গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাত যখন ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়, তখন এই পদক্ষেপের প্রভাব তেলের বাজারের বাইরেও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। এটি ছিল সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের একসময়ের ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব ভেঙে গিয়ে প্রকাশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিণত হওয়ার ইঙ্গিত।
ঐতিহাসিকভাবে সৌদি আরবই ছিল তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেকের প্রভাবশালী সদস্য। সৌদি আরব তাদের বিশাল উৎপাদনক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বিশ্বব্যাপী তেলের দামকে প্রভাবিত করেছে। তাই এই সংস্থা থেকে আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এমন একটি ব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দেয়, যা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি নিয়ন্ত্রিত বলে মনে করা হতো।
সৌদি ও আমিরাতের নেতাদের মধ্যে এই মতপার্থক্য রাতারাতি ঘটেনি।
এক দশক আগে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং আমিরাতের নেতা শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদকে আদর্শগতভাবে অভিন্ন মিত্র হিসেবে দেখা হতো। আরব বসন্তের জোয়ারকে তারা তাদের শাসনব্যবস্থার জন্য হুমকি হিসেবে দেখতেন। এই অঞ্চলটিকে নতুন রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টায় উভয়েই ছিলেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী, দৃঢ়চেতা এবং একমত।
একসঙ্গে তারা ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের অভিযোগে তারা পারস্য উপসাগরীয় প্রতিবেশী কাতারকে বিচ্ছিন্ন করার জন্যও যৌথভাবে পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা কাতার অস্বীকার করে। তারা তাদের অভিন্ন আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ ইরানের বিরুদ্ধে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।
আজ সেই সম্পর্কটি অনেকটাই ভিন্ন। দেশ দুটি আঞ্চলিক যুদ্ধে ক্রমশই পরস্পরবিরোধী পক্ষকে সমর্থন করছে, পরস্পরবিরোধী জ্বালানি কৌশল অনুসরণ করছে এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগের জন্য প্রতিযোগিতা করছে।
তেল ও অর্থনীতি নিয়ে সংঘাত
কয়েক দশক ধরে, আমিরাতের দুবাই শহর মধ্যপ্রাচ্যের অর্থায়ন, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বহুজাতিক সংস্থাগুলোর প্রধান কেন্দ্র ছিল। কিন্তু গত ১০ বছরে, সৌদি আরবকে ব্যবসা ও পর্যটনের এক শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত করতে যুবরাজ মোহাম্মদের ব্যাপক পরিকল্পনা দেশটিকে ক্রমশ আমিরাতের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দিয়েছে।
সৌদি কর্মকর্তারা এই উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সুস্পষ্ট করে তোলেন একটি ঘোষণার মাধ্যমে। তারা সরকারের সঙ্গে লাভজনক চুক্তি করতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে রাজধানী রিয়াদে আঞ্চলিক সদর দপ্তর স্থাপন করতে বাধ্য করেন। গত বছরের মার্চ মাসে সৌদি কর্মকর্তারা জানান যে, ৬০০-র বেশি সংস্থা রিয়াদে আঞ্চলিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে।
আমিরাতের কর্মকর্তাদের কাছে বার্তাটি ছিল সুস্পষ্ট: সৌদি আরব আর তেল সম্পদ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের ওপর নির্ভর করে সন্তুষ্ট নয়, বরং তারা সরাসরি তাদের অর্থনৈতিক ভূখণ্ডে প্রবেশ করছে।
উভয় দেশই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং বৈশ্বিক অবকাঠামোর মতো উদীয়মান খাতগুলোতে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে এবং প্রায়শই একই বিনিয়োগকারী ও বাজারকে লক্ষ্য করছে।
যদিও সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে ওপেকে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতও নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তুলেছে এবং তেল উৎপাদনের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।
আমিরাতের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে হতাশা প্রকাশ করেছেন যে, ওপেক তাদের উৎপাদন সক্ষমতার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে বাধা দিয়েছে।
মিত্রতা থেকে সংঘাতে
আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত দরিদ্র ও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইয়েমেনে এই বিভাজন স্পষ্ট। ২০১৫ সালে যখন সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত বোমা হামলা শুরু করে, তখন তারা ইরান-সমর্থিত হুথিদের মোকাবিলা করতে এবং ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনরুদ্ধার করতে একটি ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট উপস্থাপন করেছিল।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, সেই অভিন্ন লক্ষ্যে ভাঙন ধরে। একটি দীর্ঘ, অরক্ষিত সীমান্ত থাকায়, সৌদি আরব তার দক্ষিণাঞ্চলে প্রতিকূল শক্তির হুমকি প্রতিরোধের জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ ইয়েমেনকে অপরিহার্য বলে মনে করে।
ইয়েমেনের সঙ্গে কোনো সীমান্ত না থাকায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত সেখানে নিজস্ব মিত্র তৈরি করেছে। বিশেষ করে সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলকে সমর্থন দিচ্ছে তারা। এই সশস্ত্র গোষ্ঠী দক্ষিণে একটি বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে। উদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলে সঙ্গে জোটের মাধ্যমে আমিরাত দক্ষিণ আরব উপদ্বীপের কৌশলগত বন্দর ও নৌপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে।
২০২৫ সালের শেষের দিকে স্বার্থের এই ভিন্নতা সরাসরি সংঘর্ষে রূপ নেয়। আমিরাত সমর্থিত গোষ্ঠী দক্ষিণ ও পূর্ব ইয়েমেনের ভূখণ্ড দখল করে নেয়, যা সৌদি স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডিসেম্বরে এই সংকট চরমে পৌঁছায়। সে সময় সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী পণ্যবাহী জাহাজের ওপর হামলা চালায়। এ বিষয়ে তাদের দাবি ছিল, ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জন্য ওই জাহাজে করে অস্ত্র পাঠাচ্ছিল আমিরাত।
সুদান নিয়ে দ্বন্দ্ব
সুদানের গৃহযুদ্ধ নিয়েও দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। দেশটিতে গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।
২০১৯ সালে সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের পতনের পর, সৌদি আরব এবং আমিরাত উভয়ই সুদানের রাজনৈতিক পালাবদলকে নিজেদের অনুকূলে গড়ে তুলতে চেয়েছিল। দেশটি যখন সংঘাতের দিকে ধাবিত হচ্ছিল, তখন তাদের পথ ভিন্ন হয়ে যায়।
সৌদি আরব সুদানের সামরিক বাহিনীকে সমর্থন করে এবং এই সমর্থনকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষা ও আরো বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধের প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরে। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র মিশরের নিরাপত্তা এবং লোহিত সাগরের ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য সুদানের স্থিতিশীলতাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন রিয়াদ।
আমিরাতের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী আধাসামরিক গোষ্ঠী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে সমর্থন করার অভিযোগ উঠেছে। এর বিপরীতে প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও আমিরাতের কর্মকর্তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
দ্বন্দ্ব থাকলেও সম্পর্ক ছিন্ন করার লক্ষণ নেই
এই ফাটল হোয়াইট হাউস পর্যন্ত গড়িয়েছে। গত নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমিরাতের শেখ মোহাম্মদকে জানিয়েছিলেন, সুদানে র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে সমর্থন দেওয়ায় আমিরাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে তাকে অনুরোধ করেছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ তাকে । ওই আলাপচারিতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারজন ব্যক্তি এ তথ্য জানিয়েছেন।
দ্বন্দ্ব থাকলেও সম্পর্ক ছিন্ন করার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি দেশ দু’টি। উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা এই সম্পর্ককে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করেন। ঐতিহাসিকভাবে, সংকটের সময়ে দেশ দুটি ঐক্যবদ্ধ থেকেছে।
সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাত নতুন করে ইরানি হামলার শিকার হওয়ার পর, শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদকে ফোন করে ওই হামলার নিন্দা জানান মোহাম্মদ বিন সালমান। আমিরাতের নিরাপত্তা রক্ষায় সংগতিও প্রকাশ করেন তিনি।
তবে আমিরাতের ওপেক ত্যাগ এটাই ইঙ্গিত দেয় যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধও এই দুই নেতার মধ্যকার উত্তেজনা দূর করতে পারছে না। উপসাগরীয় এই দুই পরাশক্তির মধ্যকার টানাপোড়েনের সম্পর্ক সম্ভবত আগামী বছরগুলোতে এই অঞ্চলের গতিপথকে প্রভাবিত করবে।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
যুক্তরাষ্ট্র ভিসা আবেদনরীদের জন্য চালু করা ‘ভিসা বন্ড’ কর্মসূচি স্থায়ী করতে যাচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা (বি-১ ও বি-২) পাওয়ার আগে সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হতে পারে। খবর রয়টার্সের। শুক্রবার প্রকাশিত এক ফেডারেল নোটিশে জানানো হয়, এই কর্মসূচি ৫০টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যার মধ্যে ৩০টি দেশ আফ্রিকার। নোটিশে বলা হয়েছে, কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রয়োজন মনে করলে ভিসা ইস্যুর শর্ত হিসেবে আবেদনকারীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড দাবি করতে পারবেন। এর আগে ২০২৫ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া ভিসা বন্ড কর্মসূচিতে ৫ হাজার, ১০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ডের ব্যবস্থা ছিল। নতুন নিয়মে ৫ হাজার ডলারের বিকল্প বাতিল করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের দাবি, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান কমানো। তবে অভিবাসন অধিকারকর্মীদের মতে, এ নীতি বৈধ ভ্রমণকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া আরও কঠিন করে তুলবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির ফলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে এবং বর্ণভিত্তিক বৈষম্যের আশঙ্কাও বাড়ছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে এসব পদক্ষেপ প্রয়োজনীয়। নতুন বিধিমালা আগামী ৩ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স
দিল্লির যন্তর মন্তরে মেডিকেল ভর্তিপরীক্ষার প্রশ্নফাঁসবিরোধী বিক্ষোভের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে গালাগালি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে সরকারি দল। এ বিষয়ে শুক্রবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ভিডিওতে মোদি দাবি করেন, তার পাশাপাশি তার প্রয়াত মাকেও গালিগালাজ করা হয়েছে। তারপরও ওই 'দুষ্টু বাচ্চাদের' ক্ষমা করে দিচ্ছেন বলে জানান তিনি। মোদির মতে, ছোটবেলায় ভুল হয়ে যায়। বিক্ষোভকারীরা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। আর দিকভ্রান্ত বাচ্চাদের শাস্তি না দিয়ে বুকে জড়িয়ে নেওয়ার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মোদি বলেন, 'যন্তর মন্তরে যা কিছু হয়েছে, তা দেশ ও দুনিয়া দেখেছে। কিছু দুষ্টু বাচ্চা নোংরা নোংরা গালিগালাজ করেছে। কোনো সভ্য সমাজে শোভা পায় না, এমন শব্দ প্রয়োগ করেছে। আমাকে তো গালাগালি দেওয়া হয়েছে, আমার স্বর্গীয় মাকেও গালিগালাজ করা হয়েছে। বিষয়টি যে কতটা কদাকার ছিল, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। তবে আজ আমি এটুকু বলতে চাই যে, যৌবনে ভুল-ত্রুটি হয়েই থাকে এবং সেই ভুল থেকে নিজেকে শুধরে নেওয়ার সুযোগও থাকে। আর এই বিষয়টিই হলো এক ধরনের ছেলেমানুষি।' মোদি আরও বলেন, তাকে যেভাবে গালিগালাজ করা হয়েছে বা তার প্রতি যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে সমাজে ক্ষোভ তৈরি হলেও তরুণ প্রজন্মকে আইনি লড়াইয়ের দিকে ঠেলে দেওয়ার পরিবর্তে সঠিক পথ দেখানোই মনোযোগ দেওয়া উচিত। তার ভাষ্যমতে, 'এরা বিপথগামী বাচ্চা, আর তাদের সঠিক পথ দেখানো আমাদেরই দায়িত্ব; তাদের শাস্তি দিয়ে, আদালতের চক্কর কাটাতে বাধ্য করে কিংবা সমাজে হেনস্তা করে আমরা পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে পারব না।' ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করে দিতে চান। সমাজকেও একই কাজ করার আহ্বান জানা। একটি উপমা দিয়ে তিনি বলেন, ভুলবশত জিভে কামড় লাগলে মানুষ যেমন নিজের দাঁত ভেঙে ফেলে না, তেমনই কোনো ভুলের কারণে সমাজেরও উচিত নয় নিজেদের ছেলেমেয়েদের পরিত্যাগ করা।
দামিয়েত্তা বন্দরে ড্রোন হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে মিশর। শুক্রবার দেশটির তথ্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দিয়া রাশওয়ান বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো পক্ষকে দায়ী করা হবে না। তদন্তে যা বেরিয়ে আসবে, সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল জানাবে। তিনি আরও বলেন, হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বক্তব্যও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত অবস্থান নির্ভর করবে তদন্তের ফলাফলের ওপর। গত ২৯ জুলাই দামিয়েত্তা বন্দরে অজ্ঞাত একটি ড্রোন হামলায় দুটি গ্যাসবাহী জাহাজে আগুন লাগে। তবে জরুরি সেবা ও দমকল বাহিনী দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এরপর ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মিশরীয় কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, কায়রো এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করছে এবং এটিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তারের চেষ্টা হিসেবে দেখছে। তবে ইরান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেন, আঞ্চলিক শান্তি নষ্ট করতে ইসরায়েল ষড়যন্ত্র ও ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ অভিযান চালাতে পারে। সূত্র: শাফাক নিউজ এজেন্সি