আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব)-এর উদ্যোগে নির্বাচন রিপোর্টিং বিষয়ক সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল। আমার ধারণা, এবারের নির্বাচনে ভোটের হার ৫৫ শতাংশেরও বেশি হবে।
তিনি বলেন, দেশে কখনোই পুরোপুরি ঝামেলামুক্ত নির্বাচন হয়নি। কোনো না কোনো সমস্যা সব সময়ই ছিল। এবারও কিছু ঘটনা ঘটেছে, তবে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা। নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে এবং মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নির্বাচনকালীন সহিংসতা নিয়ে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়টি বিদেশি কূটনীতিকদের জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
‘হ্যাঁ’ ভোট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে শুরুতে অনেকের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল। জামায়াত ও এনসিপি আগে থেকেই হ্যাঁ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। পরবর্তীতে বিএনপির চেয়ারম্যানও হ্যাঁ ভোটের পক্ষে মত দিয়েছেন।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানের ওপর ভিত্তি করেই ভোট দেবে। যেহেতু বড় দলগুলো এখন হ্যাঁ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তাই হ্যাঁ ভোট সহজেই পাস হবে বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে, নির্বাচনের পর প্রধান উপদেষ্টার জাপান সফর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এখনো কোনো তথ্য নেই।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
পাকিস্তানি টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেত্রী ইয়ুমনা জায়েদিকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহের শেষ নেই। বিশেষ করে ‘তেরে বিন’ নাটকে মীরব চরিত্রে অভিনয়ের পর উপমহাদেশজুড়ে তার জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। কিছুদিনের বিরতির পর এবার একাধিক নতুন প্রজেক্ট নিয়ে পর্দায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই অভিনেত্রী। বিনোদন অঙ্গনের বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইয়ুমনার হাতে রয়েছে চারটি আলোচিত প্রজেক্ট। এর মধ্যে যেমন থাকছে নতুন সহশিল্পীর সঙ্গে প্রথম জুটি, তেমনি দর্শকদের জনপ্রিয় পুরোনো জুটিও ফিরতে পারে নতুন গল্পে। ক্যাফে ফিরাক: ইয়ুমনা জায়েদির সম্ভাব্য নতুন নাটকগুলোর মধ্যে আলোচনায় রয়েছে ‘ক্যাফে ফিরাক’। এতে প্রথমবারের মতো আহাদ রেজা মীরের সঙ্গে জুটি বাঁধতে পারেন তিনি। একটি ইরানি পরিবারের গল্পকে কেন্দ্র করে নাটকটির কাহিনি তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নাটকটির শুটিং শিগগিরই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ইয়ুমনা ও আহাদের প্রথম জুটি নিয়ে ইতোমধ্যে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তেরে বিন ২: ইয়ুমনার সবচেয়ে আলোচিত নাটকগুলোর একটি ‘তেরে বিন’। নাটকটির দ্বিতীয় কিস্তি ‘তেরে বিন ২’-এ আবারও মীরব চরিত্রে দেখা যাবে ইয়ুমনাকে। তার বিপরীতে মূর্তাসিম চরিত্রে ফিরছেন ওয়াহাজ আলী। সেভেন্থ স্কাই এন্টারটেইনমেন্টের প্রযোজনায় এবং সিরাজ-উল-হকের পরিচালনায় নির্মিতব্য নাটকটির কাজ বিভিন্ন কারণে পিছিয়ে গেলেও শিগগিরই শুটিং শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে। লায়লা মজনু: ইয়ুমনা জায়েদি ও বিলাল আব্বাস খানের সম্ভাব্য নতুন জুটি নিয়েও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ‘লায়লা মজনু’ নামের এই নাটকটি প্রযোজনা করবে আইড্রিম এন্টারটেইনমেন্ট এবং পরিচালনায় থাকছেন হাসিব হাসান। শুরুর দিকে নাটকটির অভিনয়শিল্পী হিসেবে আরও কয়েকজনের নাম আলোচনায় এলেও বর্তমানে ইয়ুমনা ও বিলালকে প্রধান চরিত্রে নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে নির্মাতাদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত কাস্ট ঘোষণা করা হয়নি। পারিযাদ ২: ইয়ুমনার সম্ভাব্য নতুন কাজের তালিকায় রয়েছে বহুল আলোচিত ‘পারিযাদ ২’। নাটকটির প্রাক-প্রযোজনার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। সিক্যুয়েলটিতে ইয়ুমনা জায়েদি ও আহমেদ আলী আকবরের পুরোনো জুটি ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। মূল নাটকের লেখক হাশিম নাদিম খানই এর নতুন কাহিনি ও রূপরেখা তৈরির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে নতুন জুটি, জনপ্রিয় পুরোনো জুটির প্রত্যাবর্তন এবং বহুল প্রতীক্ষিত সিক্যুয়েল—চার প্রজেক্ট ঘিরেই ইয়ুমনা জায়েদির ভক্তদের প্রত্যাশা এখন বেশ উঁচুতে।
রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজির দামে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। বেশির ভাগ সবজি কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হলেও আগাম শিমের দাম উঠেছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। তবে তুলনামূলক কম দামে মিলছে পেঁপে। অন্যদিকে মাছ, মাংস ও ডিমের বাজারে চলতি সপ্তাহে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারভেদে অধিকাংশ পণ্যের দামে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বেগুন, করলা, বরবটি, ঢেঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বিভিন্ন সবজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শসা পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। তবে দেশি শসার দাম কিছুটা বেশি, কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। বর্ষা মৌসুমে বাজারে আসা আগাম শিমের দাম তুলনামূলক বেশি। প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। বিপরীতে পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ টাকা কেজিতে। সবজির উচ্চমূল্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে কাঁচা মরিচ। কয়েক সপ্তাহ আগে কেজিপ্রতি ৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠে গেলেও সরবরাহ বাড়ায় বর্তমানে মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া লম্বা বেগুন ১০০, গোল বেগুন ১২০ এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলা ৮০ টাকা কেজি। প্রতি পিস লাউ ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং কচুরমুখি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে পণ্য কিনতে আসা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বেগুন ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা এবং ছোট লাউ ৬০ টাকা দিয়ে কিনেছি। এক পোয়া মরিচের দামও পড়েছে ৩০ টাকা। সবকিছুর দামই বেশি, সাধারণ মানুষের জন্য বাজার করা কঠিন হয়ে গেছে।’ ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও আবহাওয়ার কারণে সবজির সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। ব্যবসায়ী আবু দাউদ বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে সবজির দাম বেড়েছে। উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়লে দামও কমে আসবে। এদিকে মুরগির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন নেই। ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমও আগের উচ্চমূল্যেই রয়েছে। প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকা এবং চারটি ডিম ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিম বিক্রেতা মাসুম বলেন, বর্তমানে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। মাছের বাজারেও মোটামুটি একই পরিস্থিতি। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০, পাঙাস ২৩০ থেকে ২৫০, রুই-কাতল ৩৮০ থেকে ৪২০ এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০, ট্যাংরা ৭০০, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০, মিগেল ২৫০ থেকে ৩০০, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের কই ৩০০, পোয়া ২৬০ ও শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। বাজারভেদে মাছের দামে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য রয়েছে। মাছের আকার এবং জীবিত না মৃত—এসব বিষয়েও দামের তারতম্য হচ্ছে। মাছ বিক্রেতা জালাল বলেন, মাছের দাম মূলত সরবরাহ ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে। বাজারে সরবরাহ বেশি থাকলে দাম কমে, আবার ক্রেতা বাড়লে দামও বাড়তে পারে। একই দিনে সকাল ও বিকেলেও দামে পরিবর্তন দেখা যায়।
মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদার, গুমকে (এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স) পৃথক ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত ও দণ্ডনীয় করা এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আজীবন ভোগদখলের অধিকার নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সংসদে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ এবং ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন। একই দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উত্থাপন করেন ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’। বিল তিনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হলে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সেগুলো কমিটিতে পাঠিয়ে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেন। মানবাধিকার কমিশনে নতুন কাঠামো প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬-এ ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন রহিত করে আরও কার্যকর ও স্বাধীন কমিশন গঠনের আইনি কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন কমিশনে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার থাকার কথা বলা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত একজন নারী সদস্য থাকবেন। পাশাপাশি জাতীয় সংখ্যালঘু ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর যোগ্য প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি তদন্ত চলাকালে ভুক্তভোগীদের তাৎক্ষণিক হুমকি থেকে সুরক্ষা দিতে কমিশনকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের ঐচ্ছিক প্রটোকলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘ন্যাশনাল প্রিভেন্টিভ মেকানিজম’ (এনপিএম) ইউনিট গঠনেরও প্রস্তাব রয়েছে। এই ইউনিট নির্যাতন, হেফাজতে মৃত্যু ও গুম প্রতিরোধে কাজ করবে। গুমে যাবজ্জীবন, মৃত্যুর ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তাব তিন বিলের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’-এ। প্রস্তাবিত আইনে গুমকে আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। গুমের অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের প্রস্তাব রয়েছে। কোনো ভুক্তভোগী গুমের ঘটনায় মারা গেলে অথবা পাঁচ বছরের বেশি সময় নিখোঁজ থাকলে অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে আদালতকে তল্লাশি পরোয়ানা জারির ক্ষমতা দেওয়ার পাশাপাশি অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল প্রমাণ গ্রহণ এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, হুইসেলব্লোয়ার ও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের তদন্তের অগ্রগতি জানার অধিকার, ঘটনার প্রকৃত সত্য জানার সুযোগ এবং নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার প্রস্তাব রয়েছে। রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের কথাও বলা হয়েছে। দোষী ব্যক্তির সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে; তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র সেই ব্যয় বহন করবে। প্রস্তাবিত আইনে গুমের ঘটনা তদন্ত ও বিচার—উভয় কার্যক্রম সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে। তবে গুমের তদন্তের জন্য পৃথক কোনো স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা গঠনের প্রস্তাব নেই; তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের ওপরই থাকবে। সম্পত্তি হস্তান্তরে আজীবন ভোগের অধিকার অন্যদিকে, ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’-এ ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি এবং অন্যান্য যোগ্য দাতা সম্পত্তি নির্দিষ্ট রক্ত-সম্পর্কীয় ব্যক্তি কিংবা স্বামী-স্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেও জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করার অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন। এ জন্য আইনে নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বিধানটি সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে। সরকারের ভাষ্য, নতুন এই ব্যবস্থা প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের হেবা কিংবা অন্যান্য আইনস্বীকৃত সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না। অধ্যাদেশের মেয়াদ শেষের প্রেক্ষাপট অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা কয়েকটি অধ্যাদেশের আইনগত কার্যকারিতা শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটেও এসব বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। সংবিধান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদের অনুমোদন না পাওয়ায় মানবাধিকার, গণভোট ও গুম প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে জারি করা ২০টি অধ্যাদেশের কার্যকারিতা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তিনটি বিল এখন সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পর্যালোচনার পর সংসদে পরবর্তী প্রক্রিয়ায় যাবে।