জাতীয়

মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১৩, ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত নতুন পে-স্কেল ঘোষণার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে বেতনকাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও নতুন পে-স্কেল কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যবস্থা বহাল থাকবে।

 

আর্থিক সংকট ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এ লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশনের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি। কমিশনকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামো প্রস্তুত করা যায়। কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে এবং তা নির্বাচনের পর নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সার্বিক বিবেচনায়, নতুন পে-স্কেল কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীরা বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পাবেন। এর আওতায় প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১৫ শতাংশ হারে এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীরা ২০ শতাংশ হারে ভাতা পাবেন।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সময়ের স্বল্পতা এবং ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির কারণে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীরা বর্তমান নিয়মেই মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার প্রশ্নই ওঠে না। তার মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়াই যুক্তিসংগত।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পে-স্কেল দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা অষ্টম বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, যা ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর। এর আগে ২০০৯ সালের ১ জুলাই সপ্তম বেতনকাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল। সাধারণত সরকার পাঁচ বছর অন্তর নতুন বেতনকাঠামো ঘোষণা করলেও অষ্টম বেতনকাঠামো ঘোষণার পর নয় বছরের বেশি সময় পার হলেও নতুন কাঠামো কার্যকর হয়নি। ফলে অনেক কর্মচারী বেতন গ্রেডের শেষ ধাপে পৌঁছে গেছেন। মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের ৫ শতাংশ হারে প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে।

 

এদিকে, ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান-এর নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশনের মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা, যা জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগেই প্রায় সমাপ্ত হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
সরকারি ক্রয় কমিটি পুনর্গঠন: সভাপতি আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান

সরকারি ক্রয় কার্যক্রমকে অধিকতর ফলপ্রসূ ও অর্থবহ করতে কমিটি পুনর্গঠন করেছে সরকার। কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। গতকাল রবিবার (৫ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই কমিটির কাজ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিটি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করবে।   পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (পিপিএ), ২০০৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর), ২০২৫ এর অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আওতাভুক্ত অংশ পর্যালোচনাসহ অধিকতর কার্যকর করার বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়ন এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি কর্তৃক অর্পিত হবে।   কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির; জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ; নৌপরিবহন এবং সেতু প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম; মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি; অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার;  বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. মঈন উদ্দীন আহমেদ।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুলশানের বাসভবন, কেপিআই ঘোষণা

৩ সাবেক সামরিক কর্মকর্তার কলকাতায় অবস্থান নিয়ে প্রতিবেদন, মেলেনি প্রমাণ

ছবি: সংগৃহীত

অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে কাজ এগোচ্ছে ইসি, জানালেন কমিশনার

ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক কনভেনশনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক যোগদান

সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং টেকসই সামুদ্রিক বাণিজ্য নিশ্চিতকরণে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক দায়বদ্ধতা কনভেনশনে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ। লন্ডনে অনুষ্ঠিত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক দায়বদ্ধতা কনভেনশনে যোগদানের মাধ্যমে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) লন্ডনে অবস্থিত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)-এর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) মহাসচিব আরসেনিও ডোমিঙ্গেজ-এর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে কনভেনশনে যোগদানের দলিল হস্তান্তর করেন। এর ফলে দেশের সামুদ্রিক আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান ও সর্বোত্তম চর্চার সঙ্গে আরো সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।   এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ড. এম. নজরুল ইসলাম এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারী। আজ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, নিরাপদ নৌপরিবহন নিশ্চিতকরণ, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দায়িত্বশীল সামুদ্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সরকারের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই কনভেনশনসমূহে যোগদান সম্পন্ন হয়েছে।   বাংলাদেশ অনুসমর্থনকৃত তিনটি কনভেনশনসমূহ হলো— আন্তর্জাতিক তেল দূষণজনিত ক্ষতির জন্য দায়বদ্ধতা বিষয়ক, ১৯৯২ প্রোটোকল, বাঙ্কার তেল দূষণজনিত ক্ষতির জন্য দায়বদ্ধতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন, ২০০১ এবং নাইরোবি আন্তর্জাতিক রেক অপসারণ কনভেনশন, ২০০৭।   প্রতিদিন শত শত জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে বা দেশের বন্দরসমূহে আগমন করে। এই নৌযান চলাচলের সঙ্গে তেল নিঃসরণ, বাঙ্কার জ্বালানি দূষণ এবং জাহাজডুবির মতো ঝুঁকিও যুক্ত থাকে, যা নৌচলাচল ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।   এসব কনভেনশনের মাধ্যমে দুর্ঘটনার দায়ভার নির্ধারণ এবং বাধ্যতামূলক বীমা নিশ্চিত করবে। এর ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর না করে একটি নিশ্চিত আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ পাওয়া সম্ভব হবে।   এই অনুসমর্থন দেশের জন্য অর্থনৈতিক সফলতা বয়ে আনবে। বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে আর বিদেশি নৌ প্রশাসনের কাছ থেকে কনভেনশন সনদ সংগ্রহ করতে হবে না। ফলে সময় এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে এসব কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা আন্তর্জাতিক চার্টারার, বীমা প্রতিষ্ঠান ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে, বাণিজ্যিক বিলম্ব এবং বিদেশি বন্দরসমূহে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত পরিদর্শন হ্রাস পাবে।   ইতোমধ্যে বিশ্বের শতাধিক দেশ এসব কনভেনশনের পক্ষভুক্ত। বাংলাদেশের অনুসমর্থনের ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অবকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যতা অর্জন করল। ক্রমবর্ধমান জাহাজ চলাচল, বন্দর কার্যক্রম ও উপকূলীয় উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত একটি দায়িত্বশীল সামুদ্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের ভূমিকা আরো সুদৃঢ় করবে এবং আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৬, ২০২৬

সঞ্চয়পত্রের সুদ হার নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

তেল দূষণ ও জাহাজডুবির ক্ষতিপূরণে নতুন পথ

এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিতে অর্থনীতি ও রাজনীতির সমন্বয়ের ওপর জোর তথ্যমন্ত্রীর

গুলশান লেকের পরিবেশ রক্ষা ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

গুলশান–বনানী–বারিধারা লেকের পরিবেশ সুরক্ষা, পানি দূষণ রোধ এবং সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গুলশান–বনানী–বারিধারা–নিকেতন এলাকার ভবনগুলোর পয়ঃনিষ্কাশন সংযোগ ব্যবস্থা যাচাই এবং লেককে দূষণমুক্ত করার সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।   সভায় প্রধানমন্ত্রী লেকসংলগ্ন এলাকার ভবনগুলোর বর্জ্য অপসারণ, পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, এ লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।   সভায় গুলশান–বনানী–বারিধারা–নিকেতন এলাকার পরিবেশ সুরক্ষায় স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপনের বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া লেক ও এর সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, বর্জ্য অপসারণ এবং পানি প্রবাহ সচল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।   কড়াইল বস্তির বর্জ্য যাতে সরাসরি লেকে না পড়ে, সে জন্য কী ধরনের কর্মপরিকল্পনা নেওয়া যায়, সে বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।   সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিলটন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অতিরিক্ত বিল নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের নতুন বার্তা

ছবি: সংগৃহীত

মেট্রোরেল এমআরটি-২ প্রকল্পে যুক্ত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ

ছবি: সংগৃহীত

‘অপরাধের বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য’— চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম

0 Comments