বিশ্ব

নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন : ট্রাম্প

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজন। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই আর্কটিক দ্বীপে বিশেষ দূত নিয়োগকে কেন্দ্র করে কোপেনহেগেনের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনার মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

বার্তাসংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প বারবার গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্বের কথা তুলে ধরছেন। তিনি এমনকি এ বিষয়ে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি।

রোববার ট্রাম্প লুইজিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে।

সোমবার ফ্লোরিডার পাম বিচে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য দরকার, খনিজ সম্পদের জন্য নয়। 

তিনি দাবি করেন, দ্বীপটির আশপাশের জলসীমায় রাশিয়া ও চীনের জাহাজের উপস্থিতি বেড়েছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ বিষয়ে তার প্রশাসন দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।

অন্যদিকে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতারা স্পষ্ট করে জানিয়ে আসছেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং দ্বীপটির ভবিষ্যৎ গ্রিনল্যান্ডের জনগণই নির্ধারণ করবে। এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের বেশির ভাগ মানুষ ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতা চাইলেও যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে আগ্রহী নয়।

উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং দ্বীপটি বিরল খনিজ সম্পদেও সমৃদ্ধ। ডেনমার্ক ইতোমধ্যে আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

হরমুজে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অত্যাধুনিক’ সাবমেরিন ড্রোন জব্দের দাবি ইরানের

 কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন চালকবিহীন সাবমেরিন ড্রোন জব্দ করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, একটি জটিল গোয়েন্দা ও সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভোরে ড্রোনটি আটক করা হয়।   ইরানের দাবি, জব্দ করা ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আধুনিক ও অত্যাধুনিক চালকবিহীন সাবমেরিনগুলোর একটি। আইআরজিসি বলেছে, পানির নিচে ব্যবহারের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি এতে রয়েছে এবং এটি ২০২৫ সালে মার্কিন বহরে যুক্ত করা হয়েছিল। ড্রোনটির ছবি পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে বলেও জানানো হয়।   ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রোনটি পানির নিচে নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, মাইন শনাক্তকরণ এবং পানির নিচে থাকা যোগাযোগের কেবল ও পাইপলাইন পরিদর্শনে সক্ষম।   তবে ইরানের এই দাবির সঙ্গে ভিন্নমত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ইরানের হাতে যাওয়া ড্রোনটি পুরোনো একটি মডেল এবং সেটি জব্দ হওয়ার এক দিনেরও বেশি সময় আগে ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়েছিল। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ড্রোনটিতে কোনও সংবেদনশীল তথ্য, গোপন সোনার বা রাডার সরঞ্জাম ছিল না।   হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক মাস ধরে উত্তেজনা চলছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরান প্রণালিটিতে অবরোধ বজায় রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে।   ড্রোন জব্দের এই ঘটনা দুই দেশের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক তৎপরতা ও নৌ চলাচল নিয়ে ইতোমধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সর্বোচ্চ বেতনভোগী নেতার বেতন বাড়ছে, যোগ হচ্ছে ১১ লাখ ডলার

ছবি: সংগৃহীত

নদীহীন সৌদিতে ৩৭ মিলিয়ন মানুষের পানির জোগান আসে যেভাবে

রয়টার্স ছবি

ইসরায়েলি অবৈধ বসতির পণ্য ও বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করল যুক্তরাজ্য

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধের’ হুমকি ইরানের: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে।  এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধের’ হুমকি দিয়েছে ইরান। একইসঙ্গে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবিও করেছে তেহরান। কয়েক দিনের বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফের হামলা-পালটা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।       মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের জবাব দিতে পারস্য উপসাগরজুড়ে একটি সামুদ্রিক ‘প্রবেশ-নিষিদ্ধ অঞ্চল’ তৈরি করা হবে।     এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ‘কাসিম বসির’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তাদের যুদ্ধজাহাজগুলো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।     মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় রেজাই জানান, ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে ‘স্পষ্ট সতর্কবার্তা’ দেওয়া হয়েছে।  অর্থনৈতিক যুদ্ধের জবাবে পারস্য উপসাগরে অবরোধের পরিধি পর্যন্ত সামুদ্রিক প্রবেশ-নিষিদ্ধ অঞ্চল গড়ে তোলার হুমকিও দেন তিনি।     সৌদি আরবে হুথিদের হামলা এদিকে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের কয়েকটি শহরে হামলা চালিয়েছে। এতে অত্যন্ত ৭০ জন আহত হয়েছেন। এ হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।     এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রণালি খুলে দেওয়া সত্ত্বেও ইরান সেখানে চলাচলকারী জাহাজ নিয়ে হুমকি অব্যাহত রেখেছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে পণ্যবাহী জাহাজের চলাচল আবারও কমেছে।        ‘কাসেম বসির’ কতটা শক্তিশালী? ইরান ‘কাসেম বসির’কে উন্নত প্রযুক্তির একটি ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে প্রচার করেছে। তেহরানের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটির উন্নত দিকনির্দেশনা ব্যবস্থা রয়েছে এবং এটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে সক্ষম।      ইরানের ফার্স নিউজ জানায়, ২০২৫ সালের জুনে ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রথমবার এটি যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়।     ইরানের সামরিক সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের হামলা দুর্বল হলেও দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এখনো উল্লেখযোগ্য। এসব অস্ত্রের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী তেলবাহী জাহাজ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে।   হরমুজ প্রণালি ঘিরে উদ্বেগ যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহণ হতো। ফলে এ নৌপথে অচলাবস্থা তৈরি হলে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামে বড় প্রভাব পড়তে পারে। সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যে তেলের দামও বেড়েছে।     মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হলে তেলের দাম দ্রুত কমবে এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না কেনোভাবেই।     তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ ও দেশটির সামরিক সক্ষমতা কমানোর মতো ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্যগুলো কোনোটি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।      এদিকে তেহরানের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের দাবি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে মাশুল আদায়ের পরিকল্পনা করছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
পাঁচ আসনের একটি বিমান। সংগৃহীত ছবি

বাহামা থেকে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার পথে ৪ আরোহীসহ বিমান নিখোঁজ

যুক্তরাষ্ট্রের ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর কানাডার শুল্ক কার্যকর

রাশিয়ার ককেশাসে তুষারধসে নিহত ১১, নিখোঁজ ৬

৭৫০ মিলিয়ন ডলারে যুক্তরাষ্ট্রের হিমার্স কিনছে সুইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি হিমার্স রকেট আর্টিলারি ব্যবস্থা কিনছে সুইডেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোলাবারুদসহ এই চুক্তির মূল্য ৭০০ কোটি সুইডিশ ক্রোনার, যা প্রায় ৭৫ কোটি মার্কিন ডলার।   সুইডিশ সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এসভিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক বছর ধরে প্রস্তুতির পর সরকার এই ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে। চুক্তির আওতায় ১০টির বেশি হিমার্স লঞ্চার এবং জিএমএলআরএস গোলাবারুদ কিনবে সুইডেন। আগামী বছর প্রথম ইউনিটগুলো দেশটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।   সুইডেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পাল ইয়োনসন বলেন, এর মাধ্যমে সুইডিশ সেনাবাহিনী এমন একটি সক্ষমতা অর্জন করবে, যা বর্তমানে তাদের নেই। এর ফলে আগের তুলনায় অনেক বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো সম্ভব হবে।   হিমার্স কেনার পাশাপাশি সুইডিশ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান সাব এবং মার্কিন অস্ত্র নির্মাতা লকহিড মার্টিন সুইডেনে প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল বা পিএসআরএম গোলাবারুদ উৎপাদনের বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। বিশ্বজুড়ে হিমার্সের গোলাবারুদের ঘাটতির মধ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   এসভিটির তথ্য অনুযায়ী, এসব ক্ষেপণাস্ত্র সর্বোচ্চ ৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।   এদিকে সুইডেন ও ফিনল্যান্ড হিমার্স ব্যবস্থা নিয়ে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ফিনল্যান্ডে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফিনল্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরে রকেট আর্টিলারি ব্যবস্থার বিশেষায়িত ইউনিট রয়েছে।   ফিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্ত্তি হাক্কানেন বলেন, এই উদ্যোগ দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর করার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬

শি-ট্রাম্প বৈঠকের আগেই চীনের বাণিজ্যে জোয়ার

‘বাঙালি মাছ-মাংস খাবেই’, বাঘেশ্বর বাবাকে রাজ্য বিজেপির জবাব

ভলকার তুর্ক। ছবি: সংগৃহীত

দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নজরদারিতে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান চান ভলকার তুর্ক

0 Comments