আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপির সুযোগ দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর।
গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে বরগুনা জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন নির্বাচনে সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, ভোট সঠিকভাবে গণনা করা এবং প্রকৃত বিজয়ী প্রার্থীকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা। তিনি গণভোট প্রসঙ্গে বলেন, সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। সরকার জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উৎসাহিত করবে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জনগণই। আগামীর নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কারচুপি বরদাস্ত করা হবে না।
এছাড়া, গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তৌহিদ হোসেন বলেন, জনগণকে ভোটকেন্দ্রে যেতে উদ্বুদ্ধ করতে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক করে বলেন, ব্যক্তিগত মত বা পছন্দ থাকলেও তা যেন ভোটের মাঠে কোনো প্রভাব না ফেলে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম ‘লংমার্চ’ কর্মসূচির মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট দেশে ‘অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে’ বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ যখন সন্তোষজনকভাবে কার্যকর রয়েছে, ঠিক সেই সময়ে আন্দোলনের নামে রাজপথে লংমার্চ করার মতো কর্মসূচি সাধারণ মানুষের গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি। শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউট (বিলিয়া) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পর্যালোচনা: সুশাসন, জবাবদিহিতা ও উন্নয়নের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক তিনি এসব কথা বলেন। উদ্যোগে এ বৈঠক হয়। সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সংসদীয় বিতর্ককে অহেতুক ও দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়া এবং লংমার্চের মতো কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়ে দেশের সচেতন মহলকে সজাগ থাকতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো কতটা বুঝে এসব করছে, তা জানি না। তবে এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার জন্য দেশি-বিদেশি নানান অপশক্তি ওঁৎপেতে বসে থাকে। সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত দুই দশকের ফ্যাসিবাদের চর্চা, ভঙ্গুর সমাজব্যবস্থা এবং দেউলিয়া অর্থনীতির চরম অচলাবস্থা থেকে দেশকে টেনে তুলে সরকার নতুন একটি সঠিক গতিমুখ নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সংকট এতই গভীর ছিল যে, রাতারাতি জাদুকরী কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়; তবে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি সুনিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্ট নীতি-নির্ধারণী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জ্বালানি সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি আমদানিনির্ভর ও ভুল নীতির কারণে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানির মতো অপরিহার্য খাতে দেশকে আজ হিমশিম খেতে হচ্ছে। এত দিন ক্ষমতায় থেকেও প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়া কেবল দুর্নীতিই ছিল না, এটি ছিল জাতির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রতারণা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাখাওয়াত হোসেনের সঞ্চালনায় সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান, মানবাধিকারকর্মী শিরিন হকসহ রাজনীতিক, শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা বক্তব্য রাখেন।
ভূমি প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল করে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৩৬ জন সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বদলিপূর্বক পদায়নের জন্য বিভিন্ন বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে সম্প্রতি এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সরকারি আদেশ অনুযায়ী, বদলিকৃত কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা করা হবে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে জসিম উদ্দিনকে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর থেকে ঢাকা বিভাগে, তৌহিদ রেজাকে ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে ঢাকা বিভাগে এবং মো. মাসুদ রানাকে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। এছাড়া মো. আশরাফুল ইসলামকে বরগুনার আমতলী থেকে ঢাকা বিভাগে, সোহাগ মিলুকে পটুয়াখালীর বাউফল থেকে খুলনা বিভাগে, মো. সাইফুল ইসলামকে পটুয়াখালীর গলাচিপা থেকে রাজশাহী বিভাগে এবং প্রত্যয় হাশেমকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। মহেশ্বর মন্ডলকে বরিশালের উজিরপুর থেকে খুলনা বিভাগে, রওশান কবিরকে নীলফামারীর ডিমলা থেকে রাজশাহী বিভাগে, রাফিউর রহমানকে কুড়িগ্রামের রৌমারী থেকে ঢাকা বিভাগে এবং মো. শাহরুখ আলম শান্তুতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন মাহামুদ হুসাইন রাজু। তাকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে খুলনা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। নুসরাত জাহান অনন্যাকে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থেকে রাজশাহী বিভাগে এবং এস এম আকাশকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে খুলনা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। এস এম নাজমুস সালেহীনকে ময়মনসিংহের তারাকান্দা থেকে রংপুর বিভাগে, আব্দুল আহাদকে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থেকে খুলনা বিভাগে এবং তানভীর আহম্মেদকে রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে রাজশাহী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। এছাড়া ওমর শরীফ খানকে বরগুনার পাথরঘাটা থেকে খুলনা বিভাগে, আসিফ রায়হানকে পাবনার সাঁথিয়া থেকে ঢাকা বিভাগে, চৌধুরী আল মামুনকে সাতক্ষীরার দেবহাটা থেকে রাজশাহী বিভাগে এবং সামিউর রহমানকে কুড়িগ্রামের রাজারহাট থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। মীর আল মনসুর শোয়াইবকে লালমনিরহাট সদর থেকে রাজশাহী বিভাগে, মো. শামীম রেজা সজীবকে ঝালকাঠির রাজাপুর থেকে ঢাকা বিভাগে, মজিবুর রহমানকে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল থেকে রাজশাহী বিভাগে এবং জাকারিয়া হোসেনকে সিলেটের গোয়াইনঘাট থেকে ময়মনসিংহ বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। সৈকত মন্ডলকে বরগুনার তালতলী থেকে খুলনা বিভাগে এবং রিজভী আহমেদ সবুজকে ঝালকাঠির নলছিটি থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনের আরেক অংশে আরো ৯ জন সহকারী কমিশনারকে বদলি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মো. ইফতেখার আহমেদকে নীলফামারীর জলঢাকা থেকে খুলনা বিভাগে, আব্দুল্লাহ বিন জিয়াকে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থেকে ঢাকা বিভাগে এবং মাহমুদুর রহমানকে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর থেকে ময়মনসিংহ বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। পলাশ উদ্দিনকে নওগাঁর বদলগাছী থেকে ঢাকা বিভাগে, শপথ বৈরাগীকে পিরোজপুরের নাজিরপুর থেকে খুলনা বিভাগে এবং মো. বদরুজ্জামান রিশাদকে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থেকে রাজশাহী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। এছাড়া আসমাউল হুসনা পিংকিকে মাগুরার শ্রীপুর থেকে ঢাকা বিভাগে, আমিনুল হক তারেককে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী থেকে ময়মনসিংহ বিভাগে এবং আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পটুয়াখালীর দশমিনা থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাঠ প্রশাসন), সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। মাঠ প্রশাসনে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি ভূমি ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, সরকারি জমি ব্যবস্থাপনা, ভূমি-সংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন দায়িত্ব মাঠপর্যায়ে পালন করেন এসব কর্মকর্তা। ফলে একসঙ্গে ৩৬ জন সহকারী কমিশনারের বদলির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভূমি প্রশাসনে দায়িত্বের পুনর্বিন্যাস হলো।অঞ্চলের ভূমি প্রশাসনে দায়িত্বের পুনর্বিন্যাস হলো।
দেশ গঠনে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি চারটি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এই কাজগুলোর মাধ্যমে নেতাকর্মীরা জনগণের কাছে নিজেদের ‘সাচ্চা কর্মী’ হিসেবে প্রমাণ করতে পারবেন এবং দেশ গঠনে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারবেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, খাল খনন কর্মসূচি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় সতর্ক থাকা- এই চার বিশেষ আহ্বান দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি রেখেছেন তারেক রহমান। বৃক্ষ রোপণ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘দয়া করে যারা নিজেদেরকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কর্মী মনে করবেন আপনি কয়েকটি কাজে নিজেকে অংশগ্রহণ করাতে পারেন। কয়েকটি কাজে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে আপনি যেরকম নিজেকে প্রমাণ করতে সক্ষম হবেন যে এই দলের আপনি একজন সাচ্চা কর্মী, একইভাবে আপনি এই দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারেন। সেটি আপনি প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন কর্মী হোন প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন নেতা হন না কেন। এখন জিজ্ঞেস করতে পারেন কী সেই কাজ? কয়েকটি কাজ আজকে আপনাদের সামনে আমি তুলে ধরতে চাই। যেমন আমরা বলেছি যে, এই দেশের পরিবেশ রক্ষার জন্য বর্তমান সরকার আপনাদের সরকার আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ করতে চায়। তাহলে কি আমরা শহীদ জিয়ার রেখে যাওয়া বৃক্ষ রোপণ অভিযান, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া বৃক্ষ রোপণ অভিযান এবং আপনার বর্তমান আপনার সরকারের ২৫ কোটি গাছ রোপণের যে অভিযান বা পরিকল্পনা সেটিকে নিঃসন্দেহে আমরা ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো। আপনি এভাবে আপনার সরকারকে আপনি সহযোগিতা করতে পারেন। খাল খনন নিয়ে তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার একটি বিখ্যাত কর্মসূচি খাল খনন কর্মসূচি। যা দিয়ে গ্রামের প্রতিটি মানুষ শহীদ জিয়াকে চেনেন। আমরা আপনার এই বর্তমান সরকার শহীদ জিয়ার সেই কর্মসূচিকে আবার চালু করেছে। আগামী ৫ বছরে ইনশাআল্লাহ আমরা বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করতে চাই। খালের কি কারণে করতে চাই সেটি বিস্তারিত সেটি আমি আর আজকে বলছি না। আপনি বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে শহীদ জিয়ার একজন সৈনিক হিসেবে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার একজন কর্মী হিসেবে আপনি নিঃসন্দেহে আপনার এলাকায় যখন খাল খনন হবে সেই খাল খনন কর্মসূচিতে আপনি গৌরব অহংকার নিয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেন। এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে আপনি নিজের মনের কাছে নিজের বিবেকের কাছে আপনি নিজেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন কর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন। পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে তিনি বলেন, এই দলকে যদি আপনার সহযোগিতা করতে হয় এবং দলের মাধ্যমে যদি সরকারকে সহযোগিতা করতে হয় আসুন না আমরা চেষ্টা করি। আজকে এখানে ছাত্রদল আছে যুবদল আছে স্বেচ্ছাসেবক দল আছে তাঁতী দল আছে আইনজীবী দল আছে মৎস্যজীবী দল আছে সহ আমাদের ১১ টি অঙ্গ সহযোগী সংগঠন আছে মূল দল তো আছেই। আমাদের প্রতিটি বাংলাদেশের গ্রামে ইউনিয়নে ওয়ার্ডে উপজেলায় পৌরসভায় প্রত্যেকটি জায়গায় আমাদের কমিটিগুলো আছে। আমরা তো চেষ্টা করতে পারি যেখানে যেখানে ময়লা আছে আবর্জনা আছে এগুলোকে সুন্দরভাবে জনগণকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে আমরা আমাদের দেশটাকে পরিষ্কার করে গড়ে তুলি। আমরা এই কাজটিও করতে পারি। দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় তারেক রহমান বলেন, শেষ যে আহ্বানটি আপনাদের কাছে করব সেই আহ্বানটি হচ্ছে আজকের এই ৪৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আসুন আমরা প্রত্যেকে সতর্ক হই জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রত্যেকটি নেতাকর্মী সমগ্র বাংলাদেশে সতর্ক হই, যাতে আমার এই প্রিয় দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন এম কাজ করতে না পারে, যে কাজে মানুষের কষ্ট হয়।’ শনিবার বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক স্লোগানকে ধারণ করে বিকাল পৌনে ৪টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে এই সভা শুরু হয়। আলোচনার শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দলের সাবেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। প্রথমে জাতীয় সংগীত এবং পরে দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে বিএনপির ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। দিবসটি পালনে গত মঙ্গলবার থেকে পাঁচদিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি নেয় দলটি। এর মধ্যে আজকের এই আলোচনা সভা ও সাংস্কৃকিত অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।