খেলাধুলা

নতুন দুই মুখ নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

মারিয়া রহমান মে ২৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

দুই নতুন মুখকে দলে অন্তর্ভুক্ত করে দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১০ সালের পর দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষা শেষে আবারও বিশ্বকাপ মঞ্চে ফিরছে প্রোটিয়ারা।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপের দলে ডাক পেয়েছেন নতুন দুই মুখ ডিফেন্ডার অলওয়েথু মাখানিয়া ও ব্র্যাডলি ক্রস।


আর দলটিতে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে বড় শিরোপা জেতা দুই ক্লাব ‌মামেলোদি সানডাউনস ও অরল্যান্ডো পাইরেটসের ফুটবলাররা।দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ দলে সানডাউনস ও পাইরেটস দুই ক্লাব থেকেই জায়গা পেয়েছেন আটজন করে খেলোয়াড়।


দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ দল:
গোলরক্ষক: সিফো চেইনে (অরল্যান্ডো পাইরেটস), রিকার্ডো গস (সিওয়েলেলে), রনওয়েন উইলিয়ামস (মামেলোদি সানডাউনস);

ডিফেন্ডার: অব্রি মোদিবা, খুলিসো মুদাউ, খুলুমানি এনদামানে (সবাই সানডাউনসের), কামোগেলো সেবেলেবেলে, এনকোসিনাথি সিবিসি (দুজনই পাইরেটস), ব্র্যাডলি ক্রস (কাইজার চিফস), সামুকেলে কাবিনি (মোলদে/নরওয়ে), অলওয়েথু মাখানিয়া (ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন/যুক্তরাষ্ট্র), থাবাং মাতুলুদি (পোলোকওয়ানে সিটি), এমবেকেজেলি এমবোকাজি (শিকাগো ফায়ার/যুক্তরাষ্ট্র), ইমে ওকন (হ্যানোভার/জার্মানি);

মিডফিল্ডার: অসউইন অ্যাপোলিস, থালেন্তে এমবাথা, রেলেবোহিলে মোফোকেং (সবাই পাইরেটস), জেডেন অ্যাডামস, তেবোহো মোকোয়েনা, থেম্বা জোয়ানে (সবাই সানডাউনস), স্পেহেফেলো সিথোলে (তোনদেলা/পর্তুগাল);

ফরোয়ার্ড: এভিডেন্স মাকগোপা, ছেপাং মোরেমি (দুজনই পাইরেটস), লাইল ফস্টার (বার্নলি/ইংল্যান্ড), থাপেলো মাসেকো (এইইএল লিমাসল/সাইপ্রাস), ইকরাম রেইনার্স (সানডাউনস)।


দক্ষিণ আফ্রিকা এর আগে তিনবার বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলেছে।১৯৯৮ সালে প্রথমবার অংশ নেওয়ার পর তারা আবার ২০০২ সালে যোগ্যতা অর্জন করে এবং ২০১০ সালে নিজেদের মাটিতে টুর্নামেন্ট আয়োজনও করে। তবে প্রতিবারই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইনস্টাগ্রাম বার্তা থেকে বাংলাদেশ দলে, সুলিভান ভাইদের তিক্ত-মধুর অভিজ্ঞতা

বাংলাদেশের ফুটবলে রোনান ও ডেকলান সুলিভানকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল হঠাৎ করেই। মার্চ-এপ্রিলে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে দুই যমজ ভাইয়ের পারফরম্যান্স নজর কেড়ে নেয়। বিশেষ করে ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারে রোনানের সাহসী পানেনকা পেনাল্টি বাংলাদেশের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে ওঠে।   বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার এই দুই তরুণ এর আগে কখনো বাংলাদেশে আসেননি। কিন্তু একটি ইনস্টাগ্রাম বার্তা থেকেই শুরু হয় তাদের বাংলাদেশ জাতীয়তার সূত্র খোঁজা এবং বয়সভিত্তিক দলে খেলার যাত্রা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে আসা, দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং মাঠের বাইরের নানা অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তারা।   ইনস্টাগ্রাম ডিএম থেকেই শুরু: ডেকলান সুলিভান জানান, বাংলাদেশে খেলার প্রস্তাবটি প্রথমে তাদের কাছে আসে ‘সেভ বাংলাদেশ ফুটবল’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে। তার ভাষায়, বিষয়টি শুরু হয়েছিল একটি ইনস্টাগ্রাম ডিএম দিয়ে। প্রথমে তারা বিষয়টি নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্ত ছিলেন। কারণ, একটি ফ্যান পেজ কীভাবে তাদের পাসপোর্ট না থাকা অবস্থায় বাংলাদেশে এসে ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে—তা বুঝতে পারছিলেন না। পরে তারা জানতে পারেন, অ্যাকাউন্টটি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে কাজ করা একটি বৈধ প্ল্যাটফর্ম। পরে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার আগ্রহ জানালে ওই প্ল্যাটফর্ম তাদের বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়।   দেশের হয়ে খেলার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি: রোনান বলেন, কলেজে ভর্তি হওয়ার আগে তাদের হাতে কিছুটা অবসর সময় ছিল। তাই বাংলাদেশে গিয়ে ফুটবল খেলার পাশাপাশি দেশের প্রতিনিধিত্ব করা এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগটি তারা কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন। তবে বাংলাদেশে আসার পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ ছিল না। ডেকলানের ভাষায়, পরবর্তী প্রায় তিন মাসের প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ ‘পাগলাটে’। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়া। কারণ তাদের মায়ের নিজের বাংলাদেশি পাসপোর্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত মার্চে নিউইয়র্ক থেকে দিল্লি হয়ে ঢাকায় পৌঁছান দুই ভাই। ডেকলানের মতে, এটিই ছিল তাদের জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ ভ্রমণ।   শিরোপা জয়ের পর বদলে যায় সবকিছু: সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে সাফল্যের পর বাংলাদেশে তাদের জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়ে যায়। শিরোপা জয়ের পর ঢাকায় ফিরে ফুল, শুভেচ্ছা ও মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হন তারা। ডেকলান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের দল শিরোপা জিতিয়ে দেওয়ায় অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের যুব ফুটবলে এমন উচ্ছ্বাস খুব একটা দেখা যায় না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশে অবস্থানের সময় নিজেদের জন্যও কিছুটা সময় বের করেন দুই ভাই। ঘুরে দেখার পাশাপাশি বাংলাদেশের খাবার উপভোগ করেন এবং নানির সঙ্গে সময় কাটান। এর আগে তারা যুক্তরাষ্ট্রেই নানির সঙ্গে দেখা করেছিলেন।   পানেনকা নিয়ে ভাইয়ের আস্থা ছিল: সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারে রোনানের নেওয়া পানেনকা পেনাল্টি ছিল ম্যাচের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত। রোনান জানান, জীবনে এর আগে মাত্র দুবার পানেনকা পেনাল্টি নিয়েছিলেন। দুটিই ছিল অনুশীলনের সময়। এর একটিতে বল ক্রসবারে লেগেছিল। তবু ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একই ধরনের পেনাল্টি নিতে দ্বিধা করেননি তিনি। ডেকলান জানান, রোনান শেষ পেনাল্টি নিলে এমন কিছুই করবে—এটা তিনি পুরো সময়ই জানতেন। তার মতে, এটি রোনানের স্বভাবেরই অংশ।   শুরুতে স্থানীয়দের কাছ থেকে সহযোগিতা পাননি: বাংলাদেশে এসে সব অভিজ্ঞতা অবশ্য সুখকর ছিল না। বিদেশে বেড়ে ওঠা ফুটবলার হওয়ায় দলের স্থানীয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে শুরুতে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে জানান রোনান। তিনি বলেন, বিদেশি হওয়ায় শুরুতে তাদের কাছে বল পাওয়া কঠিন ছিল। ভাষাগত সমস্যার পাশাপাশি দলের কয়েকজন খেলোয়াড় শুরুতে তাদের বাংলাদেশে আসায় খুব একটা খুশি ছিলেন না। তবে মাঠে কয়েকবার বল পাওয়ার পর নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে পারলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায় বলে জানান তিনি।   প্রবাসী প্রতিভা কাজে লাগানোর আহ্বান: ডেকলান মনে করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অনেক প্রতিভাবান ফুটবলার ছড়িয়ে আছেন। সুলিভান ভাইদের বাংলাদেশে খেলার পর আরও বিদেশি খেলোয়াড়ের বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বে আগ্রহী হয়ে ওঠার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের ভালো একাডেমিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণরা খেলছেন। এখন এসব প্রতিভাকে খুঁজে বের করে কাজে লাগানোই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৬, ২০২৬
ছবি- এএফপি

বাংলাদেশকে গুঁড়িয়ে প্রথমবার টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে স্টার্ক

ছবি: সংগৃহীত

১০০ মিলিয়ন ইউরোয় মরক্কোর বিশ্বকাপ তারকাকে দলে নিল ম্যান সিটি

ছবি: সংগৃহীত

মেসির সামনে ক্যারিয়ারের বিরল এক রেকর্ডের শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ফুটবল ক্লাব মালিক কারা?

ফুটবল এখন শুধু মাঠের ৯০ মিনিটের খেলা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা। বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন ক্লাবের মালিকানায় রয়েছেন শিপিং ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, বিলাসপণ্যের উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে রিয়েল এস্টেট ও বিনোদন জগতের ধনকুবেররা।   ফোর্বসের হিসাবে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ফুটবল ক্লাব মালিকদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত কয়েকজনের পরিচয় ও সম্পদের পরিমাণ তুলে ধরা হলো।   বের্নার আরনো — প্যারিস এফসির মালিক   আনুমানিক সম্পদ: ১৭,১০০ কোটি ডলার ক্লাব: প্যারিস এফসি, ফ্রান্স বিলাসপণ্যের বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান এলভিএমএইচের কর্ণধার বের্নার আরনো ব্যবসার পাশাপাশি ফুটবলেও বড় বিনিয়োগ করেছেন। প্যারিসের সবচেয়ে পরিচিত ক্লাব পিএসজির বাইরে এবার প্যারিস এফসিকে ঘিরেও তৈরি হচ্ছে নতুন আগ্রহ। আরনোর লক্ষ্য ক্লাবটিকে ইউরোপের ফুটবল অঙ্গনে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া।   ইদান ওফার — শিপিং ব্যবসা থেকে ফুটবলে আনুমানিক সম্পদ: ৩,৪৬০ কোটি ডলার ক্লাব: এফসি ফামালিকাউ ও আতলেতিকো মাদ্রিদ ইসরায়েলি ধনকুবের ইদান ওফারের মূল ব্যবসা শিপিং ও আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন। ইস্টার্ন প্যাসিফিক শিপিংয়ের মাধ্যমে গড়ে ওঠা তাঁর বিপুল সম্পদের একটি অংশ বিনিয়োগ হয়েছে ফুটবলে। পর্তুগালের এফসি ফামালিকাউয়ের মালিকানায় বড় অংশীদারিত্বের পাশাপাশি স্পেনের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আতলেতিকো মাদ্রিদেরও উল্লেখযোগ্য অংশীদার তিনি।   ফ্রাঁসোয়া পিনো — ফ্যাশন সাম্রাজ্যের মালিক আনুমানিক সম্পদ: ২,৯৫০ কোটি ডলার ক্লাব: স্তাদ রেনে, ফ্রান্স গুচি ও সাঁ লরাঁসহ একাধিক বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত কেরিং গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ফ্রাঁসোয়া পিনো। দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্সের ক্লাব স্তাদ রেনের মালিকানার সঙ্গে যুক্ত এই ব্যবসায়ী। ফ্যাশন জগতে বিশাল প্রভাব থাকা পিনো তাঁর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের পাশাপাশি ফুটবল ক্লাবটির উন্নয়নেও বিনিয়োগ করে আসছেন।   ডেভিড টেপার — বিনিয়োগ জগতের ধনকুবের আনুমানিক সম্পদ: ২,৩৭০ কোটি ডলার ক্লাব: শার্লট এফসি, যুক্তরাষ্ট্র হেজ ফান্ড ও বিনিয়োগ জগতের পরিচিত নাম ডেভিড টেপার। অ্যাপালুসা ম্যানেজমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা এই মার্কিন ব্যবসায়ী বিভিন্ন খেলাধুলায় বিনিয়োগ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) দল শার্লট এফসিও তাঁর ক্রীড়া বিনিয়োগের অন্যতম অংশ।   স্ট্যানলি ক্রোংকি — আর্সেনালের মালিক আনুমানিক সম্পদ: ২,২২০ কোটি ডলার ক্লাব: আর্সেনাল ও কলোরাডো র‍্যাপিডস রিয়েল এস্টেট ও ক্রীড়া ব্যবসার মাধ্যমে বিশাল সম্পদের মালিক হয়েছেন মার্কিন ব্যবসায়ী স্ট্যানলি ক্রোংকি। তাঁর মালিকানাধীন ক্রোংকি স্পোর্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্টের অধীনে রয়েছে ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল এবং যুক্তরাষ্ট্রের এমএলএস দল কলোরাডো র‍্যাপিডস। আর্সেনালের পুরুষ ও নারী দলও তাঁর ক্রীড়া সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইংলিশ ফুটবলে আর্সেনালের সাম্প্রতিক সাফল্যের পেছনে মালিকপক্ষের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বিনিয়োগও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফুটবল ক্লাবের মালিকানা এখন তাই কেবল খেলাধুলায় বিনিয়োগের বিষয় নয়। বিশ্বজুড়ে বড় ব্যবসায়ীরা ক্লাবকে ব্র্যান্ড, বিনোদন এবং বৈশ্বিক ব্যবসা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে পাকিস্তানের নেতৃত্বে ফিরছেন বাবর

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি অর্থায়ন না থাকায় ব্রাজিল-বাংলাদেশ প্রীতি ম্যাচ নিয়ে অনিশ্চয়তা

ছবি: সংগৃহীত

লাল বলের লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ ‘এ’ দলে রিশাদ-সাইফউদ্দিন

ব্রাজিল ফুটবল দল। ছবি : এএফপি
সরকারি অর্থ নয়, স্পনসর আনলে ব্রাজিলের ঢাকা সফর সম্ভব: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

ক্রীড়াঙ্গনে এই মুহুর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ব্রাজিল-বাংলাদেশের ম্যাচ। আগামী অক্টোবরেই ঢাকায় বাংলাদেশের সঙ্গে যে প্রীতি ম্যাচ খেলতে চেয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আর সফরটি আয়োজন করতে হলে বড় অঙ্কের অর্থই খরচ হবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে)। সে খরচ মেটাতে সরকারের দ্বারস্থ হওয়ার আভাস সোমবারই দিয়েছে বাফুফে। আজ মঙ্গলবার ঢাকায় বক্সিং ফেডারেশন আয়োজিত কোচেস ট্রেনিংয়ের সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এক প্রশ্নে উত্তরে ব্রাজিলের সফর নিয়ে সরকার কোনো অর্থ ব্যয়ের মানসিকতায় নেই বলে জানিয়ে দিয়েছেন। ভারতে ব্রাজিলের ম্যাচ আয়োজনে বড় অঙ্কের খরচ ও অভ্যন্তরীণ সমালোচনা, পাশাপাশি দেশে চলমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এক কথায় উত্তর দিলে এই মুহূর্তে আমরা সরকারে পক্ষ থেকে...এ ধরনের অর্থ ব্যয় করে...যেহেতু আপনারা জানেন...বিদ্যুৎ-জ্বালানি বিভিন্ন সেক্টর নিয়ে আমাদের অনেক বেশি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে একটি ম্যাচকে উপলক্ষ করে সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের ব্যয় করার মতো মানসিকতা আমাদের ভেতরে নেই।’ এরপরই আমিনুল হক যোগ করেন, ‘বাফুফের সঙ্গে যেহেতু কথা হয়েছে (ব্রাজিল প্রতিনিধিদলের), তারা যদি বিভিন্ন স্পনসর এনে সেটাকে পরিপূর্ণতা দিতে পারে, তাহলে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করব।’ ব্রাজিল সফরের বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া এবং সরকারের কাছে বাফুফের সহযোগিতার প্রত্যাশা প্রসঙ্গে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিষয়টা (ব্রাজিলের ঢাকা আসার সম্ভাবনা) একদম প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। বাফুফের সভাপতির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমরা প্রাথমিক আলোচনাই করেছি। ব্যয়ভার বহনসহ আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে এখনো খোলামেলা আলোচনা হয়নি।’ ব্রাজিল বাংলাদেশে এলে বাংলাদেশের ফুটবলে কী লাভ? এমন প্রশ্নও হয়েছে। আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা যেটা বিশ্বাস করি, ব্রাজিল টিম যদি বাংলাদেশে আসে, এসে যদি আবার বাংলাদেশ টিমের সঙ্গে খেলে, তাহলে সেটা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় অ্যাচিভমেন্ট। কিন্তু আমার বাংলাদেশের ফুটবল কতটুকু এগোবে এর মাধ্যমে, এটা নিয়ে আমি খুব বেশি আশাবাদী নই এ কারণে, ম্যাচ হবে, হয়তোবা বাংলাদেশ ব্রাজিলের সঙ্গে খেলবে, মানুষের যে প্রত্যাশা...সেটা হয়তোবা পূরণ হবে। দর্শকেরা হয়তোবা একটু আনন্দিত হবেন, কিন্তু ব্রাজিল টিম খেলে গেলে যে বাংলাদেশের ফুটবলে পরিবর্তন আসবে—এ বিষয়ের সঙ্গে আমি একমত নই।’ আমিনুল হক আরও বলেন, ‘এটা একদমই প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। এখনো বিশদভাবে আলোচনা হয়নি। আদৌ ব্রাজিল দল বাংলাদেশে আসবে কি না, সেটা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো বার্তা নেই।’

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বিপক্ষে আফগানিস্তানের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

কাউন্টিতে শরিফুলের বদলে কেন্টে যাচ্ছেন খালেদ

ছবি: সংগৃহীত

ফুলহ্যামকে হারিয়ে জয়ে প্রিমিয়ার লিগ শুরু চেলসির

0 Comments