জাতীয়

মেট্রোরেল এমআরটি-২ প্রকল্পে যুক্ত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-২ প্রকল্প থেকে এক দফা বাদ পড়ার পর আবারও রাজধানীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ শহরকে যুক্ত করার সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে সরকার। সংশোধিত পরিকল্পনায় আগে বাদ দেওয়া নারায়ণগঞ্জ অংশ পুনর্বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এবং প্রকল্পের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তা অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

 

অর্থ্যাৎ, ঢাকার গাবতলী থেকে প্রস্তাবিত এই মেট্রোরেল পথটিতে নারায়ণগঞ্জ অংশের চারটি স্টেশন- ভূঁইগড়, জালকুড়ি, শিবু মার্কেট ও নারায়ণগঞ্জ সদর আবারও যুক্ত করা হচ্ছে। এতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পথে যাতায়াতের সময় ও ব্যয় যেমন কমবে তেমনি এড়ানো যাবে যানজটও।

 

গত ৩১ মে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড এ প্রকল্পের অগ্রগতির একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, এ প্রকল্পের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে নারায়ণগঞ্জ শহরকে অন্তর্ভূক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) প্রতিবেদনে দু’টি বিকল্প রুট যেমন: গাবতলী-ডেমরা এবং গাবতলী-ডেমরা-সাইনবোর্ড-ভূঁইগড়-জালকুড়ি-শিবুমার্কেট-নারায়ণগঞ্জ; বিবেচনা করার বিষয়ে মতামত প্রদান করা হয়েছে।

 

“ভৌত অবকাঠামো বিভাগের মতামত এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সুপারিশ অনুযায়ী এমআরটি লাইন-২ এর রুট অ্যালাইনমেন্টে নারায়ণগঞ্জকে অন্তর্ভুক্ত করে পুনরায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে,” বলেও জানানো হয় ওই প্রতিবেদনে।

 

ঢাকা মহানগর ও আশেপাশের এলাকার যানজট নিরসনে ও পরিবেশ উন্নয়নে অত্যাধুনিক গণপরিবহন হিসেবে ছয়টি মেট্রোরেল লাইনের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কর্মপরিকল্পনা করেছে ডিএমটিসিএল।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ছয়টি মেট্রোরেল প্রকল্পের এমআরটি লাইন-২-এ ঢাকার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জকে সংযোগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ওই সময় সাইনবোর্ড হয়ে ভূঁইগড়, জালকুড়ি, শিবু মার্কেট ও নারায়ণগঞ্জ-এ চারটি স্টেশন করারও নকশা করা হয়। কিন্তু বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজধানীর পাশের নারায়ণগঞ্জের চারটি স্টেশন বাদ দিয়ে এ প্রকল্প এগোয়।

 

ওই সময় ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. আব্দুল বাকী মিয়া বলেন, “এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পের পরিকল্পনা রিভাইজ (সংশোধন) করা হয়েছে। ঢাকার গাবতলী থেকে এ লাইনটি ডেমরা হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তারাব বিশ্বরোড গিয়ে শেষ হবে।”

 

এ প্রকল্পে আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরের ভেতরে আরও তিনটি স্টেশন- ভূঁইগড়, জালকুড়ি ও নারায়ণগঞ্জ সেটশন- করার কথা থাকলেও সংশোধনী পরিকল্পনায় তা আর যুক্ত হচ্ছে না বলেও জানিয়েছিলেন আব্দুল বাকী মিয়া।

 

তিনি আরও বলেন, “শুরুর দিকে এমআরটি লাইন-৭ এর মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ শহরকে যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল। পরে যদিও এটি এমআরটি লাইন-২ এর পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। তবে, এখন নারায়ণগঞ্জ শহর মেট্রোরেল পথের সঙ্গে যুক্ত হবে এমআরটি লাইন-৭ এর মাধ্যমেই। কেননা, এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।”

 

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ওই কর্মকর্তা এ কথা জানালেও গত মে মাসের ডিএমটিসিএল’র প্রতিবেদন বলছে, এই পরিকল্পনায় আবারও পরিবর্তন আনা হয়েছে। যুক্ত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের ভেতরে চারটি স্টেশন।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার খরচ বাঁচাতে এমআরটি-২ প্রকল্প থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরকে বাদ দিলেও গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকারে আসা বিএনপি রাজধানীর পাশের শিল্পাঞ্চলকে গুরুত্ব দিয়েছে।

 

ডিএমটিসিএল তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ তাদের আপডেটিং অব দ্য রিভাইজড স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানের (ইউআরএসটিপি) চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ম্যাক্সিমাম ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট সিনারিও-তে এমআরটি লাইন-২-এর অ্যালাইমেন্ট গাবতলী থেকে ডেমরা হয়ে তারাব বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রস্তাব করেছিল।

 

এ মেট্রোরেল পথের দৈর্ঘ্য হবে ২৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার। যা নারায়ণগঞ্জ শহরকে যুক্ত করলে হওয়ার কথা ছিল ৩৪ কিলোমিটার।

 

মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানায়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ অনুযায়ী এবং প্রস্তাবিত অ্যালাইমেন্টের উপর ভিত্তি করে এমআরটি লাইন-২-এর প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের (পিডিপিপি) নীতিগত অনুমোদনের জন্য গত বছরের ৮ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগে পাঠানো হয়েছিল।

 

কিন্তু গত ২৫ জানুয়ারি ভৌত অবকাঠামো বিভাগ এমআরটি-২ প্রকল্প আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেয়। একইসঙ্গে জানানো হয়, নতুন মেট্রোরেল প্রকল্প শুরু করার আগে ঢাকার সম্পূর্ণ মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক বাস্তবায়নের ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা বা সময়সূচি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

 

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মেট্রোরেল পথে নারায়ণগঞ্জ শহরকে যুক্ত করতে ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে ওই বছরের ২৪ নভেম্বর ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটি’র এক সভায় এমআরটি লাইন-২ ও লাইন-৪ এ নারায়ণগঞ্জকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের পর এমআরটি-২ মেইন লাইনটি গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জ সদর পর্যন্ত নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

 

ডিএমটিসিএলের প্রাথমিক হিসাবে, ৩৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এই লাইন নির্মাণে ৬০ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল।

 

কিন্তু বিগত সরকার সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার (আরএসটিপি) খসড়ায় রুটে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিলে নারায়ণগঞ্জ বাদ পড়ে।

 

বিএমটিসিএল’র এমন পরিকল্পনার প্রতিবাদ জানায় নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক, নাগরিক ও ছাত্র সংগঠনগুলো। এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পেই নারায়ণগঞ্জকে যুক্ত করতে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়।

 

পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনে মেট্রোরেলের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ শহরকে যুক্ত করার দাবি সংসদেও তুলেছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিনও।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নানা মহলের দাবির কারণে এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পের পরিকল্পনায় আবারো পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জকে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা গেলে রাজধানীর ওপর চাপ কমার পাশাপাশি যাতায়াত সময় ও ব্যয় কমবে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

তবে পরিকল্পনার এই পরিবর্তন কত দ্রুত বাস্তবায়নে রূপ পাবে, তা নির্ভর করছে প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন ও অর্থায়ন প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
২০২৭ সালে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরুর আশা: ত্রাণমন্ত্রী

আগামী বছর তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী এবং তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী আসাদুল হাবিব দুলু।   শনিবার (১৬ আগস্ট) লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়ি ইউনিয়নে সানিয়াজান নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণকাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।   মন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এ পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।   তিস্তার পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে গঠিত কারিগরি কমিটির সুপারিশের কথা তুলে ধরে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি সংরক্ষণ ও এর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে বর্তমান তিস্তা ব্যারাজের ভাটিতে আরও একটি ব্যারাজ নির্মাণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   তিনি বলেন, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানির প্রবাহ ধরে রাখা গেলে নদীর পানি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। এ লক্ষ্যেই কারিগরি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ভাটিতে নতুন ব্যারাজ নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।   মন্ত্রী আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদী ও এর আশপাশের এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যার টেকসই সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী বছর থেকেই এ পরিকল্পনার কাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের প্রবেশমুখে গাড়ির পার্কিং, ধ্বংসস্তূপ ঘিরে কড়া পাহারা

ছবি: সংগৃহীত

এআই দিয়ে লেখা শনাক্তে নতুন প্রযুক্তি, শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট জালিয়াতি ঠেকানোর উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কর্নেল অলির মনোনয়নপত্র বৈধ

ছবি: সংগৃহীত
গাছ পড়ে ৩৩ কেভি লাইন ক্ষতিগ্রস্ত, উখিয়া-টেকনাফে বিদ্যুৎ বিপর্যয়

কক্সবাজারের উখিয়ার মরিচ্যা বিজিবি চেকপোস্ট এলাকায় ৩৩ কেভি বৈদ্যুতিক লাইনের ওপর গাছ পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। এতে উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলাসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।   রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভারি বৃষ্টির মধ্যে চেকপোস্ট সংলগ্ন সড়কের পাশের একটি রেইনট্রি গাছ হঠাৎ বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ে যায়। এতে চারটি খুঁটির সমন্বয়ে নির্মিত বক্স পোল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ৩৩ কেভি মেইন লাইনের বেশ কয়েকটি অংশ ক্ষতির মুখে পড়ে।   কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উখিয়া কার্যালয়ের ডিজিএম কায়জার নুর জানান, দুর্ঘটনার পর উখিয়া ও টেকনাফের পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভ ও জালিয়াপালং এলাকার বিভিন্ন অংশেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।   তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত লাইন ও খুঁটি মেরামতের কাজ শুরু করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ করে পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রায় ছয় থেকে সাত ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।   এদিকে সড়ক ও বৈদ্যুতিক লাইনের ওপর পড়ে থাকা গাছটি অপসারণে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করছেন। বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে গাছটি নিরাপদে সরানোর কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা।   বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলে পল্লী বিদ্যুতের অন্তত তিন লাখ গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়েছেন। দ্রুত মেরামত শেষ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মনোনয়নপত্র বাছাই হবে আজ

কিশোরগঞ্জের পথে প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

তীব্র লোডশেডিং নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

‘হারিকেন সামনে, পেছনে ফ্যান’ তারেক রহমানের মন্তব্যে যা বললেন আসিফ

  বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে হারিকেন হাতে কর্মসূচি পালনকারীদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, কর্মসূচির সময় পেছনে চলা ফ্যান ও মাইক বিদ্যুৎ সংযোগে নয়, জেনারেটরের মাধ্যমে চালানো হচ্ছিল। তাঁর দাবি, কর্মসূচি চলাকালে ওই এলাকায় বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ ছিল না।   শনিবার (১৫ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে বক্তব্য দেন।   সেখানে সাম্প্রতিক একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী সামনে হারিকেন নিয়ে গ্যাস-বিদ্যুতের দাবিতে বসেছিলেন, অথচ তাদের পেছনে ফ্যান চলছিল।’ এ ধরনের কর্মসূচিকে তিনি ‘হঠকারিতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার দেশের জ্বালানি সংকট সমাধানে কাজ করছে। আগামী ২৭ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনে আগামী ১০ বছরে কীভাবে দেশের জ্বালানি সমস্যা সমাধান করা হবে।’ সেই পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।   প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া তার বক্তব্যে বিষয়টি পরিষ্কার করার দাবি করেন। তার ভাষ্য, কর্মসূচিতে ব্যবহৃত ফ্যান ও মাইক্রোফোন জেনারেটরের মাধ্যমে চালানো হচ্ছিল। কর্মসূচির সময় সংশ্লিষ্ট এলাকায় অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিকল্প ব্যবস্থায় এসব সরঞ্জাম চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।   এদিকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সংকটের বিষয়টি স্বীকার করার পাশাপাশি দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির আশ্বাসও দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গ্যাসের সমস্যা কমে আসবে এবং বিদ্যুৎ সংকটের জন্য জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।’   প্রধানমন্ত্রী বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সংকট সমাধানে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা দেয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো দলের পরিকল্পনা আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে জ্বালানি সংকটের সমাধান করতে সক্ষম হলে সরকার তা গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করবে।   অন্যদিকে, গ্যাস সংকট কাটাতে অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে শনিবার জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির চেষ্টার কথাও জানান তিনি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অসুস্থ শিক্ষকের কাছে নিজেই নেমে গেলেন প্রধানমন্ত্রী, তুলে দিলেন অবসর ভাতা ও স্মারক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সংসদে ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

ছবি: সংগৃহীত

একদিনে নতুন আক্রান্ত ৭০, হামের উপসর্গে আরও ৮ মৃত্যু

0 Comments