যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি হলে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান কেট্রেড সিকিউরিটিজের এক প্রতিবেদন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধাপে ধাপে সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয়ে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলে উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে পাকিস্তান সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী দেশগুলোর একটি হতে পারে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক পুনর্বিন্যাসে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায়ও আসতে পারে।
অর্থনীতিতে ছয়টি বড় ইতিবাচক প্রভাব
কেট্রেড সিকিউরিটিজ পাকিস্তানের অর্থনীতিতে সম্ভাব্য ছয়টি প্রধান সুফলের কথা উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—
দেশের ঝুঁকি সূচকে ৭৫ থেকে ১৫০ বেসিস পয়েন্ট উন্নতি
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হওয়া
উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি পুনরুদ্ধার
তেলের দাম কমায় মূল্যস্ফীতি ১২৫ থেকে ১৫০ বেসিস পয়েন্ট হ্রাস
চলতি হিসাবে বছরে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত
সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ প্রকল্পে বছরে প্রায় ৮ লাখ পাকিস্তানি শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ
হরমুজ সংকটের বড় ক্ষতি
প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে ইতোমধ্যে ১০ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২ থেকে ৩ শতাংশের সমান।
এছাড়া মে ২০২৬-এ দেশটির মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১১ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে চলতি হিসাব ঘাটতিতে চলে গেছে এবং এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিগত সুদের হার ১০০ বেসিস পয়েন্ট বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।
গুরুত্ব বাড়ছে গওয়াদার বন্দরের
আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে গওয়াদার বন্দরকে অন্যতম সুবিধাভোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থানের কারণে এর কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিলে গওয়াদার বন্দরে কনটেইনার পরিবহন ১১ হাজার টিইইউতে পৌঁছেছে, যা আগের পুরো বছরের মোট পরিমাণকেও ছাড়িয়ে গেছে।
এই ধারা অব্যাহত থাকলে বন্দরটি থেকে বছরে ৫ থেকে ৮ কোটি ডলার রাজস্ব আয় হতে পারে। পাশাপাশি ট্রানজিট ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) সংশ্লিষ্ট আয়ও বাড়বে।
সৌদি আরব ইতোমধ্যে গওয়াদারে তেল সংরক্ষণ অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করছে। দেশটি পাকিস্তানকে ২ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে এবং আরও ৩ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের নতুন সুযোগ
নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয়ে স্থিতিশীল বাণিজ্যিক করিডোর গড়ে উঠলে পাকিস্তান-ইরান বাণিজ্যের পরিমাণ স্বল্প সময়েই ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সিমেন্ট, তৈরি পোশাক, চাল, ফলমূল ও চিকিৎসাসামগ্রী রপ্তানির সুযোগ বাড়বে। অন্যদিকে ইরান থেকে জ্বালানি, রাসায়নিক পণ্য, প্লাস্টিক ও ইস্পাত আমদানি করা যেতে পারে।
ইরানের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কারণে দেশটিতে পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হলে পাকিস্তানের সিমেন্ট রপ্তানিও বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্যাস পাইপলাইনে বছরে ২ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয়ের সম্ভাবনা
প্রতিবেদনে ইরান-পাকিস্তান গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পকে পাকিস্তানের জন্য বড় কাঠামোগত সুবিধা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বর্তমানে পাকিস্তান কাতার থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি প্রায় ১৩ ডলারে আমদানি করে। বিপরীতে ইরানি পাইপলাইন গ্যাসের সম্ভাব্য মূল্য ৬ থেকে ৮ ডলারের মধ্যে হতে পারে।
প্রকল্পটি চালু হলে পাকিস্তান বছরে প্রায় ১ দশমিক ৫ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সৌদি বিনিয়োগ ও সিপিইসির সম্প্রসারণ
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা ও বিনিয়োগ চুক্তির সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব ১৫ বিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এর মধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলার সৌদি বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে।
এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) প্রকল্পও উপকৃত হবে। ২০৩০ অর্থবছরের মধ্যে এ প্রকল্পে মোট বিনিয়োগ ৬২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে ইরান সিপিইসিতে যুক্ত হলে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে আঞ্চলিক সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে।
এদিকে তেলের বৈশ্বিক দাম কমে গেলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৭ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এতে সুদের হার কমানোর সুযোগ তৈরি হবে এবং অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি হলে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান কেট্রেড সিকিউরিটিজের এক প্রতিবেদন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধাপে ধাপে সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয়ে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলে উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে পাকিস্তান সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী দেশগুলোর একটি হতে পারে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক পুনর্বিন্যাসে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায়ও আসতে পারে। অর্থনীতিতে ছয়টি বড় ইতিবাচক প্রভাব কেট্রেড সিকিউরিটিজ পাকিস্তানের অর্থনীতিতে সম্ভাব্য ছয়টি প্রধান সুফলের কথা উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে— দেশের ঝুঁকি সূচকে ৭৫ থেকে ১৫০ বেসিস পয়েন্ট উন্নতি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হওয়া উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি পুনরুদ্ধার তেলের দাম কমায় মূল্যস্ফীতি ১২৫ থেকে ১৫০ বেসিস পয়েন্ট হ্রাস চলতি হিসাবে বছরে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ প্রকল্পে বছরে প্রায় ৮ লাখ পাকিস্তানি শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হরমুজ সংকটের বড় ক্ষতি প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে ইতোমধ্যে ১০ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২ থেকে ৩ শতাংশের সমান। এছাড়া মে ২০২৬-এ দেশটির মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১১ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে চলতি হিসাব ঘাটতিতে চলে গেছে এবং এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিগত সুদের হার ১০০ বেসিস পয়েন্ট বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। গুরুত্ব বাড়ছে গওয়াদার বন্দরের আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে গওয়াদার বন্দরকে অন্যতম সুবিধাভোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থানের কারণে এর কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিলে গওয়াদার বন্দরে কনটেইনার পরিবহন ১১ হাজার টিইইউতে পৌঁছেছে, যা আগের পুরো বছরের মোট পরিমাণকেও ছাড়িয়ে গেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে বন্দরটি থেকে বছরে ৫ থেকে ৮ কোটি ডলার রাজস্ব আয় হতে পারে। পাশাপাশি ট্রানজিট ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) সংশ্লিষ্ট আয়ও বাড়বে। সৌদি আরব ইতোমধ্যে গওয়াদারে তেল সংরক্ষণ অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করছে। দেশটি পাকিস্তানকে ২ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে এবং আরও ৩ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের নতুন সুযোগ নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয়ে স্থিতিশীল বাণিজ্যিক করিডোর গড়ে উঠলে পাকিস্তান-ইরান বাণিজ্যের পরিমাণ স্বল্প সময়েই ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সিমেন্ট, তৈরি পোশাক, চাল, ফলমূল ও চিকিৎসাসামগ্রী রপ্তানির সুযোগ বাড়বে। অন্যদিকে ইরান থেকে জ্বালানি, রাসায়নিক পণ্য, প্লাস্টিক ও ইস্পাত আমদানি করা যেতে পারে। ইরানের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কারণে দেশটিতে পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হলে পাকিস্তানের সিমেন্ট রপ্তানিও বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্যাস পাইপলাইনে বছরে ২ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয়ের সম্ভাবনা প্রতিবেদনে ইরান-পাকিস্তান গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পকে পাকিস্তানের জন্য বড় কাঠামোগত সুবিধা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে পাকিস্তান কাতার থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি প্রায় ১৩ ডলারে আমদানি করে। বিপরীতে ইরানি পাইপলাইন গ্যাসের সম্ভাব্য মূল্য ৬ থেকে ৮ ডলারের মধ্যে হতে পারে। প্রকল্পটি চালু হলে পাকিস্তান বছরে প্রায় ১ দশমিক ৫ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌদি বিনিয়োগ ও সিপিইসির সম্প্রসারণ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা ও বিনিয়োগ চুক্তির সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব ১৫ বিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এর মধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলার সৌদি বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) প্রকল্পও উপকৃত হবে। ২০৩০ অর্থবছরের মধ্যে এ প্রকল্পে মোট বিনিয়োগ ৬২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে ইরান সিপিইসিতে যুক্ত হলে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে আঞ্চলিক সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে। এদিকে তেলের বৈশ্বিক দাম কমে গেলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৭ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এতে সুদের হার কমানোর সুযোগ তৈরি হবে এবং অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কিউবার প্রেসিডেন্ট দিয়াস-কানেল, তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও রাউল কাস্ত্রোর পরিবারের সদস্যদের ওপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ঘোষণায় কিউবার সামরিক ও সরকারি সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকেও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ বিজ্ঞপ্তি জারি করে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন প্রেসিডেন্ট দিয়াস-কানেলের স্ত্রী ও সন্তান, পাশাপাশি রাউল কাস্ত্রোর ছেলে আলেহান্দ্রো কাস্ত্রো এসপিন ও নাতি। এছাড়া কিউবার সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রণালয়, কমিটিজ ফর দ্য ডিফেন্স অব দ্য রেভল্যুশন এবং আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও এই পদক্ষেপের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো কিউবার সরকারকে অর্থায়ন ও সহায়তা দেওয়া নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। তিনি সতর্ক করে বলেন, যেসব বিদেশি ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাবে, তারাও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিউবার ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। এর আগে কিউবার সামরিক নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, কিউবা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধের মুখে রয়েছে। সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপগুলো দেশটির জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থা আরও গভীর করে তুলেছে। কিউবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘হস্তক্ষেপমূলক ও নিন্দনীয়’ বলে আখ্যা দিয়েছে। পাশাপাশি কিউবার সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছে দেশটি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হলে একই সঙ্গে লেবাননের যুদ্ধও বন্ধ করতে হবে। তেহরানের দৃষ্টিতে এই দুই ফ্রন্ট আলাদা নয়। বৃহস্পতিবার আল মায়াদিন মিডিয়া নেটওয়ার্কের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ঘাসান বেন জেদ্দোর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, প্রতিরোধ অক্ষের সব ফ্রন্ট, বিশেষ করে লেবাননকে যেকোনও যুদ্ধবিরতির আওতায় আনতে হবে, এ অবস্থানে শুরু থেকেই অটল রয়েছে ইরান। তিনি বলেন, আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রথম দিন থেকেই আমরা স্পষ্ট করে দিয়েছি যে, যুদ্ধের অবসান হতে হবে ইরানে এবং প্রতিরোধ অক্ষের সব ফ্রন্টে, যার মধ্যে লেবাননও রয়েছে। আরাঘচি আরও বলেন, লেবাননের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধেরই ধারাবাহিকতা। সে কারণেই আমরা মনে করি, ইরান ও লেবাননে একই সঙ্গে এর সমাপ্তি ঘটতে হবে। বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে ইসরায়েলের পরিকল্পিত হামলা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন, এমন প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে আরাঘচি বলেন, প্রকৃত নির্ধারক ছিল ইরানের প্রতিরোধক্ষমতা। তিনি বলেছেন, তেহরান ওয়াশিংটন ও আঞ্চলিক সরকারগুলোকে জানিয়ে দিয়েছিল যে, বৈরুতে বড় ধরনের কোনও হামলা হলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি ব্যবস্থাও ভেঙে পড়তে পারে। খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মতো সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোও স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছিল যে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে ইরান জবাব দেবে। আরাঘচি বলেন, ঘটনার গতিপথ নির্ধারণ করেছে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা ও প্রস্তুতি। ইরান সরাসরি মার্কিন কর্মকর্তাদের এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছিল। একই সঙ্গে কয়েকটি দেশও ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপেই বৈরুতে পরিকল্পিত হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়। সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, উত্তেজনা সত্ত্বেও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ এখনও চলছে। আনুষ্ঠানিক আলোচনা ধীর হয়ে এলেও বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি বৈরুতে ইসরায়েলি কর্মকাণ্ড নিয়ে নিজেদের উদ্বেগও যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে ইরান। আরাঘচির দাবি, সাম্প্রতিক যুদ্ধ ইরানের সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দ্রুত বিজয়ের প্রত্যাশায় যুদ্ধ শুরু করলেও তেহরানের আত্মসমর্পণ নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক ব্যবস্থা বদলে দেওয়া বা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিষ্ক্রিয় করার মতো লক্ষ্য পূরণে তারা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তাদের সব হিসাবই ভুল ছিল।’ আরাঘচির দাবি, যুদ্ধের সমাপ্তি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় ফেরার উদ্যোগের মধ্য দিয়ে, নিজেদের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে নয়। তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনে অগ্রগতির কারণে যুদ্ধের আগের চেয়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখন আরও শক্তিশালী। ইরান যুদ্ধ চায় না। মর্যাদা, সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চায়।