যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া নতুন সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিতের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন ও ইরানি প্রেসিডেন্টের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়েছে। সমর্থকদের কাছে এটি ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ হিসেবে বিবেচিত হলেও ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলো কাছে এটি উদ্বেগের কারণ।
বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে তিন মাসের যুদ্ধের অবসান ঘটে। জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ফ্রান্সের ভার্সাইয়ে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৪ দফার এই সমঝোতার আওতায় ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হয়েছে, যার মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। এ সময়ের মধ্যে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা চলবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
লেবাননের বিশ্লেষক সারকিস নাওমের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের জন্য এটি একটি বড় সমঝোতা, যার সফল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরান আর অর্থনৈতিক সংকট দীর্ঘায়িত করতে পারবে না, আবার ট্রাম্পও নতুন যুদ্ধ শুরু করতে আগ্রহী নন।
ইসরাইলের জন্য ধাক্কা
ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ গবেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ এই চুক্তিকে কৌশলগত ‘বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, যে অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল বা উৎখাত করা, সেটিই শেষ পর্যন্ত ইরানকে আরও বৈধতা দিয়েছে।
সিট্রিনোভিচ বলেন, ইসরাইলের প্রধান দাবিগুলোর কোনোটিই এই চুক্তিতে প্রতিফলিত হয়নি। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীগুলোর ওপর কোনো সীমাবদ্ধতা নেই, এমনকি পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলারও সুস্পষ্ট পথ নির্ধারণ করা হয়নি। এই চুক্তি ইরানকে আরও কৌশলগত সুযোগ দিয়েছে এবং একই সঙ্গে ইসরাইলকে আরও বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শক্তিশালী অবস্থানে ইরান
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তি কার্যকর থাকলে ইরান যুদ্ধের অবসান, ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ, তেল রপ্তানি পুনরায় বৃদ্ধি এবং পুনর্গঠনের জন্য বিপুল অর্থায়নের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থাও কার্যত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যে লক্ষ্যগুলো ছিল—ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার পতন, পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস এবং আঞ্চলিক প্রভাব কমানো—তার কোনোটিই পুরোপুরি অর্জিত হয়নি বলে মনে করছেন সমালোচকরা।
চুক্তির ফলে লেবাননেও ইরানের প্রভাব আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তেহরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর অবস্থান আরও সুদৃঢ় হতে পারে এবং দেশটি বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অংশ হয়ে উঠতে পারে। যদিও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন সম্প্রতি বলেছেন, যুদ্ধবিরতি বা দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের মতো বিষয়ে ইরান লেবাননের পক্ষে আলোচনা করতে পারে না।
তবে হিজবুল্লাহ-ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনার ফলে লেবাননের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে, কারণ উভয় পক্ষই নিজেদের মিত্রদের ওপর প্রভাব খাটিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ
চুক্তি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোতে। তাদের আশঙ্কা, এটি অঞ্চলে ইরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করবে। উপসাগরীয় সূত্রগুলোর মতে, এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার ওপর আস্থা হারাতে পারে দেশগুলো এবং ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার পথ আরও জোরালো করতে পারে।
তবে ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক অ্যালেক্স ভাতানকা মনে করেন, বহু বছরের চাপ প্রয়োগের কৌশল ব্যর্থ হওয়ার পর এটি সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান। তার মতে, বৃহত্তর যুদ্ধ হলে উপসাগরীয় অঞ্চল কয়েক দশকের জন্য অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারত।
‘বড় পরীক্ষা এখনও বাকি’
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তি বাস্তবায়ন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনা এবং আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়াই নির্ধারণ করবে এই সমঝোতার প্রকৃত সাফল্য। তাদের ধারণা, পুরো প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তার জায়গা হতে পারে ইসরাইল। যদিও ট্রাম্পের পৃষ্ঠপোষকতায় এগোনো এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি ভণ্ডুল করার সম্ভাবনা কম, তবুও বিশেষ করে লেবানন ইস্যুতে নতুন উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে।
একজন ইরানি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যুদ্ধের পর ইসরাইল আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তার দাবি, ইরান তার লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং হিজবুল্লাহর মতো মিত্রদের ত্যাগ না করেই আলোচনায় অংশ নিয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
প্রায় পাঁচ দিনের বিরতির পর আবারও ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় (ইস্টার্ন টাইম) বুধবার রাত ৮টা, যা বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা, থেকে নতুন এ অভিযান শুরু হয়। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবেই এ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, “মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের হামলার উপযুক্ত জবাব দিতেই এই সামরিক অভিযান শুরু করা হয়েছে।” এর কয়েক ঘণ্টা আগে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “জর্ডানে আমাদের সেনাঘাঁটিতে ইরান হামলা করেছে। এখন আমাদের পালা। আমাদের জবাব খুব কঠিন হবে।” তবে একই সঙ্গে তিনি তেহরানের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। মিসরের বন্দরে মার্কিন ট্যাংকারে ড্রোন হামলার অভিযোগ ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যামব্রের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোরে মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর দামিয়েত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি গ্যাসবাহী ট্যাংকারে ইরানি ড্রোন আঘাত হানে। এতে বন্দরে আগুন লাগে। যদিও মিসরের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে তাদের বিবৃতিতে ড্রোন হামলার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। একই সময়ে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর বিরুদ্ধে। হামলার দায় স্বীকার আইআরজিসির বুধবার রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার কথা স্বীকার করে। একই বিবৃতিতে ওমানের দেওয়া হরমুজ প্রণালি যৌথভাবে পরিচালনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার কথাও জানানো হয়। ভেঙে গেল যুদ্ধবিরতি গত ১৭ জুন ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল। তবে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি ট্যাংকারে ড্রোন হামলার পর পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর সেন্টকম পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করলে টানা ১৩ দিন উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলে। পরবর্তীতে ২৫ জুলাই থেকে উভয় দেশ সাময়িক বিরতিতে গেলেও বুধবারের নতুন হামলার মাধ্যমে সেই বিরতির অবসান ঘটেছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ায় অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, কূটনৈতিক উদ্যোগে অগ্রগতি না হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। সূত্র: রয়টার্স
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেওয়া প্রাথমিক পর্যায়ে ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার। একই সঙ্গে তিনি জানান, মিয়ানমার বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাসকারী প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে, যদিও তাদের প্রত্যাবাসনের নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে’র বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানায়, একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই সমঝোতাকে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং মালয়েশিয়ায় জনশৃঙ্খলা রক্ষার দিকে একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, অনেকেই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর দাবি জানান, কিন্তু প্রশ্ন হলো তাদের কোথায় পাঠানো হবে? কারণ ইতোপূর্বে মিয়ানমার তাদের গ্রহণ করতে চাইত না। ঠিক এ কারণেই মিয়ানমারের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি জানান, এখন তারা প্রথম ধাপে ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে নিতে রাজি হয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা বৃহৎ সংখ্যক রোহিঙ্গার অন্যতম একটি অংশকে আশ্রয় দিয়ে আসছে মালয়েশিয়া। কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার কার্যালয়ের বাইরে পেনাংয়ের একটি শিবির থেকে আসা শতাধিক রোহিঙ্গার জমায়েতের পর এই ঘোষণা আসে। পরবর্তীতে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ সেই দলটিকে কুয়ালালামপুর, সেলানগর এবং পেনাংয়ের অস্থায়ী অবস্থানে স্থানান্তরিত করে। আনোয়ার ইব্রাহিম আরও বলেন, আঞ্চলিক এই শরণার্থী সংকটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধান খুঁজে বের করতে মিয়ানমারের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাবে মালয়েশিয়া। মিয়ানমারের প্রধানত মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায় রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য, নিপীড়ন ও রাষ্ট্রহীনতার শিকার হয়ে আসছে এবং চরম কষ্ট থেকে বাঁচতে তারা প্রায়শই বিপজ্জনক সমুদ্রপথে দেশত্যাগের চেষ্টা করে থাকে। ২০১৭ সাল থেকে সামরিক বাহিনী ও সশস্ত্র দলগুলোর সহিংস দমনপীড়নের কারণে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা পাড়ি দিয়ে অনেকে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াতেও পৌঁছেছে।
ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবস্থান লক্ষ্য করে পূর্ব ইরাকে যৌথভাবে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। বুধবার ভোরে এক বিবৃতিতে এ দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। খবর শাফাক নিউজের। সেন্টকমের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান পূর্ব ইরাকের বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্রভান্ডার ও সরবরাহকেন্দ্রে নির্ভুল হামলা চালায়। গত ৭২ ঘণ্টায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পরিচালিত ৩০টির বেশি ড্রোন হামলার জবাব হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু কোন প্রদেশে ছিল, সে বিষয়ে সেন্টকম নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি। অন্যদিকে, একটি নিরাপত্তা সূত্র শাফাক নিউজকে জানিয়েছে, বসরা, বাবিল, কারবালা ও নিনেভা প্রদেশের কয়েকটি স্থাপনার কাছে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সেন্টকম আরও দাবি করেছে, তাদের বাহিনীর বিরুদ্ধে চালানো হামলাগুলো লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে আইআরজিসি ও তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র আরও সামরিক পদক্ষেপ নেবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও স্থাপনার ওপর ৬০০টির বেশি হামলার চেষ্টা চালিয়েছে। এদিকে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে সেন্টকমের সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়েছে। সৌদি তেল স্থাপনায় হামলার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ থাকা ইরাকভিত্তিক মিলিশিয়াদের অবস্থান লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে বলে তাদের দাবি। সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা উত্তেজনা বাড়াতে চায় না, তবে দেশের ভূখণ্ডে যেকোনো হামলার জবাব দেবে। সোমবারও সৌদি আরব একই গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে তেল স্থাপনায় হামলার অভিযোগ তোলে। তবে ইরান-ঘনিষ্ঠ ইরাকি সশস্ত্র জোট ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলী ফালেহ আল-জাইদি।