জাতীয়

লন্ডন যাচ্ছেন খালেদা জিয়া

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ০৪, ২০২৫ 0
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ছবি : সংগৃহীত
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ছবি : সংগৃহীত

উন্নত চিকিৎসার জন্য খুব শিগগিরই লন্ডনে যাচ্ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, তার সঙ্গে চিকিৎসকসহ মোট ১৪ সদস্যের একটি দল সফরসঙ্গী হিসেবে যাবেন।

এদিকে খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। ঢাকার কাতার দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, তাকে বিদেশে নিতে চাইলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে প্রস্তুত রয়েছে দেশটি।

এছাড়া চীনের চার সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম বৃহস্পতিবার সকালে এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে পৌঁছে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করছে। পরে আরও চিকিৎসক যোগ দেওয়ায় দলটি ছয় সদস্যে পরিণত হয়। ডা. Cai Jianfang-এর নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞরা বর্তমান চিকিৎসা পদ্ধতি পর্যালোচনা করছেন এবং স্থানীয় চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছেন। বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

গত রোববার রাতে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, তিনি বর্তমানে সিসিইউতে স্থিতিশীল আছেন।

দীর্ঘদিন ধরেই হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন বেগম খালেদা জিয়া। ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠান শেষে বাসায় ফেরার পর তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। এরপর ২৩ নভেম্বর জরুরি ভিত্তিতে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের মতে, তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং এর সঙ্গে রয়েছে আরও কয়েকটি জটিলতা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি: সংগৃহীত
চলচ্চিত্র অধিদপ্তরে নির্মাতাদের ওপর হামলার অভিযোগ, নিরাপত্তা ও বিচারের দাবি

সরকারি প্রতিষ্ঠান চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি)-এ বকেয়া বিল চাইতে গিয়ে নির্মাতাদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্র গোষ্ঠী।   শুক্রবার (৩ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাব-এর আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।   সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা জাহীন ফারুক আমিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকারকর্মী রেজাউর রহমান লেলিন, মোশফিকুর রহমান এবং আলোকচিত্রী শহিদুল আলম।   লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ৩০ মার্চ নির্মাতারা তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিএফপিতে বকেয়া বিলের বিষয়ে যোগাযোগ করতে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে কর্মরত চিত্রগ্রাহক মো. মশিউর রহমান বিল প্রদানে বাধা দেন এবং একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। পরে তিনি ৩০-৪০ জন বহিরাগতকে ডেকে এনে মহাপরিচালকের কক্ষেই হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়।   হামলায় নির্মাতা মোহাম্মদ গোলাপ শাহ গুরুতর আহত হন। এছাড়া আবদুর রহমান, নাসিফ ফারুক আমিন ও মোশফিকুর রহমান জোহানসহ আরও কয়েকজন আহত হন।   ঘটনার পর রমনা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে পারেনি। অভিযোগ রয়েছে, প্রমাণ নষ্ট করতে ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে।   এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. মশিউর রহমানকে সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। হামলায় জড়িত হিসেবে আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়।   বক্তারা বলেন, এটি কেবল ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর সংগঠিত আক্রমণ।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ০৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

দেশে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক, সংকট নেই: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

ছবি: সংগৃহীত

হাতিরঝিলে ‘এগিয়ে বাংলাদেশ হাফ ম্যারাথন’, দৌড়ালেন ১৫০০ প্রতিযোগী

ছবি : সংগৃহীত

টানা ১৬ ঘণ্টা অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ছবি : সংগৃহীত
মোটরসাইকেলে তেল আনতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণের

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে পেট্রোল-অকটেন সংকটের কারণে মোটরসাইকেলে তেল আনতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।   নিহত যুবকের নাম মো. অন্তর (২০)। তিনি উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টেকের বাজার সংলগ্ন মিদ্দা বাড়ির একরামুল হকের ছেলে।   স্থানীয় সূত্র জানায়, চলমান পরিস্থিতির কারণে কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে অন্তর মোটরসাইকেলে করে ফেনীর একটি পেট্রোল পাম্প থেকে তেল আনতে যান।   তেল নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে রাতে দাগনভূঞা-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কের এনায়েতভূঞা এলাকায় অজ্ঞাত একটি যানবাহনের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তর সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার সময় পথেই তার মৃত্যু হয়।   দুর্ঘটনায় আরও একজন মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন।   চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য হুমায়ন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “নিহতের পরিবার দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটন এবং জড়িত যানবাহন দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।”   এ ব্যাপারে ফেনী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাখায়েত হোসেন বলেন, “ঘটনাটি এখনো আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ০৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

বিকল্প রুটে সৌদি থেকে চট্টগ্রামে আসছে আরও ১ লাখ টন তেল

ছবি : সংগৃহীত

সরকারি খরচ কমাতে কড়াকড়ি: নতুন গাড়ি কেনা ও বিদেশ প্রশিক্ষণ বন্ধ

ছবি : সংগৃহীত

এ মাসেই ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা, সতর্কবার্তা

ছবি : সংগৃহীত
সংসদে আপাতত অনুমোদন পাচ্ছে না গণভোটসহ ২০ অধ্যাদেশ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ পূর্ণাঙ্গভাবে পাস করার এবং ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংসদে উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সংসদে বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন (বরিশাল-৩) এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন উত্থাপন করেন। এর আগে, গত ১২ মার্চ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিধি অনুযায়ী উত্থাপন করা হয়। পরে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে ১৩ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়, যারা এসব অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন জমা দেয়। অবশিষ্ট ২০টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১৬টি এখনই বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন না করে ভবিষ্যতে আরও পরিমার্জন ও শক্তিশালী করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ৪টি অধ্যাদেশ বাতিল ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিল আকারে এখনই সংসদে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এই ২০টি অধ্যাদেশ আপাতত সংসদে অনুমোদন পাচ্ছে না। ফলে নির্ধারিত সময় শেষে এসব অধ্যাদেশের কার্যকারিতা বিলুপ্ত হবে। সংবিধান অনুযায়ী, কোনো অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না পেলে তা কার্যকারিতা হারায়। বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশসহ মোট ২০টি অধ্যাদেশ বর্তমান অধিবেশনে আইনি বৈধতা পাচ্ছে না। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশসহ ৪টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। অন্য ১৬টি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে এখনই বিল আকারে না এনে ভবিষ্যতে নতুন করে যাচাই-বাছাই করে শক্তিশালী করে সংসদে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ২০টি অধ্যাদেশের বিষয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর তিন সদস্য ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) দিয়েছেন। যে ৪টি অধ্যাদেশ বাতিল ও সংরক্ষণের জন্য বিল আনার সুপারিশ করা হয়েছে সেগুলো হলো— জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তী বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, ২০২৪; সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫; সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই বিল হিসেবে আনা হচ্ছে না; এগুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে নতুন বিল হিসেবে আনার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি বিষয়ে বিরোধী দলের আপত্তি রয়েছে। এই ১৬টি অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে— জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪; রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫; গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫; গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫; দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫; মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, ২০২৬; তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬সহ অন্যান্য। যেসব অধ্যাদেশে বিরোধী দল আপত্তি জানায়নি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫; কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫; আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫; বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬; বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৬। পূর্ণাঙ্গভাবে পাসের জন্য সুপারিশকৃত অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট কয়েকটি আইন রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৪; বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন), স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (সংশোধন), বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন (নাম পরিবর্তন), গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন), আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (দ্বিতীয় সংশোধন), জাতীয় সংসদ সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন), সাইবার সিকিউরিটি, সরকারি চাকরি (সংশোধন), জুলাই অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট কল্যাণ ও পুনর্বাসন এবং স্মৃতিসৌধ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে সংসদে আনার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে কোন কোন ধারা সংশোধন করা হবে, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। এই ১৫টি অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে— নারী ও শিশু নির্যাতন (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন), ব্যাংক রেজুলেশন, সন্ত্রাসবিরোধী, ফৌজদারি কার্যবিধি (দ্বিতীয় সংশোধন), জাতীয় ডাটা ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন), মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন, পুলিশ কমিশন, তামাক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন), মানব পাচার প্রতিরোধ, ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন), বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্ট (সংশোধন) সংক্রান্ত অধ্যাদেশ।

মোঃ ইমরান হোসেন এপ্রিল ০৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

এপ্রিলে জ্বালানি তেলের ঘাটতির আশঙ্কা নেই

ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অবদানে বাংলাদেশকে বিশেষ সম্মাননা

ছবি : সংগৃহীত

হামে আরও ৪ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৬৮৫

0 Comments