রাজধানীর মিরপুর সিরামিক রোড এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও ডিএনসিসি’র প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
আজ বিকেলে পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কোরবানির বর্জ্য দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করে নগরবাসীকে স্বস্তি দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে সিটি কর্পোরেশন।
তিনি বলেন, ‘সেই ধারাবাহিকতায় আমরা আজ মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিদর্শনে এসেছি। আশা করছি, রাত ২টার অনেক আগেই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব হবে।’
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জানান, এই কার্যক্রম আগামী আরও দুই দিন চলমান থাকবে। কোরবানির বর্জ্য অপসারণে প্রায় ১৬ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ৭৫২টি যানবাহন কাজ করছে।
এ সময় নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শাহে আলম আরও বলেন, ‘আপনারা কোরবানির বর্জ্য পলিব্যাগে ভরে নির্ধারিত স্থানে রাখবেন। সেখান থেকে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা দ্রুত তা অপসারণ করবে। নগরবাসী আমাদের ওপর আস্থা রাখতে পারেন। ইনশাআল্লাহ, আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নগর পরিষ্কার করতে সক্ষম হবো।’
ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান বলেন, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ডিএনসিসি’র ৭২ ঘণ্টার একটি সমন্বিত অ্যাকশন প্ল্যান রয়েছে।
তিনি নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ‘আপনারা আস্থা রাখবেন এবং বর্জ্য অবশ্যই পলিব্যাগে ভরে নির্ধারিত স্থানে রাখবেন।’
আজ দুপুর ২টা পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে ৭৩৬টি ট্রিপের মাধ্যমে মোট ৩ হাজার ১৫৮ টন কোরবানির বর্জ্য আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে অপসারণ করা হয়েছে।
পরিদর্শন কার্যক্রমে ডিএনসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী ও প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রকিবুল হাসানসহ ডিএনসিসি’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ফের সংসদ ভবনের সামনে জড়ো হতে শুরু করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী। এরআগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার (১৪ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দাবিতে সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া পরীক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে পুলিশ সরিয়ে দেয়। পৌনে দুই ঘণ্টা পর রাত সোয়া ৮টার দিকে তারা দ্বিতীয় দফায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গাড়ি চলাচল আটকে দিয়ে জড়ো হতে শুরু করেছেন। এরপর তারা খামারবাড়ি থেকে আসাদগেটের দিকে যাওয়ার রাস্তায়ও অবরোধ করেন। ফলে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি দলে থাকা তেজগাঁও মহিলা কলেজের এক ছাত্রী দাবি করেন, তাদের একটি দল সংসদের ভেতরে প্রবেশ করলেও দায়িত্বশীল কারো আলোচনা হয়নি। তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে প্রতিনিধি চাওয়া হয়েছে, তারা (সংসদের) ভেতরে ঢুকতেই বাইরে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। আমরা দুই ঘণ্টা বসে থাকলেও কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। আগামীকাল বুধবারের পরীক্ষা হবে কিনা, সেই বিষয়টাও তারা স্পষ্ট করে কিছু বলছেন না। দুই ঘণ্টা বসে থাকার পরও কারো সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। অথচ দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলতেই আমাদের ভেতরে নেওয়া হয়েছিল। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দাবিতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অবরোধ করেছিলেন পরীক্ষার্থীরা। অ্যাভিনিউয়ের দুই পাশেই আটকে রাখার ফলে আসাদগেট থেকে খামারবাড়ির দিকে এবং খামার বাড়ি থেকে আসাদ গেট অভিমুখে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। পরীক্ষার্থীদের লাঠিপেটার পাশাপাশি ধাওয়া দিতে দেখা যায় পুলিশ সদস্যদের। এসময় ছত্রভঙ্গ হয়ে যান তারা।
টানা বৃষ্টির মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত না করার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, স্থানীয় প্রশাসনের মূল্যায়ন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। রুমিন ফারহানা জানতে চান, টানা বৃষ্টিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলেও শিক্ষার্থীদের অনুরোধ সত্ত্বেও কেন পরীক্ষা কয়েকদিনের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়নি। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে ৬৪ জেলায় প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কোনো এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে স্থানীয় জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরীক্ষা স্থগিত বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা রাখেন। তিনি জানান, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় প্রথমে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে পুরো চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়েছিল। মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী পরীক্ষার আগের দিন পর্যন্ত সারাদেশে পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিস্থিতিই ছিল। তবে পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে জলাবদ্ধতার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্র পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া কুমিল্লা মহিলা কলেজে এক পরীক্ষার্থীর পোশাক ভিজে যাওয়ার ঘটনায় তাকে শুকনো পোশাকের ব্যবস্থা করে অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের দুটি প্রশ্নে ত্রুটি পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের ক্ষতি না হয়, সেজন্য ওই দুটি প্রশ্নের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই প্রশ্নপত্র প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন হয়েছিল এবং পূর্ববর্তী মডারেটরদের তৈরি প্রশ্নই এ পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছে।
সংবিধান সংশোধন ও সংস্কারের মধ্যে মূলত শব্দগত পার্থক্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সংশোধনীর মাধ্যমেই রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। তবে কতটুকু পরিবর্তন হবে এবং কোন কোন বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি হবে, সেটিই মূল প্রশ্ন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন এবং এতে বিরোধী দলের সদস্যের নাম না থাকার বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিরোধী দলের উচিত কমিটির আলোচনায় অংশ নেওয়া এবং তাদের প্রস্তাব সংসদের ভেতরে তুলে ধরা। তিনি বলেন, ‘‘সংবিধান সংশোধন নাকি সংস্কার—এটি মূলত শব্দের বিষয়। আসল প্রশ্ন হলো, আমরা কতটুকু পরিবর্তন করতে চাই। সংশোধনীর মাধ্যমেই সংবিধানে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।’’ অতীতের বিভিন্ন সংশোধনীর উদাহরণ তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের বহু অংশে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করা হয়। পরে আদালতের রায়ে ওই সংশোধনীর কয়েকটি অংশ বাতিল হয়েছে। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছে। দেশ সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থায় গেছে এবং পরে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আবার সংসদীয় ব্যবস্থায় ফিরে এসেছে। ফলে সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রের শাসনকাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন আনা সম্ভব। গণভোট প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে গণভোটের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। গণভোটের বিধান পুনর্বহাল হওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোট প্রয়োজন হবে কি না, তা নিয়েও সাংবিধানিক বিতর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘সংশোধনের মাধ্যমে অনেক কিছু পরিবর্তন করা যায়। প্রয়োজন হলে গণভোটের ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে ইতোমধ্যে নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে কিছু বিষয়ে জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়া হয়েছে—এমন যুক্তিও দেওয়া হচ্ছে। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিতর্ক এবং এ নিয়ে আলোচনা চলতে পারে।’’ জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে তারা জুলাই সনদের ভিত্তিতে কাজ করবে। তবে সনদের কিছু প্রস্তাবে দলটির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত ছিল এবং সেই অবস্থান তারা আগেই জনগণের কাছে তুলে ধরেছে। উচ্চকক্ষ গঠনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সংসদে একটি উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সাধারণভাবে ঐকমত্য থাকলেও এটি কীভাবে গঠিত হবে, সে বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। বিএনপিরও এ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে। বিরোধী দলকে সংসদীয় কমিটিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তারা আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজেদের প্রস্তাব সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করতে পারে। সংসদে জনগণের সামনে নিজেদের যুক্তি তুলে ধরাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। তিনি আরও বলেন, ‘‘সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে তাদের প্রস্তাব গৃহীত না হলেও জনগণ তাদের বক্তব্য জানতে পারবে। জনগণ যদি সেই দাবিকে সমর্থন করে, তাহলে পরবর্তী নির্বাচনে তার রাজনৈতিক প্রভাব পড়বে। নির্বাচনি ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এভাবেই কাজ করে।’’