রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের পর ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দ্রুত সংস্কার করে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) থেকেই স্বাস্থ্যসেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ ঘোষণা দেন।
আমিনুল হক বলেন, প্রায় পাঁচ দশক ধরে এলাকার অসহায়, দরিদ্র মানুষ, শিশু ও প্রসূতি মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। কোনো পরিস্থিতিতেই এই কেন্দ্রের চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকতে দেওয়া হবে না।
তিনি জানান, আগামীকাল থেকেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সংস্কারকাজ শুরু করা হবে। সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি কমাতে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিশুদের টিকাদানসহ কেন্দ্রটির অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবাও দ্রুত স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বর্তমান অবস্থা দেখে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান এভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তিনি মর্মাহত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের অন্ধকারে বুলডোজার দিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে জানান আমিনুল হক। তিনি বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ক্লোজ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যদি জায়গাটি নিয়ে আইনগত দাবি থাকে, তাহলে তা আদালত ও প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপস্থাপন করতে হবে। রাতের বেলায় বুলডোজার এনে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে দেওয়ার সুযোগ কারও নেই। জায়গাটি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বলে উল্লেখ করে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার কথাও জানান তিনি।
ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, দলীয় নেতাকর্মী ও একজন সংসদ সদস্যের নামও আলোচনায় এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে দলীয় এবং আইনগত—দুই ধরনের ব্যবস্থাই নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তে পরবর্তীতে কোনো দলীয় ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।
আমিনুল হক বলেন, ঘটনাটির বিষয়ে শতভাগ স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পর তার ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আরও ছয়জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী ব্যারিস্টার নুসরাত খান। পোস্টে তিনি মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ‘ক্ষমতা’ সম্পর্কিত একটি বিখ্যাত উক্তি তুলে ধরেছেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে উক্তিটি প্রকাশ করেন নুসরাত খান। একই পোস্টে তিনি স্বামী ইশরাক হোসেনের একটি ছবিও সংযুক্ত করেন। মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি লেখেন, ‘Power properly understood is nothing but the ability to achieve purpose. It is the strength required to bring about social, political and economic change.’ উক্তিটির বাংলা অর্থ—‘ক্ষমতার প্রকৃত অর্থ হলো লক্ষ্য অর্জনের সামর্থ্য। এটি এমন এক শক্তি, যা সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটানোর জন্য প্রয়োজন।’ ১৯৬৭ সালের ১৬ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় সাউদার্ন ক্রিশ্চিয়ান লিডারশিপ কনফারেন্সে দেওয়া ‘হোয়ার ডু উই গো ফ্রম হিয়ার?’ শীর্ষক ভাষণে ক্ষমতা সম্পর্কে এ বক্তব্য দিয়েছিলেন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র। তবে নুসরাত খান তাঁর ফেসবুক পোস্টে উক্তিটির মাধ্যমে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সরাসরি ব্যাখ্যা দিয়েছেন কি না, তা প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ নেই। এর আগে সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি তাঁর কোনো কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপি বা সরকার যাতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড যেন অন্য কোনো বিতর্কের আড়ালে চলে না যায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন বলে জানান ইশরাক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য।
যশোরের ঝিকরগাছায় যাত্রীবাহী ভ্যানের সঙ্গে গরুবোঝাই নসিমনের সংঘর্ষে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঝিকরগাছা-ছুটিপুর সড়কের মাগুরা ইউনিয়নের ফুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশু সম্পর্কে ভাই-বোন। নিহতরা হলো মিশ্রীদেয়াড়া গ্রামের সাধন কুমারের ছেলে শোভন (১০) ও মেয়ে দিশা (৩)। তাঁদের বাবা সাধন কুমার যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষক। দুর্ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে নসিমনের চালক আব্দুল মাজিদ গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি কেশবপুর উপজেলার গড়ডাঙ্গা গ্রামের আহম্মেদ বিশ্বাসের ছেলে। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। নিহত শিশুদের পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে শোভন ও দিশা তাদের মা ও দাদুর সঙ্গে পূজা দেখতে বের হয়েছিল। পূজা দেখা শেষে ভ্যানে করে ফেরার পথে কাউন্সিল রোড এলাকায় পৌঁছালে ছুটিপুর থেকে ঝিকরগাছাগামী গরুবোঝাই একটি নসিমনের সঙ্গে তাদের ভ্যানের সংঘর্ষ হয়। এতে দুই শিশু ও নসিমনের চালক গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শোভন ও দিশাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত নসিমনচালক মাজিদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট সাইফুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পথেই শোভন ও দিশার মৃত্যু হয়। তাদের মরদেহ হাসপাতালেই রাখা হয়েছে। ঝিকরগাছা থানার উপপরিদর্শক ফিরোজুল ইসলাম দুর্ঘটনায় দুই ভাই-বোনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে রাজশাহী এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। আগামীকাল তাঁর বহুল প্রতীক্ষিত এই সফরকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় বিএনপি শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও আবেগ সৃষ্টি হয়েছে। আগামীকাল সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় যোগ দেবেন। এর পাশাপাশি, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিনি শহরের ধর্মসভায় সনাতন সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এই সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখার জন্য রাজশাহীর মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। আজ বিকেলে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ভূমিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু প্রধানমন্ত্রীর সফরের সর্বশেষ প্রস্তুতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হলেও রাজশাহীর মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও আবেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তারেক রহমানের প্রথম রাজশাহী সফর। তাই এই সফরটি কেবল দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেই নয়, বরং এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যেও দারুণ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। ভূমিমন্ত্রী জানান, উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষকদের স্বার্থের কথা বিবেচনায় রেখে, এই সফরে প্রধানমন্ত্রী আখ চাষিদের জন্য একটি বিশেষ বার্তা প্রদান করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে তারেক রহমানের আগমন রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের সময় রাজশাহীর দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি ও প্রত্যাশার কথা তাঁর সামনে তুলে ধরা হবে। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে বীজ সংরক্ষণের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, রাজশাহী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর, কৃষিভিত্তিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠা, রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ ত্বরান্বিত করা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা। এছাড়াও, রাজশাহী শহরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শিক্ষা নগরী’ হিসেবে ঘোষণার দাবিও রয়েছে। বিএনপি নেতারা শিল্পমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের উপস্থিতিতে রাজশাহীর উন্নয়ন-সংক্রান্ত এসব দাবি উত্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছেন। এদিকে, আজ রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন এবং সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ মাদ্রাসা ময়দান পরিদর্শন করেছেন। রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ফয়জুল কবির, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারাও আজ সমাবেশস্থল (মাদ্রাসা ময়দান) পরিদর্শন করেছেন।