জাতীয়

নির্বাচন নিয়ে বড় স্বীকৃতি দিলেন সেনাপ্রধান

মারিয়া রহমান মে ০৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান দেশের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে এ ধরনের সুশৃঙ্খল ও সফল নির্বাচন আগে কখনো হয়নি। তার মতে, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসন একসঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করলে যেকোনো বড় ও জটিল কাজও সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব, আর সাম্প্রতিক নির্বাচন সেই সক্ষমতারই একটি উদাহরণ।

সেনাপ্রধান আরও বলেন, নির্বাচন আয়োজনের মূল দায়িত্ব ছিল প্রশাসনের ওপর, এবং তারা তা সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান। তার ভাষায়, সামরিক বাহিনী সহযোগী ভূমিকা পালন করলেও পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হয়েছে বেসামরিক প্রশাসনের নেতৃত্বে।


তিনি অতীতের পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, একসময় দেশে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, কেউ কেউ মনে করেছিল নির্বাচন সম্ভব হবে না। তবে সেই আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত হয়েছে এবং দেশ গণতান্ত্রিক ধারায় অগ্রসর হতে পেরেছে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

ডিসি সম্মেলনে বক্তব্যের সময় সেনাপ্রধান জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে বলেন, যেকোনো প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সহায়তা দ্রুত পাওয়া যাবে। দুর্যোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বা জরুরি যেকোনো পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সেনা ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

সম্মেলনের আগে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাও বক্তব্য রাখেন। পুরো অনুষ্ঠানে প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়, উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
আগস্টেই বাংলাদেশিদের জন্য পুরোপুরি খুলতে পারে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

ঢাকা, ২ আগস্ট, ২০২৬: চলতি আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও পুরোপুরি উন্মুক্ত হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেছেন, মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে ধারাবাহিক ও ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সুখবর পাওয়া যাবে।   রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-২০৩০)’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে আমাদের সফল ও ফলপ্রসূ আলোচনার ফলস্বরূপ চলতি আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সেদেশের শ্রমবাজার আবারও পুরোদমে উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত সুখবর।”   তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। বিদেশগামী কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষা, অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কর্মীদের অধিকার রক্ষায় সরকার বহুমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।   শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর মাইগ্রেশন (জিসিএম)-এর চ্যাম্পিয়ন দেশ হিসেবে নিরাপদ, নিয়মিত ও সুশাসনভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থার বৈশ্বিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।   তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি বছর তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।   তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, অনিয়মিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনের কারণে এখনও অনেক কর্মী দালালচক্রের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়ের কারণে অনেক পরিবার ঋণের বোঝা বহন করতে বাধ্য হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকার অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে আনার পাশাপাশি দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করছে।   বিশ্ব শ্রমবাজারের পরিবর্তিত বাস্তবতার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে কারিগরি, প্রযুক্তিগত ও বিশেষায়িত দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে। সেই চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সরকার প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।   তিনি আরও জানান, প্রবাসীদের সেবা সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করতে বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর কনস্যুলার সেবা আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় জোরদার এবং অনিবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৃথক ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড এনআরবি অ্যাফেয়ার্স উইং’ চালু করা হয়েছে।   শামা ওবায়েদ বলেন, আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রণীত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-২০৩০) দেশের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, দক্ষ ও আধুনিক করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি বৈধ অভিবাসন সম্প্রসারণ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর নীতিমালা হিসেবে কাজ করবে।   অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কর্মকর্তা, দেশি-বিদেশি কূটনীতিক এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

১৪ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের যোগদানের নতুন তারিখ ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার আশপাশের নৌপথ সচল রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বক্তব্য অপরাধ, সরকারের বিরুদ্ধে নয়: তথ্যমন্ত্রী

অস্ত্র ও হত্যা মামলায় ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমন ১০ দিনের রিমান্ডে

  অস্ত্র ও হত্যা মামলায় চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।   রোববার (২ আগস্ট) চট্টগ্রামের একটি আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।   হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, হত্যা ও অস্ত্র মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতিটি মামলায় সাত দিন করে মোট ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত দুই মামলায় মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।   ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময়গত ২৯ জুলাই যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।   চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডেভিড ইমনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।   পুলিশের তথ্যমতে, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও তদন্তাধীন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ০২, ২০২৬

সততার সঙ্গে নতুন ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান অ্যাটর্নি জেনারেলের

ছবি : সংগৃহীত

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ সদস্যদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজধানীতে জামাতার ছুরিকাঘাতে মা-মেয়ে নিহত

শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৮২ লাখ টাকার স্বর্ণসহ ভারতীয় নাগরিক আটক

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৮২ লাখ টাকা মূল্যের ৪২৭ গ্রাম স্বর্ণসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তামিম আনসারী নামের ওই ব্যক্তি ভারতের চেন্নাইয়ের তামিল নাড়ু এলাকার বাসিন্দা। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে এই স্বর্ণ নিয়ে আসেন। তার আন্ডারওয়্যারের ভেতর থেকে এগুলো উদ্ধার করা হয়।     চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (জনসংযোগ) প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টায় শারজাহ থেকে এয়ার এরাবিয়ার একটি ফ্লাইটে ভারতীয় নাগরিক তামিম আনসারী চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দরের কাস্টমস হলের গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমের সময় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তার দেহ তল্লাশি করা হয়। পরে তার আন্ডারওয়্যারের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো অবস্থায় ক্যাপসুলসদৃশ্য ৯টি বস্তু উদ্ধার করা হয়। বিমানবন্দরে কাস্টমস কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিতে পেস্ট আকারে এসব স্বর্ণ গলিয়ে আনা হয়।   তিনি জানান, জানা গেছে, এই স্বর্ণের ওজন ৪২৭ গ্রাম। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৮১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৭৫ টাকা। আটক ব্যক্তিকে পতেঙ্গা থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।    আটক তামিম আনসারী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কাস্টমস কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, তিনি নিয়মিত এই রুটে যাতায়াত করেন এবং কাপড়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ০২, ২০২৬

কোনো প্রতিভা প্রতিবন্ধকতার কারণে থেমে থাকবে না: আইসিটিমন্ত্রী

বিএনপি জাতীয় মুনাফেক এবং বেইমানের দল: রাবি শিবির সেক্রেটারি

রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় এবার হেভিওয়েট তিন নাম

0 Comments