মক’ প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল।   নতুন মার্কিন পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও নৌপথে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সোমবার নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার আগে তেলের দাম কিছুটা কমলেও এর আগে টানা দুই সপ্তাহ দাম বেড়েছিল।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক নৌপথে চাপ বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে ওয়াশিংটনের নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৫, ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিএনপির দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনের ফল: খন্দকার মোশাররফ

ইরান আমার এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল: নেতানিয়াহুর দাবি

তিউনিশিয়া উপকূল থেকে ১২ অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার

0 Comments