প্রবাসী

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ দাবি

কুয়ালালামপুরে অভিযানে বাংলাদেশিসহ আটক ১৫০

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১৪, ২০২৬

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিসহ ১৫০ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানের সময় গ্রেপ্তার এড়াতে প্রবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও মরিয়া ভাব লক্ষ্য করা গেছে।

 

‘অপারেশন কুটিপ’ নামে এই অভিযান চলাকালে গ্রেপ্তার এড়াতে কেউ কেউ ওপর তলা থেকে দা ছুড়ে মারেন, কেউ ছাদের ওপর উঠে পড়েন, আবার কাউকে পানির ট্যাঙ্কের ভেতর লুকিয়ে থাকতে দেখা যায়।

 

কর্তৃপক্ষ জানায়, সেলায়াং এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক এবং জালান ক্লাং লামার একটি অবৈধ বসতিতে এই অভিযান চালানো হয়।

 

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেলায়াং এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “অভিযানে মোট ৩২৬ জনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এর মধ্যে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৭৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।”

 

সেলায়াং থেকে আটক হওয়া এই ৭৯ জনের মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন। তাদের বয়স ১৭ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে।

 

যাদের আটক করা হয়েছে তারা মূলত সিকিউরিটি গার্ড, ফুড স্টল সহকারী, লন্ড্রি কর্মী, কনভিনিয়েন্স স্টোর বা মুদি দোকানের কর্মচারী এবং নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

 

লোকমান এফেন্দি জানান, পরিদর্শনে দেখা গেছে প্রবাসীরা অত্যন্ত ঘিঞ্জি পরিবেশে বসবাস করছেন। সাধারণত তিন কক্ষের একটি ফ্ল্যাট প্রায় ৬০০ রিঙ্গিতে ভাড়া নিয়ে সেখানে পাঁচ থেকে ছয়জন গাদাগাদি করে থাকছিলেন।

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এমন অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার ফলে দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

 

এক সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির পর জালান ক্লাং লামার একটি অবৈধ বসতিতে দ্বিতীয় অভিযানটি চালানো হয়। সেখান থেকে মোট ৭১ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।

 

আটককৃতদের মধ্যে ৬৬ জন ইন্দোনেশিয়ান, ৩ জন মিয়ানমারের নাগরিক এবং ভারত ও পাকিস্তানের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।

 

বার্নামার এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ওই বসতিতে মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও বাসিন্দারা অনানুষ্ঠানিকভাবে জায়গা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। এমনকি তারা প্রকৃত বাড়ির মালিক কে, সে সম্পর্কেও কিছুই জানতেন না।

 

ওই এলাকায় কোনো বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। মূলত আশপাশের বিভিন্ন উৎস থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বসতিটি গড়ে তোলা হয়েছিল।

 

লোকমান এফেন্দি জোর দিয়ে বলেন, অভিবাসন কর্তৃপক্ষের এই অভিযান হবে ব্যাপক এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।

 

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “শুধু অবৈধ অভিবাসীই নয়, যারা তাদের নিয়োগ দিয়েছেন সেই নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

আটককৃত সবার বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইনের আওতায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের কাছে বৈধ কোনো পাস বা পারমিট ছিল না এবং অনেকের ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছিল।

 

অভিযানকালে কুয়ালালামপুর ফেডারেল টেরিটরি অভিবাসন বিভাগের পরিচালক ওয়ান মোহাম্মদ সাউপি ওয়ান ইউসুফ উপস্থিত ছিলেন। 

 

সূত্র : দ্য সান মালয়েশিয়া।  

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
প্রবাসীদের স্বাগত জানানো ইউরোপের দেশ ও শহরের তালিকা প্রকাশ

বিদেশে নতুন জীবন শুরু করা মানুষের জন্য ইউরোপের সবচেয়ে প্রবাসীবান্ধব দেশ ও শহরের তালিকা প্রকাশ করেছে প্রবাসী ও রিমোট কর্মীদের বীমা প্রতিষ্ঠান উইলিয়াম রাসেল। কর্মসংস্থানের সুযোগ, নিরাপত্তা, অভিবাসীবান্ধব পরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রবাসীদের অভিজ্ঞতাসহ কয়েকটি সূচকের ভিত্তিতে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০-এর মধ্যে ৮.৯৪ নম্বর পেয়ে বিশ্বের সবচেয়ে স্বাগতপূর্ণ দেশ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে আইসল্যান্ড। দেশটিতে বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের কর্মসংস্থানের হার ৮৪.২ শতাংশ। সহজ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং সামাজিক আস্থার কারণে আইসল্যান্ড শীর্ষে উঠে এসেছে।   দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে লুক্সেমবার্গ। দেশটির অর্ধেকেরও বেশি বাসিন্দা বিদেশে জন্ম নেওয়া হওয়ায় ব্যাংকিং, আবাসন ও কর্মক্ষেত্র আন্তর্জাতিক বাসিন্দাদের জন্য বেশ সুবিধাজনক।   ইউরোপের আরেক দেশ সুইজারল্যান্ড পঞ্চম, আয়ারল্যান্ড ষষ্ঠ, চেকিয়া অষ্টম, পর্তুগাল নবম এবং অস্ট্রিয়া দশম স্থানে রয়েছে।   বিশ্বের সবচেয়ে স্বাগতপূর্ণ দেশের শীর্ষ ১০ তালিকায় রয়েছে— ১. আইসল্যান্ড ২. লুক্সেমবার্গ ৩. নিউজিল্যান্ড ৪. অস্ট্রেলিয়া ৫. সুইজারল্যান্ড ৬. আয়ারল্যান্ড ৭. কলম্বিয়া ৮. চেকিয়া ৯. পর্তুগাল ১০. অস্ট্রিয়া অন্যদিকে, প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে স্বাগতপূর্ণ শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ। নিরাপত্তা, জীবনমান এবং মানুষের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের কারণে শহরটি প্রথম হয়েছে। এরপর রয়েছে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন, জার্মানির মিউনিখ, চেকিয়ার প্রাগ এবং পোল্যান্ডের ওয়ারশ। শীর্ষ ১০ শহরের তালিকায় রয়েছে— ১. জুরিখ ২. সিঙ্গাপুর (যৌথ) ২. টোকিও (যৌথ) ৪. কোপেনহেগেন ৫. মিউনিখ ৬. প্রাগ ৭. দুবাই ৮. ওয়ারশ ৯. সিউল ১০. হংকং প্রতিবেদনটি তৈরিতে ইন্টারন্যাশনসের ‘এক্সপ্যাট ইনসাইডার’ জরিপ, ওইসিডি, বিশ্বব্যাংক, গ্লোবাল পিস ইনডেক্স এবং হেনলি গ্লোবালের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।  গবেষকদের মতে, কোনো দেশে সহজে প্রবেশ করার চেয়ে সেখানে গিয়ে সহজে জীবন গড়ে তোলার সুযোগই প্রবাসীদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুলাই ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এক সপ্তাহে ১৩ হাজারের বেশি অবৈধ প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরাল সৌদি আরব

ছবি: সংগৃহীত

সৌদিতে এক সপ্তাহে প্রায় ১৫ হাজার অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

কোপেনহেগেনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রাণবন্ত গ্রীষ্ম উৎসব ও গ্রিল পার্টি

ছবি: সংগৃহীত
কুয়েতে ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ পালিত, শহীদদের প্রতি দূতাবাসের শ্রদ্ধা

যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসে পালিত হয়েছে ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’। অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সব বীর শহীদ, বিশেষ করে রংপুরে শহীদ আবু সাঈদসহ সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।   কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিসহ দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।   পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টার বাণী পাঠ করেন দূতাবাসের প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাকিবুল করিম চৌধুরী।   দিবসটি উপলক্ষে প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের অংশগ্রহণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ এবং দিবসটির তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে রাষ্ট্রদূত দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।   বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত বলেন, অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সাহসিকতার প্রতীক হয়ে শহীদ আবু সাঈদ নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মদানকারী সব শহীদের ত্যাগ জাতির বিবেককে জাগ্রত করেছে এবং দেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।   তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা, মানবিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা ও দেশপ্রেমকে আরও সুসংহত করার অনুপ্রেরণা দেয়। শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে হলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রতিটি নাগরিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও সমান সুযোগ নিশ্চিতভাবে ভোগ করতে পারবেন।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে রাষ্ট্রদূত বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে প্রবাসীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ঐক্য, শৃঙ্খলা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দেশপ্রেমের চেতনা ধারণ করে বাংলাদেশের উন্নয়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।   অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহত যোদ্ধাদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দুবাইয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত

ছবি: সংগৃহীত

আটক কেন্দ্রে অতিরিক্ত ভিড়, তবুও মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত

ছবি : সংগৃহীত

সব হারিয়ে কম্বোডিয়ায় প্রবাসীর মৃত্যু, এক বছর পর ফিরল লাশ

ছবি: সংগৃহীত
আমিরাতে ভিসা বাতিল নিয়ে উদ্বেগ, বৈধ বাংলাদেশিদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান

সংযুক্ত আরব আমিরাতে, বিশেষ করে দুবাইয়ে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে আকস্মিক ভিসা বাতিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। তবে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, এটি কেবল বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে নেওয়া কোনো পদক্ষেপ নয়; বরং দেশটির নতুন অভিবাসন ও নিয়ন্ত্রক নীতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।   সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূলত যেসব ব্যক্তি বিনিয়োগকারী (ইনভেস্টর) ভিসায় আমিরাতে অবস্থান করছেন কিন্তু বৈধ ব্যবসায়িক ঠিকানা, কার্যকর ব্যবসা বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বৈধভাবে বসবাস ও কর্মরত সাধারণ প্রবাসীদের অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে।   এ বিষয়ে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, নতুন বিধিমালা সব দেশের নাগরিকদের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। তাই এটিকে শুধুমাত্র বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে কোনো বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   এদিকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তার নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমিরাত সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।   এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সমন্বিতভাবে কাজ করছেন, যাতে বৈধ প্রবাসীরা কোনো ধরনের অযৌক্তিক হয়রানি বা জটিলতার মুখে না পড়েন এবং চলমান পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করা যায়।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় অসুস্থ বাংলাদেশি প্রবাসীকে আর্থিক সহায়তা দিল হাইকমিশন

ছবি: সংগৃহীত

দুবাই বাংলাদেশ কনস্যুলেটে পুনরায় চালু টোকেনভিত্তিক সেবা, কমবে প্রবাসীদের ভোগান্তি

ছবি : সংগৃহীত

থাইল্যান্ডে বাংলাদেশিদের জন্য ১০ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

0 Comments