প্রবাসী

লিমন-বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট দিচ্ছে ইউএসএফ

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ)।


আগামী শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বসন্তকালীন সমাবর্তনে আট হাজার শিক্ষার্থীর গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে তাদের এই সম্মাননা প্রদান করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লিমন ও বৃষ্টির স্মরণে অনুষ্ঠানে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে। পাশাপাশি ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান পর্বে তাদের সম্মানে রেগালিয়াসহ দুটি খালি চেয়ার রাখা হবে।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মায়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেছে এবং পরিবারের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণের জন্য একজন প্রতিনিধিকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।


খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক লিমন যুক্তরাষ্ট্রে ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। অন্যদিকে, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়নরত ছিলেন।


দুজনের মধ্যে পারিবারিকভাবে বিয়ের পরিকল্পনাও ছিল। তবে ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হওয়ার পর ২৪ এপ্রিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তদন্তে বৃষ্টিকেও হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করে পুলিশ।


এ ঘটনায় লিমনের রুমমেটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।


লিমনের মরদেহ দেশে এনে জামালপুরে দাফন করা হয়েছে। অন্যদিকে, বৃষ্টির মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রবাসী

আরও দেখুন
লিবিয়ার বেনগাজির গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার থেকে দেশে ফেরেন ১৬৮ বাংলাদেশি। ছবি: সংগৃহীত
লিবিয়ার বন্দিদশা শেষে দেশে ফিরলেন ১৬৮ বাংলাদেশি

লিবিয়ার বেনগাজির গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ১৬৮ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী এসব অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিককে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৪ মিনিটে বুরাক এয়ারের (ইউজেড-২২২) একটি ফ্লাইটে বাংলাদেশে আনা হয়।    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে লিবিয়া সরকার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় তাদের প্রত্যাবাসন করা হয়।   সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে ফিরে আসা বাংলাদেশিদের অধিকাংশই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশে মানব পাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। তাদের অনেকে লিবিয়ায় বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।    বাংলাদেশে ফেরার পর ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইওএমের কর্মকর্তারা তাদের অভ্যর্থনা জানান। মানব পাচারের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশে ফেরত এই বাংলাদেশিদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে বিনিময় করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   ফেরত আসা প্রত্যেক বাংলাদেশির জন্য আইওএমের পক্ষ থেকে পথখরচ, খাদ্যসামগ্রী ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থাও করা হবে।   সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো জানিয়েছে, লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইওএম সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার ‘মিনি ঢাকা’য়, ৩৬৪ বাংলাদেশিসহ আটক ৪৭২

ছবি: সংগৃহীত

স্পেনে যাওয়ার দুই মাসেই কফিনবন্দী হয়ে ফিরলেন আলিফ

ছবি: সংগৃহীত

তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে যুবদলের কর্মীসভা

ছবি: সংগৃহীত
৮ মাসের অপেক্ষার পর দেশে ফিরল লিবিয়াপ্রবাসীর মরদেহ

লিবিয়ায় তরিকুল ইসলামের মৃত্যুর খবর পরিবার পেয়েছিল আট মাস আগে। তবে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় তাঁর মরদেহ দেশে ফিরবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন স্বজনেরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আজ শনিবার বিকেলে কফিনে করে তাঁর মরদেহ পৌঁছে জয়পুরহাটে গ্রামের বাড়িতে।   তরিকুল ইসলাম (২৫) ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের গুরুড়া গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে প্রায় সাত বছর আগে তিনি লিবিয়ায় যান।   স্বজনেরা বলেন, লিবিয়ায় অবস্থানকালে গত ৩ জানুয়ারি অসুস্থ হয়ে তরিকুলের মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যদের তাঁর মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছিল। এরপর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় সেই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়। আট মাস ধরে তাঁরা অপেক্ষায় ছিলেন, শেষ পর্যন্ত তরিকুলের মরদেহ দেশে ফিরবে কি না।   শনিবার দুপুরে তরিকুলের মরদেহ ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিকেল চারটার দিকে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। বিকেল পাঁচটার দিকে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা হয়। এতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়।   আলমপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মোত্তালেব হোসেন বলেন, তরিকুল অবৈধভাবে লিবিয়ায় গিয়েছিলেন। আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দেশে তাঁর মরদেহ দেরিতে ফিরেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাবিগ উপকূলে নৌযান বিকল, দুই বাংলাদেশিকে উদ্ধার করল সৌদি কোস্ট গার্ড

ছবি: সংগৃহীত

ওমানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা সভা

ছবি: সংগৃহীত

কুয়েতে মাদক সরবরাহের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি আটক

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী ভিসায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব, চাকরি হারালে কমবে সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী কর্মী ভিসায় থাকা বিদেশিদের জন্য নতুন বিধিনিষেধের প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে চাকরি হারানোর পর নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার জন্য প্রচলিত ৬০ দিনের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ সুবিধা বাতিল হতে পারে।   বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রস্তাবিত পরিবর্তনসংক্রান্ত একটি নোটিশ প্রকাশ করেছে।   বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এইচ-১বি, এল-১, ও-১সহ কয়েক ধরনের অস্থায়ী কর্মী ভিসাধারীরা চাকরি হারানোর পর সর্বোচ্চ ৬০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন চাকরি বা স্পনসর খোঁজার সুযোগ পান। পাশাপাশি এ সময়ের মধ্যে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগও থাকে।   প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর হলে এই সুবিধা আর নাও থাকতে পারে। ফলে কোনো কর্মী চাকরিচ্যুত হলে কিংবা তার কর্মচুক্তি শেষ হয়ে গেলে নতুন নিয়োগকর্তার সঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা না করতে পারলে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও পেশাদার সেবা খাতে কর্মরত বিদেশিদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ভারত ও চীন থেকে আসা বিপুলসংখ্যক দক্ষ কর্মীর ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   বড় প্রযুক্তি ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও নতুন নিয়মটি মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। চাকরি হারানো কর্মীদের দ্রুত নতুন স্পনসর খুঁজে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বাড়বে।   তবে মার্কিন প্রশাসনের যুক্তি, বিধিনিষেধের কারণে সাময়িক কিছু প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদে একই যোগ্যতার মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে।   ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থায় কঠোরতা আনার ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই প্রস্তাবটিকে দেখা হচ্ছে।   তবে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কারণ এটি এখনো চূড়ান্ত নিয়মে পরিণত হয়নি। প্রস্তাবের ওপর আগামী দুই মাস ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হবে। এরপর পাওয়া মতামত পর্যালোচনা করে প্রশাসন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।   ফলে বর্তমানে কর্মী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশিদের জন্য ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড এখনো বহাল রয়েছে; প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত ও কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান নিয়মই প্রযোজ্য।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের প্রায় ৪৫০ অভিযোগ, সমাধান ৩৩০টির বেশি

ছবি: সংগৃহীত

মদিনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রীর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়া প্রবাসীদের অধিকার ও দেশের সংকট নিয়ে এনসিপির মতবিনিময়

0 Comments