জাতীয়

নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা বৃদ্ধি, ভোটারদের নিরাপত্তা শঙ্কা তীব্র

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। সারা দেশে চলছে প্রচার-প্রচারণা, সঙ্গে বাড়ছে উত্তেজনা। নির্বাচনি প্রচার ক্রমশ সহিংস হয়ে উঠছে। এটাই এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় শঙ্কা।


এদেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরেই ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। গত তিনটি নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দিতে পারেনি। এবারের নির্বাচনে তারা ভোট দিতে উন্মুখ। কিন্তু ভোটারদের মধ্যে যেমন আগ্রহ আছে, তেমনি আছে উৎকণ্ঠা আর ভীতি। ভোটের সময় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে জনগণ এখনো শঙ্কিত। এই শঙ্কার যৌক্তিক কারণও আছে। নির্বাচনি প্রচারণার পর থেকে সারা দেশে সহিংসতার ঘটনা বেড়েই চলেছে। নির্বাচনের সময় যতই এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক পরিবেশ। বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা এবং অসহিষ্ণু আচরণ লক্ষ করা যাচ্ছে। ভোটের দিন যদি পরিবেশ স্বাভাবিক না হয়, তাহলে ভয়ে সাধারণ ভোটাররা ভোট দিতে যাবেন না। এটা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সব উন্নয়ন সহযোগী বলেছে, তারা বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায়। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যাখ্যাও দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ একাধিক দাতা দেশ। তাদের মতে, নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতিই হলো অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাপকাঠি। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন যে, নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি মানুষ ভোট দেবেন। কিন্তু সেটা তখনই সম্ভব হবে যখন ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যাবেন। দলের অনুগত নন, এমন সাধারণ নাগরিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাবেন না। নির্বাচনের আগে এটাই সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে চলতি নির্বাচনি সময়সীমায় ৫৩ দিনে ২৭৪টি সহিংসতা ঘটেছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত ৯টা পর্যন্ত এসব ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতার মধ্যে রয়েছে-ভীতি প্রদর্শন বা আক্রমণাত্মক আচরণ ১৬টি, প্রার্থীর ওপর হামলা ১৫টি, হত্যাকাণ্ড ৫টি, এবং প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ৮৯টি। এছাড়া অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার ৩টি, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ৯টি। প্রচার কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এসেছে ২৯টি, নির্বাচন সংক্রান্ত অফিস বা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ ২০টি, অবরোধ ও বিক্ষোভ ১৭টি এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা একটি। অন্যান্য ধরনের সহিংসতা ৭০টি।


প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (২০১৩-১৪) ৫৩০টি সহিংসতায় ১১৫ জন নিহত ও ৩১৫ জন আহত হন। একাদশ সংসদ নির্বাচন (২০১৮-১৯) চলাকালীন ৪১৪টি সহিংসতায় ২২ জন নিহত ও ৭৮০ জন আহত হন। এছাড়া দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন (২০২৩-২৪) চলাকালীন ৫৩৪টি সহিংসতায় ছয়জন নিহত ও ৪৬০ জন আহত হয়। এই পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, প্রতি নির্বাচনে সহিংসতার প্রকোপের মাত্রা ভিন্ন হলেও প্রতিবারই প্রচুর সংঘাত এবং আহতের ঘটনা ঘটছে।


নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, দেশের রাজনীতির মাঠ ও নির্বাচনি পরিবেশ ততই সহিংস হয়ে উঠছে বলে উল্লেখ করেছে মানবাধিকার ও আইনগত সহায়তা সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংস্থাটি বলছে, গত ডিসেম্বর মাসের তুলনায় জানুয়ারি মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা, নিহতের সংখ্যা এবং আহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আসক বলছে, গত ডিসেম্বরে দেশে মোট ১৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল। এসব ঘটনায় চারজন নিহত এবং ২৬৮ জন আহত হন। তবে গত জানুয়ারিতে পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটে। এই এক মাসে মোট ৭৫টি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ এবং আহত হয়েছেন ৬১৬ জন।


জানুয়ারি মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে আসক জানিয়েছে, মাসজুড়েই সহিংসতার মাত্রা ছিল ঊর্ধ্বমুখী। ১ থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১০ দিনে ৮টি সহিংসতায় পাঁচজন নিহত এবং ২৬ জন আহত হন। ১১ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১০ দিনে ১৮টি ঘটনায় দুজন নিহত এবং ১৭৬ জন আহত হন। ২১ থেকে ৩১ জানুয়ারি ১১ দিনে নির্বাচনি প্রচার শুরু হওয়ার (২২ জানুয়ারি) পর এই সময়ে সহিংসতা সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নেয়। মাত্র ১১ দিনে ৪৯টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যাতে চারজন নিহত এবং ৪১৪ জন আহত হন।


নির্বাচনের আগেও পুলিশ বাহিনী পুরোপুরি সক্রিয় হতে পারেনি। এখনো ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে পুলিশ প্রশাসন জনগণকে আশ্বস্ত করতে পারেনি। নির্বাচনের ঠিক আগে র‌্যাবের নাম পরিবর্তন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট উপদেষ্টা র‌্যাবের নাম পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। কালো পোশাকের র‌্যাবকে আর দেখা যাবে না। পুলিশের বিশেষায়িত এই ইউনিটকে ডাকাও হবে নতুন নামে। কারণ, র‌্যাবের নাম ও পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন অন্তর্র্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) নাম বদলে হচ্ছে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)। নাম ও পোশাকের পাশাপাশি এই বাহিনীর কার্যক্রমেও সংস্কার আনা হবে।
প্রশ্ন উঠেছে নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে এই ধরনের ঘোষণা কি আদৌ দরকার ছিল? বিশ্লেষকরা মনে করেন, এর ফলে এই এলিট বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের আরও গুটিয়ে নেবে। এটা নির্বাচনকালীন সময়ে নিরাপত্তাকে আরও দুর্বল করবে।


নির্বাচনে তাই জনগণের প্রধান ভরসা সেনাবাহিনী। গত ৩ ফেব্রুয়ারি সেনাপ্রধান নির্বাচন নিয়ে জনগণকে আশ্বস্ত করেন। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ ও সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীসহ সবাই আগ্রহী। সেখানে নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিন বাহিনীর প্রধানদের গাজীপুর জেলা পরিদর্শন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, নির্বাচনের দিন যারা র‌্যাগিং এবং ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা দেবে তাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী অ্যাকশন নেবে। অপরাধ করলে যতটুকু আইনে রয়েছে ততটুকু শাস্তি পাবে।


তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে অবশ্যই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তাদের মনে রাখতে হবে, নির্বাচন বিতর্কিত হলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে তাদেরই। তাই নির্বাচনি প্রচারণার শেষ কটা দিন তাদের প্রধান দায়িত্ব হলো, জনগণকে আশ্বস্ত করা। ভোটাররা যেন ভোট কেন্দ্রে যায় এবং স্বাধীনভাবে তাদের মতামত দিতে পারে তা নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যেকোনো প্রকারে জয়ী হয়ে ক্ষমতা দখলের মানসিকতা পরিহার করতে হবে। একটি উৎসবমুখর নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় যার পক্ষেই যাক না কেন সেটা হবে জনগণের বিজয়, গণতন্ত্রের বিজয়। সব রাজনৈতিক দলই তাতে লাভবান হবে। কিন্তু ভোটারবিহীন একটি সহিংস নির্বাচন দেশকে অস্থিতিশীল করবে। গণতন্ত্রের উত্তরণ বাধাগ্রস্ত হবে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
বর্ষবরণের অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ

সারা দেশে বর্ষবরণের সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসানের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলা নববর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে দেশব্যাপী নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। এই দিনে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ আনন্দঘন, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   এ উপলক্ষে বুধবার (৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভা হয়। সভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, হাতিরঝিল, রবীন্দ্র সরোবরসহ দেশব্যাপী আয়োজিত সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করতে হবে। বিকেল ৫টার পর এসব এলাকায় নতুন করে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’কে কেন্দ্র করে থাকবে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা মুখোশ পরে অংশ নিতে পারবেন না, তবে হাতে বহন করতে পারবেন। প্রদর্শনীর মুখোশ এমনভাবে ব্যবহার করা যাবে না, যাতে মুখ ঢেকে যায়। শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার পর মাঝপথে কেউ যোগ দিতে পারবেন না।   নিরাপত্তার স্বার্থে দেশব্যাপী ফানুস উড়ানো, আতশবাজি ফুটানো, গ্যাস বেলুন ও ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩০০ ফিট এলাকায় মোটরসাইকেল বা কার রেসিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডগ স্কোয়াড দিয়ে পরীক্ষা করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত আর্চওয়ে থাকবে।   ইভটিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার রোধে দেশব্যাপী সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।   বড় অনুষ্ঠানস্থলে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও মেডিকেল টিম মোতায়েন থাকবে। রমনা লেকে যেকোনো দুর্ঘটনা রোধে ডুবুরি দল নিয়োজিত থাকবে।   ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশন নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্টিকারবিহীন কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না।   সাধারণ জনগণকে ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, দেয়াশলাই বা লাইটার বহন না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া শিশুদের সঙ্গে তাদের পরিচয় সম্বলিত নোট রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী জানান, বাঙালির কৃষ্টি ও সংস্কৃতির এই উৎসবকে নিরাপদ করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ধরনের কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।   সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ০৯, ২০২৬ 0
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। ছবি : সংগৃহীত

যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেব : চিফ হুইপ

ছবি : সংগৃহীত

তিন পাকিস্তানি সহযোগী দলসহ জামুকা বিল পাস

ছবি: ফাইল

সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেমে দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদক

বাংলাদেশ সরকার ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে শ্রম অভিবাসন বিষয়ক একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী
শ্রমবাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে

বাংলাদেশ সরকার ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে শ্রম অভিবাসন বিষয়ক একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক পুত্রজায়ায় সৌহার্দপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে শ্রমবাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়ন করাসহ যৌথ ঘোষণাপত্রে সাতটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।  বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতোশ্রী রামানান রামাকৃষ্ণ এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে যৌথ ঘোষণাপত্রে সাতটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে- বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া শ্রম অভিবাসনে তাদের দীর্ঘস্থায়ী এবং পরস্পরের লাভজনক অংশীদারিত্বের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। একটি স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, বাস্তবসম্মত কাঠামোর মাধ্যমে সহযোগিতা জোরদার করে নিয়োগ সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার পাশাপাশি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করবে। উভয়পক্ষ মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদার ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রম বাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়ন করবে। ইতোমধ্যে একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যস্থতাকারী ও অভিবাসন খরচ কমানোর জন্য কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা দূর করা, বিশ্বাসযোগ্য ও যোগ্য নিয়োগকারী সংস্থা (রিক্রুটিং এজেন্সি) মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানো এবং আটকে পড়া কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা। ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে সব সোর্স কান্ট্রির জন্য প্রযোজ্য একটি ডিজিটাল ও এআই ভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর কথা জানানো হয়। যার লক্ষ্য হচ্ছে দালালের দৌরাত্ম ও অভিবাসন খরচ কমানো এবং নিয়োগকর্তারাই যেন নিয়োগের সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন সেটা নিশ্চিত করা। এর ফলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় কাজ পেতে কোনো খরচ থাকবে না। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) নির্দেশনা অনুযায়ী ‘নিয়োগকর্তাই পরিশোধ করবেন’ নীতির অংশ। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অন্য সব প্রেরণকারী দেশকে সম্পৃক্ত করে একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ হিসেবে এই ধরনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাস্তবায়নে পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়। উভয়পক্ষ শ্রমিক নিয়োগে মানবপাচার সংক্রান্ত চলমান মামলাগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মালয়েশীয় পক্ষ তাদের আন্তর্জাতিক সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমন যে কোনো ভিত্তিহীন বা বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকাণ্ড বন্ধের ওপর জোর দিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ পক্ষ আইনের শাসন, যথাযথ প্রক্রিয়া, জবাবদিহিতা এবং সময়োপযোগী বিচার নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে। ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়েছে, উভয়পক্ষ অনুমোদনহীন কর্মীদের প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা এবং শ্রম সরবরাহকে বাজারের চাহিদার সঙ্গে আরও সুচারুভাবে সমন্বয় ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, সনদপত্র দেওয়া এবং তথ্য আদান-প্রদানে সহযোগিতা বাড়াবে।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ০৯, ২০২৬ 0
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

পৌরসভা নির্বাচনে থাকবে না দলীয় প্রতীক, সংসদে বিল পাস

ছবি: সংগৃহীত

অধ্যাদেশ অনুমোদন, বাতিল ও সংশোধন করে সংসদে আজ ৩১ বিল পাস

ছবি : সংগৃহীত

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাজা কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ, বললেন আবু সাঈদের বড় ভাই

ছবি : সংগৃহীত
জাপানের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের ডিরেক্টর জেনারেলের সঙ্গে সিটিটিসি প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জাপানের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের ডিরেক্টর জেনারেল মি. মহোসাকি কাওরু আজ ঢাকায় কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মাসুদ করিমের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।   আজ বৃহস্পতিবার সকালে ডিএমপির সিটিটিসি কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ হয়।   জাপানের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের ডিরেক্টর জেনারেল মি. মহোসাকি কাওরু দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ সফরকালে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মাসুদ করিমের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।   সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার, তথ্য বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যৌথ কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। এছাড়াও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, উদীয়মান হুমকি এবং সেগুলো মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রেক্ষিতে এই বৈঠক দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

সরকার অবিলম্বে গণমাধ্যম সংস্কার কার্যক্রম শুরু করবে : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

সংসদে সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬ পাস

ছবি : সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সংসদ অধিবেশন পর্যবেক্ষণ

0 Comments