বিনোদন

মিমির পাশে শুভশ্রী

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ৩০, ২০২৬

ওপার বাংলার বনগাঁর এক অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর হেনস্তার ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি, তারই মধ্যে বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া জানালেন ওপার বাংলার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শুভশ্রী গাঙ্গুলী। সোশ্যাল মিডিয়ায় যখন ক্ষোভ আর প্রতিবাদের ঝড়, তখন সহকর্মীদের নিরাপত্তা ও সম্মানের প্রশ্নে সরব হয়ে কড়া বার্তা দিলেন তিনি—তার বক্তব্যে স্পষ্ট, তারকাদের জন্য মঞ্চ কখনও আতঙ্কের জায়গা হতে পারে না।

 

সম্প্রতি একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শুভশ্রী জানান, শিল্পীদের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তার মতে, ইদানীং সেলিব্রেটিরা, বিশেষ করে নারী তারকারা এক শ্রেণির মানুষের কাছে ‘সফট টার্গেট’ হয়ে দাঁড়াচ্ছেন।

সহকর্মী মিমি চক্রবর্তীর অপদস্থ হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে শুভশ্রী বলেন, ‘বিগত কিছু সময় ধরে একটা বিষয় আমরা লক্ষ করছি সেলিব্রেটিরা, বিশেষ করে নারী তারকারা মানুষের কাছে খুব বেশি সফট টার্গেট হয়ে যাচ্ছেন। এই ব্যাপারটা কি আমরা মেনে নিচ্ছি, আমরা কি এই ধরনের আচরণের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি?

তার কথায়, ‘যা ঘটছে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমাদের সকলের উচিত একসঙ্গে এর প্রতিবাদ করা। আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে আমরা প্রত্যেকে এক একজন শিল্পী। আমরা সম্মানের জন্য কাজ করি। অবশ্যই আমরা পারিশ্রমিক পাই, কিন্তু যারা আমাদের পারিশ্রমিক দেন তারা আমাদের মাথা কিনে নেননি।’

শুভশ্রীর ভাষ্য, ‘যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর মন্তব্য করেন, তাদের বলতে চাই এই সমাজটা আপনাদেরও। সমাজকে সুস্থ রাখার দায়িত্ব শুধু আমাদের একার নয়, এই দায়বদ্ধতা আপনাদেরও আছে। তাই যা করবেন, একটু ভেবেচিন্তে করবেন।’

গত ২৯ জানুয়ারি মিমি চক্রবর্তীকে হেনস্তার দায়ে অভিযুক্ত তনয় শাস্ত্রীকে তার নিজ বাসভবন থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বনগাঁর সেই অনুষ্ঠানে মঞ্চে ওঠার মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় মিমিকে যেভাবে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে এখনও টালিপাড়ায় ক্ষোভ বিরাজ করছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

বিনোদন

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইউটিউবে ১০০ কোটি ভিউ, নতুন ইতিহাস ‘পাসুরি’র

পাকিস্তানি সংগীতের জনপ্রিয় গান ‘পাসুরি’ এবার ইউটিউবে এক বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ভিউয়ের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। ২০২২ সালে কোক স্টুডিওর মাধ্যমে প্রকাশিত আলী শেঠি ও শায়ি গিলের গানটি এই অর্জনের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি কোনো মিউজিক ভিডিও হিসেবে প্রথমবারের মতো এমন রেকর্ড গড়েছে।   কোক স্টুডিওর অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ‘পাসুরি’র ১ বিলিয়ন ভিউ পূর্ণ হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গানটির শ্রোতা ও দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।   ২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশের পর থেকেই ‘পাসুরি’ দ্রুত পাকিস্তানের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। প্রকাশের চার বছরেরও বেশি সময় পর গানটি ইউটিউবের ভিউয়ের হিসাবে ১০০ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করল।   ইউটিউবের পাশাপাশি অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও গানটির সাফল্য উল্লেখযোগ্য। স্পটিফাইয়ে গানটির স্ট্রিমিং ৪০ কোটি ৫০ লাখ ছাড়িয়েছে। ফলে এটি এখনো সবচেয়ে বেশি শোনা পাকিস্তানি গানগুলোর তালিকায় অন্যতম অবস্থানে রয়েছে।   গানটির আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তার প্রমাণ পাওয়া যায় ২০২২ সালের গুগল ট্রেন্ডসেও। ওই বছর বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি সার্চ করা গানগুলোর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ‘পাসুরি’। গুগলের ‘Hum to Search’ ফিচারেও গানটি শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছিল।   ‘পাসুরি’র দর্শকদের বড় একটি অংশ পাকিস্তানের বাইরের। প্রকাশের পর গানটির মোট ইউটিউব ভিউয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ বিদেশি দর্শকদের কাছ থেকে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। বিশ্বের ৬০টির বেশি দেশে গানটির ভিডিও দেখা হয়েছে।   আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গানটির প্রভাব আরও বাড়ে যখন এটি মার্ভেল স্টুডিওর জনপ্রিয় সিরিজ ‘মিস মার্ভেল’-এ ব্যবহৃত হয়। এর মাধ্যমে পশ্চিমা দর্শকদের কাছেও পাকিস্তানি সংগীতের পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়।   ‘পাসুরি’র জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতায় পরে কোক স্টুডিও আফ্রিকা গানটির আফ্রোবিটস সংস্করণও প্রকাশ করে। সেই সংস্করণে আলী শেঠির সঙ্গে কণ্ঠ ও সংগীতায়োজনে যুক্ত ছিলেন মারওয়ান মুসা ও রিকাডো ব্যাংকস।   মাত্র একটি গান হিসেবে শুরু হলেও ‘পাসুরি’ এখন পাকিস্তানি সংগীতের আন্তর্জাতিক সাফল্যের অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে। ইউটিউবে ১ বিলিয়ন ভিউয়ের রেকর্ড সেই জনপ্রিয়তাকেই আরও বড় স্বীকৃতি দিল।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
দীপিকা-প্রীতি।

দীপিকার ‘না’ যেখানে, প্রীতির সেখানে ১৮ ঘণ্টা!

মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬ হয়েছেন জোহেইরি মোলা দোমিঙ্গেস। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বসুন্দরীর মুকুট জিতলেন জোহেইরি মোলা

ছবি: সংগৃহীত

গোপনীয়তার অবসান, ভালোবাসার মানুষকে প্রকাশ্যে আনলেন সিদ্ধার্থ

দিনে সর্বোচ্চ কতটুকু ক্যাফেইন নিরাপদ, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

সতেজ থাকা, ঘুম কাটানো কিংবা কাজে মনোযোগ বাড়াতে অনেকেই নিয়মিত ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পান করেন। তবে প্রতিদিন কতটা ক্যাফেইন গ্রহণ করা নিরাপদ—এ প্রশ্নও অনেকের মনে থাকে।     বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন গ্রহণ সাধারণত নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়। এই পরিমাণ প্রায় চার কাপ সাধারণ কফি, ১০ ক্যান কোলা বা দুটি এনার্জি শটের সমান। তবে পানীয়ভেদে ক্যাফেইনের মাত্রায় বড় ধরনের পার্থক্য থাকতে পারে।     মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA) জানিয়েছে, গুঁড়া বা তরল ক্যাফেইন ব্যবহারে অতিরিক্ত মাত্রা গ্রহণের ঝুঁকি রয়েছে। মাত্র এক চা-চামচ গুঁড়া ক্যাফেইনে প্রায় ২৮ কাপ কফির সমপরিমাণ ক্যাফেইন থাকতে পারে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।     গর্ভবতী নারী, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন এমন নারী এবং যারা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন, তাদের ক্যাফেইন গ্রহণের নিরাপদ মাত্রা সম্পর্কে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।       অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের কারণে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের শরীর ক্যাফেইনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল বা যারা নির্দিষ্ট ধরনের ওষুধ সেবন করেন, তাদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।     দিনে চার কাপের বেশি ক্যাফেইনযুক্ত কফি পান করার পাশাপাশি মাথাব্যথা, ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, খিটখিটে মেজাজ, ঘন ঘন প্রস্রাব বা প্রস্রাবের ওপর নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ কমানোর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।       কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অল্প পরিমাণ ক্যাফেইনও দ্রুত হৃদস্পন্দন, পেশিতে কাঁপুনি, পেটের অস্বস্তি বা শরীর কাঁপার মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এমন উপসর্গ দেখা দিলে কফি বা অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পুরোপুরি বন্ধ করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।       অধিকাংশ ওষুধের সঙ্গে পরিমিত ক্যাফেইন গ্রহণ সাধারণত নিরাপদ হলেও এফেড্রিনযুক্ত ওষুধের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। ক্যাফেইনের সঙ্গে এ ধরনের ওষুধ গ্রহণ করলে কিছু মানুষের উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগজনিত জটিলতা, স্ট্রোক কিংবা খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়তে পারে।       এদিকে, দীর্ঘদিন নিয়মিত ক্যাফেইন গ্রহণের পর হঠাৎ তা বন্ধ করলে প্রত্যাহারজনিত কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। মাথাব্যথা, ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ এবং মনোযোগের ঘাটতি এর মধ্যে অন্যতম। তবে সাধারণত এসব উপসর্গ তীব্র হয় না এবং কয়েক দিনের মধ্যেই কমে যায়।       তাই ক্যাফেইন কমাতে চাইলে হঠাৎ বন্ধ না করে ধীরে ধীরে পরিমাণ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। যেমন প্রতিদিন একটি ক্যান কম সোডা পান করা, বড় কাপের পরিবর্তে ছোট কাপে কফি খাওয়া অথবা দিনের শেষভাগে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা যেতে পারে। এভাবে ধীরে ধীরে ক্যাফেইনের মাত্রা কমালে শরীরও নতুন মাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায় এবং প্রত্যাহারের উপসর্গ তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রথম সিনেমায় কত পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন পরীমনি

জনপ্রিয় মালয়ালম অভিনেত্রী মামিতা বাইজু। ছবি: সংগৃহীত

কত কোটি টাকার সম্পদের মালিক ‘প্রেমালু’ অভিনেত্রী মামিতা

ছবি: সংগৃহীত

কোমরে চোট পেয়ে একটা লাভ হয়েছে : রাশমিকা

আসিফ আকবর
বাবার শান্তি কমিটিতে সম্পৃক্ততা নিয়ে আসিফ আকবরের ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালে শান্তি কমিটিতে থাকার কারণে আসিফ আকবরের বাবা অ্যাডভোকেট আলী আকবরকে নিয়ে নানা আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। এবার বাবার সে সময়ের ভূমিকা নিয়ে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। আসিফ জানান, তার বাবা কুমিল্লা জেলা মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি  জীবনের শেষ পর্যন্ত মুসলিম লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এমনকি ১৯৮০ সালেও মুসলিম লীগের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। মুসলিম লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে ১৯৭১ সালে তার বাবা শান্তি কমিটির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে জানান আসিফ। তবে তার দাবি, শান্তি কমিটিতে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তার বাবা অনেক মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করেছিলেন। আসিফ বলেন, ‘আমার বাবা মুসলিম লীগের কুমিল্লা জেলার প্রভাবশালী সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি শেষ পর্যন্ত মুসলিম লীগের আদর্শেই বিশ্বাসী ছিলেন। মুসলিম লীগার হওয়ার কারণে শান্তি কমিটির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল। তবে শান্তি কমিটিতে থাকার উসিলায় তিনি অনেকের জানমাল, বাড়িঘর ও এলাকা রক্ষা করেছেন।’ এ সময় বাবার একটি ঘটনার কথাও জানান আসিফ। তার দাবি, তার বাবা ফাঁসির হাত থেকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বাঁচিয়েছিলেন। এসব ঘটনা ‘আকবর ফিফটি নট আউট’ বইয়ে বিস্তারিতভাবে লেখা আছে বলেও জানান তিনি। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে তার বাবার সম্পর্ক কেমন ছিল এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ বলেন, বিষয়টি সরাসরি এভাবে বলা ঠিক হবে না। তার দাবি, মুসলিম লীগের একজন নেতা হিসেবে বাবার ওপর যে দায়িত্ব ছিল, তিনি মূলত সেটিই পালন করেছেন। আসিফ বলেন, ‘যেহেতু তিনি অনেকের জীবন ও জানমাল রক্ষা করেছেন, তাই তাকে সরাসরি স্বাধীনতার বিপক্ষ বলা যায় না। মুসলিম লীগের একজন সদস্য হিসেবে তার ওপর যে দায়িত্ব ছিল, তিনি মূলত সেটিই পালন করেছেন।’ ছয় দফা নিয়েও বাবার অবস্থানের কথা জানান আসিফ। তার দাবি, ১৯৬৬ সালে ছয় দফা ঘোষণার পর তার বাবা মুসলিম লীগের একজন প্রতিনিধি হিসেবে চিঠি লিখে ছয় দফা মেনে নেওয়া এবং পূর্ব পাকিস্তানকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তবে সেই চিঠি এখন আর পরিবারের কাছে নেই বলে জানান আসিফ। তার ভাষ্য, ১৯৭১ সালের সময়কার অনেক কাগজপত্র তখন সংরক্ষণ করা হয়নি। তবে তার বড় ভাইয়েরা এ ঘটনার বিষয়ে জানেন বলে জানান তিনি। স্বাধীনতার পর তার বাবার কাস্টডিতে যাওয়ার ঘটনাটিও তুলে ধরেন আসিফ। তিনি জানান, ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা স্বাধীন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আহমদ আলী তার বাবাকে ফোন করে নিরাপত্তার জন্য কাস্টডিতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। আসিফের দাবি, নতুন অনেক যুবক মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেওয়ায় তার বাবার নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা ছিল। তাই সেই পরামর্শ অনুযায়ী ১৭ ডিসেম্বর তার বাবা নিজেই কাস্টডিতে চলে যান। এরপর তার বাবার বিরুদ্ধে কয়েকটি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয় বলে জানান আসিফ। এর মধ্যে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে হত্যার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল বলে দাবি করেন তিনি। আসিফ আরও জানান, ১৯৭৪ সালে তার বাবা আইনি লড়াই করে এসব অভিযোগ থেকে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করেন এবং কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন। তিনি বলেন, তার বাবা সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে মুক্তি পাননি। বরং আদালতে আইনি লড়াই করে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েই তিনি মুক্তি পেয়েছিলেন। দালাল আইনের অধীনেও কোনো রকম গ্রেফতার বা তার বাবার কোনো সাজা হয়নি বলেও দাবি করেন আসিফ। ১৯৭১ সালে বাবার ভূমিকা নিয়ে চলা বিতর্কের মধ্যে এসব কথা বলেন আসিফ আকবর। তার বক্তব্যে বাবার মুসলিম লীগ ও শান্তি কমিটির সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি যেমন এসেছে, তেমনি তার দাবি অনুযায়ী, ওই সময় অনেক মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় বাবার ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রণবীর-ক্যাটরিনার প্রেমের গল্প ফাঁস

ছবি: সংগৃহীত

৪৪ পেরিয়েও দিয়া মির্জার ত্বকে তারুণ্যের দীপ্তি, কী রহস্য?

ছবি: সংগৃহীত

বক্স অফিসে নতুন রেকর্ডের হাতছানি ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’র

0 Comments