জাতীয়

নির্বাচন সামনে রেখে লটারিতে চূড়ান্ত হলো ৬৪ জেলার এসপি

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ২৫, ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য লটারির মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) চূড়ান্ত করেছে সরকার। সোমবার (২৪ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’য় এই লটারি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয় এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এবার প্রথমবারের মতো ম্যানুয়াল লটারির মাধ্যমে এসপি নির্ধারণ করা হলো।

 

লটারির আগে কয়েক দফা যাচাই-বাছাই করা হয়। যারা অতীতে জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর পুলিশ ক্যাডারের ২৫, ২৬ ও ২৭তম ব্যাচসহ উপযুক্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি ‘ফিট লিস্ট’ তৈরি করা হয়। সেই তালিকা থেকেই লটারির মাধ্যমে ৬৪ জনকে নির্বাচন করা হয়।

 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে দায়িত্বে থাকা ৬৪ জেলার এসপির মধ্যে ১৫ জনকে সরিয়ে নতুন ১৫ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে। বাকি ৪৯ জনকে বর্তমান জেলা থেকে অন্য জেলায় বদলি করা হবে। নতুন ও পুরোনো—এই ৬৪ জন কর্মকর্তাকে নিয়েই চূড়ান্ত লটারি সম্পন্ন হয়েছে।

 

এ বিষয়ে দু-এক দিনের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

 

এর আগে গত শনিবার (২২ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটির তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে নির্বাচনকালীন এসপি নিয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ছাড়াও এতে উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি ও আইজিপি বাহারুল আলম।

 

সূত্র জানায়, ৬৪ জেলার মধ্যে নির্বাচন পরিস্থিতি অনুযায়ী জেলা গুলোকে এ, বি ও সি—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে ২৭টি জেলা এ ক্যাটাগরি, ২৮টি জেলা বি ও বাকিগুলো সি ক্যাটাগরিতে রাখা হয়। প্রতিটি শ্রেণির জন্য পৃথকভাবে লটারির মাধ্যমে এসপি নির্ধারণ করা হয়।

 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, লটারিতে নির্বাচিত এসপিদের দ্রুতই সংশ্লিষ্ট জেলায় পদায়ন করা হবে। এই কর্মকর্তারাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাঠস্তরের আইন-শৃঙ্খলা দায়িত্বে থাকবেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সংগৃহীত ছবি
দুর্গাপূজায় মিলছে সরকারি ছুটি, একদিনের ছুটিতে টানা ৫ দিনের অবকাশ

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০২৬ সালে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য থাকছে দুই দিনের সরকারি ছুটি। এর মধ্যে ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি এবং ২১ অক্টোবর, বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি থাকবে।     বৃহস্পতিবার ছুটি নিলেই মিলবে টানা অবকাশ।     জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর থেকে দুর্গাপূজার মূল সরকারি ছুটি শুরু হবে। তবে এর পরদিন ২২ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার একদিনের ছুটি নিতে পারলেই শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের অবকাশ কাটানোর সুযোগ পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।       অর্থাৎ, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার থেকে ২৪ অক্টোবর শনিবার পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি কাটানো সম্ভব হবে।     এদিকে মূল সরকারি ছুটির বাইরে হিন্দু ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দুর্গাপূজা উপলক্ষে আরো দুই দিনের ঐচ্ছিক ছুটির ব্যবস্থা রয়েছে। নির্ধারিত নিয়ম ও অনুমোদন সাপেক্ষে তারা এ অতিরিক্ত ছুটি নিতে পারবেন।       এ বছর শনিবার (১০ অক্টোবর) মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার মহাষষ্ঠী, ১৮ অক্টোবর, রবিবার মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর, সোমবার মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর, বুধবার বিজয়া দশমী পালিত হবে।     অর্থাৎ, মহালয়ার মধ্য দিয়ে ১০ অক্টোবর দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও সরকারি ছুটি শুরু হবে ২০ অক্টোবর থেকে। আর ২২ অক্টোবর একদিনের ছুটি নিতে পারলেই সরকারি চাকরিজীবীরা পূজার ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের অবকাশ পাবেন।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ফাইল ছবি

তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ: দুদক

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন কূটনীতিক পরিচয়ে অনলাইন প্রতারণা নিয়ে ঢাকাস্থ দূতাবাসের সতর্কতা

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ২৬১০ মিলিয়ন ঘনফুট

ছবি; সংগৃহীত
উদ্দেশ্যেপ্রনোদিতভাবে আমাকে হেয় করার চেষ্টা চলছে: এডিসি শামীম

নিজস্ব প্রতিবেদক ভুল, অসত্য ও মনগড়া তথ্যের ভিত্তিতে ভূমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন অভিযোগে নিজের সম্মানহানি ও সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. শামীম হুসাইন।   মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতি ও এর সঙ্গে প্রেরিত নথিপত্রে তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ছয়টি অভিযোগ আনা হলেও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে এসব অভিযোগের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ নেই।   ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এই এডিসি বলেন, সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে ‘শামীম-কেশবদের ঘুষের হাট’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এ প্রতিবেদনে ভিত্তিহীন ও মনগড়া তথ্য দেওয়া হয়েছে।   তিনি বলেন, প্রতিবেদনে মোট ছয়টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম অভিযোগে জোয়ার সাহারা মৌজার ০৮/২৩-২৪ নং ভূমি অধিগ্রহণের মামলায় অনিয়মের কথা বলা হয়েছে।  তবে নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত ২৫ মে ২০২৫ তারিখে ঢাকার তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. বদরুদ্দোজা শুভ জমির মালিক মো. আব্দুল মান্নানকে এই ক্ষতিপূরণ দেন। যার চেক নং- ১০৯১৪১৮। যেখানে আমি দায়িত্বে ছিলাম না; সেখানে আমার নামে এমন অবান্তর অভিযোগ আনায় স্পষ্ট প্রমাণিত হয়, আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি চক্র সম্মানহানি করার চেষ্টা করছে।   শামীম হুসাইন বলেন, আমার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযোগ আনা হয়েছে আবদুল্লাহপুর মৌজার ভূমি অধিগ্রহণ ১৮/২৩-২৪ নং মামলার বিষয়ে। অবাক করা বিষয় হচ্ছে, গত ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে এই এল.এ কেসের ক্ষতিপূরণ চেকের অ্যাডভাইস প্রদান করেন ঢাকার তৎকালীন কর্মকর্তা৷ তবে নথিপত্র যাচাই করে দেখা গেছে- তিনিও সকল নিয়ম মেনেই এ ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন। ফলে যেখানে আমি দায়িত্বেই ছিলাম না, সেখানে আমার নামে এ অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।   ঢাকার এই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) বলেন, তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, নড়াইবাগ মৌজার ০৪/২২-২৩ নং ভূমি অধিগ্রহণ মামলায় মূল মালিক বাদ দিয়ে তার ভাই জসিমকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হচ্ছে, এ সময়েও আমি এল.এ শাখার দায়িত্বে ছিলাম না। তবে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে এবং সকল নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ক্ষতিপূরণ পাওয়া জসিমউদ্দিন আহমেদের অপর সকল ভাই ও বোনেরা ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে এই ক্ষতিপূরণ দাবি না করে তাদের ভাই জসিমউদ্দিন আহমেদের অনুকূলে এই চেক হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়েছেন। এমন একটি দালিলিক বিষয় এবং যেখানে আমার ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতা নেই, সেখানে আমাকে জড়িয়ে সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে।   শামীম হুসাইন বলেন, সংবাদের চার নম্বর অভিযোগে রানাভোলা মৌজার ১৩/১৮-১৯ নং ভূমি অধিগ্রহণের একটি মামলায় অনিয়মের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত চিত্র হচ্ছে, গত ২৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে শীর্ষক প্রকল্পের ওই ক্ষতিপূরণ প্রদান করেন তৎকালীন ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মোছা. ফুয়ারা খাতুন। এ বিষয়েও আমার ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও আমাকে জড়ানো হয়েছে তথ্য যাচাই না করেই।   তিনি আরও বলেন, এছাড়া পাঁচ ও ছয় নম্বর অভিযোগে ঘোপ দক্ষিণ এবং কামার ঘোপ মৌজার দুটি ভূমি অধিগ্রহণ মামলায় জমি ও অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদানের বিষয়ে পাট মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু এখানেও আমি দায়িত্বে ছিলাম না। তবে নথিপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, এ ঘটনায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ এবং ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে দুটি পৃথক চিঠিতে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়েই এ ক্ষতিপূরণ দেন৷ এমন অপ্রাসঙ্গিক ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এখানেও আমাকে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।   শামীম হুসাইন আরও বলেন, আমি ২০২৬ সালের ১৭ জুন এল.এ শাখায় যোগদান করি। কিন্তু ছয়টি ঘটনার সঙ্গেই ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। আমার যোগদানের আগের সময়ের অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে কোনো রকম যাচাই ছাড়াই আমাকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।   এছাড়াও প্রতিবেদনে দুদকের মামলার কথা বলা হয়েছে; কিন্তু আমার বিরুদ্ধে কখনোই দুদকের মামলা হয়নি। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, ২০২০ সালের ১০ মার্চ স্পেশাল মামলা নং- ০০৬/২০২০-এ আমাকে ২৪ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে নথিপত্রে এই মামলায় মোট আসামি ৩ জন। এদের মধ্যে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই। দুদক এই তদন্ত গ্রহণও করেনি। এছাড়া কক্সবাজারে বাঁকখালী নদীর উত্তরপাড় থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দক্ষিণপাড়ে বেশি মূল্যের জমিতে প্রকল্পের জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু সকল নথিপত্রে দেখা গেছে, সেখানেও ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল মালেকের নির্দেশেই এই জায়গা স্থানান্তর হয়। যদিও ফিজিবিলিটি স্টাডি অনুযায়ীই এই সুপারিশ করেন প্রকল্প পরিচালক।   এর বাইরে ৫২/১৯৮৬ রিসিভারকৃত জমি ব্যক্তির নামে দেখানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত তথ্য হচ্ছে, এ বিষয়ে আদালতের ডিক্রি জারি ছিল এবং রিসিভার মামলা ছিল না। ফলে এখানেও ভুল ও মনগড়া তথ্য দেওয়া হয়েছে।   গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটু ভুল তথ্য মানুষের মনে নানা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে৷ ফলে সকল তথ্য যাচাই-বাছাই করে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত৷

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
ছবি; সংগৃহীত

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড

সরকারের আচরণ গণতন্ত্র ও জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল: এ টি এম আজহার

সমকামী সহিংসতা প্রতিরোধে ৩৭৭ ধারা কার্য‌কর করতে হবে

ড. ইউনূসের প্রতি সরকারের কোনো অনুরাগ-বিরাগ নেই: জাহেদ উর রহমান

  গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার করসংক্রান্ত মামলায় সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।    তিনি বলেন, বিষয়টি আদালতের এবং মামলা তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বা অন্য কারও প্রতি সরকারের অনুরাগ কিংবা বিরাগের প্রশ্নও এখানে নেই।   মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।    গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার ঋণের কর মওকুফের বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ এবং এ নিয়ে করা দুটি রিটের প্রসঙ্গ তুলে এক সাংবাদিক জানতে চান, এই পরিস্থিতিতে গ্রামীণ কল্যাণের পেছনে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে সরকারের কোনো বিশেষ বার্তা আছে কি না।   জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, খেয়াল করবেন, এটা আদালতের ব্যাপার এবং একটু মিসপারসেপশন ছিল। এটা এখন ডিটেইলড অনেকের সামনে এসেছে যে, এই কর মওকুফের ব্যাপারে রায় কী হয়েছিল, সেই রায়টা কেন তখন কার্যকর হয় নাই, ইন্টারিমের সময় ছিল, এখন তাদেরকে দিতে বলা হয়েছে।   তিনি বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের ওই কর পরিশোধ করতে হবে। এটা আদালতে আছে, হাইকোর্টের রায় হয়েছে, তাদেরকে ওই করটা দিতে হবে। তারা নিজেরাই বাদী হয়ে এই করটা দিতে চান নাই। সরকারের এখানে আসলে কিছু করার নেই।   মামলার পরবর্তী কার্যক্রমও আদালতের নিয়মেই চলবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, সরকারের কিছু করার নেই, কারণ এখন যে মামলা তার গতিতে চলবে। তারা হয়তো এটা নিয়ে আবার আপিল বিভাগে যেতে পারেন। যদি সেটা তারা সাসটেইন করতে না পারেন, তাহলে তাদেরকে এটা দিতে হবে।   এ বিষয়ে সরকারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারের কোনো রকম ইনভলভমেন্ট নেই, কারণ ড. ইউনূস বা আর কেউ কারো প্রতি কোনো অনুরাগ-বিরাগের প্রশ্ন নাই।   বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এটা যেহেতু বিচার বিভাগের ব্যাপার, আমরা বিশ্বাস করি এবং আপনারা অনেক ক্ষেত্রেই দেখবেন যে বিচার বিভাগ তার স্বাধীনভাবে যে দায়িত্ব পালন করার কথা, সেটা তারা করছেন।   ফাঁসির রায়ে প্রতিশোধস্পৃহা নেই    সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে আদালতের ফাঁসির রায় নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে সরকারের আলাদা করে কিছু বলার নেই। মামলায় সরকারের প্রসিকিউশন টিম কাজ করছে।   তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির ফাঁসির রায় দেখে আনন্দিত হওয়ার চেয়ে সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হচ্ছে কি না, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   তিনি আরও বলেন, আমরা যেটা দেখতে চাই অনেকে আমরা বলি না যে, ফাঁসির রায় দেখে আমরা ভীষণ খুশি হয়ে গেছি। কারো ফাঁসির রায় দেখে আসলে ভীষণ খুশি হওয়ার চাইতে যে জিনিসটা ইম্পর্টেন্ট আমার কাছে মনে হয়, সেটা হচ্ছে আমরা আমাদের সমাজের ন্যায়বিচারটা নিশ্চিত করতে পারছি কি না।   প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আমরা আমাদের সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই। আমরা মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রে যে বলেছিলাম- আমরা সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই, সেটা নিশ্চিত হচ্ছে, সেটা আমরা দেখতে চাই।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ডের রায় : চিফ প্রসিকিউটর

ছবি; সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত হয়নি: ইসি আনোয়ারুল

0 Comments