যুক্তরাজ্যের বিমানবাহিনী ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ারফোর্সের (আরএএফ) একটি নজরদারি বিমানকে আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় ‘একাধিকবার’ ও ‘বিপজ্জনকভাবে’ বাধা দিয়েছে রাশিয়ার দুটি যুদ্ধবিমান। গত মাসে কৃষ্ণসাগরে এ ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়ার একটি সু-৩৫ যুদ্ধবিমান যুক্তরাজ্যের নজরদারি বিমান রিভেট জয়েন্টের খুব কাছে চলে আসে। এ সময় রুশ যুদ্ধবিমানটি এতটাই কাছাকাছি চলে এসেছিল যে ব্রিটিশ বিমানটির অটোপাইলট মোড বন্ধ হয়ে জরুরি সুরক্ষাব্যবস্থা সচল হয়ে যায়।
এ ছাড়া রাশিয়ার আরেকটি যুদ্ধবিমান সু-২৭ যুক্তরাজ্যের নজরদারি বিমানটির সামনে দিয়ে অন্তত ছয়বার চক্কর দেয়। একপর্যায়ে রুশ বিমানটি ব্রিটিশ বিমানের থেকে মাত্র ছয় মিটার (১৯ ফুট) দূরে অবস্থান করছিল।
রাশিয়ার যুদ্ধবিমানের এ আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি। সেই সঙ্গে এমন পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ নজরদারি বিমানের ক্রুদের ‘অসাধারণ পেশাদারত্ব’ প্রদর্শনের প্রশংসাও করেন তিনি।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, ২০২২ সালের পর এটিই যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক পদক্ষেপ। ওই বছর কৃষ্ণসাগরে একজন রুশ পাইলট একটি ব্রিটিশ নজরদারি বিমান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিলেন।
এ ঘটনার সময় ব্রিটিশ নজরদারি বিমানটি ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তা বাড়াতে আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় নিয়মিত টহল দিচ্ছিল বলে জানায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
আকাশে এই বাধা সৃষ্টির নিন্দা জানিয়ে জন হিলি বলেন, ‘ঘটনাটি আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় নিরস্ত্র একটি বিমানের প্রতি রুশ পাইলটদের বিপজ্জনক ও অগ্রহণযোগ্য আচরণের আরেকটি উদাহরণ।’
হিলি বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ড বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।’
হিলি আরও বলেন, ‘এই ঘটনা রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ন্যাটো, আমাদের মিত্রদের এবং আমাদের স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকারকে দুর্বল করতে পারবে না।’
লন্ডনে অবস্থিত রুশ দূতাবাসকে এই ঘটনায় নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ওই অঞ্চলে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান উসকানিমূলক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে এ ঘটনা ঘটেছে। এমনকি সম্প্রতি উত্তর সাগরে যুক্তরাজ্যের সমুদ্রতলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর কাছেও রুশ সাবমেরিনের আনাগোনা দেখা গেছে।
এর আগে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কৃষ্ণসাগরের ওপরেই ব্রিটিশ গোয়েন্দা বিমান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার চেষ্টা করেছিলেন একজন রুশ পাইলট।
সে সময় রুশ পাইলট দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিলেন। প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছিল, যদিও সে সময় দাবি করা হয়েছিল, কারিগরি ত্রুটির কারণে সেটি অকেজো হয়ে গেছে। গত বছর সেপ্টেম্বরে রাশিয়া ওই ঘটনার পেছনে ‘কারিগরি ত্রুটির’ অজুহাত দিয়েছিল।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তখন প্রকাশ্যে রাশিয়ার সেই ব্যাখ্যা মেনে নিলেও পরে পশ্চিমা প্রতিরক্ষা খাতের তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিবিসিকে ভিন্ন তথ্য দেন। তাঁরা বলেন, রুশ গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে অস্পষ্ট নির্দেশ পেয়ে ওই পাইলট ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিলেন।
ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর ৫১ নম্বর স্কোয়াড্রন আরসি-১৩৫ডব্লিউ রিভেট জয়েন্ট বিমান পরিচালনা করে। এটি সাধারণত লিংকনশায়ারের একটি ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। এই বিমানে অত্যন্ত উন্নত সেন্সর রয়েছে। এটি বিভিন্ন সংকেত বিশ্লেষণ করে তাৎক্ষণিক কৌশলগত ও সামরিক গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার নতুন হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রাজধানী কিয়েভের কাছে একটি ড্রোন প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, দিনের বেলায় চালানো ওই হামলায় প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন। প্রদর্শনীতে প্রতিরক্ষা খাতের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, পূর্বাঞ্চলীয় স্লোভিয়ানস্ক শহরে রাশিয়ার গ্লাইড বোমা হামলায় আরও পাঁচজন নিহত হন। শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলেনস্কি জানান, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রাশিয়া আরও একটি বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার আশঙ্কা, হামলাটি সেদিনই বা পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হতে পারে। কিয়েভের কাছে হামলার পর প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সেরহি বেসক্রেস্টনভ (ফ্ল্যাশ) এবং সেনাবাহিনীর প্রযুক্তি উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত লিউবা শিপোভিচ হতাহত হয়েছেন। তবে পরে দুজনই সামাজিক মাধ্যমে জানান, তারা নিরাপদ আছেন। বেসক্রেস্টনভ বলেন, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে তিনি অনুষ্ঠানে যাননি। ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত জানান, হামলায় তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। এর মধ্যে মাত্র একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে। . হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তাদের দাবি, দূরপাল্লার নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে এমন একটি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে রাশিয়ার বেসামরিক এলাকায় হামলার জন্য ব্যবহৃত ড্রোন প্রদর্শন করা হচ্ছিল। রাশিয়ার দাবি, সেখানে ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনী এবং রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলার পরিকল্পনায় যুক্ত নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, রাতের বেলায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কিরভ শহরে ছয়জন নিহত এবং ২৬ জন আহত হয়েছেন। শহরটি যুদ্ধের সম্মুখসার থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন জেলেনস্কি আগামী সপ্তাহে জেলেনস্কির যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনি মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। রোমানিয়ার আকাশসীমায় রুশ ড্রোন ভূপাতিত এদিকে, রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুসর দান জানান, শুক্রবার দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি রুশ ড্রোন রোমানিয়ার একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে। অবশ্য এ ঘটনায় এখনো কোনো মন্তব্য করেনি রাশিয়া। তথ্যসূত্র : বিবিসি
পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে যখন দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ তুঙ্গে, ঠিক তখনই প্রশ্নফাঁস রোধে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের ওপর নির্মিত ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে ইতিবাচক সাড়া এবং গঠনমূলক পরামর্শ দেওয়ায় তরুণ সমাজকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, "ধন্যবাদ বন্ধুরা। গত রাতে আপনাদের সাথে সংযোগ স্থাপনের একটি সুযোগ পেয়েছিলাম। আমার ভিডিওতে আপনারা যেভাবে সাড়া দিয়েছেন এবং যেসব মূল্যবান পরামর্শ পাঠিয়েছেন—তার জন্য সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। আমার প্রতি আপনাদের ভালোবাসা অটুট থাকবে এবং আমাদের মধ্যকার এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। বৃহস্পতিবার রাতে পোস্ট করা ওই ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন: "বন্ধুরা, আমি জানি প্রশ্নফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়। এটি লাখ লাখ শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সে কারণেই বিগত আড়াই মাসে আমরা একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি। অপরাধীদের গ্রেফতার করে ইতোমধ্যে জেলে পাঠানো হয়েছে। তবে আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল শিক্ষার্থীদের যেন একটি বছরও নষ্ট না হয়, তা নিশ্চিত করা। তাই দ্রুততম সময়ে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়াটা খুব জরুরি ছিল। তিনি আরও জানান, প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য 'ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট' বা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিষয়ে একটি প্রস্তাব তাঁর কাছে এসেছে। নরেন্দ্র মোদী আরও বলেন, "আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিলাম। দপ্তরগুলো গুরুত্বের সাথে কাজ করে গভীর রাতে প্রস্তাব পেশ করেছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এটিকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে এবং সংসদ অধিবেশনের আগামী সপ্তাহেই বিলটি পাসের চেষ্টা চালানো হবে। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ও সরকারের পদক্ষেপ ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) ব্যানারে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সম্প্রতি পুলিশি হস্তক্ষেপের পর কেন্দ্র সরকার বেশ কিছু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত জোশীকে পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (NTA) ৪৭ জন কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপে আন্দোলনকারীরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। তারা এখনও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মূল দাবিতে অটল রয়েছেন। শুক্রবার সিজেপি (CJP) প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সাথে বৈঠক করে একটি দাবি সনদ পেশ করেন, যার মধ্যে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবিও রয়েছে। তবে সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ওপর ক্ষমতাসীন বিজেপির পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং তাকে পদ থেকে সরানোর কোনো সম্ভাবনা নেই।
ভারতের নিট-ইউজি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা বাতিল ও অনিয়মের দায়ে দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করানো বা বরখাস্তের দাবিতে মোদী সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে আন্দোলনকারী সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটির হুঁশিয়ারি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ২০ জুলাইয়ের আন্দোলনের চেয়েও বড় পরিসরে দেশব্যাপী কর্মসূচি দেওয়া হবে। শুক্রবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার দ্বিতীয় দফা বৈঠক শেষে সিজেপির নেতারা এ ঘোষণা দেন। সরকারের পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। অন্যদিকে সিজেপির প্রতিনিধিদলে ছিলেন জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। বৈঠক শেষে সিজেপি জানায়, তারা সরকারের কাছে লিখিতভাবে তিনটি প্রধান দাবি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার স্থায়ী সংস্কারের লক্ষ্যে পাঁচ দফা এজেন্ডা তুলে ধরেছে। প্রধান দাবিগুলো হলো—শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে অপসারণ, প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত ঘটনায় আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করে ভবিষ্যতে নতুন মামলা না করার নিশ্চয়তা। সিজেপির দাবি, সরকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় দাবির বিষয়ে নীতিগত সম্মতি জানিয়েছে। তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত সময় চেয়েছে কেন্দ্র। এ বিষয়ে পরবর্তী বৈঠক শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আন্দোলনকারী সংগঠনটি স্পষ্ট জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণের দাবি পূরণ না হলে শিক্ষা সংস্কারসংক্রান্ত পাঁচ দফা এজেন্ডা নিয়ে আর কোনো আলোচনা এগোবে না। সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে।