সর্বশেষ

কোরবানির বিধান: কার ওপর ওয়াজিব, ঋণগ্রস্তদের জন্য কী নিয়ম

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ঈদ-উল-আযহা বা কোরবানির ঈদ বাংলাদেশের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব। প্রতিবছর কোরবানির ঈদে সৃষ্টিকর্তার সন্তষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে পশু কোরবানি করে থাকেন মুসলিম বিশ্বসহ বাংলাদেশের মুসলমানরা।

 

প্রতিবছর ঈদুল আযহার দিন থেকে পরবর্তী তিনদিন পর্যন্ত অর্থাৎ ১২ই জিলহজ পর্যন্ত বিভিন্ন পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন মুসলমানরা।

 

সম্পদশালী ব্যক্তিদের কারো কারো একাধিক পশু কোরবানি দিতেও দেখা যায়। আবার মধ্যবিত্ত অনেকে ভাগে উট, গরু বা মহিষের মতো পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন।

 

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, ঈদুল আযহায় পশু কোরবানি সামর্থ্যবান নর-নারীর ওপর ওয়াজিব। কিন্তু অনেকেই জানেন না, ঠিক কত টাকা হলে একজন মুসলমানের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।

 

অর্থাৎ, যার কাছে কোরবানির দিনগুলোতে তার মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর পর নির্দিষ্ট পরিমাণ বা নিসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট থাকে তাহলে তাকে কোরবানি দিতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ বলেন, "যে সম্পদ থাকলে যাকাত ওয়াজিব হয়, সেই ধরনের সম্পদ যদি তার থাকে তাহলে তো তার কোরবানি ওয়াজিব হবে"।

 

অনেকের মাঝে প্রশ্ন আছে, যদি কারও কোরবানি করার সামর্থ্য না থাকে অথবা তিনি ঋণগ্রস্ত থাকেন তার ক্ষেত্রে কোরবানি দেওয়ার বিধান কী?

 

ইসলামি গবেষকরা বলছেন, কেউ যদি ঋণের বোঝায় জর্জরিত থাকেন, সেক্ষেত্রে ঋণ করে কোরবানি দেওয়ার ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে ইসলামে। কোরবানি ওয়াজিব যাদের জন্য ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও আত্নিক ইবাদত। আরবি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, প্রতিবছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখ কোরবানির দিন ও পরবর্তী দুই দিন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কোরবানি দিয়ে থাকেন।

 

ধর্মীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, যাদের ওপর কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব তারা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোরবানি না দেন তাহলে গোনাহের ভাগীদার হতে হবে।

 

অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ বলছিলেন, "যে ব্যক্তির নেসাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তাকে অবশ্যই কোরবানি দিতে হবে। আর যদি না দেন তাহলে তিনি ওয়াজিব ভাঙল"।

 

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, নেসাব অর্থাৎ কোন ব্যক্তির কাছে সাড়ে সাত ভরি পরিমাণ স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ ভরি পরিমাণ রুপা বা এর সমমূল্যের নগদ টাকা অথবা সম্পদ থাকলে তার জন্য কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব।

 

হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, যেই ব্যক্তির সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু সে যদি পশু কোরবানি না করে তাকে ঈদগাহের কাছে না যেতে বলা হয়েছে।

 

অধ্যাপক রশীদ বলছিলেন, যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব তাদের অবশ্যই কুরবানি দিতে হবে। যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব, তারা যদি তা পালন না করেন, তবে তারা ওয়াজিব তরক করার গোনাহর ভাগীদার হবেন।

 

অন্যদিকে, ইসলামের বিধান অনুযায়ী যাদের সেই পরিমাণ সম্পদ বা সম্পত্তি নেই তাদের জন্য পশু কোরবানি বাধ্যতামূলক নয়। ঋণ করে বা ঋণগ্রস্তের জন্য কী নিয়ম?

 

বাংলাদেশে প্রতি বছর কোরবানিতে ৯০ লাখ থেকে এক কোটি গরু কোরবানি হয়ে থাকে। যার মধ্যে বেশিরভাগই গরু এবং ছাগল কোরবানি দিয়ে থাকেন মুসলমানরা।

 

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, যার নেসাব বা সুনির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ থাকে তার জন্য কোরবানি দিতে হবে।

 

তবে বাংলাদেশে অনেক সময় দেখা যায় আর্থিকভাবে সামর্থ্য না থাকার পরও অনেকেই ঋণ করে কোরবানি দিতে চান।

 

ইসলামের গবেষকরা বলছেন, যে ব্যক্তির উপর কোরবানি ওয়াজিব, তিনিও যদি ঋণের টাকা দিয়ে কোরবানি করেন, তাহলে তার কোরবানি আদায় হয়ে যাবে।

 

অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ বলেন, "ঋণগ্রস্ত হলে কোরবানি দিবে না বলেও এক ধরনের কথা প্রচলিত আছে। কিন্তু এখানে বিষয়টি হলো জীবনযাত্রা যেখানে একেবারেই চলে না, কষ্ট হয় থাকা ও খাওয়ার জন্য অর্থ নেই এরকম ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির কোরবানির দরকার নাই। তাদের জন্য কোরবানি ওয়াজিব না"।

 

এর ব্যাখ্যায় তিনি বলছিলেন, কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার শর্ত পূরণ হওয়ার পর, যদি কোনো ব্যক্তি তার হাতে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ না থাকার কারণে ঋণ করে কোরবানি করেন, তবে তার এই ইবাদতটি সহিহ হবে এবং ওয়াজিব আদায় হবে"।

 

"তবে এই ঋণের বোঝা পরিশোধ করার সামর্থ্য তার থাকতে হবে, যাতে করে পরবর্তীতে তা তার জন্য বোঝা না হয়ে দাঁড়ায়", বলছিলেন মি. রশীদ।

 

বিভিন্ন সময় অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী বা মানুষ তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে কোরবানির বিধান কি সেটি নিয়েও প্রশ্ন থাকে অনেকের।

 

এক্ষেত্রে অধ্যাপক রশীদ বলছিলেন, "মনে করেন আমার জমি আছে। কিন্তু একটা কাজের জন্য ঋণ করলাম কিন্তু তার অপজিটে আমার সম্পদ আছে, তার ক্ষেত্রে কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব। একইভাবে হজের ক্ষেত্রে সে যদি ঋণগ্রস্ত হন তার জন্য হজ ওয়াজিব"।

 

ইসলামি গবেষকদের মতে, শরিয়ত অনুযায়ী সুদভিত্তিক যেকোনো লেনদেন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ, আর কোরবানি একটি বিশুদ্ধ ইবাদত, যা সুদের মতো অপবিত্র অর্থ দ্বারা সম্পন্ন করা যায় না।

 

বাংলাদেশে প্রতিবছর ঈদুল আযহায় যে পরিমাণ গবাদিপশু কোরবানি বা জবাই করা হয় তার মধ্যে বেশিরভাগই গরু ও ছাগল কোরবানি হয়ে থাকে।

 

এর বাইরেও বর্তমানে বাংলাদেশে মহিষ, ভেড়া, দুম্বা উটও কোরবানি হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকের পক্ষেই একা একটি গরু কোরবানি দেওয়া সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে ভাগে কোরবানি দিয়ে থাকেন।

 

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, গরু, মহিষ ও উটে সর্বোচ্চ সাত জন শরিক হতে পারেন। তবে ছাগল, ভেড়া বা দুম্বায় একাধিক শরিক হওয়া জায়েজ নয়, এটি একজনের নামেই হতে হবে।

 

ইসলামি গবেষকরা বলছেন, ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী গরু ও মহিষের ক্ষেত্রে অন্তত দুই বছর, উটের ক্ষেত্রে পাঁচ বছর এবং ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার ক্ষেত্রে অন্তত এক বছর পূর্ণ হতে হবে। তবে ভেড়া বা দুম্বা যদি ছয় মাসের হয় কিন্তু দেখতে এক বছরের মতো বড় লাগে, তবে তা দিয়ে কোরবানি জায়েজ।

 

অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ বলছিলেন, "আমাদের দেশে অনেক সময় কোরবানি লোক দেখানো বিষয় হয়। নিয়ম অনুযায়ী একজনের জন্য একটা বকরি বা ছাগল যথেষ্ট। একটা গরুর সাত ভাগের এক ভাগ যথেষ্ট। কিন্তু দেখা যায় কেউ কেউ ২০টা গরুও কোরবানি দিচ্ছে"।

 

"যদি কেউ গরীব লোককে দেওয়ার জন্য অনেক প্রয়োজনের অতিরিক্ত পশু কোরবানি দিয়ে সেটি স্বাভাবিক। কিন্তু সেটি যেন লোক দেখানো না হয়", যোগ করেন তিনি।

 

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, কোরবানি ব্যক্তিভিত্তিক ইবাদত। পরিবারের একাধিক সদস্য (যেমন বাবা, মা, ছেলে) যদি প্রত্যেকে পৃথকভাবে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তবে প্রত্যেকের ওপর আলাদাভাবে কোরবানি ওয়াজিব হবে।

 

অনেকে আবার প্রশ্ন করে থাকেন কোরবানির জন্য সমপরিমাণ টাকা কী দান করা যাবে কী -না।

 

এর জবাবে ইসলামি গবেষক ও লেখকরা বলছেন, কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর নামে পশুর রক্ত প্রবাহিত করা। পশুর বদলে টাকা দান করলে ওয়াজিব কোরবানি আদায় হবে না। তবে নফল হিসেবে দান করা যেতে পারে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
অবৈধ ওষুধ কারখানায় সাজা, এনসিপি নেতা বায়েজিদকে বহিষ্কার

ফরিদপুরে অবৈধভাবে ওষুধ তৈরি ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।   নোটিশে বলা হয়েছে, বায়েজিদের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং দলের নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী কার্যক্রমে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশে গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়।   এর আগে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার মোল্লা বাড়ি সড়কে বায়েজিদের মালিকানাধীন মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন। অভিযানে অনুমোদনহীনভাবে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ তৈরির অভিযোগ পাওয়া যায়।   অভিযানের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরে তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ১৯৫৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৬/১ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে এ দণ্ড দেওয়া হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারখানাটিতে বেবি জেল, যৌন উত্তেজক ওষুধসহ বিভিন্ন ধরনের অননুমোদিত সামগ্রী তৈরি করা হচ্ছিল এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও সংরক্ষণ করা হয়েছিল। কারখানাটি ২০২২ সাল থেকে অবৈধভাবে পরিচালনার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

‘বাজারে কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি’—খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয় স্ত্রী মৃত্যুর মামলা: গাজী নজরুলের আরও ৪ দিনের রিমান্ড

আজ দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য প্রায় সমান

ছবি: সংগৃহীত
রিমান্ডে গাজী নজরুলের স্ত্রী, দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেনে আদালত। এদিকে রিমান্ডে মাকছুদা ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।   মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।   এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন মাকছুদাকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।   পুলিশের আবেদনে বলা হয়, মাকছুদাকে বিস্তারিত ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে মামলাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্তে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।   গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই রাতেই মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ (৪০) বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।   মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।   পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে মাকছুদা জানান—মামলার অপর আসামি ওবায়দুর রহমানের প্ররোচনায় গত ১৭ জুন গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়মের বিয়ে হয়।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগী মরিয়ম ২১ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যা করেন।   এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন আদালত। মামলার অপর আসামি ওবায়দুর রহমান এখনো পলাতক রয়েছেন।   গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত জুলাইয়ে তার ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনি জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন।   এরপর গত ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকার, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেয় দলটি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

জাতিসংঘে বক্তব্য রাখলেন ড. ইউনূস

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর বাসভাড়া ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব

ছবি: সংগৃহীত

চাকরি থেকে পলায়নের অভিযোগে ৬ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

ছবি: সংগৃহীত
কমলাপুরে ককটেল বিস্ফোরণ: দুই রাজনৈতিক কর্মী গ্রেপ্তার, দাবি পুলিশের

রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার দুজন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।   গ্রেপ্তাররা হলেন মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন রায়হান (৩২) ও মোহাম্মদ সানমুন (২৩)।   সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাখাওয়াত হোসেন রায়হান নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের শাহজাহানপুর থানা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবেও কর্মরত। ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে রেলওয়েতে চাকরি করলেও গত তিন মাস ধরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানায় পুলিশ।   অন্যদিকে সানমুনকে শাহজাহানপুর থানা যুবলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ।   বিস্ফোরণের ঘটনা পুলিশ জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ৩৭ মিনিটের দিকে কমলাপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ২৯ ও ৩০ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী স্থানে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের পর রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার পর তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্তের কাজ শুরু হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য এবং পুলিশের বিশ্বস্ত সূত্রের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান ডিসি হারুন।   ‘জিজ্ঞাসাবাদে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার’ পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজনই ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় আরও কয়েকজনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। পুলিশের ভাষ্য, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, লকডাউন কর্মসূচি সফল করা এবং নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ রেলওয়ের অধিক্ষেত্র হওয়ায় ঢাকা রেলওয়ে থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটি ২০ সেপ্টেম্বর দায়ের করা হয়।   আরও জড়িতদের খোঁজ ডিসি হারুন অর রশিদ জানান, গ্রেপ্তার দুজনকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা অন্য কোনো ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, একটি নাশকতার ঘটনায় কেউ অর্থায়ন করতে পারে, কেউ সমন্বয় করতে পারে, কেউ বিস্ফোরক নিক্ষেপ করতে পারে আবার কেউ ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে পারে। তদন্তে এসব বিষয়ও যাচাই করা হচ্ছে।   রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক নাশকতার ঘটনা প্রসঙ্গে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা একটি বড় নগরী। নিয়মিত মিছিল, সমাবেশ ও বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের কর্মকাণ্ডও মোকাবিলা করতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। গোয়েন্দা ব্যর্থতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডিসি হারুন বলেন, পুলিশের অধিকাংশ কার্যক্রমই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে এবং তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, রাজশাহী রেলস্টেশনে ভাঙচুর

ছবি: সংগৃহীত

কমলাপুরে ট্রেনে আগুন: নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ, এক গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, রাজশাহী স্টেশন ঘেরাও; চার আরএনবি সদস্য বরখাস্ত

0 Comments