জাতীয়

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রবেশের পর মসজিদে ধাক্কাধাক্কি ও বিশৃঙ্খলা

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে এসেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় তার আগমনকে ঘিরে মসজিদের ভেতরে ধাক্কাধাক্কি ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এতে মসজিদের দরজার গ্লাস ভেঙে অন্তত দুই মুসল্লি আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (৮ মে) জুমার নামাজ শেষে নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর কবরস্থান সিটি মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। তবে আহত মুসল্লিদের নাম পাওয়া যায়নি।

মসজিদের মুসল্লি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মসজিদে জুমার বয়ান চলাকালে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উপস্থিত হন। এ সময় তার সঙ্গে অনেক নেতাকর্মী মসজিদে প্রবেশ করেন। তবে তার আগমনকে কেন্দ্র করে মসজিদের ভেতরে কিছু নেতাকর্মী স্লোগান দিতে শুরু করলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এতে মুসল্লিদের ইবাদতে বিঘ্ন ঘটে। এ ছাড়া ধাক্কাধাক্কিতে মসজিদের দরজার গ্লাস ভেঙে যায়। সেই ভাঙা গ্লাসে কয়েকজন মুসল্লির পা সামান্য কেটে গেছে।

মুসল্লি আলমাস মিয়া বলেন, এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মসজিদে এলে তার সঙ্গে অনেক লোকজন এসেছে। এতে মসজিদের ভেতরে হইচই, ধাক্কাধাক্কি ও স্লোগানের কারণে স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। মুসল্লিদের নামাজ আদায় করতে কষ্ট হয়েছে। সবশেষে ওরা ধাক্কাধাক্কি করে মসজিদের দরজার গ্লাস ভেঙে ফেলেছে। সেই কাঁচের গ্লাস দিয়ে অনেকের হাত-পা কেটে যায়।

এর আগে জুমার নামাজের খোতবার আগে মসজিদে এসে বক্তব্য দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, মুসলমানরা যদি সজাগ না থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেসব হুমকি ও ষড়যন্ত্র আসছে, তা মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না। তাই সবাইকে মসজিদে আসতে বলি, যাতে করে সবাই মসজিদমুখী হয়।

এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে এনসিপির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হান বলেন, মসজিদের গেটে এসে মানুষের চাপে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তবে আমরা প্রথম থেকে মসজিদের ভেতরে চাপ কমানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু উপচে পড়া ভিড়ের কারণে তা কন্ট্রোল করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে মসজিদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমরা মসজিদের ভেঙে যাওয়া গ্লাস পুনঃস্থাপন করে দেবো।
 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
বাউবির এসএসসি ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬৩.৭৪ শতাংশ

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ।   বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন বাউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।   ১২ হাজার ২৪ জনের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ   বাউবি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এসএসসি প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষায় মোট ৩০ হাজার ৮১৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ১২ হাজার ২৪ জন। চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৭ হাজার ৬৬৪ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ৪ হাজার ৭২৫ জন ছাত্র এবং ২ হাজার ৯৩৯ জন ছাত্রী। বাউবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাবিবুল্যাহ মাহামুদ বুধবার (২৬ আগস্ট) এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের গেজেট উপাচার্যের কাছে হস্তান্তর করেন। এর পরদিন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা হয়।   ৪৯ কার্যদিবসেই ফল প্রকাশ ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বাউবি মূলধারার শিক্ষার বাইরে থাকা মানুষের জন্য শিক্ষার ‘দ্বিতীয় সুযোগ’ সৃষ্টি করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, নকলমুক্ত, সুষ্ঠু ও আধুনিক পরীক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত এবং প্রযুক্তিনির্ভর করার কাজ চলছে। উপাচার্যের দাবি, এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এর ফলাফল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র ৪৯ কার্যদিবসে প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে। ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতার যে পুরোনো ধারণা রয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   পরীক্ষাব্যবস্থায় আসছে আরও প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের সুবিধা ও পরীক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপাচার্য। এর মধ্যে রয়েছে— পরীক্ষাব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন কিউআর কোডযুক্ত পরিচয়পত্র ছবিযুক্ত প্রবেশপত্র আগামী পরীক্ষায় ই-অ্যাটেনডেন্স চালু উপাচার্য বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পরীক্ষা পরিচালনা ও শিক্ষার্থীদের পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে।   উত্তীর্ণদের অভিনন্দন, অকৃতকার্যদের পুনরায় পরীক্ষার আহ্বান ফলাফলে কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। যারা এবার উত্তীর্ণ হতে পারেননি, তাদের হতাশ না হয়ে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। ফলাফল প্রকাশ ও পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, পরীক্ষক, পরীক্ষা কমিটি, আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র, স্টাডি সেন্টার, পরীক্ষা বিভাগ, আইসিটি বিভাগ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, বাউবিকে আরও মানবিক, আধুনিক ও গুণগত শিক্ষার বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধসহ তিন বিল সংসদে উত্থাপন

ছবি: সংগৃহীত

ইউনিটপ্রতি ২৫ টাকা দরে চীনের বিদ্যুৎ কিনবে সরকার

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানালেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আকাশে দেখা যাবে রক্তিম আভায় মোড়া অপূর্ব চাঁদ

মহাকাশপ্রেমীদের জন্য আসছে এক মনোমুগ্ধকর মহাজাগতিক দৃশ্য। ২৮ আগস্ট আকাশে দেখা যাবে বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় গভীর আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। এ সময় পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশ ঢেকে যাবে। ফলে গ্রহণের চূড়ান্ত পর্যায়ে চাঁদের বড় একটি অংশে দেখা দিতে পারে গাঢ় কমলা, তামাটে ও রক্তিম আভা। এ কারণেই এই দৃশ্যকে অনেক সময় ‘ব্লাড মুন’ বা রক্তিম চাঁদের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।   জ্যোতির্বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে পৃথিবী অবস্থান করলে চন্দ্রগ্রহণ ঘটে। তখন পৃথিবীর ছায়া গিয়ে পড়ে চাঁদের ওপর। ২৮ আগস্টের গ্রহণটি পূর্ণগ্রহণ নয়; এটি হবে গভীর আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। তবে পৃথিবীর গাঢ় ছায়ায় চাঁদের প্রায় পুরো অংশ ঢেকে যাওয়ায় দৃশ্যটি পূর্ণগ্রহণের মতোই নাটকীয় হয়ে উঠবে। কেন চাঁদ লালচে দেখাবে? চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী সূর্যের আলোকে সরাসরি চাঁদে পৌঁছাতে বাধা দেয়। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে সূর্যের কিছু আলো বেঁকে চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছায়। এ সময় নীল আলোর তুলনায় লাল ও কমলা আলোর বিচ্ছুরণ কম হওয়ায় সেই আলো চাঁদকে তামাটে বা রক্তিম রঙে দেখাতে পারে। ফলে অন্ধকার আকাশে লালচে চাঁদের এক অপূর্ব দৃশ্য তৈরি হয়। কোথা থেকে দেখা যাবে? ২৮ আগস্টের এই মহাজাগতিক দৃশ্য উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সরাসরি দেখা যাবে। তবে বাংলাদেশের জন্য রয়েছে কিছুটা হতাশার খবর। গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায়টি বাংলাদেশ সময় সকালবেলায় ঘটবে। ফলে বাংলাদেশের আকাশে তখন চাঁদ দিগন্তের নিচে থাকায় এখান থেকে সরাসরি এই গ্রহণ দেখা সম্ভব হবে না। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরও ২৮ আগস্টের এই ঘটনাকে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। কখন হবে গ্রহণের চূড়ান্ত পর্যায়? আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী, গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায় হবে গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ১২ মিনিটে, যা বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ১২ মিনিটের কাছাকাছি। তখন চাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশ পৃথিবীর গাঢ় ছায়ায় ঢাকা থাকবে। ঢাকায় অবশ্য ২৮ আগস্ট সকালেই পূর্ণিমার চাঁদ থাকবে—চাঁদের পূর্ণিমা পর্যায় বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে হওয়ার কথা। আকাশপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ চন্দ্রগ্রহণ সাধারণত খালি চোখে দেখার জন্য নিরাপদ। সূর্যগ্রহণের মতো বিশেষ সুরক্ষাচশমার প্রয়োজন হয় না। তবে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি গ্রহণটি দেখা না গেলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানমন্দির ও জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের অনলাইন লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে এই বিরল দৃশ্য উপভোগ করা যাবে। মহাকাশের বিশাল মঞ্চে পৃথিবী, সূর্য ও চাঁদের এই নিখুঁত অবস্থান তৈরি করবে কয়েক ঘণ্টার এক অনন্য দৃশ্য। আর চাঁদের রুপালি আলো যখন পৃথিবীর ছায়ায় ম্লান হয়ে তামাটে-রক্তিম আভা ধারণ করবে, তখনই প্রকৃতির এই মহাজাগতিক সৌন্দর্য আরও রহস্যময় হয়ে উঠবে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাজিতপুরে কৃষি কলেজ স্থাপনের দাবি জানালেন এমপি ইকবাল

ছবি: সংগৃহীত

‘মক্কা চুক্তি’ ঘিরে আলোচনার মধ্যেই সৌদি যুবরাজকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি

ছবি: সংগৃহীত

ভর্তুকির ৪০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ, ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

ছবি: সংগৃহীত
যৌন হয়রানির অভিযোগে নিষ্ক্রিয় থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: ইউজিসি

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে শুধু কমিটি গঠন করলেই হবে না, অভিযোগ পাওয়ার পর তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে। দায়িত্ব পালনে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ব্যর্থ হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।   বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইউজিসি ভবনে ইউজিসি ও ইউএন উইমেনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।   ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রকল্পের আওতায় কর্মক্ষেত্র, জনপরিসর ও উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়।   ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে ইউজিসির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে এসব কমিটি প্রত্যাশিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে না।   তিনি বলেন, শুধু কমিটি গঠন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। কোনো নারী অভিযোগ করার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি যেন বিষয়টি এড়িয়ে যেতে না পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত ও প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।   অধ্যাপক মামুন আহমেদ আরও বলেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয় যৌন হয়রানি প্রতিরোধে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে ইউজিসি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।   এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে জাতীয় পর্যায়ে একটি সমন্বয় ও তদারকি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ইউজিসির প্রতিনিধিরা থাকবেন। অভিযোগ গ্রহণ, প্রতিকার এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সমন্বয় ও পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে প্রস্তাবিত কমিটি।   ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শূন্য সহনশীলতার নীতি কার্যকর করতে হবে। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও সহায়ক শিক্ষার পরিবেশে পরিণত করা সম্ভব। অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের ডেপুটি হেড বেইবা জেরিনা বলেন, উচ্চশিক্ষায় গুণগত মান নিশ্চিত করতে যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য দূর করা জরুরি। নারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।   সমঝোতা স্মারকের আওতায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশে যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।   পাশাপাশি অভিযোগ কমিটির কার্যকারিতা বৃদ্ধি, অভিযোগ গ্রহণ ও রেফারেল ব্যবস্থা উন্নত করা এবং শিক্ষার্থী ও কর্মীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও কাজ করবে ইউএন উইমেন ও আইন ও সালিশ কেন্দ্র।   অনুষ্ঠানে ইউজিসি, ইউএন উইমেন এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভূমি সেবায় দুর্নীতি-হয়রানি বন্ধে ডিজিটাল ব্যবস্থায় জোর: ভূমি সচিব

ছবি: সংগৃহীত

ঢাবির সড়ক-স্পিড ব্রেকার সংস্কারে উদ্যোগ, এক সপ্তাহেই শেষের আশা

ছবি: সংগৃহীত

লন্ডনে টি-১০ ক্রিকেটে গোয়াইনঘাট অলস্টারের শিরোপা জয়

0 Comments