জার্মান বুন্দেসলিগায় কোনো রকমে হার এড়িয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। তলানির দল মেইনজ জিরো ফাইভের সাথে ২-২ গোলে ড্র করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) নিজেদের মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় মেইনজকে আতিথ্য দেয় বায়ার্ন।
এদিন ম্যাচে দাপুটে শুরুর পর ২৯ মিনিটে এগিয়ে যায় বায়ার্ন মিউনিখ। লেনার্ট কার্লের দারুণ ফিনিশিংয়ে ১-০ গোলের লিড নেয় স্বাগতিকরা। চলতি মৌসুমে বুন্দেসলিগার ইতিহাসে ১৪ ম্যাচে গোলের হাফ সেঞ্চুরি করে নতুন মাইলফলক তৈরি করলো বায়ার্ন।
প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে পতুলস্কির গোলে সমতায় ফেরে মেইনজ। ১-১ সমতায় বিরতিতে যায় দু'দল।
দ্বিতীয়ার্ধের ২২তম মিনিটে স্বাগতিকদের স্তব্ধ করে দিয়ে এবারের আসরে একটি মাত্র জয় পাওয়া দলটি এগিয়ে যায় ২-১ গোলে। তবে খেলার শেষদিকে সফল স্পটকিকের মাধ্যমে কোনো রকমে দলকে হারের মুখ থেকে ফিরিয়ে আনেন বায়ার্নের ইংলিশ স্টাইকার হ্যারি কেইন।
১৪ ম্যাচে ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে বাভারিয়ানরা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লাইপজিগের চেয়ে তারা এগিয়ে রয়েছে ৯ পয়েন্ট।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে সব কিছুর দাম আকাশচুম্বী। স্টেডিয়ামে যাতায়াত নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। ব্যাপক সমালোচনার মুখে অবশেষে ট্রেন ও বাসের টিকিটের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক সিদ্ধান্তে ম্যানহাটন থেকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত ট্রেনের টিকিটের দাম ধরা হয়েছিল ১৫০ ডলার (প্রায় ১৮ হাজার টাকা)। নতুন ঘোষণায় তা কমিয়ে ৯৮ ডলার করা হয়েছে। অন্যদিকে, শাটল বাসের ভাড়া ৮০ ডলার থেকে কমিয়ে মাত্র ২০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ সাধারণ সময়ে এই রুটে যাতায়াতের খরচ মাত্র ১২.৯০ ডলার। ইংল্যান্ডের ফুটবল সমর্থক সমিতির নেতা থমাস কনক্যানন এই আকাশচুম্বী ভাড়াকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। মূলত কাতার বা রাশিয়া বিশ্বকাপে যাতায়াত সুবিধা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে এমন চড়া মূল্য ভক্তদের ক্ষুব্ধ করে তোলে। নিউ জার্সির গভর্নর মাইকি শেরিল স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, ফিফা ভর্তুকি না দিলে স্থানীয় করদাতাদের অর্থ এই খাতে খরচ করা হবে না। তবে শেষ পর্যন্ত বাণিজ্যিক স্পনসরশিপের সহায়তায় করদাতাদের ওপর চাপ না বাড়িয়েই ভাড়া কমানো সম্ভব হয়েছে। নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুল জানিয়েছেন, যাতায়াত ভাড়া যেন সবার নাগালে থাকে তাই বাসের ভাড়া ৭৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। এছাড়া নিউ ইয়র্কবাসীদের জন্য ২০ শতাংশ টিকিট সংরক্ষিত রাখা হবে। নিউ জার্সিতে ভাড়া কমলেও বোস্টনের ফক্সবরো স্টেডিয়ামে যাতায়াত করতে ভক্তদের পকেট থেকে গুনতে হবে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩০০ শতাংশ বেশি অর্থ। সেখানে ২০ ডলারের টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৮০ ডলারে। তবে ফিলডেলফিয়া কর্তৃপক্ষ এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তারা জানিয়েছে, বিশ্বকাপের সময়ও তাদের যাতায়াত ভাড়া বর্তমানের মতোই (২.৯০ ডলার) থাকবে। অন্যদিকে কানসাস সিটিতে বাসের রিটার্ন টিকিট পাওয়া যাবে ১৫ ডলারে। ভাড়ার এই তারতম্য সবচেয়ে বেশি ভোগাবে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের সমর্থকদের। আগামী ২৩ জুন ফক্সবরোতে ইংল্যান্ডের ম্যাচ ঘানার বিপক্ষে এবং ২৭ জুন মেটলাইফ স্টেডিয়ামে তারা লড়বে পানামার সাথে। অন্যদিকে স্কটল্যান্ড তাদের ১৩ জুনের (হাইতি) এবং ১৯ জুনের (মরক্কো) দুটি ম্যাচই খেলবে ফক্সবরোতে।
অ্যাকচুফুটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিএসজির স্প্যানিশ কোচ আলভারেজকে নিজের আক্রমণভাগের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন এবং রিভার প্লেটের এই সাবেক তারকার প্রতি তার বিশেষ মুগ্ধতাও রয়েছে। এমনকি এই আর্জেন্টাইনকে দলে টানতে পিএসজি ইতোমধ্যেই বছরে প্রায় ১ কোটি ইউরোর বেতনের প্রস্তাব দিয়েছে বলেও জানা গেছে। প্যারিসিয়ানদের ধারণা, বিশ্বকাপজয়ী এই স্ট্রাইকারের খেলার ধরন লুইস এনরিকের গতিময় কৌশলের সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই। আলভারেজের চলাফেরা, প্রেসিং এবং গোল করার দক্ষতা; এসব গুণকে তারা বিশেষভাবে মূল্যায়ন করছে। বর্তমানে পিএসজির আক্রমণভাগে আছেন ওসমান দেম্বেলে, দেজিরে দুয়ে এবং খিচা কাভ্রাৎস্খেলিয়া। শুধু পিএসজি নয়, ইউরোপের আরও কয়েকটি বড় ক্লাবও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। আর্সেনাল এবং বার্সেলোনাও আলভারেজের সম্ভাব্য ট্রান্সফার নিয়ে খোঁজখবর নিয়েছে। বিষয়টি স্বীকারও করেছেন অ্যাতলেটিকোর কোচ দিয়েগো সিমিওনে। তিনি বলেন, 'ওকে সবাই চাইবে, এটা স্বাভাবিক। কারণ সে খুবই ভালো খেলোয়াড়।' সংখ্যাগুলোই বড় ক্লাবগুলোর আগ্রহের কারণ ব্যাখ্যা করে। চলতি মৌসুমে লাল-সাদা জার্সিতে ৪৯ ম্যাচে ২০ গোল ও ৯ অ্যাসিস্ট করেছেন এই স্ট্রাইকার, যা তার বাজারমূল্য অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। মুন্দো দেপোর্তিভোর তথ্য অনুযায়ী, অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ আলভারেজকে বিক্রি করতে চাইলে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ইউরো দাবি করবে। তবে স্কাই স্পোর্টস জানিয়েছে, এই অঙ্ক ১৫০ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্তও যেতে পারে। এমনও খবর রয়েছে যে, গত মৌসুমে আর্সেনালের ১২০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাবও নাকচ করা হয়েছিল। ফ্রান্সে অবশ্য ট্রান্সফারের খরচ কমানোর উপায়ও ভাবা হচ্ছে। পিএসজি নাকি নগদ অর্থের পাশাপাশি গনসালো রামোস এবং ক্যাং-ইন লিকে চুক্তির অংশ করার চিন্তা করছে। তবে অ্যাতলেটিকো তাদের অবস্থানে অনড়। আলভারেজের সঙ্গে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে এবং তার রিলিজ ক্লজ ধরা হয়েছে ৫০০ মিলিয়ন ইউরো। কয়েক সপ্তাহ আগে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুঞ্জন বাড়াতে চাননি আলভারেজ নিজেও। তিনি বলেন, 'আগামী মৌসুমে আমি এখানে থাকব কি না? জানি না, হতে পারে হ্যাঁ, হতে পারে না। আমি এখানে সুখেই আছি। প্রতিদিন নিজের উন্নতির জন্য কাজ করছি। আমি কখনও ক্লাব সম্পর্কে খারাপ কিছু বলিনি। আমি ক্লাবের প্রতি কৃতজ্ঞ। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক কিছু বলা হয়, যে কেউ যা খুশি লিখতে পারে, আর সেগুলোই বড় হয়ে যায়। কিন্তু আমি কখনও কিছু বলিনি।'
পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের ভাগ্য নির্ধারণ হবে চায়ের দেশ সিলেটে। আবহাওয়া নিয়ে শঙ্কা ও ভেন্যু পরিবর্তনের গুঞ্জন থাকলেও বিসিবি নিশ্চিত করেছে যে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সিলেটেই হবে ম্যাচটি। এই ম্যাচের জন্য কোনো পরিবর্তন ছাড়াই ১৫ সদস্যের স্কোয়াড চূড়ান্ত করেছে বোর্ড। মিরপুর টেস্টের মতো এই ম্যাচেও স্কোয়াডে আছেন তানজিদ হাসান তামিম এবং অমিত হাসান। মিরপুর টেস্টে তাদের অভিষেক না হলেও সিলেটের কন্ডিশনে এই দুজনের কেউ সুযোগ পেতে পারেন। সিরিজের দ্বিতীয় তথা শেষ টেস্ট মাঠে গড়াবে আগামী ১৬ মে। দ্বিতীয় টেস্টের বাংলাদেশ স্কোয়াড: নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মাহমুদুল হাসান জয়, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক সৌরভ, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ (সহ-অধিনায়ক), তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, এবাদত হোসেন চৌধুরী, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, তানজিদ হাসান এবং অমিত হাসান।