জাতীয়

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকিতে বেক্সিমকো ফার্মা

আক্তারুজ্জামান জুন ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে না পারায় লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের (AIM) তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

 

বর্তমানে কোম্পানিটির গ্লোবাল ডিপোজিটরি রিসিট (জিডিআর) লেনদেন সাড়ে পাঁচ মাস ধরে স্থগিত রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে কোম্পানিটি ডিলিস্টেড হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

তবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেন, “বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে আমরা একটি সমাধানের চেষ্টা করছি। আশা করছি ভালো কিছু হবে।”

 

তিনি আরও জানান, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি এ বিষয়ে বৈঠক করেছে এবং সমস্যা সমাধানে বিএসইসিকে উদ্যোগ নিতে অনুরোধ জানিয়েছে।

 

কেন এই সংকট তৈরি হলো:  এআইএম রুল অনুযায়ী, কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে অর্থবছর শেষ হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হয়। কিন্তু ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ে প্রকাশ করতে না পারায় ২০২৬ সালের ২ জানুয়ারি থেকে লন্ডন বাজারে বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়।

 

কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিচালনা পর্ষদের সভা আয়োজন না হওয়ায় আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা সম্ভব হয়নি। এর পেছনে বোর্ড গঠন সংক্রান্ত একটি আইনি জটিলতা রয়েছে, যা বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন।

 

বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ:  ২০০৫ সাল থেকে লন্ডনের এআইএম বাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। আগামী ২ জুলাই ছয় মাসের স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হবে। নিয়ম অনুযায়ী, সমাধান না হলে কোম্পানিটি স্থায়ীভাবে ডিলিস্টেড হতে পারে।

 

তবে বিএসইসি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, আদালতের অনুমোদন নিয়ে বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আয়োজন করে দ্রুত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 

দেশের বাজারে কার্যক্রম স্বাভাবিক:  লন্ডন বাজারে লেনদেন স্থগিত থাকলেও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার লেনদেন স্বাভাবিকভাবে চলছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে জাতীয় কর্মসূচি ঘোষণা করল ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনে জাতীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ২৬ আগস্ট বাংলাদেশে পালন হবে ঈদে মিলাদুন্নবী।       দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে উদযাপন করবে সরকার। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দেবেন। এদিন সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও সশস্ত্র বাহিনীর সব স্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।       কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ড, লাইটপোস্ট, স্থান ও সড়ক জাতীয় পতাকা, রঙিন পতাকা এবং ‘কালিমা তাইয়্যিবা’ লিখিত ব্যানারে সজ্জিত করা হবে।   বাংলাদেশ সচিবালয় মসজিদসহ দেশের সব মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করবে।     ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ওয়াজ মাহফিল, সেমিনার ও টক শো প্রচারের পাশাপাশি কিরাত, হামদ-নাত, স্বরচিত কবিতা পাঠসহ ছাত্রছাত্রীদের জন্য সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও আরবিতে খুতবা লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। স্মরণিকা বা ক্রোড়পত্র প্রকাশ এবং বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ প্রান্তে মাসব্যাপী ইসলামিক বইমেলার আয়োজন করবে প্রতিষ্ঠানটি।     বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ওয়াক্‌ফ প্রশাসকের কার্যালয়, ঢাকা ও জেদ্দা হজ অফিসসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও কর্ম, ইসলামের শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্বভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা বিষয়ক আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত, স্বরচিত কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিশুদের জন্য হামদ-নাত, আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি।       ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশের সব সামরিক ও বেসামরিক হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, শিশু সদন, আবাসিক শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও প্রবীণ নিবাসে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোতে যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি উদযাপন করা হবে।     এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে শান্তি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।     গত ১৩ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনসংক্রান্ত আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (হজ) ড. আয়াতুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. ইমতিয়াজ হোসেনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৯, ২০২৬
সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। ফাইল ছবি

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজকে ফেরাতে রেড নোটিশ চেয়ে আবেদন

সব ইঞ্জিনচালিত নৌযানের তথ্যভিত্তিক ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ সরকারের

সব ইঞ্জিনচালিত নৌযানের তথ্যভিত্তিক ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ সরকারের

ছবি: সংগৃহীত

কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী-সন্তানসহ বাংলাদেশি সাংবাদিক নিহত

ছবি: সংগৃহীত
মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা চি‌লির

চি‌লির রাষ্ট্রপতি জোসে এনটনিও কাস্ট-এর কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন দেশ‌টি‌তে নিযুক্ত বাংলাদেশের অনাবা‌সিক রাষ্ট্রদূত মো. তৌহিদুল ইসলাম।   সম্প্রতি রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র পেশ করার তথ্য বুধবার (১৯ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌তে জা‌না‌নো হ‌য়ে‌ছে।   সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌তে জানা‌নো হয়, রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র পেশ করার পর চি‌লির রাষ্ট্রদূ‌তের স‌ঙ্গে হওয়া বৈঠকে বাংলাদেশ-চিলির মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।    এ সময়ে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো পেরেজ মাকেনা উপস্থিত ছিলেন।    রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রদূতকে পরিচয়পত্র পেশ করার জন্য অভিনন্দন জানান এবং গত জুলাই মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন।    তি‌নি দুদেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চিলির পক্ষ থেকে উভয় দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব রাষ্ট্রদূতকে স্মরণ করিয়ে দেন এবং এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান।    রাষ্ট্রদূত রাষ্ট্রপতিকে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের আগ্রহের কথা উল্লেখ করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে অবহিত করেন। তি‌নি রাষ্ট্রপ‌তি‌কে অবহিত করেন যে, আগামী বছরের শুরুতে অর্থাৎ ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো পেরেজ মাকেনা বাংলাদেশ সফর করবেন এবং সে সময়ে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠাসহ আরও কতিপয় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।    রাষ্ট্রদূত রাষ্ট্রপতিকে আরও অবহিত করেন যে, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমসহ দ্বিপাক্ষিক অন্যান্য বিষয় চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশ ও চিলির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যকার দ্বিতীয় বার্ষিক পরামর্শক সভা আগামী অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে ঢাকায় আয়োজন করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত।    এ সভা উভয় দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন চুক্তি চূড়ান্তকরণের উপযুক্ত প্লাটফর্ম হিসাবে কাজ করবে।    রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের এমন প্রস্তুতির কথা জেনে রাষ্ট্রদূতকে কৃতজ্ঞতা জানান এবং আগামী দিনে দুদেশের সম্পর্ক অধিকতর শক্তিশালী হবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   রাষ্ট্রদূত অপর এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে চিলির সিনেটর রাহো এডওয়ার্ডস সিলভার স‌ঙ্গে মিলিত হন। সিনেটর রাষ্ট্রদূতকে আই‌পিইউ‌তে ২০২৬-২০২৯ মেয়াদে তার প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার কথা অবহিত করে বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করেন।   এ ছাড়া, রাষ্ট্রদূত মঙ্গলবার বিকেলে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো পেরেজ মাকেনা সঙ্গে অপর একটি দ্বিপাক্ষিক সভায় মিলিত হন। বৈঠকে রাষ্ট্রদূত স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে ১ জুন ১৯৭২ তারিখে চিলির স্বীকৃতি দেওয়ার কথা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সংযোগের প্রসঙ্গে বিশ্বখ্যাত চিলীয় কবি ও নোবেল বিজয়ী পাবলো নেরুদার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চিলির দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি উল্লেখ করেন।   বৈঠকে বাংলাদেশ-চিলি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, বিশেষত একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বসহকারে আলোচনা হয়।    রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, উপযুক্ত বাণিজ্য কাঠামো ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাণিজ্যের পরিমাণ অদূর ভবিষ্যতে কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।   রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও ওষুধ এবং চিলির কপার ও লিথিয়ামসহ পারস্পরিক পরিপূরক পণ্যসমূহের বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ লক্ষ্যে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও বাণিজ্যিক চেম্বারগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও প্রতিনিধিদল বিনিময়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।   দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চিলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে তার সম্ভাব্য ঢাকা সফরের সময় একটি চিলীয় বাণিজ্য প্রতিনিধিদল সঙ্গে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান।   বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আরও জোরদার করার গুরুত্বের ওপর উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করে।    বৈঠকে উভয়পক্ষ আগামী দিনে বাংলাদেশ-চিলি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নতুন নামে পরিচিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জেল

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ছবি: সংগৃহীত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তার বাধ্যতামূলক অবসর, বেতন কমল ৫ জনের

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত
৬ হাজার ৪৬৫ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিলের সুপারিশ জামুকার

২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৬৫ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল করার সুপারিশ করেছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)।   মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।   বৈঠকে জানানো হয়, ২০১০ সালে জামুকা গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ৪১৭ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৭৬৮ জন শহীদ, ১৯৮ জন যুদ্ধাহত, ৫২৯ জন বীরাঙ্গনা এবং ১৬ হাজার ৯২২ জন সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা।   জামুকার কার্যক্রম সম্পর্কে বৈঠকে আরো জানানো হয়, বীরাঙ্গনা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য ২২২টি আবেদন বর্তমানে অপেক্ষমাণ রয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে গঠিত উপকমিটির যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সুপারিশ পাওয়া ১০৪ জন মুক্তিযোদ্ধার গেজেটভুক্তিও অপেক্ষমাণ।   এ ছাড়া ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে করা ২০২টি আবেদন শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।   সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জামুকা, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তরের কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।   কমিটির সভাপতি মনিরুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, ফজলুর রহমান, আব্দুল হান্নান, আমীর এজাজ খান ও রোকেয়া বেগম উপস্থিত ছিলেন।   এদিকে জামায়াতের অনুরোধে কমিটির সদস্য ও জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।   তাঁকে সংসদীয় কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য জামায়াতের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও সূত্রটি বলছে। আগামী ২৭ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ দ্রুত শেষ করতে সচিবের বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার প্রয়োগে কড়াকড়ি

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য বাড়াতে দুটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব

0 Comments